শুভ নববর্ষ ২০১৭

রাশেদুল ইসলাম:

নিজের ছবি তোলার ক্ষেত্রে আমার মধ্যে বেশ জড়তা কাজ করে । অনেক সময় গ্রুপে ছবি তোলার জন্য দাঁড়াতে হয় । আমি জড়সড় হয়ে সবার পিছনে দাঁড়াই । সেই গ্রুপ ছবি থেকে পরে আমার নিজেকে খুঁজে পেতে বেশ কষ্ট হয় । তবে, এখন লেখালেখির কারণে ছবি তোলার ব্যাপারে আমাকে একটু আগ্রহ দেখাতে হচ্ছে । আমার ফেসবুকে আগে কোন কভারফটো ছিল না । কিছুদিন আগে আমার অনুমতি নিয়ে, আমার মেয়ে আমার ফেসবুকে কভারছবি পোস্ট করেছে । সেই ছবির উপর অনেকের লাইক, কমেন্ট দেখে আমার টনক নড়ে । বিশেষ করে সাম্প্রতিককালে প্রবাসে চাকুরি করা আমার পরম শ্রদ্ধেয় একজন স্যার, ছবিটির উপর প্রশংসাসূচক মন্তব্য করায় আমি নড়েচড়ে বসি । ছবিটা খেয়াল করে দেখি । ছবিতে মেয়েটি তার বাবার কোমর জড়িয়ে ধরে আছে । তার চোখে মুখে খুশির ছটা । মনে হচ্ছে তার বাবা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বাবা । তার মা পরম নির্ভরতায় স্বামীর কাঁধে আলতো করে চোয়াল ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে । সবার চোখে-মুখে পরিতৃপ্তির ছাপ । অনাবিল হাসিতে ভরা । এটা একটা আদর্শ সুখী পরিবারের ছবি হতে পারে । আমি নিজে শৈশবে বাবাকে হারিয়েছি । ফলে, বাবাকে জড়িয়ে ধরার কোন স্মৃতি আমার নেই । যারা বিধবা বা কোন কারণে স্বামী নেই, বা স্ত্রী বা সন্তান নেই, এ ছবি দেখে তাদের ভিন্নরূপ অনুভূতি হতে পারে । তবে, পৃথিবীটা বড় মায়ার জায়গা । এখানে সবাই কোন না কোন ভাবে, কাউকে না কাউকে, আঁকড়ে ধরে বেঁচে আছে । এভাবেই যার যার অবস্থান থেকে সকলেই ভাল থাকুন, সুখে থাকুন, এটাই কামনা । সবার একই কামনা হওয়া উচিৎও বটে । এভাবে একটা পরিবার,একটা সমাজ, একটা দেশ যখন পারস্পারিক শ্রদ্ধা ও ভালবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হয়; তখন আর মানুষকে স্বর্গের জন্য মৃত্যু পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় না । দুনিয়াটাই স্বর্গ হয়ে যায় । কবি শেখ ফজলুল করিমের ভাষায়ঃ
‘কোথায় স্বর্গ কোথায় নরক, কে বলে তা বহু দূর?
