রাজনৈতিক উত্তরণ ও নারী অধিকার

বর্তমানে আমরা একটা বিশ্বগ্রাম বা গ্লোবাল ভিলেজে বসবাস করছি। আমাদের সাংস্কৃতিক যোগাযোগ অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি। মানবজাতির অর্জন ও সাফল্য বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। এতো সত্ত্বেও সবসময় একটা কৌতীহলোদ্দীপক প্রশ্ন সামনে এসে দাঁড়ায়। কোন ধরনের সমাজ নারী বান্ধব? তার মানে কোন ধরনের  শাসন ব্যবস্থায় নারী সবচেয়ে নিরাপদ? কেননা, আমাদের জানা ইতিহাসে নারীর নিরাপদ জীবন কোথাও কোনদিন ছিল না। এমন কি সমাজ ও রাষ্ট্রে নারীর অংশগ্রহণকে কটাক্ষের চোখে দেখা হতো। নারী জীবনের সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো পারিবারিক সহিংসতা।   ইতোমধ্যে সমাজ অগ্রগতির পথ পরিক্রমায় অনেক ধরনের শাসন…

Read More

গ্রেটওয়ালের দেশে – ২৬তম পর্ব

আরেকটু এগিয়ে গেলেই একটি স্কি রিসোর্ট। নান্দনিক এ স্কি রিসোর্টটি ব্যক্তি উদ্যোগে তৈরি। চীনের হারবিন প্রদেশ হলো তুষারের স্বর্গরাজ্য। পুরো শীত ঋতু জুড়ে এখানে ব্যাপক তুষারপাত হয় আর বছর জুড়েই এখানে বরফের আস্তর থাকে। কিন্তু বেইজিং ঠিক সেরকম নয়। শীতকালে তাপমাত্রা শূন্যের নিচে চলে গেলেও গত দুমাসে এখানে তুষারপাত প্রত্যক্ষ করলাম মাত্র দুবার দুদিন। তাই স্কি রিসোর্টটি হারবিন বা অন্য কোনো প্রদেশ থেকে বরফ ও তুষার এনে তৈরি করা হয়েছে উৎসাহী বেইজিংবাসীর স্কি বা স্কেটিং- এর শখ মেটাবার জন্য। পাশেই রয়েছে সুবিশাল হ্রদ। হ্রদের পানির ওপর পুরু বরফের আস্তর ।…

Read More

সেই সব দিনগুলি-১: চিহ্ন তব পড়ে আছে তুমি হেথা নাই/ শামসুল আরেফিন খান

পরম প্রিয় সুহৃদ শুভ হঠাৎ করেই চলে গেলো। আমার ছোটবেলার আর কোন অকৃত্রিম বন্ধুই সপ্রাণ স্পন্দিত  রইলোনা এই রূঢ় পৃথিবীতে। ।কুসংস্কৃার ও মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে সরব, চিন্তাশীল লেখক কবি সাংবাদিক নিবন্ধকার ও অন্ধ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অনমনীয়  আপোসহীন যোদ্ধা আমার পরমপ্রিয় সাথীর অনুপস্থিতিতে আজ এ বয়সে যেন বড় একা হয়ে গেলাম।পাঠকের মনের সব   অন্ধকার সরাতে ইতিহাসের  উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত টেনে অসির চাইতে ক্ষিপ্র মসি চালিয়েছে যে অক্লান্ত   কলমযোদ্ধা , সে চলে গেলো অনেক অন্যায়-বঞ্চনার অভিমান নিয়ে। কলমযুদ্ধে অপরাজিত  সৈনিক জীবনযুদ্ধেও কখনও হার মানেনি।আপোস করে বিবেকের একইঞ্চি জমিনও ছাড়েনি আমার পরমপ্রিয়  বন্ধু শুভ রহমান।স্বচ্ছ…

