ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক

লেখক, গবেষক ও ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক ১৯২৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তদানীন্তন ত্রিপুরা জেলার ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহকুমার শাহবাজপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম- আব্দুল হামিদ এবং মাতার নাম- রহিমা খাতুন। তিনি ১৯৪৭ সালে মেধা তালিকায় ষোড়শ স্থানসহ ম্যাট্রিক, ১৯৪৯ সালে দ্বাদশ স্থানসহ ইন্টারমিডিয়েট এবং ১৯৫৮ সালে এমবিবিএস পাশ করেন। কর্মজীবনে শিল্প ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত ছিলেন। বর্তমানে সাহিত্যকর্মই তাঁর একমাত্র পেশা, নেশা ও সাধনা।

ছাত্র জীবন থেকে সাহিত্য ও রাজনীতিতে সংশ্লিষ্ট। বিভাগপূর্বকাল থেকে প্রগতিশীল-অসাম্প্রদায়িক ছাত্র-রাজনীতির কর্মী। বিভাগোত্তর কালে বিভিন্ন প্রতিবাদী ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অংশগ্রহণ। ভাষা আন্দোলনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সক্রিয় সংশ্লিষ্টতা। ৩১ জানুয়ারি সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠনের বৈঠক থেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি সভা-সমবেশ-মিছিলে অংশগ্রহণ, বিশেষভাবে আন্দোলনে মেডিকেল ছাত্রদের সংগঠিত করা, বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রনেতাদের সঙ্গে আন্দোলন সংক্রান্ত বিষয়ে যোগাযোগ রক্ষা, ব্যারাক প্রাঙ্গণে কন্ট্রোল রুম পরিচালনা, একুশে ফেব্রুয়ারি রাতে মেডিকেল ব্যারাকে নয়া সংগ্রাম পরিষদ গঠনে উদ্যোগ গ্রহণ, ২৩ ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনার তৈরি থেকে আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে অংশগ্রহণ ও মেডিকেল ছাত্রদের তরফে উদ্যোগী ভূমিকা গ্রহণ, এপ্রিল (১৯৫২) নবগঠিত সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদে (আতাউর রহমান খান আহ্বায়ক) মেডিকেল কলেজের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিত্ব ও অংশগ্রহণ ইত্যাদি হরেক রকমের দায়িত্ব পালন করেন। এরপরও ১৯৫৩-৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের গঠন ও বিভিন্ন কর্মকান্ডে অন্যান্য ছাত্রনেতাদের সঙ্গে অংশগ্রহণ; একই বছর মে মাসে ৯২-ক ধারা জারির পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেফতারি পরোয়ানার কারণে আত্মগোপন এবং ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত দেশের গণতন্ত্রী-প্রগতিবাদী রাজনীতিতে প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা রয়েছে তার। পাশাপশি পঞ্চাশের দশক থেকে সাহিত্য সৃষ্টির কাজে আত্মনিয়োগ করেন। ১৯৫৮ সালে প্রথম গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ গ্রন্থের প্রকাশ এবং এসময় থেকে মূলত কবিতা ও প্রবন্ধাদি রচনা ও গ্রন্থ প্রকাশ করেন। ষাটের দশকে সাহিত্যপত্র ‘নাগরিক’ প্রকাশনা ও সম্পাদনা (১৯৬৩-৭০), বিজ্ঞান পত্রিকা ও পরিভাষা সংকলনাদি প্রকাশ, সত্তরের দশকে মিনি মাসিকপত্র ‘সুজনেষু’ প্রকাশ ও সম্পদনা করেন। বর্তমানে তাঁর রচিত ও সম্পাদিত গ্রন্থের সংখ্যা ৭০টি।  

তিনি বাংলা একাডেমির ফেলো, বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটির জীবন সদস্য, ১৯৮৯ সালে গঠিত ‘রবীন্দ্রচর্চা কেন্দ্র’’ নামক ট্রাস্ট সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা  ও চেয়ারম্যান। ১৯৭৬ সালে গঠিত একুশে পরিষদ ও ভাষা আন্দোলন জাদুঘরের অন্যতম উদ্যোক্তা। এছাড়াও একাধিক সামাজিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে কর্মরত। সাহিত্যে গবেষণামুলক রচনার জন্য ১৯৭৯ সালে বাংলা একাডেমী পুরস্কার, অলক্ত সাহিত্য পুরস্কার (১৯৯২), অগ্রণী ব্যাংক শিল্প সাহিত্য পুরস্কার, ১৯৯৫ সালে সাহিত্যে রাষ্ট্রীয় পুরস্কার একুশে পদক লাভ,  ২০১৩ সালে রবীন্দ্র পদক লাভ, কলকাতা থেকে রবীন্দ্রতত্ত্বাচার্য (১৯৯৭) উপাধি লাভ করেন।

 

 

Author: এম আর মাহবুব​

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts

মতামত দিন Leave a comment