ফুলের কথা

আজ বিশ্ব পুষ্পশোভিত নকশা দিবস। তাই ঘুরে ফিরে আমার মনে বার বার আসছে ফুলের কথা।
আদি যুগ থেকেই মানব মনের গভিরে রয়েছে এক শিল্পবোধ।
গুহাচিত্র থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত  কত ভাবেই না মানুষ তার প্রকাশ ঘটিয়ে চলেছে। ছবি আঁকা, ভাষ্কর্য, সংগীত, নৃত্য, অভিনয়, সাহিত্য, পুষ্প উদ্যান আরও কত  ভাবে যে মানুষ প্রতিনিয়ত এই শিল্পের দ্বার উন্মোচন করে চলেছে যা বলে শেষ করা যাবে না।
সন্তুষ্টি থেকেই শিল্পের উদ্ভব। আর এটা সর্বজনবিদিত যে, শৈল্পিক  দিকগুলির মধ্যে   পুষ্পবিন্যাসই সবচেয়ে প্রাচীন শিল্প। কারণ ফুলের প্রধান কাজই হল মনকে এক  আনন্দলোকে  নিয়ে যাওয়া।  আমাদের দৈনন্দিন জীবনে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তাই ফুলের রয়েছে এক বিশাল   ভূমিকা।
জীবনের সর্বস্তরে প্রতিনিয়ত ফুল আমাদের নিত্যসঙ্গী। ভালোবাসায়, প্রেমে, আবেগে,  কাব্যে, সাহিত্যে, বিরহে, মিলনে এমন কি শোকেও মানুষের মনকে ভুলিয়ে দিতে ছোট্ট একটা ফুলের স্তবকের রয়েছে অপূর্ব এক যাদুকরী ক্ষমতা।
শুধু গাছের ডালে ফোটা সতেজ ফুল নয়। গাছের নিচ থেকে ঝরা শিউলি বা বকুল  ফুল কুড়িয়ে এনে সে ফুলকে আমরা যখন কোন পাত্রে জলের ছিঁটে দিয়ে রাখি,  সেই ঝরা ফুলও যতক্ষণ পর্যন্ত সতেজ থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত সে তার সৌন্দর্য আর সৌরভে আমাদের বিমোহিত করে রাখে।
সে ফুল যখন শুকিয়ে যায় তখন আমাদের মনের অজান্তেই কেমন যেন  একটা  বিষাদের ছোঁয়া লেগে থাকে।
জাপানের মানূষ শুকনো ফুলকেও খুব শ্রদ্ধা করে।
নিজের ঘরে পুষ্পবিন্যাস বা ফুল সাজাবার পরে সে ফুল যখন শুকিয়ে যায় তারা তখন  সেই শুকনো ফুলগুলিকে বিসর্জন দেবার সময়ে  অঞ্জলি পেতে নিয়ে বলে, `বেঁচে  থাকতে তোমরা তোমাদের রূপে ও সৌরভে আমাদের নির্মল এক আনন্দ দিয়েছো,  বিদায় বেলায় তোমরা আমাদের আন্তরিক শ্রদ্ধা গ্রহণ কর।’
বস্তুত পুষ্পবিন্যাস চমৎকার এক শিল্প। কম বেশি যে কেউ চাইলেই এতে দক্ষতা অর্জন করতে পারেন। এর জন্যে বিশেষজ্ঞ হবার প্রয়োজন নেই।
দু ’একটি ফুল আর কয়েকটি পাতা দিয়েই আমরা এই শিল্প রচনা করে নিজেদের ঘরে   সাজিয়ে রাখতে পারি। নগর জীবনের একঘেয়েমি  থেকে  যা আমাদের এক অনাবিল ভালো লাগায় ভরিয়ে দেবে।

Author: অনুপা দেওয়ানজী

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts

মতামত দিন Leave a comment