মানুষের মাঝে স্বর্গ-নরক, মানুষেতে সুরা-সুর ।
প্রীতি-প্রেমের পুণ্য বাঁধনে, যবে মিলি পরস্পরে,
স্বর্গ আসিয়া দাঁড়ায় তখন, আমাদেরই কুঁড়ে ঘরে।’

তবে, বাস্তবজীবন এমন সরলরেখায় চলে না। আকস্মিক যে কোন ঘটনায় এরকম সুখের ছবি মুহূর্তে পাল্টে যেতে পারে। অশান্তির কালছায়া নামতে পারে একটা পরিবারে। পরিবারে কোন সদস্যের অসুখ বিসুখ বা প্রাকৃতিক অনেক বিষয় এ অশান্তির কারণ ঘটে। তবে, সবচেয়ে বড় আশান্তির কারণ ঘটায় আশেপাশের মানুষে। আসলে মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু আরেকজন মানুষ। আমি গ্রামের ছেলে। গ্রামের সহজ সরল সামাজিক জীবন আমাকে আকর্ষণ করে। আবার কিছু কিছু মানুষের সংকীর্ণতা ও কুটিলতা আমাকে আহত করে। এক্ষেত্রে অবশ্য শহর, গ্রাম, জাতিক ও আন্তর্জাতিক চিত্রের মধ্যে তেমন কোন পার্থক্য নেই। স্থান-কাল-পাত্রের ভিন্নতা আছে মাত্র। আমি আগে গ্রামের কথাই বলি। গ্রামে একটা কথার প্রচলন আছে; ‘যদি কেউ ভাল থাকে, তাহলে তাকে দ্বিতীয় বিয়ে করিয়ে দেও; অথবা, তার নামে একটা মামলা ঠুকে দেও।’ গ্রামের একজন ব্যক্তি তার স্ত্রী সন্তান নিয়ে খুব ভাল আছে। একদিন সকালে দেখা গেল তার পুকুরের সব মাছ মরে পানিতে ভেসে আছে। কে বা কারা রাতে পুকুরের পানিতে বিষ দিয়েছে। লোকটার মাথায় হাত। অনেক টাকার মাছ ছিল পুকুরে। অনেক বড় বড় মাছ। ছেলে এবার কলেজে ভর্তি হবে। মাছগুলোই ছিল সম্বল। তার সব শেষ। কেউ তার এমন সর্বনাশ করবে, সে ভাবেনি। গ্রামের শুভাকাক্সক্ষীরা ঘিরে আছে তাকে। একপক্ষ বোঝাতে চায়, তার থানায় কেস করা উচিৎ। এক পর্যায়ে কেস করতে রাজি হয় সে। কেসে কারো নাম উল্লেখ না করলে, পুলিশ গ্রামের যে কাউকে সন্দেহ করতে পারে। যাকে তাকে থানায় ধরে নিতে পারে। এতে গ্রামের সবাই তার উপর ক্ষ্যাপা। আবার, আর্জিতে সুনির্দিষ্ট কারও নাম উল্লেখ করলে, সে তার স্থায়ী শত্রু হয়ে গেল। সারকথা লোকটার পরিবারের সব শান্তি শেষ। যারা ঘটনাটা সাজিয়েছে তারা মহাখুশী। একটা পরিবারের সুখ নষ্ট হয়েছে, এতেই তারা খুশী। বাদী-বিবাদী দুপক্ষকেই নাকে দড়ি দিয়ে ঘোরানোর সুযোগ পেয়েছে তারা। গ্রামের আর এক চিত্র খুবই সাধারণ। একজন ভাই তার আপন ভাইয়ের শত্রু। জ্ঞাতী ভাইদের অনেকে একে অপরের জানের শত্রু। এক ভাই তার মেয়ের বিয়ে চূড়ান্ত করে ফেলেছে। বিয়ের একদিন আগে জানা গেল পাত্রপক্ষ বিয়েতে রাজি নয়। কয়েকদিন পর কারণও জানা যায়। মেয়ের নিজের চাচা গিয়ে বলে এসেছে, তার ভাইজির চরিত্র খারাপ। বিয়ে হয় কি করে? অনেক সময় দেখা যায়, উপরে সবার সাথে সম্পর্ক