গ্রেটওয়ালের দেশে -১৮তম পর্ব

গ্রেটওয়ালের দেশে

যাহোক, আজ দুপুরে ফু চেং লু সড়কে অবস্থিত একটি রেস্তোঁরায় মধ্যাহ্নভোজ হলো। রেস্তোঁরাটি একটি মুসলিম রেস্তোঁরা, নাম Xi Bei Zha ma-san-Ting. রেস্তোঁরার মালকিন একজন মুসলিম লেডি। নাম –ঝু মা। তার সাথে তার বোনও দোকান চালায়। দুজনেই মাথায় স্কার্ফ পরা। তবে এ স্কার্ফ শুধু মাথার চুলই ঢেকে রাখে, ঘাড়, গলদেশ বা শরীরের কোনো অংশ নয়। মালকিন মহিলা বেশ সুন্দরী। সাধারণ চৈনিক চেহারা নয়, অনেকটা ককেশীয় মুখাবয়ব। খাবার ভাল ছিল। ফোন নং-কে চীনা ভাষায় বলে দিয়াম হুয়া। রেস্তোঁরার বিজনেস কার্ড চাইলে সে চীনা ভাষায় দিয়াম হুয়া লিখে দিল ০১০ ৬৫৪৩২০০৯। প্রসঙ্গত একটা…

Read More

গ্রেটওয়ালের দেশে – ১৭তম পর্ব

Tianjin-china

সতেরো ডিসেম্বর দুহাজার ষোল। প্রতি উইকেণ্ডে বেড়ানোর সুযোগ নিয়ে থাকি। আজ গিয়েছিলাম বেইজিং এ্যাকুয়ারিয়াম(Beijing Acquarium)। সকাল সাড়ে ন’টায় বেইজিং ওয়েস্ট রেলওয়ে স্টেশনের পাশের আমাদের হোটেল থেকে বাসে যাত্রা করে এক ঘন্টায় পৌঁছে গেলাম আমাদের কাঙ্ক্ষিত বেইজিং এ্যাকুয়ারিয়াম। আমাদের সাথে আজ রয়েছে গাইড মিস জেসি। একুয়ারিয়াম বলতে আমরা ঢাকার বাসাবাড়িতে বা দোকানে বা হোটেল রেস্তোরায় যে সব এ্যাকুয়ারিয়াম দেখে থাকি, পাঠক দয়া করে সে রকম ভাববেন না। কিছুক্ষণ পরেই বুঝতে পারবেন এই এ্যকুয়ারিয়ামের বিশালত্ব আর প্রকার। জনপ্রতি ১৬০ আরএমবি করে টিকেট কেটে গেটের অভ্যন্তরে প্রবেশাধিকার পেলাম। গাইড মিস জেসি গেটে আমাদের…

Read More

গ্রেটওয়ালের দেশে-১৬তম পর্ব

গ্রেটওয়ালের দেশে- ৪র্থ পর্ব

আজ শুক্রবার হওয়ায় আমাদের আবার সুযোগ হলো ক্লাস শেষে নিউজি মসজিদে নামাজ আদায় করতে যেতে। আমি যেহেতু খুব বেশি জানপেহচান নামাজি নই, এ বিষয়ে নিজের দুর্বলতা আছে, অস্বীকার করি না। একজন সাধারণ নামাজি আমি। তাই নামাজের জন্য আগেই মসজিদ অভ্যন্তরে গিয়ে ইবাদতে মগ্ন হই না। এ কারণে নামাজের আগে বেশ খানিকটা সময় পাওয়ায় আজও মসজিদের সেলস সেন্টারটিতে প্রবেশ করে এটা সেটা দেখছিলাম। কিছুক্ষণের মধ্যে সহকারি প্রকৌশলী আরিফ এসে জিজ্ঞেস করল, ‘স্যার আপনি যে ইতোপূর্বে জায়নামাজ কিনেছিলেন, তা কোথায় পাবো?’ –‘এখানেই পাবে,’ বলে আমি সেলস-লেডির উদ্দেশ্যে বললাম, ‘জায়নামাজ?” সেলস-লেডি কিছুই বুঝলেন…

