স্বাধীনতা ও দিগম্বর কিশোরী/ জান্নাতুল ফেরদৌসী

স্বাধীনতা

তোমার স্বপ্নের সোনালী ভুবনে, লাল সবুজ পতাকা নিয়ে হেসে খেলে  উল্লাস করে উড়ে বেরাবে বলেই স্বাধীনতা। তোমার দিঘীর জল জ্বলবে, মাছরাঙা,পানকৌড়ী,বালিহাঁস খেলবে, ভাদ্র মাসে ভরা পূর্ণিমায় তাথৈ তাথৈ নাচবে বলেই স্বাধীনতা। কঁচি কলাপাতার মতো সবুজ কুসুমের মতো কোমল পেলব মন নদীর মতো প্রবাহমান তুমি বাধাহীন  চলবে বলেই স্বাধীনতা। অথচ কি এক অদ্ভুত ঝড় ভেংগে দিলো স্বপ্নিল সম্ভাবনা। তোমার নাভির নিচে ছিল অপার সুখের নির্মল স্রোত। তুমি ছিলে ভীষণ সাহসী মাত্র বার কি তের তুমি তোমার চোখে চিন্তার রেখা, মুখে মুক্তির স্লোগান। উন্মুক্ত  আকাশের দিকে আঙুল যেনো মানুষের সমান। মুক্তির  উল্লাসে…

Read More

তোমার গহীনে মরেছি/ মীম মিজান

আমার সমাধিতে তোমার অঞ্জলি আমাকে জলহীন মাছের মতই করবে। যাকে জেনেছ ধরার নিকৃষ্টরূপে তাকে পারো না সঁপিতে নির্মল কোন ফুলের অর্ঘ। তুমি তোমার মানসপটে, ঘুটঘুটে আঁধারের উৎস হিশেবে পেয়েছো আমাকে তাই বলছি, তোমার স্বর্ণোজ্জ্বল মানসকে কলুষিত করো না, এই হতভাগ্যের সমাধিতে এসে। তোমার জন্য ছিলো উচ্চবর্ণের সুবেদার আর সেখানে আমি কোন তাঁবেদার! আমায় গ্রহণে, তোমার জলসিঞ্চন হয়েছে সাহারায়। হিশেবের খাতা মিলিয়ে দেখো সুশ্রী, হয়ত তোমার তরফ থেকে রিক্ত। তবে আমি তোমায় শুধু ভালোবেসেছি, তোমার গহীনে মরেছি। মীম মিজান Share this…FacebookGoogle+TwitterLinkedinPinterestemail

Read More

একজোড়া লুকোনো কাঁজলে/ সুফিয়ান রায়হান

তপ্ত আবরণ তলে উদোম প্রান্তরে হাটছিলাম, অকস্মাৎ চোখ দুটো থমকে গেল একজোড়া লুকোনো কাঁজলে। . ভেবেছিলাম মেশকের সূরভী ছড়াবে না! এতো পুড়ে যাওয়া জ্বালানি। . এ উপত্যকা আমার নয়, আমিতো কতবার জীর্ণ জানালায় ছুৃঁয়ে শপথ করেছিলাম তোমার অসময়ে নাঙ্গা খড়গ হাতে দাড়িয়ে যাবো মুহুর্তেই। . কিন্তু আজ রজনীগন্ধার রক্ত মেখে নেশা করে আছে রাজপথ বিলাপের সুর বহুদুর। . তবু কবির দরোজা ঝানাৎকারেও একবার খোলেনা, সেই চিৎকার জীবনান্তে গিয়েও বলে, ঠগ,প্রতারক আজীবন জেঠামিই করে গেলে। নদীকান্তের লোলুপ জিহ্বায় তোমার নৃশংস সৎকার হোক।   Share this…FacebookGoogle+TwitterLinkedinPinterestemail

