দূর / সৈয়দা জান্নাত

আমি ও তোমাকে ওই চাঁদের মতো দুর থেকে দেখে যাবো, ঘনো কালো আধাঁরের মাঝে, তোমার এতো রূপ আমি তো বারা বার প্রেমে পড়ি। তুমি আমার হৃদয় মাঝে এক সুর তোলো, সেই সুরের মূর্ছনাতে আমি বার বার মুগ্ধ। তাই তো তোমার ও হাসিটা আমাকে তোমার কাছে টানে, তুমি আছো অজানা কোন এক দীপপুঞ্জে, যেখানে আমার ভালোবাসার করুণ সুর তোমার কান পর্যন্ত পৌছাবে না। তুমি কি কখনোই বুঝবেনা আমার এই আকুলতা, বার বার ছুটে গিয়ে ক্ষতবিক্ষত হয়ে মলিন মুখে তোমাকেই দেখেছি, এ যে এক অসীম ভালোবাসার টান যা তুমি কোন দিন বুঝবে…

Read More

জ্বলে ভিসুভিয়াসের আগুন/ ড. নিগার চৌধুরী ( হলি আর্টিজনের ঘটনা স্মরণে)

অতিথি আপ্যায়নের ঐতিহ্যের বরণ ডালায় ভালবাসার সরোবরে, বিষাক্ত সরিসৃপের ছোবল যুথী কামিনী রজনীগন্ধার শ্রভ্রবসনে জবা কৃষ্ণচূড়া পলাশের রঙের ঝলক। আমার দুহাত ভরা গুচ্ছ গুচ্ছ কদম ফুলের শরীর গড়িয়ে গড়িয়ে, তির তির করে ঝরছে উষ্ণ রক্ত। নির্ঘুম রাত কষ্টে কষ্টে দিশাহারা কালিদাসের ভ্রমণ বিলাসী পূর্ব মেঘ, উত্তর মেঘ বিভ্রান্ত; থেমে আছে গুলশানের ঊনাশি নম্বর সড়কে- স্তম্ভিত, তাকিয়ে আছে ‘হলি আর্টিজান’ নামের চির বিরহের, চির বিচ্ছেদের শোক মহলে। রাতদিন চলছে দুঃখের   নৈবেদ্য নিবেদন লজ্জায় ঘৃণায় মুখ ঢাকে অসহায় প্রিয় স্বদেশ- আমার বুকে দাউ দাউ জ্বলে বিসুভিয়াসের আগুন। ড. নিগার চৌধুরী

Read More

মানুষ থাকে না তার নামের ভেতর/ সালেম সুলেরী

বলোতো মানুষ, নামের ভেতরে সেই অভিধান চাপা পড়া নামের মানুষ কই? রঙিন প্রচ্ছদ হয়ে নামের পোশাক আছে অথচ নামের শিকড়, আদ্যপান্ত ক’জন খুঁজি?   আকীকা নামের হয়, শুভ দেখে– নামজারি দেহের জমিন, হয়তোবা নাম হলো– সবিনয়, অথচ জীবন তার মার মার উন্মত্ততার, পাড়া জ্বালাবার, ডাক দেয় কারাগার…   এরকম বন্দিদশা শ’য়ের ভেতর নিরানব্বই নামের, কত যে রাজকুমার আস্তাবল–পিজরাপোলের কোচোয়ান দারোয়ান সেজে তামুক সাজায়, চোখকাড়া ব্রততী তার রূপের রগড় ছেড়ে ব্রত নেয়– আমৃত্যু পাগল কণ্ঠ–কবিতায়।   সব নাম শুভ নাম– তবু কেনো শুভহীন পরিণাম! মানুষ কী তার নাম ভুলে যায়– নামের…

