বিশু চোর ৫ম পর্ব/ শরীফ রুহুল আমীন

বিশু চোর

বিন্নাপুর গ্রামের শীত বসন্ত চলে যায় বেশ ভাল ভাবেই। শীতের সময় এখানে দুটো করে থিয়েটার হয়। একটি পুব পাড়ায় আরেকটি পশ্চিমপাড়ায়। এই এলাকায় মঞ্চ নাটককে বলে থিয়েটার। অনেকে বলে বই। সিনেমাকে যেমন বই বলে, মঞ্চনাটককেও এরা বই বলে। থিয়েটারের অভিনেতা অভিনেত্রী কলাকুশলী সব চরিত্রই গ্রামের তরুণ যুবক পুরুষরাই করে থাকে। মেয়েদের অভিনয় বা থিয়েটারের পার্ট করা এখানে অসম্ভব ব্যাপার। এবারে যে দুটো বই নামানো হবে তার একটির নাম ‘গৌরীমালা’, পুব পাড়ায় মঞ্চস্থ হবে। আরেকটি ‘রূপবানের বনবাস’, পশ্চিম পাড়ায় মঞ্চস্থ হবে। রীতিমতো রিহার্সেল চলেছে –পুব পাড়ারটি বিন্নাপুর গোল্ডেন ক্লাব ঘরে আর…

Read More

বিশু চোর- ৪র্থ পর্ব/ শরীফ রুহুল আমীন

বিশু চোর

রাতে হারিকেনের আলোতে খেতে বসেছে কালাম, হারুন আর  ওদের বাবা মা। ঘরের দরজার কাছে সিলিং-এর সাথে পাটের দড়ি দিয়ে  নোনা ইলিশ ঝোলানো। এখান থেকেই দু’চার ফালি ইলিশ নিয়ে রান্না করেছেন কালাম–হারুনের মা শিউলি বেগম। সিরাজগঞ্জ জেলার কাজীপুর থানার প্রায় সব কয়টি ইউনিয়নই প্রতি বছর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যায় তলিয়ে যায় কাটার অপেক্ষায় থাকা কাচাপাকা ধান। এই এলাকার মানুষের তাই কষ্টের শেষ নেই। ইরফান পণ্ডিতের পরিবার একটু ভাল আছে তার প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষকতার চাকরির জন্য। নচেৎ অবস্থা দুর্বিষহ হয়ে যেত। তবে বন্যার যেমন ক্ষতি করে থাকে, অন্যদিকে কিছু সুবিধাও দিয়ে থাকে…

Read More

বিশু চোর – তৃতীয় পর্ব/ শরীফ রুহুল আমীন

বিশু চোর

বিন্নাপুর গ্রামে সকাল হয় অনেক ভোরে। সূর্যোদয়ের অনেক পূর্বে ফজরের আজানের শব্দ শুনে কালাম আর হারুনের বাবা ইরফান পন্ডিতের ঘুম ভেঙ্গে যায়। পাড়ার মধ্যখানে মসজিদটি। আজান দিয়ে গ্রামের মাতবর গাজী মুন্সী পাড়ার পশ্চিম থেকে পুব প্রতি বাড়ির সামনে দিয়ে আন্ধার আন্ধার থাকতেই ডেকে যায় যাতে গ্রামের সব মুসল্লীই নামাজ পড়তে যায়। মুন্সী সাহেব চান তার গ্রামের সবাই পাক্কা নামাজী হয়ে ইন্তিকালের পর সবাই বেহেশতে চলে যাক। দুনিয়াবি আর কোনো উদ্দেশ্য নেই আজানের পরেও এই ডাকাডাকিতে। মুন্সী সাহেব আজান দিয়ে প্রথমে পশ্চিম পাড়ার শেষ বাড়ি তৈবালি দোকানদারের বাড়ির সামনে যান। সেখান…

