বাঁচাও বাঁচাও আর কতদিন…

বাঁ-চাও বাঁ-চাও! কে কোথায় আছ! ছোটবেলায় যে সিনেমাগুলো দেখেছি প্রায় প্রতিটাতেই নায়িকাকে এভাবে চিৎকার করতে দেখেছি ভিলেন দ্বারা আক্রান্ত হয়ে। নায়কও সবসময় রেডি নায়িকাকে উদ্ধার করার জন্য! এই দৃশ্যটাতে এসে আমি খুব অবাক হতাম। কি করে সম্ভব? নায়ক কি সব সময় নায়িকার আশে পাশেই ঘুরঘুর করে? ভালোইতো। এরকম একজন প্রেমিক থাকলে মন্দ কি! কিন্তু সেরকম প্রেমিক আর পেলাম কই! একটু যখন বড় হলাম পেছনে ঘুরঘুর করা পাটকাঠির মত ছেলেগুলোকে দেখে প্রথমেই মাথায় এলো, হায় আল্লাহ, এ তো ভিলেনের একটা চড় খেয়েই বেহুঁশ হয়ে যাবে। উদ্ধার করাতো দুরে থাক। একে তো আমারই উদ্ধার করতে হবে! ব্যাস। সত্যি বলছি শুরু হলো প্র্যাকটিস, ‘ঢিসুম ঢিসুম।’ সামনে যাকেই দেখি তাকেই একটা ঢিসুম করে লাগাতে ইচ্ছে করতো; প্র্যাকটিস হিসেবে। প্র্যাকটিসটা একেবারে যে কাজে লাগেনি, তা কিন্তু নয়। কাজে লেগেছিল। সেটা সিক্রেট! সব কথা বলতে নেই!এখনকার কিছু ছবিতে অবশ্য দেখিয়ে থাকে নায়িকাও হাত লাগাচ্ছে, বাঁচাও বাঁচাও বলে আর চিৎকার করছে না। আশা করি আর করবেও না। কোমরটা মোটা হলেও কষে একটা চওড়া বেল্ট বেঁধে মাইরে হাত তো লাগাচ্ছে, তাই বা কম কি? তবে সবাই নয়। এখনও অনেকেই বাঁচাও বলে চেঁচিয়ে রাস্তা মাত করছে। সবাই হতে সময় লাগবে। আসলে শুধু নায়িকা কিংবা নারী বলে নয়, সব দুর্বলদের প্রতিই সবলদের একটা আক্রমণাত্মক ভাব থাকেই। বিশ্বরাজনীতিতে অলরেডি আমরা এসব প্রত্যক্ষ করছি। সেটা যেখানে যেভাবে ব্যবহার করা যায়। যাই হোক, আক্রমনের শিকার নারীরাই বেশি হয়ে থাকে বলার অপেক্ষা থাকে না। কারণগুলো কম বেশি সবাই জানি। তবে কারণ যাই হোক না কেন, এখন পেছন ফিরে তাকোনোর সময় আর নেই। যা কিছু করতে হবে দ্রুত করতে হবে। সময় এমনিতেই অনেক নষ্ট হয়েছে। বহু নারী আক্রমণের শিকার হয়ে হয় জীবন দিয়েছে, নয়তো শরীরে ছুড়ে দেওয়া এসিডের চিহ্ন নিয়ে নিজেকে আড়াল করে অসহনীয় জীবন বয়ে বেড়াচ্ছে নতুবা লজ্জায় হীনমন্যতায় নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে সমাজ থেকে একরকম বিচ্যুত হয়ে গেছে। আর কত?
সব আর চলতে দেওয়া যাবে না। সময় এসেছে এখন রুখে দাঁড়াবার। নারী এখন তার মেধার বিকাশ ঘটিয়ে প্রমাণ করে চলেছে সে দুর্বল নয়, কোনোভাবেই তাকে দুর্বল ভাবার অবকাশ নেই। এতোদিন বেশ কিছু বিশেষ বিশেষণে ভুষিত করে নারীর মানসিক দৃঢ়তাকে ভঙ্গুর করে রাখা হয়েছিল। অবলা- টবলা- কবলা এই জাতীয়। এখন, নো অবলা। এসব শব্দ শুনতে নারীদের বয়েই গেছে! নারীরা এখন বুঝে গিয়েছে কতটা শক্তি তাদের ভেতর জমা হয়ে আছে। এখন প্রয়োজন শুধু তার সঠিক ব্যবহার! কাজে লাগাতে হবে এই শক্তি। যদিও অনেকেই দ্বিধান্বিত এখনও। কী করি- কী করি, এই শক্তি ব্যবহার করা উচিৎ, না করা উচিৎ নয়, কোনটা! ওরা ভাবতে থাকুক কি বলেন। আমরা প্রস্তুত করি নিজেদের।
