গতানুগতিক/আহমেদ শরীফ শুভ

টিভিটা ছাড়াই ছিল। সংবাদে কান যেতেই নাইমা’র মনোযোগে চিঁড় ধরলো। তার দৃষ্টি ছিল অরুণের চোখে। মনোযোগ ছিল তার জামার বোতামে। এই ব্যাপারে নাইমা আর পাঁচটা মেয়ের মতো নয়। ওর কথা শুনে শিউলি অবাক হয়েছিল।   তুই সত্যি একটা যা তা। কী যে বলিস!   কেন আমি কি চুরি করছি, নাকি অন্য কোন অপরাধ করছি? চোখ বন্ধ করে রাখবোই বা কেন, নিচের দিকেইবা তাকিয়ে থাকবো কেন?   তোর লজ্জা করে না বুঝি!   ধুর গাধী! কলেমাও পড়েছি, কাগজেও সই করেছি। লজ্জা করবে কেন? জামাই বলে কথা। আমি যা কিছু করি ওর…

Read More

রু মোপাসাঁ/ শাহনাজ পারভীন

অভির ইচ্ছে ছিল ও কাশবনের কবি হবে। সবাই যখন মহাকবি, বিশ্ব কবি, জাতীয় কবি, পল্লীকবি, রেনেসাঁর কবি, নৈঃশব্দ্যের কবি ইত্যাদি নানা অভিধায় উপাধিতে ভূষিত কবি হয়েছেন, সেখানে ওর বেশি কিছু চাওয়ার নেই। ও নিটোল কাশবনের কবি হতে চায়। এ স্বপ্নটা ওর আজন্ম। সরকারী এম এম কলেজে এইস এসসি পড়ার সুবাদে যখন প্রথম হাঁটি হাঁটি পা পা করে গ্রাম থেকে যশোর শহরে পা রাখে, সেই তখন থেকেই। ওর এলাকার ছেলেরা যখন ঝিনাইদহ কেসি কলেজে ভর্তি হবার স্বপ্ন দেখেছিল, ও তখন এক ধাঁপ এগিয়ে ছিল যশোর এম এম কলেজ পর্যন্ত। কলেজে ভর্তি…

Read More

লাস্ট ডিজিট ৫৬/ রনি রেজা

মোবাইল ফোনটা বেজেই চলছে। বিরক্তিকর ব্যাপার। যখন একটু তাড়াহুড়া লাগে তখন ফোনও বেয়াড়া হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠান শুরু হবার কথা সকাল ১০টায়। ইতিমধ্যে ৮টা বেজে গেছে। এখনই বের না হলে সময়মতো পৌঁছানো যাবে না। এখনও আবার শাড়ী পড়া হয়নি। একা একা শাড়ী পড়ার অভ্যেস খুব একটা নেই। সব মিলিয়ে মেজাজ খিটমিট অবস্থা। বিরক্তি সহকারে মোবাইল ফোনটা হাতে নেয় অনামিকা। ওমনি বুক ধুকপুক অবস্থা। স্ক্রিনে ভাসছে সেই পরিচিত লাস্ট ডিজিট ৫৬। হ্যাঁ সাগরই। শান্ত সাগর। চার বছর আগে এ নম্বর থেকে ফোনের জন্য নিয়মিত অপেক্ষা করতো অনামিকা বারী। এখনো কি করে না?…

Read More

স্বার্থপর/ দীলতাজ রহমান

আমি আমার মা-বাবার একমাত্র সন্তান। আমার বাবা সরকারের একজন ডাকসাইটে আমলা। অর্থবিত্ত, ব্যক্তিস্বাধীনতার কখনো কোনো অভাব ছিলো না আমার জীবনে। আমার বাবার একটিমাত্র ভাই ছিলেন। তিনি বহু বছর আগে মারা গেছেন নিঃসন্তান অবস্থায়। সেই সূত্রে আমার বাবা তার পৈতৃক সম্পত্তিরও একচ্ছত্র অধিপতি। আর সেসব সম্পত্তি তিনি আগলেও রেখেছেন  প্রবলপ্রতাপে। গ্রামের বিশাল বাড়িটিতে এতদিন পাহারায় নিয়োজিত থেকেছেন আমার চাচার বিধবা স্ত্রী। সেখানে আরো আছে একদঙ্গল চাকর-দাসী, গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগী, কুকুর-বেড়াল। এদের সবার মধ্যে চাচিআম্মাই ছিলেন সর্বেসর্বা। কিন্তু কস্মিনকালে দামি গাড়িটি হাঁকিয়ে আমরা যখন গ্রামে যাই, আমার বাবা-মায়ের দাপটে বাড়ির মানুষগুলোও কুকুর-বেড়ালে পরিণত…

