স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ‘চরমপত্র’

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ‘চরমপত্র’

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সাথে ওতোপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের নাম। বস্তুত এই বেতারকেন্দ্র ছিল মুক্তিযুদ্ধের দ্বিতীয় ফ্রন্ট। ১৯৭১ সালের ২৫ শে মার্চ তৎকালীন পাকিস্তানের শাসকবর্গ তাদের হিংস্র সামরিক বাহিনী নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে এদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের উপর। শুরু হয় পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে ঘৃণ্যতম গণহত্যা। সে নির্মমতার কথা বর্তমান প্রজন্মের সন্তানেরা চিন্তাও করতে পারবে না। ২৫ শে মার্চ রাতে শুধু ঢাকা শহরেই হানাদার বাহিনী অন্তত পঁচিশ হাজার মানুষ হত্যা করে। নিরস্ত্র বাংঙালী জাতির প্রতিরোধ শীঘ্রই ভেঙ্গে পড়ে। ঢাকার পরে তারা নতুন উৎসাহে সারা দেশে ধ্বংসলীলা শুরু করে। ১৯৭০…

Read More

অসহযোগ আন্দোলন: মহাত্মা গান্ধী থেকে বঙ্গবন্ধু

‘অসহযোগ আন্দোলন’ শব্দটির সাথে এই উপমহাদেশের মানুষের প্রথম পরিচয় ১৯২০ সালে। তখন ব্রিটিশ শাসনের যুগ। ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে ১৯২০ সালের ৩১ আগষ্ট মহাত্মা গান্ধী অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। মূলত রাউলাট আইন এবং জানিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকান্ডের প্রতিক্রিয়ায় এই আন্দোলন শুরু হয়। ১৯১৯ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে বৃটিশ সরকার রাউলাট আইন জারী করেন। এই আইনের ক্ষমতাবলে শুধুমাত্র সন্দেহের বশবর্তী হয়ে বিনা বিচারে যে কোন রাজনীতিবিদকে আটক রাখার বিধান চালু করা হয়। আর জানিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকান্ড সংঘটিত হয় ১৯১৯ সালের ১৩ এপ্রিল তারিখ। ঐদিন পাঞ্জাবের অমৃতসরে স্বর্নালী মন্দিনের নিকট জালিয়ানওয়ালবাগ নামক স্থানে এক বৈশাখী জমায়েত অনুষ্ঠিত…

Read More

গেটিসবার্গ থেকে রেসকোর্স

7march

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রনায়ক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন  সময়ে তাদের জনগণের উদ্দেশ্যে বক্তৃতা দিয়ে থাকেন। এর মধ্যে কোন কোন বক্তৃতা স্থান ও সময়কে অতিক্রম করে কালজয়ী হয়ে থাকে। ১৮৬৩ সালের ১৯ নভেম্বর গেটিসবার্গে দেয়া আব্রহাম লিংকনের বক্তৃতা, ১৮১৪ সালের ২০এপ্রিল ইম্পেরিয়ল গার্ড রেজিমেন্টের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত নেপোলিয়ান পোনাপার্টের ভাষণ, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে দেয়া উইনস্টন চার্চিলের কয়েকটি ভাষণ, ১৯৪০ সালের ১৮ জুন ফরাসীবাসীর উদেশ্যে দেয়া চার্লস দ্য গলের ভাষণ, ১৯২২ সালের ১৮ মার্চ অসহযোগ আন্দোলনকালে গ্রেফতরের পর আহমেদাবাদে সি এন ব্রুূমফিল্ডের আদালতে দেয়া মহাত্মা গান্ধীর জবানবন্দীর বক্তব্য, ১৯৪৪ সালের জুলাই মাসে আজাদ…

Read More

একুশের সংগ্রাম

পাকিস্তান হওয়ার পূর্বে ১৯৪৬ সালে যে নির্বাচন হয়, সে নির্বাচনে বাংলার মানুষ ব্যাপকভাবে মুসলীম লীগের পক্ষে অর্থাৎ পাকিস্তানের পক্ষে ভোট প্রদান করে। কারণ মুসলীম লীগের নেতৃবৃন্দ পূর্বেই এই নির্বাচনকে পাকিস্তান ইস্যুর উপর নির্বাচন বলে ঘোষণা করেছিলেন। পাকিস্তানেও বাঙালিরা ছিল শতকরা ৫৬ ভাগ। কিন্তু পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ সকল বিচার বিবেচনা এমনকি চক্ষুলজ্জাও বিসর্জন দিয়ে ঘোষণা করেন যে, উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার মাত্র সাড়ে চার বছর পর বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবির কারণে এদেশের ছাত্র জনতার উপর গুলি চালানো হয় এবং এতে বেশ কয়েকজন শহীদ হন।…

Read More

একুশের ভাবনা

ভাষার জন্য বাঙালির জীবন দেয়ার ঐতিহাসিক ঘটনার ৬৫ বছর পূর্ণ হবে এ বছর ২১ ফেব্রুয়ারি। মূলত বাংলাকে তৎকালীন পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দানের দাবীতেই ছিল এই আন্দোলন। কিন্তু একুশের চেতনা ছিল এই ভাষার দাবীর বাইরেও অনেক দূর বিস্তৃত। পাকিস্তান রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা মুহম্মদ আলী জিন্নাহ যখন ঘোষণা করেছিলেন যে, ‘উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা,’ তখন এদেশের মানুষ সঙ্গে সঙ্গে তার মুখের উপর ‘না’ বলে দিয়েছিল । এর পর থেকে পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী যতবার এ দেশের মানুষের উপর অন্যায় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে চেষ্টা করেছে ততবারই তাদের ‘না’ বলে দেয়া হয়েছে। অবশেষে ১৯৭১…

Read More

প্রথাবিরোধী ছাত্র আইনস্টাইন

আলবার্ট আইনস্টাইন ছিলেন মহাবিজ্ঞানী, অংক কষে যিনি তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের প্রচলিত আলো বদলে দিয়েছিলেন। তাঁর ল্যাবরেটরি বলতে ছিল মস্তিষ্ক​ এবং যন্ত্রপাতি ছিল কলম ও পেন্সিল। কেমন ছিল এমন একজন বিজ্ঞানীর ছাত্রজীবন? ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন আর দশজনের থেকে একেবারে আলাদা। বালকসুলভ চপলতা তাঁর মধ্যে ছিল না। কথা বলতেও শেখেন অন্যদের থেকে অনেক দেরিতে। স্কুলের পড়াশুনা এবং পরীক্ষা পদ্ধতি তাঁর ভাল লাগত না। আর পড়া মুখস্ত করতে তিনি একেবারেই পছন্দ করতেন না। মোট কথা স্কুলে তাঁর ফলাফল মোটেই আশাব্যঞ্জক ছিল না। আইনস্টাইনের জীবনে দুই ধরনের শিক্ষক ছিলেন। একধরনের ছিলেন শ্রেণী শিক্ষক- তিনি…

Read More