সিনেমায় চীনা মেয়েদের দেখে আমি খুবই আকৃষ্ট হই। দেখতে পুতুল পুতুল, কিন্তু যেই না কেউ হাত পা কিংবা মুখ নাড়ানোর চেষ্টা করেছে ওমনি স্প্রিংয়ের মতো লাফিয়ে কোৎ করে পেটে লাথি! বান্দা পেট চেপে দৌড়। মেয়েগুলো যেন বাতাসে আক্রমনের ঘ্রাণ পায়। আমাদের এখানেও ঘরে ঘরে মেয়েদের এভাবেই প্রস্তুতি নেওয়ার সময় এসে গেছে। ঘ্রাণ পেতে হবে। জিমে যেয়ে কিছু কোর্স কমপ্লিট করে চলে এলেই হবে না, প্রয়োগ করতে হবে। বান্ধবীদের, আত্মীয়স্বজনদের উৎসাহী করতে হবে। সবার আগে মনের জোর বাড়াতে হবে। নিজের এটিচুডটাকে স্ট্রং করতে হবে। নরম নরম চেহারায় তুলো তুলো হয়ে কথা বলা একদম পরিহার করতে হবে। যার সাথে কথা বলছেন সে যেন দু’চার কথা বলার পরই আপনার স্ট্রং মেন্টাল স্ট্যাটাসের পরিচয় পেয়ে যায়। এটা অত্যন্ত জরুরি। ঐ যে একটা কথা আছে না, বেড়াল মারলে প্রথম রাতেই মারতে হয়। অনেকটা ওরকমই। নরম মনের পরিচয় পেলেই মানুষ অহেতুক বাঁশীতে ফুঁ দিয়ে দেখতে চায় বাজে কি না! বাজলে তো হয়েই গেল। একটু বাজিয়েই দেখি না কী হয়! এখন এতো মিডিয়া কিন্তু টিজ করছে এমন অবস্থায় কোনো ছেলেকে লাত্থি মেরে কোনো মেয়ে রাস্তায় ফেলে দিয়েছে এরকম খবর কেন যে পাই না, ছবিও দেখি না! কিংবা চার পাচজন মেয়ে কোনো ফিচেল ছেলেকে কান ধরে উঠবস করাচ্ছে। (যেহেতু ছেলেরাই ফিচেল হয় বেশি)! নাটক সিনেমায় মাঝে মধ্যে এরকম দৃশ্য থাকলেও বাস্তবে বিরল। আমাদের সময় স্কুলে ড্রিল ক্লাস হতো একটা। এখন স্কুলগুলোতে মাঠই নেই তো ড্রিল ক্লাশ কি মার্শাল আর্টের ক্লাশ! কিন্তু প্রতিটি স্কুলে কলেজে এবিষয়ে একটা ক্লাশ রাখা প্রয়োজন। আমাদের দেশে এখন যে অবস্থা তাতে ভীষণ জরুরি আত্মরক্ষার কৌশল জানা। বেশি না, দু একটি কৌশল রপ্ত করতে পারলেও ছোটখাটো বিপদগুলোর মোকাবেলা করা যায়। দুটির উল্লেখ আমি করতে পারি। প্রথমটি,  সামনে থেকে আক্রমণাত্মক কাউকে দেখলেই কোনো চিন্তাভাবনা করার আগেই পা দিয়ে জায়গা মতো জোরে লাথি ঠুকে দেওয়া! দ্বিতীয় হাত চালিয়ে মানে হাতের দুটি আঙুল দিয়ে থুতনির নিচে গলার অংশে জোরে ঠুসে দেয়া। সত্যি বলছি, খাদিজা মেয়েটির বদরুল দ্বারা আক্রমনিত হওয়ার ছবিটি দেখে কষ্ট পাওয়ার সাথে রাগও লেগেছিল। শুধু মারই খেলো মেয়েটি? কেন, প্রতিহত করতে কি পারতো না? এই যুগের মেয়ে