আজ বৃষ্টির দিন/ ফিরোজ শ্রাবন

আজ বৃষ্টির দিন আমি তুমিহীন, শূন্য শূন্য লাগে। সত্যি কথা বলতে বৃষ্টির দিন আমার খুবই ভাল লাগে। বৃষ্টির দিনে বাদাম ভাজা, চাল ভাজা, কাঁঠাল বিঁচি ভেজে মা আমাদের পাঁচ ভাইবোনকে দিতেন আর আমরা মিলেমিশে খেতাম কম বা বেশি যে যা খেতে পারে। কারো কোন অভিযোগ থাকতো না। খেতে খেতে টিনের চালে বৃষ্টির শব্দের সাথে যে গানটাই গাইতাম মনে হত বৃষ্টিও আমার সাথে গাইছে। বৃষ্টির দিনে মা ঘরের বাইরে যেতে দিতেন না। কারণ বৃষ্টির সাথে যখন ঝড় থাকে তখন আনন্দের সাথে শংকাও থাকে । তাই জানালা দিয়ে বৃষ্টিকে ছৃঁয়ে দেখতাম আমার…

Read More

আমার আমি ৫/ফিরোজ শ্রাবন

আমার আমি ফিরোজ শ্রাবন

প্রতিদিন রুটিন মতো সব ভাইবোন একসাথে পড়তে বসা আর বিকেল হলে হাত মুখ ধুয়ে হারিকেনের চিমনী ধুয়ে পড়ার টেবিলে বসা অনেক বিরক্তিকর ছিল। আবার জোৎন্সারাতে যখন নিজেকে দেখতাম পড়ার টেবিলে আর বাড়ির অন্যরা উঠানে গল্প আর খেলায় মত্ত তখন নিজেকে বন্দী পাখি মনে হত। তাই শুধু  অপেক্ষা করতাম কখন রাতের খাবারের জন্য ডাক আসবে। রাতের খাবার খেয়ে আবার পড়তে বসলে পড়ার টেবিলেই ঘুম চলে আসত। আর বই বন্ধ করে বসে থাকতাম কখন যেন ঘুমের মধ্যেই বিছানায় চলে যেতাম নিজেও জানতাম না। সকালে ঘুম ভেঙ্গে দেখতাম নিজের বিছানায় আর অবাক হতাম…

Read More

আজ পহেলা বৈশাখ

আজ পহেলা বৈশাখ ফিরোজ শ্রাবন

গাছে গাছে আমের মুকুল দেখে ভাবি পহেলা বৈশাখ এলো বলে। গ্রামে একটা সুন্দর ব্যাপার হল প্রকৃতি আপনাকে বলে দেবে এখন কোন কাল চলছে গ্রীষ্ম, বর্ষা, নাকি শরৎকাল। তবে অনেকে হয়ত ১৪২৫ বঙ্গাদে এসে বলবেন, এখন প্রকৃতির রূপ নির্ণয় করা কঠিন । সত্যি কথা যাই হোক, গ্রামে আমরা সাধারণত গাছের মুকুল দেখেই ভাবতাম বৈশাখ এলো বলে। কিন্তু কবে আসবে তা জানার জন্য বড়দেরকে প্রতিনিয়ত বিরক্ত করতে হত । কারণ পহেলা বৈশাখ মানে কিন্তু বৈশাখীমেলা । আমি সব কিছু ভুলতে পারি বৈশাখীমেলার কথা ভুলতে পারবো না । শৈশবের এই আনন্দের দিন কি…

Read More

আমার আমি ৪

আমার আমি ফিরোজ শ্রাবন

প্রাইমারিতে যখন পড়তাম তখন খুব ইচ্ছা করতো এ্যাসেমব্লিং এ আমি জাতীয় সংগীত গাইব আর সবাই আমার সাথে কোরাস গাইবে। স্কুলের স্যারেরা জানতেন না আমি জাতীয় সংগীত গাইতে পারি। তো হঠাৎ একদিন সেই সুযোগটা আসলো আর আমি ও চেষ্টা করলাম। কিন্তু মনের মত গাইতে পারলাম না । তবুও আমি তখন থেকে প্রায় প্রায়ই গাওয়ার সুযোগ পেতাম সামনে দাঁড়িয়ে গাইবার জন্য। ক্লাসের ফাঁকে কোন স্যার যদি বলতো, ‘যা তো পানির জগটা ভরে নিয়ে আয়’ তখন কি যে ভাল লাগত।  ঐদিন মনে হত স্যার নিশ্চয়ই আমাকে পছন্দ করে তা না হলে কেন আমাকে…

Read More

আমার আমি..৩

আমার আমি ফিরোজ শ্রাবন

আমার মায়ের ছিল ভীষণ পান খাওয়ার নেশা । আর আমার ছিল মায়ের পান চিবিয়ে মিহিন করা সেই অংশের । মা যেমন মাছের মাথার বাকি অংশ আবার আমিও মায়ের পানের বাকি অংশ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়তাম।  তবে মা আমার মত এত ব্যস্ত হতো না যেমনটা আমি হতাম । ভাত খেয়ে পান না পেলে মা নিজের জীবনকে অর্থহীন মনে করতো । আর একটা শখ মায়ের ছিল ঈদের কাপড় নিজের পছন্দের মত করে নেবার। আব্বা বাজার থেকে তিনটা চারটা কাপড় নিয়ে আসত । মা পছন্দ মত বাছাই করে যেটা বা যে দুইটা পছন্দ…