Read More

গ্রেটওয়ালের দেশে- ১৫তম পর্ব

গ্রেটওয়ালের দেশে- ৪র্থ পর্ব

বারো ডিসেম্বর দুহাজার ষোল। আজ পাওয়ার প্লান্টে পৌঁছুতে সকাল দশটা দশ বেজে গেল। রাস্তায় ট্রাফিক জ্যাম ছিল।আজ সকালে টীম এ, বি ও সি এর ক্লাস ছিল।এর মধ্যে অর্ধেকের প্লান্ট ভিজিট, বাকী অর্ধেকের সিমুলেশন ক্লাস। পাওয়ার প্লান্ট কিভাবে চালানো হয়, তারই গ্রাফিক্যাল প্রেজেন্টেশনই হলো সিমুলেশন। ক্লাস শেষে হোটেলে এসে সরাসরি তৃতীয় তলায় ডাইনিং রুমে। লাঞ্চ সেরে নিজ রুমে একটু বিশ্রাম নেয়া হলো। তারপরই আমরা বেরিয়ে পড়লাম সাবওয়ে ধরে ওয়াং ফু জিং স্ট্রীটের উদ্দেশ্যে। হোটলের পাশেই বেইজিং ওয়েস্ট রেলওয়ে স্টেশন। এখান থেকে  নয় নং লাইন ধরে মিলিটারি মিউজিয়াম স্টেশন। তারপর লাইন ট্রান্সফার…

Read More

গ্রেটওয়ালের দেশে-১৪

গ্রেটওয়ালের দেশে

নয় ডিসেম্বর দুহাজার ষোল। আজ আমাদের হোটেল পরিবর্তনের দিন। চাওইয়াং জেলার তাইশুন হোটেলে একমাস চারদিন কাটিয়ে আমরা হাইদিয়ান জেলার  জিন তান বিন লুব হোটেল এবং জুন শিন হোটেলে উঠেছিলাম প্রতিটিতে ষোল জন করে। কিন্তু তাইশুন এর তুলনায় এ হোটেল দুটির মান নিম্ন। তাই এ হোটেলে মাত্র সাতদিন থেকে আজই নতুন হোটেলে যাচ্ছি। আমাদের নতুন হোটেলটির নাম চং ইউ সেঞ্চুরি গ্রাণ্ড হোটেল। এ হোটেলটি অপেক্ষাকৃত ভালো। এখানে আমি পেলাম ১১০৬ নং কক্ষ। বারোতলা হোটেলটির এগারোতলা। বড় জানালা থাকায় আলো বাতাস ভাল আর জানালাটি দক্ষিণ পাশে হওয়াতে জানালা দিয়ে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত…

Read More

মালা ছিঁড়ে দিও না

মালা ছিঁড়ে দিও না

অনেক সাধ করে মালাখানি গেঁথেছিলাম বেদনার নীল আর আনন্দের লাল ফুল দিয়ে অশ্রুতে অজু করে গাঁথা আমার সাধের মালা। কখনো কখনো দু’একটি ফুল খুলে যেতে চেয়েছে বিভীষিকার দুর্দিনে – অনেক কষ্ট করে বুকের জ্বালা বুকে চেপে আগলে রেখেছি সাধের মালাখানি । তুমি বুঝতে চাওনি, দেখতে পাওনি – যখনি একটি ফুল ফসকে যেতে চায় হৃদয়ের গভীরে হয় কী গভীর কম্পন হয় সে কী দুঃসহ রক্তক্ষরণ । সূঁচবিহীন দুহাতে প্রেমের সুতোয় আটকে রেখেছি গভীর মমতায় মালাখানি একটিও ফুল ঝরে যেতে দেইনি – হয়ত পাঁপড়ি সামান্য গেছে ছিঁড়ে বোঁটার দিকটা হয়ত হয়েছে কোথাও…

Read More

গ্রেটওয়ালের দেশে-১৩

পাঁচ ডিসেম্বর দুহাজার ষোল। আজ থেকে আমাদের চায়না হুয়াদিন পাওয়ার করপোরেশন এর পাওয়ার প্লান্ট চত্ত্বরে প্রশিক্ষণ ক্লাস। ব্যবহারিক ক্লাসের জন্য আমাদের এখানে আনা হয়েছে। সেই সাথে সিমুলেশন ক্লাস। আমরা এখন মোট চল্লিশ জন প্রশিক্ষণার্থী। প্রথমদিন পাওয়ার স্টেশন সেফটি রুলস এর ওপর ক্লাস নিলেন করপোরেশনের মহিলা কর্মকর্তা মিস ওয়াং লি এবং একজন পুরুষ প্রধান প্রকৌশলী মিঃ চ্যান হুইবো। কোন চা-বিরতি ছাড়া বেলা সাড়ে বারোটা পর্যন্ত একটানা ক্লাস। তারপর বাসে করে হোটেলে ফিরে লাঞ্চ। লাঞ্চের পর প্রায় পঁচিশ মিনিটের হাঁটা পথে আমরা ক’জন গেলাম ইফু মার্কেটে। আমার কোনো কেনাকাটা নেই। তবুও গেলাম,…

Read More