Read More

একজন জরিনা/ আফরোজা অদিতি

ঈদ উপলক্ষে ছোট-বড়-মাঝারি দোকান, ফুটপাত সেজে উঠেছে নানা রকমের নতুন পোশাকে; এমন কি ভ্যানগাড়িতে করেও জামা-কাপড় বিক্রি হচ্ছে; বস্তির সামনেও ভ্যানগাড়িতে বসেছে বাজার। অনেকেই কিনছে তবুও বাচ্চা দুটো তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে কিন্তু কোন আবদার করছে না! জরিনা একটা ছোটখাটো গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে চাকরি করে। বেতন যা পায় তা দিয়ে বাসা ভাড়া, খাওয়াই ঠিকমতো হতে চায় না, নতুন কাপড় কোথা থেকে হবে; তবুও মায়ের মন, ইচ্ছা করে ঈদ-পরবে ছেলেমেয়েকে নতুন পোশাকে সাজাতে। চিন্তিত বিষণ্ন জরিনা কাজ করছিল; ওভারটাইম করছে ছেলেমেয়ের নতুন জামা কেনার জন্য; ভেবেছিল ঈদের আগে বোনাস পাবে কিন্তু সে ভরসা…

Read More

আমার আমি ৫/ফিরোজ শ্রাবন

আমার আমি ফিরোজ শ্রাবন

প্রতিদিন রুটিন মতো সব ভাইবোন একসাথে পড়তে বসা আর বিকেল হলে হাত মুখ ধুয়ে হারিকেনের চিমনী ধুয়ে পড়ার টেবিলে বসা অনেক বিরক্তিকর ছিল। আবার জোৎন্সারাতে যখন নিজেকে দেখতাম পড়ার টেবিলে আর বাড়ির অন্যরা উঠানে গল্প আর খেলায় মত্ত তখন নিজেকে বন্দী পাখি মনে হত। তাই শুধু  অপেক্ষা করতাম কখন রাতের খাবারের জন্য ডাক আসবে। রাতের খাবার খেয়ে আবার পড়তে বসলে পড়ার টেবিলেই ঘুম চলে আসত। আর বই বন্ধ করে বসে থাকতাম কখন যেন ঘুমের মধ্যেই বিছানায় চলে যেতাম নিজেও জানতাম না। সকালে ঘুম ভেঙ্গে দেখতাম নিজের বিছানায় আর অবাক হতাম…

Read More

অভিশপ্ত ভালোবাসা/মোঃ শহীদ হোসেন হৃদয়

অভিশপ্ত ভালোবাসা

আজ ৩ দিন হয়ে গেল সুবন্যার সাথে ডিভোর্স হয়েছে হৃদয়ের। কোন যোগাযোগ নেই একজনের সাথে আরেকজনের। দুইজন দুই দিকে। অথচ এই দুইজনই এক সময় উত্তল সঙ্গমে কাটিয়েছে কত শত রাত। ৫ বছর এক সাথে থাকার পর কি যেন মনে হলো, সুবন্যা হৃদয়কে ছেড়ে চলে যায়।   প্রেম করে বিয়ে করেছিলো হৃদয় আর সুবন্যা। শপথ করেছিলো এক সাথে থাকবে দুজন সারাজীবন। এক মেলায় প্রথম দেখে হৃদয় সুবন্যাকে। হৃদয় ঢাকা থেকে গ্রামে আসে ছুটিতে। দেখে ভালো লাগে সুবন্যাকে হৃদয়ের। তারপর  হৃদয় সুবন্যাকে প্রোপোজ করে। গ্রামের মেয়ে সুবন্যা। প্রোপোজে সুবন্যাা রাজি হয়।  …