Read More

মহীরুহ তোমার দৃঢ় ঘোষণায়/ ড. নিগার চৌধুরী

দু’চোখের তারায় বঙ্গোপসাগরের দ্রোহের বিস্তার হৃদয় জুড়ে আকাশের  অসীমতা যার দিগন্ত রেখা চোখে পড়ে না। বিসুভিয়াসের উত্তপ্ত অগ্নিলাভার মতো নির্গত বাক্যে বাক্যে প্রতিপক্ষের বাংকার ব্যারিকেট ভেঙ্গে চুরমার তর্জনি উঁচিয়ে উচ্চারিত নির্দেশ যখন বজ্র হয়ে যায় মানবো না বলে এমন সাধ্যি, স্পর্ধা আছে কার। হিমালয় সম, অনঢ় নিশ্চল দাঁড়িয়ে থাকা সেই মহামানবের দৃঢ় ঘোষণা ‘আমি দুখি মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চাই।’ মুহূর্তে সুখ উবে যায় সুখি মানুষগুলোর অতি তৎপর ওরা বসে থাকে না। বুলেটে বুলেটে ক্ষতবিক্ষত হয়ে দুখি মানুষের স্বপ্ন। পদ্মা মেঘনা যমুনার রক্তাক্ত জলে সেই থেকে সুখি মানুষগুলো সাঁতার কাটার…

Read More

মনে পড়ে মনে আছে/-মাশহুদা  মাধবী

মনে পড়ে মনে আছে/-মাশহুদা  মাধবী.......

বহুদিন থেকে নেই সেই চাঁদ,/ফুল,পাখী, নদী,/ঘাস,বন,ভোরের শিশির বিন্দু/সব গেছে ঝরে।…. কতযুগ নেই দেখা,/অতি দূর কোন দ্বীপে/পথিক সেই প্রিয়জন। ভুলে গেছে সবকিছু……..। সেই  রূপকথা অতীত সময় /মাধবী কুঞ্জবীথির অচিন দুপুর আর/সেই অপরূপ  ফাল্গুনী দিন/……………………… তবু মাঝেমাঝেই কিযে হয়!/কোন সে স্মৃতি দিনের উতল বাতাস…/চুপিচুপি বলে যায়./……………… .. ভুলিনি কিছুই আজো /মনে আছে সবই সুনিপুণ /মনে পড়ে,মনে আছে/সে কি ভোলা যায়?

Read More

রবীন্দ্রনাথ/মানসুর মুজাম্মিল

রবীন্দ্রনাথ/মানসুর মুজাম্মিল

তুমি তার পাশে থাকো যে জন্মেছে তোমাকে জাগাতে যার বাড়ি জোড়াসাঁকো জোড়াসাঁকো । তুমি বারবার যার দিকে বাড়াবে হাত সে হলো তোমার প্রিয় রবীন্দ্রনাথ রবীন্দ্রনাথ । তোমার চোখকে ধাঁধিয়ে দেবে তোমার স্বপ্ন শানিয়ে দেবে তোমাকে ভাবাবে দিনরাত ‘সোনারতরী’তে আসবে সে জন রবীন্দ্রনাথ রবীন্দ্রনাথ । ‘যোগাযোগ’ করে চিঠি দেবে তুমি তার ‘ডাকঘর’এ ‘শারদোৎসব’ এ ঠিক যাবে তুমি ধর্ম তোমাকে দেবেনা ভাগ করে । লিখে লিখে তুমি পাড়া করো মাত তোমার কাঁধে হাত দিয়ে তোমাকে সাহস জোগাবে রবীন্দ্রনাথ রবীন্দ্রনাথ । তুমি যে ভাবছো তুমি যে লিখছো সে যে তোমার জাত তোমাকে টেনে…

