একটি কবিতা ও রক্তগোলাপ

একটি কবিতা ও রক্তগোলাপ

ছেলেটা ছিল পাগলাটে, বাউন্ডুলে। আর মেয়েটা লেখাপড়া নিয়ে প্রচন্ড সিরিয়াস।ছেলেট মাঝে মাঝে বেহালা হাতে কোন গাছের নিচে বসে পড়ত। আর মেয়েটা সবসময় বই হাতে ঘুরত।ছেলেটার সাথে মেয়েটার প্রথম দেখা একটা ঝামেলায়। কোন কারণে ভার্সিটিতে একটা কোন্দল লেগেছিল। মেয়েটা আনমনে পড়তে থাকায় তা খেয়াল করেনি। চেঁচামেচি শুনে মাথা তুলে তাকিয়ে দেখে সবাই ছুটছে। সে কি করবে, কোনদিকে যাবে এসব ভাবতে ভাবতেই কেউ একজন তাকে জাপটে ধরে মাটিতে পড়ে গেল। কি হল ব্যাপারটা বুঝার আগেই সেই একজন তাকে টেনে তুলে বলল-আরে চলুন। এখানে থাকলে নির্ঘাৎ মারা পড়বেন। দেখছেন না মারামারি লেগেছে।মেয়েটার সমস্ত…

Read More

বেদনার কুয়াশায় জারুল অাগুন

বেদনার কুয়াশায় জারুল অাগুন

অাজ অাবার একদফ‌া হ‌য়ে গে‌লো রুবা‌বের সা‌থে।ইদা‌নিং প্রজ্ঞা‌কে সে একেবা‌রেই সহ্য কর‌তে পার‌ছে না। প্রজ্ঞার ব্যাপারটা তো অার এখন লু‌কোচু‌রির পর্যা‌য়ে নেই ,রুবা‌বের তীক্ষ্ণ হৃদ‌য়ের নীলাভ তা‌পে প্র‌তি‌নিয়ত পুড়‌ছে। প্রজ্ঞা ভাঙ‌তে ভাঙ‌তে নিঃ‌শ্বেষ অাজ,যন্ত্রণার অ‌ভিশপ্ত কুড়ালে ক্ষত‌বিক্ষত। সে নারী। তার ভুল ক্ষমা‌যোগ্য নয়।পুরুষ,সমাজ অাঙ্গুল তোলার অদমনীয় ফূ‌র্তি‌তে মে‌তে উঠ‌বে জে‌নেও সে কি ক‌রে অমন কাজ কর‌তে গে‌লো! অাজ সে অসহায় উপল‌ব্ধি ক‌রে শিক্ষার।‌শিক্ষাটা থাক‌লে মাথা উঁচু কর‌তে পার‌তো, রুবা‌বের অপমান, উ‌পেক্ষা বঞ্চনা সহ্য কর‌তে হ‌তো না এরকম নির্দয়ভা‌বে। কাঁ‌দে প্রজ্ঞা।অ‌নেক‌দিন পর পাথ‌রের মূ‌র্তি‌র চৈত‌ন্যের স্ত‌ম্ভিত দেয়া‌লে অাঘাত হান‌লো যেন। কত…

Read More

নয়ন সমুখে

রুনার সন্তান হবে।  সন্তান জন্ম নেয়া  অতি স্বাভাবিক ব্যাপার।  প্রতিদিন ভাবি বোন পাড়া  প্রতিবেশি কত শত নারীর  সন্তান হচ্ছে  । হ্যাঁ প্রথম সন্তানের বেলায় একটু বাড়তি উচ্ছ্বাস থাকে, প্রথম বলে কথা! নতুনের কদর বরাবরই একটু বেশি।   কিন্তু যাদের দুই এর অধিক সন্তান তাদের পেটে কখন সন্তান আসে আর কখন ভূমিষ্ট হয় তার খবর  অনেকেই রাখেনা। রুনা বাস করে গ্রামে।  গ্রামের  ঘরে ঘরে চার পাঁচটা করে সন্তান।  গ্রামের মানুষ গোঁড়া, ধর্মভীরু। সন্তান জন্ম নেয়াকে তারা খোদার দান মনে করে। খোদার উপর খোদগারি করার সাহস ওদের নেই।  তারপরও সন্তান নেই রুনার ঘরে।…

