কি আমার পরিচয়/ ফিরোজ শ্রাবন

কি আমার পরিচয়, ঠিকানা কি জানিনা, এ জীবন আমি তো মানি না। ২০০৩ সালে একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রের হয়ে মাদকবিরোধী  প্রচারণায় অংশগ্রহণ করেছিলাম। আমাদের কাজ ছিল গানে গানে মানুষের কাছে মাদকের ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরা আর মানুষকে মাদকের খারাপ দিকগুলো সর্ম্পকে সচেতন করা। আামদের সাথে একজন গীতিকার ছিলেন । তিনি বিভিন্ন্ লোকজ গানের সুরে কথা বসিয়ে মাদক নিয়ে গান বানাতেন আর আমরা ৪/৫ জন শিল্পি মিলে গাইতাম । আমি অসংখ্য গান  গেয়েছি ওই প্রোগ্রামে আমার মনে হয় বিশ্বরেকর্ড করে ফেলেছিলাম। কেউ আমার খবর না নিলে রেকর্ড বইয়ে যাব কি করে?…

Read More

ঈদের আনন্দ/ফিরোজ শ্রাবন

প্রতিটি ঈদ আসে আমাদের জীবনের খুশির বার্তা নিয়ে আর চলে যায় আবেশ ছড়িয়ে। দূর দুরান্তের মানুষগুলো ফিরে আসে মাটির টানে বাবা মায়ের সাথে ঈদ করতে । শিকড়ের প্রতি মানুষের এই অমোঘ নিয়ম যেন হারিয়ে না যায় তার নিরন্তন চেষ্টায় সবাই ব্যাকুল। আবার কেউ কেউ ঈদের ছুটিতে ঘুরে বেড়ায় দেশ থেকে দেশান্তরে। মনে হয় ঈদের এই খুশির প্রতিটি মহূর্ত কেউ হাতছাড়া করতে চায় না । আবার কেউবা এই সুযোগে বিয়ে শাদির কাজটাও সেরে ফেলেন । কর্মব্যস্ততায় আসলে বিয়ে করার মত সময়ও যেন তারা পায় না, বিশেষ করে যারা চাকুরীজিবিরা। আমাদের দৈনন্দিন…

Read More

প্রিয় বঙ্গবন্ধু / ফিরোজ শ্রাবন

যদি রাত পোহালে শোনা যেত বঙ্গবন্ধু মরে নাই’..। গানটির গীতিকার জনাব হাসান মতিউর রহমানের সাথে আমার দেখা করার সৌভাগ্য হয়েছে । কিন্তু আপনার  সাথে যদি দেখা হত তাহলে আপনাকে একটা প্রশ্ন করতাম, এত মানুষের মাঝে আপনি কেন এই দেশকে নিয়ে ভেবেছেন? আরও তো অনেক বড় বড় ডিগ্রিধারী শিক্ষিত মানুষও ছিল এই দেশে? হয়ত উত্তরে আপনি বলতেন,  ‘আমি বঙ্গবন্ধু তাই’। আমরা যারা মা বাবার চোখে সুসন্তান তারা কখনও কোন কাজ করতে গেলে বাবা মা আমাদের বারণ করেন অথবা সাবধান করে দেন। যদি আমরা তা না শুনি তখন তারা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা…

Read More

আজ বৃষ্টির দিন/ ফিরোজ শ্রাবন

আজ বৃষ্টির দিন আমি তুমিহীন, শূন্য শূন্য লাগে। সত্যি কথা বলতে বৃষ্টির দিন আমার খুবই ভাল লাগে। বৃষ্টির দিনে বাদাম ভাজা, চাল ভাজা, কাঁঠাল বিঁচি ভেজে মা আমাদের পাঁচ ভাইবোনকে দিতেন আর আমরা মিলেমিশে খেতাম কম বা বেশি যে যা খেতে পারে। কারো কোন অভিযোগ থাকতো না। খেতে খেতে টিনের চালে বৃষ্টির শব্দের সাথে যে গানটাই গাইতাম মনে হত বৃষ্টিও আমার সাথে গাইছে। বৃষ্টির দিনে মা ঘরের বাইরে যেতে দিতেন না। কারণ বৃষ্টির সাথে যখন ঝড় থাকে তখন আনন্দের সাথে শংকাও থাকে । তাই জানালা দিয়ে বৃষ্টিকে ছৃঁয়ে দেখতাম আমার…

Read More

আমার আমি ৫/ফিরোজ শ্রাবন

আমার আমি ফিরোজ শ্রাবন

প্রতিদিন রুটিন মতো সব ভাইবোন একসাথে পড়তে বসা আর বিকেল হলে হাত মুখ ধুয়ে হারিকেনের চিমনী ধুয়ে পড়ার টেবিলে বসা অনেক বিরক্তিকর ছিল। আবার জোৎন্সারাতে যখন নিজেকে দেখতাম পড়ার টেবিলে আর বাড়ির অন্যরা উঠানে গল্প আর খেলায় মত্ত তখন নিজেকে বন্দী পাখি মনে হত। তাই শুধু  অপেক্ষা করতাম কখন রাতের খাবারের জন্য ডাক আসবে। রাতের খাবার খেয়ে আবার পড়তে বসলে পড়ার টেবিলেই ঘুম চলে আসত। আর বই বন্ধ করে বসে থাকতাম কখন যেন ঘুমের মধ্যেই বিছানায় চলে যেতাম নিজেও জানতাম না। সকালে ঘুম ভেঙ্গে দেখতাম নিজের বিছানায় আর অবাক হতাম…