Read More

প্রকৃতির সন্তান/হাসনাইন সাজ্জাদী

প্রকৃতির সন্তান

প্রকৃতির সন্তান হারিয়ে যাওয়া ফুল পাখি এলেবেলে মেঠো পথ হেটেছিল শুভক্ষণে আমার সাইত্রিশ বসন্ত। আমি বিয়ের পিড়িতে বঞ্চিত সে নিঝুম রাতে আমার বাসরে। ফুলের মত মেয়েটি কল্পনায় সে আমার আজও ফুটে হুল হয়ে আজো ভালোবাসি। বিলম্বে মা হবার চেষ্টা তার আমি দূর থেকে ফুঁকে দেই গর্ভ প্রকৃতির অলৌকিকত্বে সাফল্য দ্বারপ্রান্তে প্রকৃতি আমার ই। উত্তম পুরুষ ঘড়ির কাটায় ছুঁয়ে যায় সময়ের পরিমাপ জীবনের জলছবি আঁকা জেরস্কপি মেশিনে। মহাকাশ ফেরি করে গ্যাস ভর্তি বেলুনে সাত রঙ ধারাপাত খুঁজে কে বা কারা আনমনে। ধূসর বাতাসের তুলোয় কে উড়ে ট্রাফিক আইল্যান্ডে কার্বনডাইঅক্সাইড ঝড়ে শিশায়…

Read More

এসো হে বৈশাখ

এসো হে বৈশাখ আফরোজা পারভীন

চৈত্রদিনের শেষে তোমার আগমনী বার্তা শোনা গেল। তুমি এলে দুর্ধর্ষ এক আশ্বারোহীর মত সকল জারাজীর্ণতাকে পায়ে সরিয়ে রিক্ত ও শূন্য পত্রপল্লবে নতুনের পতাকা উড়িয়ে । তুমি আসছ আমাদের ঘরে ঘরে আশা ও আকাঙক্ষার শুভবার্তা নিয়ে রবীন্দ্রনাথের কন্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে আমরা উচ্চারণ করি, এসো হে বৈশাখ, এসো এসো। তুমি এসো হে বৈশাখ কেবল শহুরে মানুষের বিনোদনের পার্বণ হয়ে নয়, তাদের সুশোাভিত পাঞ্জাবি আর উজ্জ্বল হাসিতে নয়, মেয়েদের রংবেরঙের শাড়ির পাড় বা অলংকার হয়ে নয়, ব্যবসায়ীর নতুন হালখাতায় ভর করে নয়, সারা বছরের একটি দিনকে সমুজ্জ্বল করে কী লাভ তোমার নবীন বৈশাখ…

Read More

কালরাতের বিভীষিকা ও স্বাধীনতা

কালরাতের বিভীষিকা ও স্বাধীনতা অনুপা দেওয়ানজী

১৯৭১ এর ২৫শে মার্চ বা কালরাত্রি যাকে এখন গণহত্যা দিবস বলে আমরা জানি সেদিন আমি স্বামীর সাথে চট্টগ্রাম থেকে রাতের মেলে সিলেট যাবো বলে সব কিছু গুছিয়ে নিয়েছি। বিকেলে বাবা বললেন, তোরা তো যেতে পারবি না রেল লাইন উপড়ে ফেলা হয়েছে। অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গিয়ে ভাবছিলাম কি করবো। আর সে রাতেই শুরু হল‘ অপারেশন সার্চ লাইটের’ নামে গণহত্যা।ঠিক মধ্যরাতে কামানের বিকট গর্জনে কেঁপে উঠলো ঢাকা শহর ।বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত অধ্যাপক, নিরীহ ছাত্র, পুলিশ, পবিত্র শহীদ মিনার , জনতা কেউ তাদের হাত থেকে সেদিন রেহাই পায়নি। গুলির শব্দে, কুকুরের চিৎকারে, মানুষের আর্তনাদে…

Read More

একটি পাখি ও বঙ্গবন্ধু

একটি পাখি ও বঙ্গবন্ধু

আমার ছিলো একটি দোয়েল পাখি- মধুর সুরে সকাল বিকেল করতো ডাকাডাকি। আমার আছে- লাল সবুজের নিশান রক্ত দিয়ে এনেছিল তাঁতী মজুর কৃষাণ। বাংলাদেশের বজ্র কন্ঠি যে স্বর সজীব এক নামেতে চিনে তাকে বঙ্গবন্ধু মুজিব। রাজাকার আর মির্জাফরও কুচক্রীদের হাতে জাতির পিতা হত্যা করে ওরা কালো রাতে। খুনীর বিচার আজ হয়েছে ওদের গলায় ফাঁসী কোটি কোটি বাঙালিদের সবার মুখে হাসি।  

Read More