ভাল; কিন্তু তলে তলে একে অপরের জানের শত্রু। এক্ষেত্রে অনেকে যাদুটোনার আশ্রয় নেয়। গ্রামে যাদুটোনায় পারদর্শী ফকির শ্রেণীর কিছু লোক আছে। মূলত বিভিন্ন মানুষের ক্ষতি করাই তাদের কাজ। একই বংশের আত্মীয় অনেক সময় গোপনে নিকটজনের ক্ষতি করার জন্য এদের কাছে যায়। নিকট আত্মীয়ের পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি করাই তাদের মূল লক্ষ্য। কিশোর বয়সে আমার একবার মাথায় ভূত চাপে, এই ফিকিরী বিদ্যা শেখার। আমি একজন ফকিরের কাছে যাই।
ফকিরী লাইনে একটা কথা আছেঃ
‘ছয়মাস বইবা তুমি ঝুলি কাথা,
তারপর পাইবা একটা মিছা কথা’।
অর্থাৎ, ফকিরগুরুর কাঁথাবালিশ কাঁধে নিয়ে ছয়মাস তার পিছনে ঘুরলে, তিনি দয়া করে একটা মিথ্যে কথা বলতে পারেন। এর আর একটা অর্থ হল, ফকিরীবিদ্যা শেখা খুব সহজ কাজ নয়,
সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। কিন্তু, আমার অত ধৈর্য নেই। আমি একজন প্রভাবশালী বাবার সন্তান।
বলি, ‘আমি কোন জারিজুরি বুঝিনে। তোমার পিছনে বেশিদিন ঘোরা, আমার পক্ষে সম্ভব নয়।’ ফকির অনেকটা বাধ্য হয়েই তার সব মন্ত্র আমাকে শেখাতে থাকে। পরবর্তী ২/১ মাসের
মধ্যেই আমি সেগুলো মুখস্ত করে ফেলি। মন্ত্রগুলো ছোট ছোট কবিতার মত। আমার তখন
মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদ ও বিভীষণ’, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সামান্য ক্ষতি’, কাজী নজরুল ইসলামের ‘চল চল চল’ সহ কয়েকটা ক্লাসের পাঠ্যপুস্তকে যত কবিতা আছে সব মুখস্ত। ছোট ছোট মন্ত্র মুখস্ত করা আমার জন্য কোন ব্যাপারই নয়। মন্ত্রগুলোর প্রায় সবই মানুষের ক্ষতি
করার মন্ত্র। স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক নষ্ট করা। স্বামী কোন অবস্থাতেই যেন স্ত্রীকে সহ্য করতে না
পারে। বাড়ীতে নতুন জামাই এসেছে। শাশুড়ি পিঠা বানাতে চান। তিনি যত চেষ্টাই করুন,
পিঠা নষ্ট করা মন্ত্র পড়ে দিলে, তিনি আর পিঠা বানাতে পারবেন না। চাউলের গুড়া তিনি
যেভাবেই গুলান না কেন, পিঠা হবে না। এক বিধবার একটিমাত্র ছেলে। অসুখ হয়েছে। একটা
মন্ত্র দিয়ে বান মেরে দিলে, সেই অসুখ আর ভাল হবে না। কারো সুন্দরী মেয়ে বা বউ আছে,
একটা মন্ত্র পড়ে তার গায়ে ছিটা দিলে, সে স্বামী বা বাবার বাড়ি ছেড়ে চলে আসবে। এটাকে
বশীকরণ মন্ত্র বলে। উদাহরণ হিসেবে এই বশীকরণ মন্ত্র নিয়ে কিছু কথা বলি। আমি নিজে গ্রাম
ছেড়েছি ৩৫/৩৬ বছর আগে। আমার এ লেখা তখনকার অভিজ্ঞতা নিয়ে। এ অবস্থার কতটা
পরিবর্তন হয়েছে, এখন যারা গ্রামে থাকেন, তারা ভাল জানেন। আমার ছেলেবেলায় গ্রামের
