অনাবৃত

অনাবৃত মাহবুব তালুকদার

নাজিয়ার সঙ্গে আর্ট কলেজে গিয়ে দেখা হয়ে যাবে, এমন অবস্থার জন্য মোটেই প্রস্তুত ছিলাম না। কারো সঙ্গে দেখা হওয়ার জন্য আসলে কোনো প্রস্তুতি থাকে না। তবু তিন বছর পর এভাবে দেখা হতে আমি অপ্রস্তুত হলাম।       এক বন্ধুর চিত্র প্রদর্শনী দেখতে গিয়েছিলাম। যেতে দেরি হওয়ায় ততক্ষণে দ্বারোদঘাটনের ফিতা কাটা হয়ে গেছে। লোকজন ভিড় করে বিভিন্ন ছবির প্রতি ঔৎসুক্য বা অবহেলা প্রকাশ করছে। দু’চারজন সুন্দরী মহিলার উপস্থিতি এসব অনুষ্ঠানের অপরিহার্য অঙ্গ। তারা ছবি দেখতে আসে, না নিজেদের দেখাতে আসে, বোঝা দুষ্কর। তবু তারা না হলে পরের দিনের পত্রিকায় চিত্র-প্রদর্শনীর সচিত্র প্রদর্শন…

Read More

মৃত্যুসনদ

এইমাত্র অফিসে এলেন তিনি। চেয়ারে বসে প্রতিদিনের মতো সুরা ফাতেহা পাঠ করে মোনাজাত করলেন। ফাইলপত্র দেখার পূর্বে এক কাপ চা খাওয়া তার দীর্ঘদিনের অভ্যাস। কিন্তু আজ চা খেতে ইচ্ছা করছে না। সকালবেলা অফিসে আসার পূর্বে চারটা পত্রিকা পড়েন তিনি। একটি পত্রিকায় জাতীয় পরিচয়পত্র সম্পর্কে নেতিবাচক প্রতিবেদন বেরিয়েছে। সেটা তার শির:পীড়ার কারণ। প্রতিবেদন সত্য হলে আপত্তির কিছু ছিল না। কিন্তু প্রতিবেদনটি নিতান্তই মনগড়া। তা পড়ে মেজাজ ঠিক রাখা দায়। প্রতিবেদককে অবশ্য তিনি চিনতে পারলেন না। নতুন কেউ হবে হয়ত। আগারগাঁওয়ের এই অফিসে তাঁর দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় পরিচয়পত্র কর্মযজ্ঞের তিনি শীর্ষ…

Read More

কবিতা তোমাকে লেখে

কবিতা তোমাকে লেখে। তোমার রূপের বর্ণনায় কাল রাত্রিভর কবির কলম নির্ঘুম জেগেছে। কাব্যলক্ষী মৃদু হেসে বলেছিল, ‘তুমি যাকে চাও সে আমার নিতান্ত সতীন’। তবু সারাক্ষণ জেগে এঁকেছি তোমার ছবি কবিতায়। কাব্যের প্রতিমা তিলে তিলে গড়ে ওঠে তোমার সৌন্দর্য রচনায়; রাত্রির কুয়াশা-মাখা চুল, অনাঘ্রাত ঠোঁটদ্বয়, পদ্মকলির মতন স্তনভার, মায়াবী দু’চোখ। কবির অন্তরে আর কবিতায় ধবল জোৎস্নার বন্যা বয়েছিল সারারাত। তোমার দেহের ঘ্রাণে সুরভিত ছিল ঘর। কি আবেশে কবির লেখনী তোমাতে নিমগ্ন ছিল, সান্নিধ্যের সুখ ছিল মনে। তোমার রূপের পাত্র পান করে ভেবেছিল কবি- তুমি জন্মেছিলে তাই লেখা হয় অমর কবিতা।  

Read More