Read More

আজ পহেলা বৈশাখ

আজ পহেলা বৈশাখ ফিরোজ শ্রাবন

গাছে গাছে আমের মুকুল দেখে ভাবি পহেলা বৈশাখ এলো বলে। গ্রামে একটা সুন্দর ব্যাপার হল প্রকৃতি আপনাকে বলে দেবে এখন কোন কাল চলছে গ্রীষ্ম, বর্ষা, নাকি শরৎকাল। তবে অনেকে হয়ত ১৪২৫ বঙ্গাদে এসে বলবেন, এখন প্রকৃতির রূপ নির্ণয় করা কঠিন । সত্যি কথা যাই হোক, গ্রামে আমরা সাধারণত গাছের মুকুল দেখেই ভাবতাম বৈশাখ এলো বলে। কিন্তু কবে আসবে তা জানার জন্য বড়দেরকে প্রতিনিয়ত বিরক্ত করতে হত । কারণ পহেলা বৈশাখ মানে কিন্তু বৈশাখীমেলা । আমি সব কিছু ভুলতে পারি বৈশাখীমেলার কথা ভুলতে পারবো না । শৈশবের এই আনন্দের দিন কি…

Read More

আমার আমি ৪

আমার আমি ফিরোজ শ্রাবন

প্রাইমারিতে যখন পড়তাম তখন খুব ইচ্ছা করতো এ্যাসেমব্লিং এ আমি জাতীয় সংগীত গাইব আর সবাই আমার সাথে কোরাস গাইবে। স্কুলের স্যারেরা জানতেন না আমি জাতীয় সংগীত গাইতে পারি। তো হঠাৎ একদিন সেই সুযোগটা আসলো আর আমি ও চেষ্টা করলাম। কিন্তু মনের মত গাইতে পারলাম না । তবুও আমি তখন থেকে প্রায় প্রায়ই গাওয়ার সুযোগ পেতাম সামনে দাঁড়িয়ে গাইবার জন্য। ক্লাসের ফাঁকে কোন স্যার যদি বলতো, ‘যা তো পানির জগটা ভরে নিয়ে আয়’ তখন কি যে ভাল লাগত।  ঐদিন মনে হত স্যার নিশ্চয়ই আমাকে পছন্দ করে তা না হলে কেন আমাকে…

Read More

আমার আমি..৩

আমার আমি ফিরোজ শ্রাবন

আমার মায়ের ছিল ভীষণ পান খাওয়ার নেশা । আর আমার ছিল মায়ের পান চিবিয়ে মিহিন করা সেই অংশের । মা যেমন মাছের মাথার বাকি অংশ আবার আমিও মায়ের পানের বাকি অংশ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়তাম।  তবে মা আমার মত এত ব্যস্ত হতো না যেমনটা আমি হতাম । ভাত খেয়ে পান না পেলে মা নিজের জীবনকে অর্থহীন মনে করতো । আর একটা শখ মায়ের ছিল ঈদের কাপড় নিজের পছন্দের মত করে নেবার। আব্বা বাজার থেকে তিনটা চারটা কাপড় নিয়ে আসত । মা পছন্দ মত বাছাই করে যেটা বা যে দুইটা পছন্দ…

Read More

কঠিনেরে ভালবাসিলাম

আমার আমি ফিরোজ শ্রাবন

কঠিনেরে ভালবাসিলাম ‘বাজারে যাচাই করে দেখিনি ত দাম/ সোনা কিনিলাম নাকি রূপা কিনিলাম/ ভালবেসেছ বলে ভালবাসিলাম।’ সিনেমার এই গানটি অসম্ভব জনপ্রিয় হয় আর এই গানের হাত ধরে কত প্রেম যে তার সার্থকতা খুঁজে পেয়েছে তার হিসাব মেলানো যে কঠিন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমাদের স্কুল থেকে কলেজ জীবনে এই গানের প্রভাব ছিল ব্যাপক। গানটি কি অর্থ বহন করে বা গানের বার্তা আমরা তখন না বুঝলেও প্রেম করেছি এই জাতীয় গানেরই হাত ধরে। ক্লাসের ভিতরে শিক্ষকদের কঠিন শাসন আর নজরদারি আমাদের  আশাহত করেছে বারংবার।  তবুও যদি ক্লাসের খাতার ভিতরে কোন…

Read More

আমার আমি

আমার আমি ফিরোজ শ্রাবন

আমার বাবা সরকারী জব করতেন। গৃহস্থালীও ছিল আমাদের । আমাদের বেশ কয়েকটা গরু ছিল, রাখলও ছিল। যাকে বলে মাঠ ভরা ধান আর গোয়াল ভরা গরু। আমাদের জমিতে যে ধান হত তা দিয়ে আমাদের সারা বছরের চাল তো হতোই আবার কিছু বিক্রিও করতাম। তবে সব বছর সমান ফসল হত না । মাঝে মাঝে মন্বন্তরও হত। উত্তরবঙ্গে যাকে বলে মঙ্গা। মন্বন্তর এর বছরগুলোতে আর রাতে উঠানে গল্প বা কিচ্ছার আসর বসত না । আশেপাশের সবাই বিভিন্নরকম ভাবে কষ্টের দিনগুলি দ্রুত পার করতে চাইত। আর যে বছর প্রচুর ফসল হত উঠানে ধানের মলনে…

Read More