প্রায় সকলেই খালি পায়ে হাঁটত। বশীকরণ মন্ত্রটা সমাজের তখনকার বাস্তবতার নিরিখে রচিত।
মন্ত্রটার প্রয়োগ অনেকটা এরকম: টার্গেট করা মেয়ে বা বউ কোন পথে হাঁটে লক্ষ্য রাখতে হবে। তার ডানপায়ের বৃদ্ধা আঙ্গুলের ছাপ থেকে এক চিমটা মাটি নিতে হবে। তারপর সেই মাটির
দিকে তাকিয়ে ৩ বার বশীকরণ মন্ত্র পড়ে ফুঁ দেয়া মাটি, সেই বউ বা মেয়েটির গায়ে ছিটা দিতে
হবে। পরপর ৩ দিন এরকম ছিটা দেয়া গেলে, সে পাগল প্রায় হয়ে, বাবা বা স্বামীর সংসার
ছেড়ে মন্ত্রপড়া লোকের কাছে চলে যাবে। বশীকরণ মন্ত্রের শেষাংশ নিম্নরূপঃ
‘ধর্ম সপে দিলাম ধূলা অমুকের (নাম উচ্চারণ করতে হবে) গায়ে ফেলে।
ঘরে যেতে ঘর কম্পবান,
বাইরে যেতে আকাশ-চন্দ্র-সুরযু কম্পবান,
ঘর ছাড়, দুয়ার ছাড়,
আমার পিছে কর ভর।
আমার পিছে ছাড়া যদি, অন্যপানে চাও,
শিব দুগগার মাথা খাও।
আমার কথা যদি নড়ে,
কার্তিক গনেশের মুখে গোমাংস পড়ে।’
আমি তখন অনেক মন্ত্রজানা রীতিমত একজন ফকির। অনেক ভাব নিয়ে আশেপাশের গ্রামে ঘুরি। একটার পর একটা মন্ত্র পড়ে পরীক্ষা চালাই। সপ্তাহ, পক্ষ, মাস পার হয়ে যায়, কোন মন্ত্রে
কাজ হয় না। আমি উত্তেজিত। সেই ফকিরের সাথে দেখা করি। তাকে জানাই, তার যাদুমন্ত্র
সব বোগাস। সে আমার সাথে প্রতারণা করেছে। আমি সবাইকে বলে তাকে নাজেহাল করব।
ফকির আমার হাতে-পায়ে ধরে। আমি বলি একটা শর্তে মাফ করা যায়। তাকে নিজেই একটা
মেয়েকে বশীকরণ করতে হবে। ফকির আঁতকে ওঠে,‘এই বুড়ো বয়সে, আমি মেয়ে দিয়ে কি
করব?’ অতশত বুঝিনে। আমি একটা মেয়ের নাম বলি। তাকে ৭ দিনের সময় দিয়ে চলে
আসি। মজার ব্যাপার, ৩ দিন পর থেকেই মেয়েটিকে ফকিরের বাড়ির দিকে যেতে দেখা যায়।
আমি ইচ্ছে করেই দূরপাড়ার একটা মেয়ের নাম বলি। সেই দূরপাড়া থেকেই মেয়েটি ফকিরের
বাড়ীতে যায়। আমি ৭ দিন পর ফকিরের সাথে দেখা করি। ফকির আমার দুহাত চেপে ধরে ।
আমি বলি, ‘তুমি এখন মেয়েটার আসা বন্ধ করে দেও।’
পরদিন থেকে মেয়েটির ফকিরের বাড়ি যাওয়া বন্ধ হয়ে যায় । আমি বুঝতে পারি, আসলে মন্ত্রের কোন ক্ষমতা নেই । ফকিরের দীর্ঘ দিনের সাধনা তাকে একধরনের ক্ষমতা দিয়েছে । তবে, অবাক কথা, লোকটা সারাজীবন সাধনা করেছে মানুষের ক্ষতি করার জন্য।
গ্রামের প্রতাপশালী এক আত্মীয় একদিন আমাকে বলেন, ‘মানুষের অভাব না হলে, খেয়ে কোন শান্তি নেই’। আমি অবাক হয়ে তাঁর দিকে তাকাই ।‘তারমানে?’ তিনি বলেন,‘মানুষের অভাব হলে বা বিপদে পড়লে, তাদের পোষা হাঁস, মুরগি, ছাগল বিক্রি করার জন্যে বাড়িতে নিয়ে আসে। তখন অনেক কম দামে কেনা যায়। খেয়ে শান্তি।’
