সম্পাদকীয়

 

ছেলেবেলা থেকেই সাহিত্য আর সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটেছিল আমার জীবনে। একটা অভিজাত রাজনৈতিক পরিবারের উদার আবহে আমার জন্ম । আমরা ছিলাম বর্ধিত পরিবারের বাসিন্দা। পরিবারে সবসময়ই বাবা মা ভাইবোনের বাইরে সমাগম ছিল ভিন্ন চিন্তার, ভিন্ন ধর্মের অসংখ্য মানুষের । আমি শৈশবেই ভাগ করে নিতে আর ভাগ দিতে শিখেছিলাম। আপন পরের ভেদ কখনই বুঝিনি, বুঝিনি ধর্ম আর বর্ণের ভেদও। বুঝতে দেননি আমার বাবা-মা। তারা ছিলেন অসাধারণ মানুষ!
আমার বাবা বিনা পয়সায় হাসিমুখে গরিব মানুষের মামলা লড়তেন। আর মাকে দিনভোর প্রচুর রাঁধতে হতো। সেই রান্নার মাঝেই মার ঘর্মাক্ত হাতে ধরা থাকত বই। মা রাঁধতেন আর ফাঁকে ফাঁকে পড়তেন। মা ছিলেন নড়াইল মহকুমা পাবলিক লাইব্রেরীর শ্রেষ্ঠ পাঠিকা। আমার পড়ার অভ্যাসটা মার কাছ থেকে পাওয়া। আর লেখার অভ্যাসটা এসেছিল ভাইদের কাছ থেকে। দাদারা ঢাকায় পড়তেন। গল্প কবিতা লিখতেন। ঢাকা থেকে আসার সময় প্রচুর বইপত্র নিয়ে আসতেন আমার জন্য। গল্প করতেন লেখালিখি নিয়ে।
সেই যে লেখাপড়ার পাঠ শুরু হল, চলছে আজ অবধি । পড়া লেখার ধারাবাহিকতায় একসময় পত্রিকা প্রকাশের ইচ্ছে জাগল মনে। মনে পড়ে পত্রিকার নাম কি রাখব ঠিক করতে পারছিলাম না। হিমশিম খাচ্ছিলাম। আমার স্বামী লতিফুর রহমান আচমকা বললেন, ‘কেন রক্তবীজ রাখো।’ মহাভারতের কাহিনি। রক্তের ফোঁটা থেকে নতুন করে বীজ জন্ম নেয়ার কাহিনি। নতুন জীবনের গল্প।
নামটা মনে ধরেছিল আমার। আর লতিফের কর্মস্থল হাওড় উপজেলা কলমাকান্দার ভুখা নাঙা শ্রমজীবী একঝাঁক মানুষকে সাথে নিয়ে, অপূর্ব এক নিসর্গের সান্নিধ্যে আত্মপ্রকাশ করেছিল অনিয়মিত পত্রিকা ‘রক্তবীজ।’ সে যাত্রা থামেনি, আজও চলছে । ইচ্ছে আর সামর্থের যোগসূত্র ঘটাতে পারি না বলে মাঝে মাঝে ছেদ পড়ে । তবে অল্প সময়ের জন্যই। আবারও নিজেকে মেলে ধরে ‘রক্তবীজ’ স্বমহিমায় । এভাবেই চলছে গত চার দশক ধরে।

রক্তবীজ: সাহিত্য – সংস্কৃতি বিষয়ক ও‌য়েব পোর্টাল।

‘রক্তবীজে’র এই পথচলা অব্যাহত থাকবে এটাই আমার কামনা। তবে বর্তমান ডিজিটাল যুগে ‘রক্তবীজ’কে আমরা দুই মলাটে বন্দি করে রাখতে চাইনে। ছড়িয়ে দিতে চাই বিশ্বময়, সকল পাঠপ্রিয় মানুষের কাছে। চাই তাদের অংশগ্রহণ। আর সেই ইচ্ছে থেকেই ‘ওয়েব পোর্টাল রক্তবীজে’র যাত্রা শুরু হল । তবে ‘রক্তবীজ’ যে একেবারেই মলাটবন্দি হবে না, তাও নয়। হবে, সময় সুযোগ মতো লিটলম্যাগ আকারে।
আমি ‘রক্তবীজ ওয়েব পের্টাল’ আর ‘লিটলম্যাগে’র যাত্রা শুরুকালে শ্রদ্ধা জানাই এদেশ নির্মাণের রূপকার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি। শ্রদ্ধা রইল তিরিশ লাখ শহিদ, নির্যাতিতা মা বোন, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাসহ সকল মুক্তিযোদ্ধা, এদেশের গণতান্ত্রিক অন্দোলনের সকল শহিদ আর সংগ্রামীর প্রতি । শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় স্মরণ করি আমার অকালে হারিয়ে যাওয়া স্বামী লতিফুর রহমানকে। আমার জীবন গঠনে যার অবদান অনন্য। আপনাদের সবার সহযোগিতাও একান্তভাবে কামনা করি।

একটি আন্তরিক মেধাবী ও পরিশ্রমী টিম আমাদের রয়েছে । আমাদের সবসময় চেষ্টা থাকবে, একটা ভিন্ন ধরনের মানসম্মত পোর্টাল উপহার দেবার। আপনারা সাথে থাকলে, আপনাদের সহযোগতা পেলেই সেটা সম্ভব।
ভাল থাকবেন, পাশে থাকবেন । ‘রক্তবীজ ওয়েব পোর্টালে’ লিখবেন, পড়বেন, বন্ধু-বান্ধবকে বলবেন।
ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা রইল

ভিডিওটি দেখতে নীচের লিংকে ক্লিক করুন:

Author: আফরোজা পারভীন

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts

4 thoughts on “সম্পাদকীয়

  1. মাহমুদ হাফিজ

    শুভকামনা ও অভিনন্দন। আশা করি পোর্টালটি আগ্রহীদের মাঝে সাড়া ফেলবে। প্রযুক্তি পেশাদারিত্বের ছাপ একে আরও আকর্ষণীয় করবে। আপনার এই পথচলা ও চ্যালেঞ্জকে উৎসাহিত করছি।

  2. কাব্য করিম

    ওয়েবপোর্টাল হালনাগাদ করার সঙ্গে সঙ্গে নতুন সম্পাদকীয়ও প্রত্যাশিত।

  3. অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। সাথে থাকুন সবসময়।