মিতুদির ব্রেকফাস্ট

এক বিকেলে আমার বাসায় প্রতিবেশী মিতুদির সঙ্গে গল্প করছলিাম। গল্প করার এক ফাঁকে কাজের মেয়েকে ডেকে বললাম চা দিয়ে যাবার জন্যে। মেয়েটি চা দিয়ে চলে যাবার সাথে সাথে মিতুদি হঠাৎ আমাকে বললেন​, জানো! আজকাল আমার সকালে উঠে রুটি বানাতে একদম ইচ্ছে করে না। বাড়িতে আমরা মা আর ছেলে মাত্র দুজন লোক। চারটে রুটিতেই হয়ে যায়। কিন্তু ওই যে আটা মাখো, বেলো, সেঁকো এসব একেবারেই করতে ইচ্ছে করে না। তোমার তো আরাম। কাজের মেয়ে আছে। এসব করতে হয় না।

তারপরে জিজ্ঞেস করলেন, আচ্ছা সকালে তোমাদের মোটামুটি কয়টা রুটি লাগে?
আমি বললাম, সেভাবে জনপ্রতি হিসেব করে কি আর রুটি বানানো হয়?
ঠিকে ঝি আর কাজের মেয়েসহ মোটামুটি আঠারো থেকে বিশটার মতো লাগে।
মিতুদি আমাকে বললনে, আচ্ছা ওই বিশটা রুটির​ সাথে আর চারটে রুটি তোমার কাজের মেয়েটা আমার জন্য বানিয়ে দিতে পারবে না?

আমি মিতুদির এই প্রস্তাব শুনে তার উত্তরে কি বলব বুঝতে পারলাম না।
আমতা আমতা করে বললাম, মিতুদি সকাল বেলায় আমার ঘরে রাজ্যের ঝামেলা। ছেলেমেয়েদের স্কুল, কলেজ,
ওদের​ বাবার অফিসের লাঞ্চ তৈরী করে দেয়া, হাতে একেবারেই সময় থাকে না।
মিতুদি বললেন​, সময় নিয়ে তুমি ভেবো না। তোমার কাজের মেয়েকে আমার বাসায় গিয়ে দিয়ে আসতে হবে না।
আমার ছেলে এসে রোজ নিয়ে যাবে।

আমি বললাম, কিন্তু আমার ঘরে তো রোজ রুটি হয় না মিতুদি।
মিতুদি নাছোড়বান্দা। বললেন​, সেদিন না হয় বাদ যাবে।
মিতুদির স্বামী ঢাকার বাইরে থাকেন​। প্রতি সপ্তাহে ঢাকায় আসেন​।
মিতুদি ছেলের লেখাপড়ার জন্য ঢাকায় থাকেন​।

অগত্যা কি আর করা, মিতুদি বিদায় নিয়ে চলে যাবার পরে আমি কাজের মেয়েটাকে বললাম,
কাল থেকে আরও চারটে রুটি বেশী বানিয়ে রাখিস​ মিতুদির জন্য। মিতুদির ছেলে এসে রোজ নিয়ে যাবে।

কাজের মেয়েটির​ মুখ দেখে মনে হল আমার কথা তার মোটেই পছন্দ হল না। তবে সে আমার কথামতোই
আমাদের রুটির​ সঙ্গে মিতুদিদের রুটিও রোজ বানিয়ে দিচ্ছিলো আর মিতুদির ছেলেও রোজ সকালে এসে
সে রুটি নিয়ে যাচ্ছিলো।
এভাবে বেশ কিছুদিন​ চলার পরে হঠাৎ একদিন মিতুদি খুব গম্ভীর মুখে এসে আমাকে বললেন​,
কাল থেকে আর আমাদের জন্যে রুটি বানিয়ো না।

আমি জিজ্ঞেস করলাম, কেন​ মিতুদি কি হ​য়েছে? কোন অসুবিধা তো আমার হচ্ছে না। মিতুদি বললেন​, না তার দরকার হবে না।
কিন্তু মিতুদির মুখ দেখে আমার মনে খটকা লাগল। কাজের মেয়েটাকে কেন জানি আমার সন্দেহ​ হল। কিন্তু আমি তাকে কিছুই বললাম না।

পরদিন​ সে যথারীতি রুটি বানালো। কিন্তু মিতুদির ছেলেকে আসতে না দেখে আমাকে বলল, ওই বাড়ির​ ভাইয়া যে আইজ রুটি নিতে আইলো না খালাম্মা!
রুটিগুলা আইজ অগো ঘরে আমি দিয়া আসি?
আমি বললাম, আচ্ছা। এই বলে সে যেই রুটিগুলি মিতুদির বাসায় নিয়ে যাবার জন্যে প্রস্তুত হল, আমি তাকে থামতে বলে প্লেটের​ ঢাকনা খুলে একটা রুটি ছিড়ে এক টুকরো মুখে দিয়েই বুঝলাম​, মিতুদি কেন​ অমন গম্ভীর মুখে বলেছিলেন​, আর রুটি বানাতে হবে না।
মিতুদির জন্যে বানানো রুটিগুলি এতই নুনে পোড়া ছিলো যে মুখেই দেয়া যাচ্ছিলো না।

Author: অনুপা দেওয়ানজী

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts

মতামত দিন Leave a comment