বাঙ্লায় বারোমাসি ভ্রমণ

বাঙ্লায় বারোমাসি ভ্রমণ

(শেষাংশ) পৌষ এলো গো……. ‘পৌষ’ এলে শুরু হয় শীতকাল। ‘পৌষ’কে অতি আদর সহকারে কাজী নজরুল ইসলাম ‘পউষ’ কবিতায় লিখেছেন -“পউষ এলো গো/পউষ এলো অশ্রু-পাথার হিম-পারাবার পারায়ে/ঐ যে এলো গো ……….. পউষ এলো গো/এক বছরের শ্রান্তি পথের, কালের আয়ু ক্ষয়/পাকা ধানের বিদায়-ঋতু, নতুন আসার ভয়…….”। পৌষ নিয়ে তিনি আরো লিখেছেন-“পউষের বেলা শেষ/পরি জাফ্রানি বেশ/মরা মাচানের দেশ/ক’রে তোল মশগুল/ঝিঙে ফুল’। প্রকৃতির কবি জীবনানন্দ দাশ-এর ‘অন্ধকার’ কবিতায় রয়েছে-‘ধানসিড়ি নদীর কিনারে আমি শুয়েছিলাম-পউষের রাতে’ ; ‘মৃত্যুর আগে’ কবিতায় আছে- ‘বুঝেছি শীতের রাত অপরূপ, মাঠে-মাঠে ডানা ভাসাবার/গভীর আহ্লাদে ভরা, অশ্বত্থের ডালে-ডালে ডাকিয়াছে বক….’। পৌষ শীতের…

Read More

গ্রেটওয়ালের দেশে- পর্ব ১১

Soho Market

(পূর্ব প্রকাশিতর পর) ২৭ নভেম্বর দুহাজার ষোল। রোববার। আজ আমাদের একটি ভিলেজে যাবার কথা ছিল। কিন্তু গতকাল তিয়ানজিন সফরের ক্লান্তি অনেকেই কাটিয়ে উঠতে পারেনি। তাই আজ দুপুর পর্যন্ত বিশ্রাম। বেলা সাড়ে বারোটায় বাসে করে করে আমরা গেলাম SOHO 2 মার্কেটে। এখানে রয়েছে ইণ্ডিয়ান রেস্টুরেন্ট। গতকাল পাকিস্তানী রেস্তোঁরায় খাবার পর আমাদের অনেকেই নো ইস্ট নো ওয়েস্ট এর মত ব্যালান্স করার জন্য ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টে খেতে চাইলো। রেস্টুরেন্টটির নাম 3 Lotus Indian Restaurant। রেস্টুরেন্টটির গেটে দুজন সর্দারজির মূর্তি রাখা হয়েছে যেন তারা আমাদের রেস্টুরেন্টে স্বাগত জানাচ্ছে। রেস্টুরেন্টের ভেতরে দুটো টিভি স্ক্রিনে বলিউডের সিনেমার…

Read More

গ্রেটওয়ালের দেশে-৯ম পর্ব

Frangrant Hill Park ফ্র্যাগ্রান্ট হিল পার্ক

ঊনিশ নভেম্বর দুহাজার ষোল। আজ শনিবার। ছুটির দিন। সকাল সাড়ে ন’টায় আমাদের বাস ঝাং শাং পার্ক বা ফ্র্যাগ্রান্ট হিল পার্কের দিকে যাত্রা শুরু করলো। Frangrant Hill Park বেইজিং এর উত্তর প্রান্তে। এটি তৈরি করা হয়েছিল ১১৮১ খৃষ্টাব্দে জিং ডাইন্যাস্টির শাসনামলে। এটি বেইজিং এ নির্মিত প্রথম পার্ক বলে জানা গেল। বেইজিং এর হাইদিয়ান ডিস্ট্রক্টে অবস্থিত এ পার্কটির আয়তন ১৬০ হেক্টর। এখানে আছে নানা জাতের নানা প্রজাতির পাহাড়ি বৃক্ষাদি। এদের মধ্যে, ম্যাপল, জুনিপার, পাইন, সাইপ্রাস ইত্যাদি প্রধান। পাহাড়ের সর্বোচ্চ চূড়ার উচ্চতা ৫৫৭ মিটার। পার্কে প্রবেশ মূল্য পাঁচ আরএমবি, মানে ষাট টাকা মাত্র।…