Read More

কঠিনেরে ভালবাসিলাম

আমার আমি ফিরোজ শ্রাবন

কঠিনেরে ভালবাসিলাম ‘বাজারে যাচাই করে দেখিনি ত দাম/ সোনা কিনিলাম নাকি রূপা কিনিলাম/ ভালবেসেছ বলে ভালবাসিলাম।’ সিনেমার এই গানটি অসম্ভব জনপ্রিয় হয় আর এই গানের হাত ধরে কত প্রেম যে তার সার্থকতা খুঁজে পেয়েছে তার হিসাব মেলানো যে কঠিন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আমাদের স্কুল থেকে কলেজ জীবনে এই গানের প্রভাব ছিল ব্যাপক। গানটি কি অর্থ বহন করে বা গানের বার্তা আমরা তখন না বুঝলেও প্রেম করেছি এই জাতীয় গানেরই হাত ধরে। ক্লাসের ভিতরে শিক্ষকদের কঠিন শাসন আর নজরদারি আমাদের  আশাহত করেছে বারংবার।  তবুও যদি ক্লাসের খাতার ভিতরে কোন…

Read More

আমার আমি

আমার আমি ফিরোজ শ্রাবন

আমার বাবা সরকারী জব করতেন। গৃহস্থালীও ছিল আমাদের । আমাদের বেশ কয়েকটা গরু ছিল, রাখলও ছিল। যাকে বলে মাঠ ভরা ধান আর গোয়াল ভরা গরু। আমাদের জমিতে যে ধান হত তা দিয়ে আমাদের সারা বছরের চাল তো হতোই আবার কিছু বিক্রিও করতাম। তবে সব বছর সমান ফসল হত না । মাঝে মাঝে মন্বন্তরও হত। উত্তরবঙ্গে যাকে বলে মঙ্গা। মন্বন্তর এর বছরগুলোতে আর রাতে উঠানে গল্প বা কিচ্ছার আসর বসত না । আশেপাশের সবাই বিভিন্নরকম ভাবে কষ্টের দিনগুলি দ্রুত পার করতে চাইত। আর যে বছর প্রচুর ফসল হত উঠানে ধানের মলনে…

Read More

আমার আমি -১

আমার আমি ফিরোজ শ্রাবন

০১ জানুয়ারি ১৯৮০ ইং, মঙ্গলবার আমার জন্ম। তিন বোনের পরে চতুর্থ সন্তান হিসেবে আমি আমার মায়ের কোল আলোকিত করি। আলোকিত করি বলছি  এই জন্য যে,  আমার চাচিদের ধারনা ছিল এবারও কন্যা সন্তান হবে।আমার মা খুব মন খারাপ করতেন, হয়ত কাঁদতেনও । তো একদিন রাতে মা স্বপ্নে দেখলেন আমার দাদ, মাকে বলছেন, আমি আসছি তোমার ঘরে। আর সত্যি যখন আমি দুনিয়াতে আসলাম মায়ের মন নিশ্চয়ই খুশিতে ভরে উঠেছিল কারণ ছেলে সন্তান বলে কথা। অপরিসীম আদরের সন্তান আমি তাই  আমার নাকটা একটু বেশি বড় । মার কাছে শুনেছি, সবাই এত চুমা দিত…

Read More

ভালো থেকো প্রিয় বাংলাদেশ

ভালো থেকো প্রিয় বাংলাদেশ

”সবকটা জানালা খুলে দাওনা ”আমি গাইবো গাইবো বিজয়েরই গান। ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তে, আর দুই লক্ষ মা বোনের সম্ভ্রম হারিয়ে অর্জিত হে স্বাধীনতা। তুমি আসবে বলে কত প্রতীক্ষা কত না বলা গল্প জমিয়ে রাখা । একদিন দেশ স্বাধীন হবে তখন সবাইকে বলবো আমার যুদ্ধজয়ের গল্প। আজ সেই স্বাধীনদেশে আমার গল্প কেউ শুনতে আসে না। যারা পাকিস্তানীদের দোসর আজ তারাই মঞ্চে দাঁড়িয়ে দু হাত নাড়িয়ে কত মিথ্যাচার করছে আর সবাই, তাই যেন বিশ্বাস করছে। কেউ আমার কাছে জানতে চায় না, আমার পরিচয় আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমার অর্জন এই স্বাধীন দেশ ।…

Read More

বন্ধু

বন্ধু

বন্ধু লাল গোলাপের শুভেচ্ছা নিও। একবার ঢাকা থেকে বাসে করে গোপালগঞ্জের বাড়িতে যাচ্ছি।  গাড়ির গানগুলো সাধারণত আমার পছন্দের তালিকার সাথে কখনই মেলে না। তাই মনোযোগ ও দেই না কোন গানে। তো সেইদিন  একটা গানটা বাজছিল।  আসিফ আকবর এর ”বন্ধু লাল গোলাপের শুভেচ্ছা নি/ ও আমি যে তোমার এই কথাটি মেনে নিও”। গানটা খুব  ভাল লাগল আর আমি ফিরে গেলাম বন্ধুদের সাথে। সেই ১৯৯৩ সালে আমি মাত্র ক্লাস এইটে পড়ি স্যারদের ভাষায় থার্ডক্লাস। এই থার্ডক্লাস এর ব্যাখা নিশ্চয় আনেকেই জানেন আর যদি না জানেন তো তাদেরকে বলি থার্ডক্লাস হচ্ছে তৃতীয়। সেটা…

Read More