গ্রেটওয়ালের দেশে – ২৫তম পর্ব

গ্রেটওয়ালের দেশে

ছিং হুয়াং দাও স্টেশনের বাইরে আমাদের জন্য একটি ট্যুরিস্ট বাস অপেক্ষমাণ ছিল। শহরটি একটি সমুদ্রের পাড়ে। পূর্ব চীন সাগরের সৈকত । আমাদের সকলের সমুদ্র দেখার আকুতি ছিল। বাস আমাদের সমুদ্রসৈকত লাগোয়া একটি সী-ফুড রেস্তোঁরায় নিয়ে এলো। রেস্তোঁরায় বিভিন্ন ধরণের সামুদ্রিক মাছ, কাঁকড়া, শামুক, ঝিনুক ইত্যাদি মজুদ ছিল। কিছু কিছু আইটেম রান্না করে সাজানো ছিল আবার কিছু আইটেম গরম গরম রান্না বা ফ্রাই করে দেয়া হচ্ছে। ভাত, চিকেন ফ্রাই, বিভিন্ন ফলমুল, চকোলেট, কেক, পেস্ট্রি, আইসক্রিম, ইয়োগার্ট, সফট ড্রিংক, চৈনিক বীয়ার, চৈনিক মদিরা সবই ছিল।যার যার পছন্দ মত খাবার নিয়ে বিশাল হোটেল…

Read More

গ্রেটওয়ালের দেশে – ২৪তম পর্ব

গ্রেটওয়ালের দেশে- ৪র্থ পর্ব

চার জানুয়ারি দুহাজার সতের।মঙ্গলবার। আজ আমাদের যেতে হবে চীনের একটি ভিন্ন প্রদেশ হেবেই এর ‘ছিং হুয়াং দাও (Qinghuangdao)’-এ। এটি একটি প্রিফেকচার। প্রিফেকচার হলো একটি প্রদেশের বাইরে একটি স্বতন্ত্র প্রশাসনিক ইউনিট। ফ্রান্স, জাপান, রোমান সাম্রাজ্যে পূর্বে এ ধরণের প্রিফেকচার ছিল। আমাদের হাইস্পিড রেলগাড়ির টিকেট সংগ্রহ করা ছিল সকলের জন্যই। আমাদের ট্রেন ছেড়ে দেবে সকাল সাড়ে নটায়। আমাদের দেশের মত এখানে ট্রেনের নাম নেই, আছে নাম্বার। আমাদের ট্রেনটির নাম্বার ডি ১৮ । আমার সিট পড়েছে ৪ নং বগিতে। বগির প্রথম সারির ডানদিক থেকে দ্বিতীয় সিট। প্রথম সিটটি জানালার পাশে । পেয়েছেন একজন…

Read More

গ্রেটওয়ালের দেশে-২৩তম পর্ব

গ্রেটওয়ালের দেশে- ৪র্থ পর্ব

আজ প্রসঙ্গক্রমে আমাদের গাইড মিস রুমং এর কাছে জানা গেল চীনাদের নামকরণের ক্ষেত্রে  কী নিয়ম অনুসরণ করা হয়। সে বলল, চীনাদের নামের তিনটি অংশ থাকে। যেমন তার নাম লিউ রু মং । এখানে লিউ হলো তাদের ফ্যামিলি নেইম। তার বাবা বা দাদার নামের আগেও লিউ আছে । রু হলো তার নিজেদের ভাই বোনদের নাম । আর মং হলো তার নিজের নাম। চৈনিক নামগুলোর অর্থও আছে। অর্থের প্রতি খেয়াল করে তারা নাম রেখে থাকে। তার নিজের নামটি চীনের বিশেষ একটি ফুলের নামে রাখা হয়েছে। ভাবলাম, আমরাও তো সাধারণত অর্থবোধক নামই রেখে…