Read More

গ্রেটওয়ালের দেশে – ২৮তম ও শেষপর্ব / শরীফ রুহুল আমীন

    নানজিং এর হ্রদে পানি দেখে বেশ উল্লসিত লাগলো কেননা বেইজিং এ এরকম হ্রদ বরফের আস্তরে ঢাকা পড়ে আছে। বেইজিং এর চেয়ে এখানে চার-পাঁচ ডিগ্রী বেশি তাপমাত্রা। আমরা মহামতি কনফুর্সিয়াসের টেম্পলের একেবারে ভেতরে প্রবেশ করলাম এবার। এখানে কনফুর্সিয়াসের মূর্তি তো আছেই, অধিকন্তু কনফুর্সিয়াস যেভাবে তার শিষ্যদের  জ্ঞানগর্ভ কথা বলতেন আর ভক্তরা তা শুনতেন সেরকম একটি প্রাঙ্গন স্থাপন করা হয়েছে। মূল ভবনের ভেতরের দেয়ালে কনফুর্সিয়াসের ওপর বিভিন্ন মিথিক্যাল কথাবার্তার বর্ণনা আছে। উদাহরণ স্বরূপ-‘দুই ড্রাগন ও পাঁচ বৃদ্ধ’ শিরোনামের একটি কাহিনীর খোদাইকৃত সচিত্র বর্ণনা এরকমঃ ‘কনফুসিয়াস জন্মগ্রহণের রাতে দুটি ড্রাগন সে…

Read More

গ্রেটওয়ালের দেশে- ২৭তম পর্ব / শরীফ রুহুল আমীন

আট জানুয়ারি দুহাজার সতেরো। রোববার। আজ আমরা পিকিং ইউনিভার্সিটি দেখবো বলে বেরিয়েছিলাম। কিন্তু পিকিং ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক বন্ধ ছিল বলে সেটি সম্ভব হলো না। ইউনিভার্সিটিতে পরীক্ষা চলছিল বিধায় এসময় ক্যাম্পাসে সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ বলে গেটকিপার জানালেন। সুতরাং সেখান থেকে আমরা বেইজিং এর বিখ্যাত ল্যাণ্ডমার্ক সিসিটিভি দেখতে চললাম। সিসিটিভি চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশন টাওয়ার যা বেইজিং এর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। ৪০৫ মিটার উঁচু এই টাওয়ার শীর্ষে রয়েছে একটি ঘূর্ণায়মান রেস্তোঁরা বা রোটেটিং রেস্টুরেন্ট। পর্যটকরা এ রেস্তোঁরায় আরোহন করে ঘুরতে ঘুরতে চা নাশতা বা ভোজন করতে পারেন। তবে তা বেশ ব্যয়বহুল। এখানে কিছু…

Read More

গ্রেটওয়ালের দেশে – ২৬তম পর্ব

আরেকটু এগিয়ে গেলেই একটি স্কি রিসোর্ট। নান্দনিক এ স্কি রিসোর্টটি ব্যক্তি উদ্যোগে তৈরি। চীনের হারবিন প্রদেশ হলো তুষারের স্বর্গরাজ্য। পুরো শীত ঋতু জুড়ে এখানে ব্যাপক তুষারপাত হয় আর বছর জুড়েই এখানে বরফের আস্তর থাকে। কিন্তু বেইজিং ঠিক সেরকম নয়। শীতকালে তাপমাত্রা শূন্যের নিচে চলে গেলেও গত দুমাসে এখানে তুষারপাত প্রত্যক্ষ করলাম মাত্র দুবার দুদিন। তাই স্কি রিসোর্টটি হারবিন বা অন্য কোনো প্রদেশ থেকে বরফ ও তুষার এনে তৈরি করা হয়েছে উৎসাহী বেইজিংবাসীর স্কি বা স্কেটিং- এর শখ মেটাবার জন্য। পাশেই রয়েছে সুবিশাল হ্রদ। হ্রদের পানির ওপর পুরু বরফের আস্তর ।…

Read More

গ্রেটওয়ালের দেশে – ২৫তম পর্ব

গ্রেটওয়ালের দেশে

ছিং হুয়াং দাও স্টেশনের বাইরে আমাদের জন্য একটি ট্যুরিস্ট বাস অপেক্ষমাণ ছিল। শহরটি একটি সমুদ্রের পাড়ে। পূর্ব চীন সাগরের সৈকত । আমাদের সকলের সমুদ্র দেখার আকুতি ছিল। বাস আমাদের সমুদ্রসৈকত লাগোয়া একটি সী-ফুড রেস্তোঁরায় নিয়ে এলো। রেস্তোঁরায় বিভিন্ন ধরণের সামুদ্রিক মাছ, কাঁকড়া, শামুক, ঝিনুক ইত্যাদি মজুদ ছিল। কিছু কিছু আইটেম রান্না করে সাজানো ছিল আবার কিছু আইটেম গরম গরম রান্না বা ফ্রাই করে দেয়া হচ্ছে। ভাত, চিকেন ফ্রাই, বিভিন্ন ফলমুল, চকোলেট, কেক, পেস্ট্রি, আইসক্রিম, ইয়োগার্ট, সফট ড্রিংক, চৈনিক বীয়ার, চৈনিক মদিরা সবই ছিল।যার যার পছন্দ মত খাবার নিয়ে বিশাল হোটেল…