Read More

রু মোপাসাঁ/ শাহনাজ পারভীন

অভির ইচ্ছে ছিল ও কাশবনের কবি হবে। সবাই যখন মহাকবি, বিশ্ব কবি, জাতীয় কবি, পল্লীকবি, রেনেসাঁর কবি, নৈঃশব্দ্যের কবি ইত্যাদি নানা অভিধায় উপাধিতে ভূষিত কবি হয়েছেন, সেখানে ওর বেশি কিছু চাওয়ার নেই। ও নিটোল কাশবনের কবি হতে চায়। এ স্বপ্নটা ওর আজন্ম। সরকারী এম এম কলেজে এইস এসসি পড়ার সুবাদে যখন প্রথম হাঁটি হাঁটি পা পা করে গ্রাম থেকে যশোর শহরে পা রাখে, সেই তখন থেকেই। ওর এলাকার ছেলেরা যখন ঝিনাইদহ কেসি কলেজে ভর্তি হবার স্বপ্ন দেখেছিল, ও তখন এক ধাঁপ এগিয়ে ছিল যশোর এম এম কলেজ পর্যন্ত। কলেজে ভর্তি…

Read More

লাস্ট ডিজিট ৫৬/ রনি রেজা

মোবাইল ফোনটা বেজেই চলছে। বিরক্তিকর ব্যাপার। যখন একটু তাড়াহুড়া লাগে তখন ফোনও বেয়াড়া হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠান শুরু হবার কথা সকাল ১০টায়। ইতিমধ্যে ৮টা বেজে গেছে। এখনই বের না হলে সময়মতো পৌঁছানো যাবে না। এখনও আবার শাড়ী পড়া হয়নি। একা একা শাড়ী পড়ার অভ্যেস খুব একটা নেই। সব মিলিয়ে মেজাজ খিটমিট অবস্থা। বিরক্তি সহকারে মোবাইল ফোনটা হাতে নেয় অনামিকা। ওমনি বুক ধুকপুক অবস্থা। স্ক্রিনে ভাসছে সেই পরিচিত লাস্ট ডিজিট ৫৬। হ্যাঁ সাগরই। শান্ত সাগর। চার বছর আগে এ নম্বর থেকে ফোনের জন্য নিয়মিত অপেক্ষা করতো অনামিকা বারী। এখনো কি করে না?…

Read More

স্বার্থপর/ দীলতাজ রহমান

আমি আমার মা-বাবার একমাত্র সন্তান। আমার বাবা সরকারের একজন ডাকসাইটে আমলা। অর্থবিত্ত, ব্যক্তিস্বাধীনতার কখনো কোনো অভাব ছিলো না আমার জীবনে। আমার বাবার একটিমাত্র ভাই ছিলেন। তিনি বহু বছর আগে মারা গেছেন নিঃসন্তান অবস্থায়। সেই সূত্রে আমার বাবা তার পৈতৃক সম্পত্তিরও একচ্ছত্র অধিপতি। আর সেসব সম্পত্তি তিনি আগলেও রেখেছেন  প্রবলপ্রতাপে। গ্রামের বিশাল বাড়িটিতে এতদিন পাহারায় নিয়োজিত থেকেছেন আমার চাচার বিধবা স্ত্রী। সেখানে আরো আছে একদঙ্গল চাকর-দাসী, গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগী, কুকুর-বেড়াল। এদের সবার মধ্যে চাচিআম্মাই ছিলেন সর্বেসর্বা। কিন্তু কস্মিনকালে দামি গাড়িটি হাঁকিয়ে আমরা যখন গ্রামে যাই, আমার বাবা-মায়ের দাপটে বাড়ির মানুষগুলোও কুকুর-বেড়ালে পরিণত…

Read More

মানুষ থাকে না তার নামের ভেতর/ সালেম সুলেরী

বলোতো মানুষ, নামের ভেতরে সেই অভিধান চাপা পড়া নামের মানুষ কই? রঙিন প্রচ্ছদ হয়ে নামের পোশাক আছে অথচ নামের শিকড়, আদ্যপান্ত ক’জন খুঁজি?   আকীকা নামের হয়, শুভ দেখে– নামজারি দেহের জমিন, হয়তোবা নাম হলো– সবিনয়, অথচ জীবন তার মার মার উন্মত্ততার, পাড়া জ্বালাবার, ডাক দেয় কারাগার…   এরকম বন্দিদশা শ’য়ের ভেতর নিরানব্বই নামের, কত যে রাজকুমার আস্তাবল–পিজরাপোলের কোচোয়ান দারোয়ান সেজে তামুক সাজায়, চোখকাড়া ব্রততী তার রূপের রগড় ছেড়ে ব্রত নেয়– আমৃত্যু পাগল কণ্ঠ–কবিতায়।   সব নাম শুভ নাম– তবু কেনো শুভহীন পরিণাম! মানুষ কী তার নাম ভুলে যায়– নামের…