Read More

গ্রেটওয়ালের দেশে-২২তম পর্ব

গ্রেটওয়ালের দেশে

পঁচিশ ডিসেম্বর দুহাজার ষোল।রোববার।।সপ্তাহান্তের দ্বিতীয় দিন। আমরা আজ এসেছি ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব বেইজিং-এ। অত্যন্ত সুরক্ষিত এ স্থানটির কাছেই চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতা চেয়ারম্যান মাও সেতুং এর সমাধি সৌধ। সমাধি সৌধ ঠিক বলা যায় না, কেননা এখানে তাঁর মৃতদেহকে কবর দেয়া হয়নি। বিশাল জাদুঘরের একটি বড় কক্ষে চেয়ারম্যান মাও এর মৃতদেহকে মমি করে রাখা হয়েছে। এই সমাধি সৌধের  সামনেই রয়েছে বিখ্যাত তিয়ান’আনমেন স্কোয়ার যেখানে ১৯৮৯ সালে কমিউনিস্ট বিরোধী গণতন্ত্রীপন্থী আন্দোলন করতে গিয়ে কয়েকহাজার মানুষ প্রাণ দিয়েছিল। তৎকালীন কমিউনিস্ট সরকার এখানে মিছিলকারীদের ওপর সামরিক ট্রাক উঠিয়ে দিয়েছিল আন্দোলন দমন করতে। তিয়ান’আনমেন স্কোয়ারের…

Read More

গ্রেটওয়ালের দেশে-২১তম পর্ব

আজ মসজিদে নামাজান্তে মিঃ আলিমুল হক নামে একজন বাংলাদেশি ভদ্রলোকের সাথে দেখা হলো। আলিমুল ভাই চীন আন্তর্জাতিক বেতারে চাকরি করেন। উনার সাথে আলাপে জেনে গেলাম পূর্বতন রেডিও পিকিং পরে রেডিও বেইজিং হয়েছিল এবং পরে এটিই চীন আন্তর্জাতিক বেতার নাম পরিগ্রহ করে। ইংরেজিতে চায়না রেডিও ইন্টারন্যাশনাল (সি আর আই)। আলিমুল ভাইয়ের (alimulh@yahoo.com , ফোনঃ ১৩৪৩৯৪১৯৫৪) সাথে তার পরিবারও মসজিদে এসেছিলেন। ভাবিকে দেখলাম মাথায় হিজাব পরা আর পুত্রটি সুন্দর শীতের পোশাকে সজ্জিত। আলিমুল ভাইয়ের কাছে স্বল্প সময়েই জানা গেল বেইজিং আন্তর্জাতিক বেতারে তারা মোট চারজন বাংলাদেশি কর্মরত আছেন। তিনি এবং আরেকজন কুমিল্লার…

Read More

গ্রেটওয়ালের দেশে-২০তম পর্ব

গ্রেটওয়ালের দেশে- ৪র্থ পর্ব

এখানে এসে অভিজ্ঞতা হলো, চীনের লেখাপড়া সম্পূর্ণ চীনা ভাষায়। সামাজিক বিজ্ঞান, প্রকৌশল, চিকিৎসা বিজ্ঞান, স্থাপত্য, শিল্প সাহিত্য সবই চীনা ভাষায়। এর প্রমাণ পেয়েছি একমাসের অপারেশন্স এন্ড মেইনটেনান্স কোর্সে যে ক’জন শিক্ষক শিক্ষিকা ছিলেন তাদের কেউই পড়ানোর সময় একটি ছোট্ট শব্দও চীনা ছাড়া ইংরেজিতে বলেননি। এরা চীনা ভাষায় লেকচার দিত আর এলিস, রুমং বা জেসি আমাদের জন্য ইংরেজি ভাষায় অনুবাদ করে দিত। তার মানে কী দাঁড়ায়? বাংলাভাষায় যেমন ইংরেজি, আরবি, সংস্কৃত, উর্দু, চীনা ইত্যাদি ভাষার শব্দাবলী ঢুকে গেছে  চীনা ভাষায় তা হয়নি। অর্থাৎ চীনা ভাষা অন্য কোনো ভাষার ভকাবুলারি গ্রহণ করে…

Read More

গ্রেটওয়ালের দেশে -১৯তম পর্ব

Great-wall-of-China-beijing-bookmundi

অনেকদিন ভেবেছি, নিজের জন্য একটা ভাল বাইনোকুলার কিনব। তাই বাইনোকুলারের দোকানে গিয়ে একটি পছন্দ করে দাম জিজ্ঞেস করলাম। এবারের দোকানিটি পুরুষ। সে প্রথমে একটু অবজ্ঞার দৃষ্টিতে চাইলো মনে হলো। ভাবখানা এমন যে, এটা তো অনেক মূল্যবান বস্তু, তোমরা তো নিতে পারবে না এত টাকা দিয়ে। প্রথমে সে শুনেও না শোনার ভান করল। আবার জিজ্ঞেস করলাম, ভাই দাম কত?  তখন সে বাইনোকুলারের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ছোটখাটো একটা ‘বক্তিমা’ ঝেড়ে বলল, এটির দাম একহাজার আরএমবি। স্পেশ্যাল ডিসকাউন্টে এখন দাম ৪৮০ আরএমবি। শেষ পর্যন্ত বাইনোকুলারটি ১৫০ আরএমবি দিয়ে কিনলাম। আবুবকর এবার আমার বার্গেইনিং…