Read More

মৃত্যুসনদ

এইমাত্র অফিসে এলেন তিনি। চেয়ারে বসে প্রতিদিনের মতো সুরা ফাতেহা পাঠ করে মোনাজাত করলেন। ফাইলপত্র দেখার পূর্বে এক কাপ চা খাওয়া তার দীর্ঘদিনের অভ্যাস। কিন্তু আজ চা খেতে ইচ্ছা করছে না। সকালবেলা অফিসে আসার পূর্বে চারটা পত্রিকা পড়েন তিনি। একটি পত্রিকায় জাতীয় পরিচয়পত্র সম্পর্কে নেতিবাচক প্রতিবেদন বেরিয়েছে। সেটা তার শির:পীড়ার কারণ। প্রতিবেদন সত্য হলে আপত্তির কিছু ছিল না। কিন্তু প্রতিবেদনটি নিতান্তই মনগড়া। তা পড়ে মেজাজ ঠিক রাখা দায়। প্রতিবেদককে অবশ্য তিনি চিনতে পারলেন না। নতুন কেউ হবে হয়ত। আগারগাঁওয়ের এই অফিসে তাঁর দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় পরিচয়পত্র কর্মযজ্ঞের তিনি শীর্ষ…

Read More

একজন সৎ মানুষের যাপিত জীবনের ক্ষণিকাংশ

একজন সৎ মানুষের যাপিত জীবনের ক্ষণিকাংশ

প্রতিদিন কাজ শেষে রেলস্টেশন থেকে পোস্টাল সার্ভিসের বাস নিয়ে মাত্র ১০ মিনিটেই আমি ঘরে পৌঁছে যাই। কাজে যাওয়ার সময়ে এ সার্ভিসটি থাকে না বলে একাধিক বাস পরিবর্তন করে শহরকেন্দ্র ঘুরে রেলস্টেশনে পৌঁছুতে আমার প্রায় আধাঘন্টা লেগে যায়। আমার আলোচ্য সৎ মানুষটি ৮০ উর্দ্ধ একজন বৃদ্ধা, তিনি আমার ঘরে ফেরার এই পোস্টাল বাস সার্ভিসের নিত্যকার একজন সহযাত্রী। সম্ভাশন বা শুভেচ্ছা বিনিময় ছাড়া আগের ৫/৬ বছরে ওনার সাথে বাড়তি কোন কথা কখনো হয়েছে বলে মনে পড়ে না। সপ্তাহান্তের এক অলসবেলায় গ্রামের এক বারের টেরাস বা খোলাচত্বরে পান করছি, এমন সময়ে আমার আলোচ্য…

Read More

ছুঁয়ে যাওয়া গেরুয়া বিকেল

ছুঁয়ে যাওয়া গেরুয়া বিকেল

“মোরা ভোরের বেলা ফুল তুলেছি,দুলেছি দোলায়-বাজিয়ে বাঁশি গান গেয়েছি বকুলের তলায়,,,,,,” শুনছি আর শুনছি।কি হয়েছে আজ আমার,কেন এমন লাগছে।ধূসর মেঘ বারবার ঢেকে দিচ্ছে লুকোচুরি খেলতে থাকা চাঁদটাকে।এরকম ঝাপসা আলো আঁধারী আকাশ দেখলে বুকের ভেতর কোথায় যেন শূন্যতার বিলাপ টের পাওয়া যায়। “আয় আর একটিবার আয়রে সখা,প্রাণের মাঝে আয়। মোরা সুখের দুখের কথা কব,প্রাণ জুড়াবে তায়।”,,, ছাদের নিরিবিলি হাওয়া এলোমেলো করে দিচ্ছিলো আমাকে,আর করছিলো মনটাকে বেহিসেবী। কামিনীর টবের পাশটায় বসে পড়লাম,শব্দহীন রুদ্ধশ্বাস আমায় জ্বালায়,অন্তরের ঘুনপোকা ঝাঁঝরা করে অহর্নিশি। নিজেকে পোড়াতে পোড়াতে বেদনার প্ল্যাটফর্মে  খাঁ  খাঁ জারুলের দীর্ঘশ্বাসে নিমগ্ন। মেনে নিয়েছিলাম তো…

Read More

মিতুদি সিরিজ-৪

মিতুদি সিরিজ-৪

ধান দিয়ে কি হবে?  বলে আমার দিকে তাকিয়ে হাসতে হাসতে মিতুদি জিজ্ঞেস করলো, “এই বুদ্ধি দাদাকে কে দিলো? উনি কি জানেন না ঢাকা শহরের ফ্ল্যাটে বসে   ধান ভাংগানো, চাল ঝাড়া এসব এক মহাঝক্কির ব্যাপার? এই ধান নিয়ে তুমি এখন কি করবে ভেবেছো? আমাকে চুপ করে থাকতে দেখে মিতুদি বললো, ” আমি তোমাকে একটা বুদ্ধি বাতলে দিতে পারি। আমি মিতুদির দিকে আগ্রহভরে তাকাতেই মিতুদি বললো,” তুমি দাদাকে বলে দাও এ ধান যেন তিনি আবার ফিরিয়ে নিয়ে চাল করে নিয়ে আসেন। এমন সময়ে বিকেলে  কাজ করতে আসা কাজের বুয়া হালিমা চা এনে…

Read More