Read More

মহীরুহ তোমার দৃঢ় ঘোষণায়/ ড. নিগার চৌধুরী

দু’চোখের তারায় বঙ্গোপসাগরের দ্রোহের বিস্তার হৃদয় জুড়ে আকাশের  অসীমতা যার দিগন্ত রেখা চোখে পড়ে না। বিসুভিয়াসের উত্তপ্ত অগ্নিলাভার মতো নির্গত বাক্যে বাক্যে প্রতিপক্ষের বাংকার ব্যারিকেট ভেঙ্গে চুরমার তর্জনি উঁচিয়ে উচ্চারিত নির্দেশ যখন বজ্র হয়ে যায় মানবো না বলে এমন সাধ্যি, স্পর্ধা আছে কার। হিমালয় সম, অনঢ় নিশ্চল দাঁড়িয়ে থাকা সেই মহামানবের দৃঢ় ঘোষণা ‘আমি দুখি মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চাই।’ মুহূর্তে সুখ উবে যায় সুখি মানুষগুলোর অতি তৎপর ওরা বসে থাকে না। বুলেটে বুলেটে ক্ষতবিক্ষত হয়ে দুখি মানুষের স্বপ্ন। পদ্মা মেঘনা যমুনার রক্তাক্ত জলে সেই থেকে সুখি মানুষগুলো সাঁতার কাটার…

Read More

একজন জরিনা/ আফরোজা অদিতি

ঈদ উপলক্ষে ছোট-বড়-মাঝারি দোকান, ফুটপাত সেজে উঠেছে নানা রকমের নতুন পোশাকে; এমন কি ভ্যানগাড়িতে করেও জামা-কাপড় বিক্রি হচ্ছে; বস্তির সামনেও ভ্যানগাড়িতে বসেছে বাজার। অনেকেই কিনছে তবুও বাচ্চা দুটো তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে কিন্তু কোন আবদার করছে না! জরিনা একটা ছোটখাটো গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে চাকরি করে। বেতন যা পায় তা দিয়ে বাসা ভাড়া, খাওয়াই ঠিকমতো হতে চায় না, নতুন কাপড় কোথা থেকে হবে; তবুও মায়ের মন, ইচ্ছা করে ঈদ-পরবে ছেলেমেয়েকে নতুন পোশাকে সাজাতে। চিন্তিত বিষণ্ন জরিনা কাজ করছিল; ওভারটাইম করছে ছেলেমেয়ের নতুন জামা কেনার জন্য; ভেবেছিল ঈদের আগে বোনাস পাবে কিন্তু সে ভরসা…

Read More

আমার দেখা ঈদ/ অনুপা দেওয়ানজী

আমাদের যুগে আমরা কী ঈদ, কী দুর্গাপূজা, কী নববর্ষ সব ধরণের উৎসব খুব  খোলামেলাভাবেই উদযাপন করতে করতে বড় হয়ে উঠেছি। ধর্ম সেখানে কখনোই প্রত্যক্ষ প্রভাব বিস্তার করতো না। সবাই সবার ধর্ম বিশ্বাসের ওপরে  গভীর আস্থা বা শ্রদ্ধাবোধের মধ্যে বেড়ে উঠেছি। মূলত পরিবার, পরিবেশ আর শিক্ষাঙঙ্গন থেকে আমরা এই শিক্ষার মূলমন্ত্র পেতাম । ভিন্ন সম্প্রদায়ের  ধর্মীয় উৎসবের প্রতি পরস্পরের এই  নির্মল অংশগ্রহণ আমাদের দিয়েছে অফুরন্ত এক সজীবতা আর অসাম্প্রদায়িক এক  মনোভাব। কালের প্রবাহে আমি  যেন কোথায় হারিয়ে ফেলেছি  সেই সব দিনগুলি। মনে মনে ভাবি, কিভাবে হারালো আমার দেখা সেইসব আন্তরিক দিনগুলি?…

Read More