Read More

রম্য কাহিনি/অনুপা দেওয়ানজী

পিঠে-রক্তবীজ-অনুপা দেওয়ানজী

শীতকাল আসলেই মা নানা রকম পিঠে বানাতেন।  ভাপা, চিতুই, চসি,পুলি , পাটিসাপটা, গোকুলপিঠা,চন্দ্রপুলি আরো কত রকমের! দিদিমার কাছ থেকে শেখা মায়ের চিতুই পিঠে বানাবার কায়দা ছিলো একেবারেই অন্যরকম। খই ভিজিয়ে সেটা পিষে নিয়ে চালের গুঁড়োর কাইয়ের সংগে মিশিয়ে সেই চিতুই তৈরি হত। পিঠেগুলি যেমন ফুলতো  তেমনি আবার মোলায়েমও হত। সে পিঠের ওপরে তারপরে ছড়ানো হত নলেন গুড় দিয়ে তৈরি করা পাতলা ক্ষীর।     ভারি চমৎকার লাগতো খেতে।   এছাড়া নারকেল কুচো আর কিশমিশ দিয়ে রসের পায়েসও করতেন। রসের কথায় মনে পড়ছে কাঁচা রস খাবার কথা।   কোয়ার্টারের অদুরেই ছিলো পাশাপাশি…

Read More

আজ পহেলা বৈশাখ

আজ পহেলা বৈশাখ ফিরোজ শ্রাবন

গাছে গাছে আমের মুকুল দেখে ভাবি পহেলা বৈশাখ এলো বলে। গ্রামে একটা সুন্দর ব্যাপার হল প্রকৃতি আপনাকে বলে দেবে এখন কোন কাল চলছে গ্রীষ্ম, বর্ষা, নাকি শরৎকাল। তবে অনেকে হয়ত ১৪২৫ বঙ্গাদে এসে বলবেন, এখন প্রকৃতির রূপ নির্ণয় করা কঠিন । সত্যি কথা যাই হোক, গ্রামে আমরা সাধারণত গাছের মুকুল দেখেই ভাবতাম বৈশাখ এলো বলে। কিন্তু কবে আসবে তা জানার জন্য বড়দেরকে প্রতিনিয়ত বিরক্ত করতে হত । কারণ পহেলা বৈশাখ মানে কিন্তু বৈশাখীমেলা । আমি সব কিছু ভুলতে পারি বৈশাখীমেলার কথা ভুলতে পারবো না । শৈশবের এই আনন্দের দিন কি…

Read More

বৈশাখ আমাদের খরতাপে ঝড়

বৈশাখ আমাদের খরতাপে ঝড় ড. শাহনাজ পারভীন

‘বৈশাখ’ হলো বঙ্গাব্দ বা বাংলা সনের প্রথম মাস । এটি নেপালি পি কা ক্রিম সম্বৎ ও পাঞ্জাবি নানকশাহি পঞ্জিকার প্রথম মাস। গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জির এপ্রিল মাসের শেষার্ধ ও মে মাসের প্রথমার্ধ নিয়ে বৈশাখ মাস। বৈদিক পঞ্জিকায় এই মাসকে মাধব মাস এবং বৈষ্ণব পঞ্জিকায় একে মধুসূদন মাস বলে। অধিকাংশ বাংলা মাসের নামকরণ হয়েছে নক্ষত্রের নামে। বৈশাখ শব্দটি এসেছে বিশাখা নামক নক্ষত্রের নামে। এই মাসে বিশাখা নক্ষত্রটিকে সূর্যের কাছে দেখা যায়। বৈশাখ মাসের প্রথম দিনটি বাংলা নববর্ষ। এই দিনটি বাংলাদেশে ‘পহেলা বৈশাখ’ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্যে ‘পয়লা বৈশাখ’ নামে পরিচিত।…

Read More