Read More

গ্রেটওয়ালের দেশে – ২৪তম পর্ব

গ্রেটওয়ালের দেশে- ৪র্থ পর্ব

চার জানুয়ারি দুহাজার সতের।মঙ্গলবার। আজ আমাদের যেতে হবে চীনের একটি ভিন্ন প্রদেশ হেবেই এর ‘ছিং হুয়াং দাও (Qinghuangdao)’-এ। এটি একটি প্রিফেকচার। প্রিফেকচার হলো একটি প্রদেশের বাইরে একটি স্বতন্ত্র প্রশাসনিক ইউনিট। ফ্রান্স, জাপান, রোমান সাম্রাজ্যে পূর্বে এ ধরণের প্রিফেকচার ছিল। আমাদের হাইস্পিড রেলগাড়ির টিকেট সংগ্রহ করা ছিল সকলের জন্যই। আমাদের ট্রেন ছেড়ে দেবে সকাল সাড়ে নটায়। আমাদের দেশের মত এখানে ট্রেনের নাম নেই, আছে নাম্বার। আমাদের ট্রেনটির নাম্বার ডি ১৮ । আমার সিট পড়েছে ৪ নং বগিতে। বগির প্রথম সারির ডানদিক থেকে দ্বিতীয় সিট। প্রথম সিটটি জানালার পাশে । পেয়েছেন একজন…

Read More

গ্রেটওয়ালের দেশে-২৩তম পর্ব

গ্রেটওয়ালের দেশে- ৪র্থ পর্ব

আজ প্রসঙ্গক্রমে আমাদের গাইড মিস রুমং এর কাছে জানা গেল চীনাদের নামকরণের ক্ষেত্রে  কী নিয়ম অনুসরণ করা হয়। সে বলল, চীনাদের নামের তিনটি অংশ থাকে। যেমন তার নাম লিউ রু মং । এখানে লিউ হলো তাদের ফ্যামিলি নেইম। তার বাবা বা দাদার নামের আগেও লিউ আছে । রু হলো তার নিজেদের ভাই বোনদের নাম । আর মং হলো তার নিজের নাম। চৈনিক নামগুলোর অর্থও আছে। অর্থের প্রতি খেয়াল করে তারা নাম রেখে থাকে। তার নিজের নামটি চীনের বিশেষ একটি ফুলের নামে রাখা হয়েছে। ভাবলাম, আমরাও তো সাধারণত অর্থবোধক নামই রেখে…

Read More

গ্রেটওয়ালের দেশে-২২তম পর্ব

গ্রেটওয়ালের দেশে

পঁচিশ ডিসেম্বর দুহাজার ষোল।রোববার।।সপ্তাহান্তের দ্বিতীয় দিন। আমরা আজ এসেছি ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব বেইজিং-এ। অত্যন্ত সুরক্ষিত এ স্থানটির কাছেই চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতা চেয়ারম্যান মাও সেতুং এর সমাধি সৌধ। সমাধি সৌধ ঠিক বলা যায় না, কেননা এখানে তাঁর মৃতদেহকে কবর দেয়া হয়নি। বিশাল জাদুঘরের একটি বড় কক্ষে চেয়ারম্যান মাও এর মৃতদেহকে মমি করে রাখা হয়েছে। এই সমাধি সৌধের  সামনেই রয়েছে বিখ্যাত তিয়ান’আনমেন স্কোয়ার যেখানে ১৯৮৯ সালে কমিউনিস্ট বিরোধী গণতন্ত্রীপন্থী আন্দোলন করতে গিয়ে কয়েকহাজার মানুষ প্রাণ দিয়েছিল। তৎকালীন কমিউনিস্ট সরকার এখানে মিছিলকারীদের ওপর সামরিক ট্রাক উঠিয়ে দিয়েছিল আন্দোলন দমন করতে। তিয়ান’আনমেন স্কোয়ারের…

Read More