Read More

সঞ্চারী গোস্বামীর দুটি কবিতা

উল্গুলানের গান–১   কিছু তো অন্যায় নেই, আকাশকুসুমও চাইছি না আমার শ্রমের মূল্য যত কপর্দক তার চেয়ে কমই চেয়েছি। কমই চেয়েছি, শোনো বুক ঠুকে বলে দিতে পারি যেটুকু ন্যায্য চাওয়া সেটুকু চেয়েছি।   এবারে দেখতে হবে, সাহস জমিয়ে নিয়ে এসো এবারে দেখবে কী যে ঘন এই না–পাওয়ার রঙ! ভিক্ষা নয়, শুধু সেই দাবি পেতে আগুন জ্বেলেছি। খিদের গন্ধের সাথে যেখানে শ্রমের গান মেলে সেখানে এ আলো থাকে; ভিক্ষা নয়, ভিক্ষা নয়… না পাওয়ার রঙে আঁকা আলো   ভিক্ষা চাওয়ার থেকে থুতু ফেলে চেটে নেওয়া ভালো। উল্গুলানের গান–২   দরাদরি করা…

Read More

স্বপ্ন সোপান/ সু‌মি সৈয়দা

শর্তহীন কথা থে‌কে যায় কৃষ্ণচূড়ার ডা‌লে,ঘা‌সের শি‌শি‌রে ছুঁ‌য়ে থাকা জীবন‌শৈলী‌তে,অা‌রো কিছু ভুলচুক র‌য়ে যায় রজনীগন্ধা,‌গোলা‌পের প্রেয়সী উপহা‌রে উত্তপ্ত বিষন্ন দীর্ঘশ্বা‌সে। হা‌তের মু‌ঠোয় উদ্ভ্রান্ত নির্জনতা র‌ঙিন দুঃ‌খের চাদ‌রে দুল‌তে দুল‌তে হা‌ওয়ায় মি‌লি‌য়ে যায় কমলা গোধূলী‌তে থে‌মে থে‌মে ধূসর মনপব‌নের দিগ‌ন্তে।      ম‌নে পড়ে কি ‌ নৈঃশ‌ব্দে লুপ্ত নিভাঁজ সে সম‌য়ের কথা পরম প্রত্যা‌শিত ন‌ন্দিত নিঝ‌ুম স্বপ্ন          হাত বাড়া‌লেই একটু যেন খ‌ুব কাছ থেকে ধর‌তে ধর‌তেই মি‌লি‌য়ে গে‌লো। সু‌মি সৈয়দা Share this…FacebookGoogle+TwitterLinkedinPinterestemail

Read More

আলো ভালবাসা/হাসনাইন সাজ্জাদী

সোডিয়াম বাতিঘর নিভু নিভু রাজপথে নিভে যায় এনার্জি লাইট সূর্যের সাক্ষাতে। আলোর প্রখর তাপে অন্ধকার আৎকে কেঁদে ওঠে সংযোজন বিয়োজন তার অমাবস্যা পূর্ণিমাতে। কবে কোন শুভক্ষণে সূর্য জড়িয়ে ছিল আলোতে আলোক বর্ষ পথ পেরিয়ে আমাকে ভালবাসতে। ২ শব্দ ঋণ নির্মম নিষ্ঠুরতায় ছেঁড়া সাইবার আলনায় অগ্নি মিছিল কক্ষপথে প্রতিবাদ ভাবনায়। খুঁজে ফেরি মাহাত্ম্য মানব জমিন দৌর্দণ্ড প্রতাপে অটোভর্তি ঋণ। সকরুণ পরিণতি অন্ধকারের হাতছানিতে নিদারুণ যাতনায় বসে থাকি আঁড়ি পেতে। হাসনাইন সাজ্জাদী Share this…FacebookGoogle+TwitterLinkedinPinterestemail

Read More

দূর / সৈয়দা জান্নাত

আমি ও তোমাকে ওই চাঁদের মতো দুর থেকে দেখে যাবো, ঘনো কালো আধাঁরের মাঝে, তোমার এতো রূপ আমি তো বারা বার প্রেমে পড়ি। তুমি আমার হৃদয় মাঝে এক সুর তোলো, সেই সুরের মূর্ছনাতে আমি বার বার মুগ্ধ। তাই তো তোমার ও হাসিটা আমাকে তোমার কাছে টানে, তুমি আছো অজানা কোন এক দীপপুঞ্জে, যেখানে আমার ভালোবাসার করুণ সুর তোমার কান পর্যন্ত পৌছাবে না। তুমি কি কখনোই বুঝবেনা আমার এই আকুলতা, বার বার ছুটে গিয়ে ক্ষতবিক্ষত হয়ে মলিন মুখে তোমাকেই দেখেছি, এ যে এক অসীম ভালোবাসার টান যা তুমি কোন দিন বুঝবে…