এরা, এদের শিখতে হবে এসব। প্রতিকুল অবস্থার সাথে লড়তে না শিখে শুধু সেলফি তোলা শিখলে হবে? নানা কায়দার সেলফি তোলা ছবি দেখি তো। সেটা নিয়ে আর একদিন লিখব ভাবছি। আর ঐ যে বললাম, ঘ্রাণ পাওয়ার ব্যাপারটা। সেটারও স্কীল বাড়াতে হবে। বদরুলের হাতে লাঠি দেখে মেয়েটিও কিছু একটা হাতে নিতে পারতো। আজকাল প্রচার ছাড়া কোনো কিছুই জমে না। এতোদিন তো এটাই প্রচারিত ছিল যে, মেয়েরা দূর্বল! আসলে বিষয়টা যে মোটেই তা নয় সেটা তো আমাদের বোঝা হয়ে গেছে। তাই এখন সময় এসেছে প্রচারটাকে উল্টে দেওয়ার। মেয়েদেরও তারা যে এসব কৌশল জানে সেগুলো কৌশলে বন্ধুবান্ধবদের মাঝে প্রচার করতে হবে। মানে নিজের সম্পর্কে এরকম মারকুটে একটা ধারনা তৈরি করে দিতে হবে। এগুলো সবই নিজেকে প্রাথমিকভাবে রক্ষা করার কৌশল। আমি বলে দিতে পারি কিছুটা কাজ হবে। কারণ ছেলেদের একটা সাধারণ ধারনাই থাকে আক্রমণ করলে মেয়েরা কিছুই করতে পারবে না। এই ধারনা ভাঙতে হবে। মেয়েরা ইচ্ছে করলেই এই আক্রমণ ঠেকাতে পারবে এই ধারনাটা তাদের মগজে প্রথমে ঢোকাতে হবে। ছেলেবন্ধু, প্রেমিক কিংবা আশেপাশের ছেলেরা যেন সবাই জানতে পারে যে এই মেয়েটি দূর্বল নয়। আঘাত করলে প্রতিহত করার মতো ওর মনোবল ও শক্তি দুটোই আছে। মেধাতো আছেই। ব্যাস, ওতেই অনেক কাজ হবে। কোনো ছেলে বা পুরুষ কোনো মেয়ে বা নারীকে অপমান করার আগে একশবার ভাববে। তাকে ভাবতে হবেই। বিশেষ করে যারা এই ধরনের পুরুষ তাদের শারীরিক শক্তি থাকেলেও কিছুটা মেরুদন্ডহীন ও কাপুরুষতো বটেই। মেয়েদের স্ট্রং পার্সোনালিটি তাদেরকে কিছুটা বিচলিত করবেই। আমিতো বলি জন্মের পর থেকেই মানে একটু বড় হয়ে ওঠার পর থেকেই মেয়েদেরকে মার্শাল আর্ট শেখানোর ব্যবস্থা করা উচিৎ। এতে তার শারীরিক ও মানসিক দুটোই শক্ত অবস্থান তৈরি করে নিবে। এই জগৎ সংসার নারীর ওপরেই ষাট ভাগ নির্ভরশীল। তাকেইতো আগে শক্ত হতে হবে। শুধু মায়া মমতার বেড়াজালে আটকে থাকলে কোনো কল্যাণ নেই। নিজেকেই শিখতে হবে কিভাবে চারদিকের দূষিত আবহাওয়া থেকে তার আত্মরক্ষা হবে। বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার না করে আক্রমণকারীর নাক দিয়ে দরদর করে কতটুকু রক্ত বের হয় সেই দৃশ্য অবলোকন করতে হবে!

Author: আনোয়ারা আজাদ

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts

One thought on “বাঁচাও বাঁচাও আর কতদিন…

  1. Acheter Viagra Bruxelles Buy Levaquin Made In Usa [url=http://byuvaigranonile.com]viagra[/url] Buy Propecia Super Active Plus Levitra Wirkungsbeginn Cialis Generika Rezeptfrei