Read More

গ্রেটওয়ালের দেশে-৮ম পর্ব

গ্রেটওয়ালের দেশে-৮ম পর্ব

চোদ্দ নভেম্বর দুহাজার ষোল। ঢাকা থেকে বেইজিং আসবার সময় নিয়মিত জগিং করার জন্য ট্র্যাকস্যুট ও কেডস এনেছিলাম। কিন্তু বেইজিং এ নভেম্বরের ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় বাইরে গিয়ে জগিং করা বিরাট কঠিন। আজ সকালে দ্বিতীয় দিনের মতো বাইরে গিয়েছিলাম জগিং করতে। ট্র্যাকস্যুটের নিচে-ওপরে কয়েক পরতের গরম কাপড় পরে বাইরে যাই। এত এত কাপড় শরীরে জড়িয়ে তো আর ব্যায়াম করা যায় না। তাই শুধুই প্রাতঃভ্রমণ করে আসলাম। আজ ট্রেনিংএ  স্টিম টারবাইন এর ওপর ক্লাস হলো। আজ ক্লাস নেবেন মিঃ লুও শিয়াও ছি(Luo Xiao Qi)।কিন্তু ট্র্যাফিক জ্যামের কারণে টিচার আসতে দেরি হচ্ছে। তাই এই ফাঁকে…

Read More

গ্রেটওয়ালের দেশে-৭ম পর্ব

Prince Gongs Palace

১২ নভেম্বর দুহাজার ষোল। আজ শনিবার। সপ্তাহান্তের প্রথমদিন। আমাদের সাইটসিইং আজা প্রিন্স কুংস(Prince Kung’s) ম্যানশন। পাশেই হেইবেই পার্ক। প্রিন্স কুংস ম্যানশনকে এখানে সবাই প্রিন্স গংস (Prince Gong’s) প্যালেস বলে থাকে। এটি মিং ডাইনেস্টিরও পূর্বের সময়কার চিং ডাইনেস্টির আমলের স্থাপনা। এরা উচ্চারণ করছে চিং ডাইনেস্টি কিন্তু ইংরেজীতে লিখে থাকে Qing Dynasty নামে। চীনাদের উচ্চারণের সাথে ইংরেজী লিখিত রূপের বিষয়টায় এ ধরণের বিভিন্ন ক্ষেত্রে পার্থক্য দেখি। এই প্যালেসে অনেকগুলো হল আছে। যেমন ইউ’নান হল, লেডস হল ইত্যাদি বড় বড় হল। এসব হলে তৎকালিন রাজরাজড়াদের  গুরুত্বপূর্ণ ব্যঅতিথিরা থাকতেন। জানা যায়, ১৮৫২ সালে প্রিন্স…

Read More

গ্রেটওয়ালের দেশে-৬ষ্ঠ পর্ব

গ্রেটওয়ালের দেশে- ৪র্থ পর্ব

নয় নভেম্বর দুহাজার ষোল। আজ সকাল সাড়ে নয়টায় ক্লাস শুরু হয়েছে।  আমাদের সাথে চীনা হুয়াদিয়ান কোম্পানীর কিছু চীনা তরুণ প্রকৌশলীও শিক্ষার্থীও আছে। তিনটি ছেলে ও তিনটি মেয়ে। ট্রেনিং শেষে এদের মধ্যে একজনকে পাঠাবে বাংলাদেশ ঘোড়াশাল পাওয়ার প্লান্টের কাজ দেখার জন্য। গত কয়েকদিন একটানা ট্রেনিং ক্লাস চলছিল। ক্লাস চলাকালিন যার যার সুবিধে এবং প্রয়োজনমতো কক্ষের একপাশে রক্ষিত টেবিল থেকে চা-বিস্কিট নিয়ে খেত। ফলে ক্লাসের ডিস্টার্বও হত। তাই পার্টিসিপ্যান্টদের অনুরোধে ট্রেনিং এর মাঝে একটু বৈচিত্র্য আনয়নের জন্য এবং ক্লাস চলাকালীন ডিস্টার্বেন্স দূর করার জন্য আজ থেকে মাঝে পনের-কুড়ি মিনিটের বিরতি  কার্যকর হলো…

Read More

গ্রেটওয়ালের দেশে- ৫ম পর্ব

গ্রেটওয়ালের দেশে

সাত নভেম্বর দুহাজার ষোল। আজ প্রশিক্ষণ ক্লাসে আমাদের প্রশিক্ষণ-পুস্তকসমূহের মধ্য হতে  ইলেক্ট্রিক্যাল পার্ট এর প্রথম দিকের একটি চ্যাপ্টার পড়ানো হলো। আজকের প্রশিক্ষকের নাম মিঃ চেন শি লিন(Chen Xi Lin)। আগের দিন গ্যাস টারবাইন পড়িয়েছিলেন মিঃ উ চিন পিং(Wu Chin Ping)। উ চিন পিং ছিলেন অল্প বয়সী যুবক আর মিঃ চেন শি লিন বয়স্ক, রিটায়ার্ড চীফ ইঞ্জিনিয়ার। শিক্ষকগণ এখানে পুরোপুরি চীনা ম্যাণ্ডারিণ ভাষায় লেকচার দেন। আর তার পাশে থাকা টিচিং এসিস্ট্যান্ট মিস এলিস তা ইংরেজী ভাষায় তরজমা করে দেন।মিস এলিস মূলত চায়না হুয়াদিয়ান করপোরেশনে কর্মরত একজন গাইড, কো-অরডিনেটর এবং অনুবাদক। তিনি…

Read More