Read More

গ্রেটওয়ালের দেশে -১৮তম পর্ব

গ্রেটওয়ালের দেশে

যাহোক, আজ দুপুরে ফু চেং লু সড়কে অবস্থিত একটি রেস্তোঁরায় মধ্যাহ্নভোজ হলো। রেস্তোঁরাটি একটি মুসলিম রেস্তোঁরা, নাম Xi Bei Zha ma-san-Ting. রেস্তোঁরার মালকিন একজন মুসলিম লেডি। নাম –ঝু মা। তার সাথে তার বোনও দোকান চালায়। দুজনেই মাথায় স্কার্ফ পরা। তবে এ স্কার্ফ শুধু মাথার চুলই ঢেকে রাখে, ঘাড়, গলদেশ বা শরীরের কোনো অংশ নয়। মালকিন মহিলা বেশ সুন্দরী। সাধারণ চৈনিক চেহারা নয়, অনেকটা ককেশীয় মুখাবয়ব। খাবার ভাল ছিল। ফোন নং-কে চীনা ভাষায় বলে দিয়াম হুয়া। রেস্তোঁরার বিজনেস কার্ড চাইলে সে চীনা ভাষায় দিয়াম হুয়া লিখে দিল ০১০ ৬৫৪৩২০০৯। প্রসঙ্গত একটা…

Read More

গ্রেটওয়ালের দেশে – ১৭তম পর্ব

Tianjin-china

সতেরো ডিসেম্বর দুহাজার ষোল। প্রতি উইকেণ্ডে বেড়ানোর সুযোগ নিয়ে থাকি। আজ গিয়েছিলাম বেইজিং এ্যাকুয়ারিয়াম(Beijing Acquarium)। সকাল সাড়ে ন’টায় বেইজিং ওয়েস্ট রেলওয়ে স্টেশনের পাশের আমাদের হোটেল থেকে বাসে যাত্রা করে এক ঘন্টায় পৌঁছে গেলাম আমাদের কাঙ্ক্ষিত বেইজিং এ্যাকুয়ারিয়াম। আমাদের সাথে আজ রয়েছে গাইড মিস জেসি। একুয়ারিয়াম বলতে আমরা ঢাকার বাসাবাড়িতে বা দোকানে বা হোটেল রেস্তোরায় যে সব এ্যাকুয়ারিয়াম দেখে থাকি, পাঠক দয়া করে সে রকম ভাববেন না। কিছুক্ষণ পরেই বুঝতে পারবেন এই এ্যকুয়ারিয়ামের বিশালত্ব আর প্রকার। জনপ্রতি ১৬০ আরএমবি করে টিকেট কেটে গেটের অভ্যন্তরে প্রবেশাধিকার পেলাম। গাইড মিস জেসি গেটে আমাদের…

Read More

গ্রেটওয়ালের দেশে-১৬তম পর্ব

গ্রেটওয়ালের দেশে- ৪র্থ পর্ব

আজ শুক্রবার হওয়ায় আমাদের আবার সুযোগ হলো ক্লাস শেষে নিউজি মসজিদে নামাজ আদায় করতে যেতে। আমি যেহেতু খুব বেশি জানপেহচান নামাজি নই, এ বিষয়ে নিজের দুর্বলতা আছে, অস্বীকার করি না। একজন সাধারণ নামাজি আমি। তাই নামাজের জন্য আগেই মসজিদ অভ্যন্তরে গিয়ে ইবাদতে মগ্ন হই না। এ কারণে নামাজের আগে বেশ খানিকটা সময় পাওয়ায় আজও মসজিদের সেলস সেন্টারটিতে প্রবেশ করে এটা সেটা দেখছিলাম। কিছুক্ষণের মধ্যে সহকারি প্রকৌশলী আরিফ এসে জিজ্ঞেস করল, ‘স্যার আপনি যে ইতোপূর্বে জায়নামাজ কিনেছিলেন, তা কোথায় পাবো?’ –‘এখানেই পাবে,’ বলে আমি সেলস-লেডির উদ্দেশ্যে বললাম, ‘জায়নামাজ?” সেলস-লেডি কিছুই বুঝলেন…

Read More