Read More

জ্বলে ভিসুভিয়াসের আগুন/ ড. নিগার চৌধুরী ( হলি আর্টিজনের ঘটনা স্মরণে)

অতিথি আপ্যায়নের ঐতিহ্যের বরণ ডালায় ভালবাসার সরোবরে, বিষাক্ত সরিসৃপের ছোবল যুথী কামিনী রজনীগন্ধার শ্রভ্রবসনে জবা কৃষ্ণচূড়া পলাশের রঙের ঝলক। আমার দুহাত ভরা গুচ্ছ গুচ্ছ কদম ফুলের শরীর গড়িয়ে গড়িয়ে, তির তির করে ঝরছে উষ্ণ রক্ত। নির্ঘুম রাত কষ্টে কষ্টে দিশাহারা কালিদাসের ভ্রমণ বিলাসী পূর্ব মেঘ, উত্তর মেঘ বিভ্রান্ত; থেমে আছে গুলশানের ঊনাশি নম্বর সড়কে- স্তম্ভিত, তাকিয়ে আছে ‘হলি আর্টিজান’ নামের চির বিরহের, চির বিচ্ছেদের শোক মহলে। রাতদিন চলছে দুঃখের   নৈবেদ্য নিবেদন লজ্জায় ঘৃণায় মুখ ঢাকে অসহায় প্রিয় স্বদেশ- আমার বুকে দাউ দাউ জ্বলে বিসুভিয়াসের আগুন। ড. নিগার চৌধুরী Share this…FacebookGoogle+TwitterLinkedinPinterestemail

Read More

মানুষ থাকে না তার নামের ভেতর/ সালেম সুলেরী

বলোতো মানুষ, নামের ভেতরে সেই অভিধান চাপা পড়া নামের মানুষ কই? রঙিন প্রচ্ছদ হয়ে নামের পোশাক আছে অথচ নামের শিকড়, আদ্যপান্ত ক’জন খুঁজি?   আকীকা নামের হয়, শুভ দেখে– নামজারি দেহের জমিন, হয়তোবা নাম হলো– সবিনয়, অথচ জীবন তার মার মার উন্মত্ততার, পাড়া জ্বালাবার, ডাক দেয় কারাগার…   এরকম বন্দিদশা শ’য়ের ভেতর নিরানব্বই নামের, কত যে রাজকুমার আস্তাবল–পিজরাপোলের কোচোয়ান দারোয়ান সেজে তামুক সাজায়, চোখকাড়া ব্রততী তার রূপের রগড় ছেড়ে ব্রত নেয়– আমৃত্যু পাগল কণ্ঠ–কবিতায়।   সব নাম শুভ নাম– তবু কেনো শুভহীন পরিণাম! মানুষ কী তার নাম ভুলে যায়– নামের…

Read More

মহীরুহ তোমার দৃঢ় ঘোষণায়/ ড. নিগার চৌধুরী

দু’চোখের তারায় বঙ্গোপসাগরের দ্রোহের বিস্তার হৃদয় জুড়ে আকাশের  অসীমতা যার দিগন্ত রেখা চোখে পড়ে না। বিসুভিয়াসের উত্তপ্ত অগ্নিলাভার মতো নির্গত বাক্যে বাক্যে প্রতিপক্ষের বাংকার ব্যারিকেট ভেঙ্গে চুরমার তর্জনি উঁচিয়ে উচ্চারিত নির্দেশ যখন বজ্র হয়ে যায় মানবো না বলে এমন সাধ্যি, স্পর্ধা আছে কার। হিমালয় সম, অনঢ় নিশ্চল দাঁড়িয়ে থাকা সেই মহামানবের দৃঢ় ঘোষণা ‘আমি দুখি মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চাই।’ মুহূর্তে সুখ উবে যায় সুখি মানুষগুলোর অতি তৎপর ওরা বসে থাকে না। বুলেটে বুলেটে ক্ষতবিক্ষত হয়ে দুখি মানুষের স্বপ্ন। পদ্মা মেঘনা যমুনার রক্তাক্ত জলে সেই থেকে সুখি মানুষগুলো সাঁতার কাটার…

Read More