আমার এসব কথা আমার ছেলেবেলার গ্রামের প্রেক্ষাপট থেকে নেয়া । আমি এখন ঢাকা শহরে
থাকি । তবে, এখানকার কাহিনিও ভিন্নতর নয় । এখানেও যাদুটোনা আছে, ব্ল্যাক ম্যাজিক আছে,
আপন ভাইয়ের মধ্যে, জ্ঞাতী সম্পর্কের মধ্যে শত্রুতা আছে, বিভিন্ন ধরণের চাঁদাবাজি আছে । এক কথায়, একটা পরিবারের শান্তি নষ্ট করার জন্য যা যা দরকার তার সব উপাদান ঢাকাতেও আছে। তবে পদ্ধতি ও মাত্রা ভিন্ন হতে পারে । আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে আমার গ্রামের সেই প্রতাপশালী
আত্মীয়ের মানসিকতা সম্পন্ন অনেক ব্যক্তিত্ব আছেন । তাঁদের ছত্রছায়ায় মানুষের ক্ষতি করার জন্য
অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র তৈরি হয় । অপেক্ষাকৃত দুর্বল দেশগুলোকে ধর্ম, জাতিভেদ ও অন্যান্য বিভিন্ন
অজুহাতে পরস্পরের মধ্যে যুদ্ধ বাঁধানোর উস্কানি দেয়া হয় । একবার যুদ্ধ বেঁধে গেলে ব্যবসা করে
অশান্তি। শান্তি খেয়ে মাতবরি করে অশান্তি । শুধুমাত্র মানুষের ক্ষতি করার জন্যই পৃথিবীতে কত
যাদুটোনা, কত মন্ত্র, কত উস্কানি, কত চাঁদাবাজি, কত রাজনীতি, কত যুদ্ধ, কত কি!
অথচ, প্রাণী জগতে মানুষ সবচেয়ে বেশি অসহায় প্রাণী । একজন মানব শিশুকে দেখলে এটি ভাল বোঝা যায় । একজন নবজাত শিশুর প্রতি কেউ যদি যত্ন না নেয়, তাহলে শিশুটি নিশ্চিত মারা যাবে । মানুষ জন্মগতভাবে পরনির্ভরশীল প্রাণী । অন্যের সাহায্য ছাড়া সে বাঁচে না । কিন্তু, অন্য প্রাণীর ক্ষেত্রে তা হয় না । জন্মের পর কেউ কোন যত্ন না নিলেও অন্য প্রাণীর বাচ্চা বেঁচে যায় । প্রচলিত আইনে ১৮ বছর বয়স না হলে একজন মানব সন্তান, পূর্ণ মর্যাদার মানুষ হিসেবে স্বীকৃতি পায় না। এ ধরণের দুর্বল প্রাণীর ক্ষতি করার জন্য আসলে কারো কোন ক্ষমতার দরকার হয় না। একটা শিয়াল, কুকুর, বিড়াল, ইঁদুর, তেলাপোকা এধরনের যে কোনো প্রাণী বা কীটপতঙ্গ মানুষের ক্ষতি করতে পারে । মানুষের ক্ষতি করার জন্য মানুষের মত মেধাসম্পন্ন প্রাণীর কোন প্রয়োজন নেই। প্রকৃতপক্ষে মানুষের ক্ষতি করতে কোন ক্ষমতা লাগে না; ক্ষমতা লাগে মানুষের উপকার করতে। সড়ক দুর্ঘটনা কবলিত একজন মানুষ রাস্তায় পড়ে আছে, রক্তমাখা হাত পা নড়ছে, তাকে ছোট একটা লাথি মারলে সে মারা যাবে । কিন্তু, তাকে বাঁচাতে হলে নিজের কাজ ফেলে, তাকে হাসপাতালে নিতে হবে । এতে নিজের টাকা খরচ হবে, থানা পুলিশও হতে পারে। ফলে, মানুষের উপকার করতে সামর্থ, সৎ সাহস এবং ক্ষমতা সবই থাকতে হয়। কিন্তু, কারো ক্ষতি করার জন্য এর কোনটাই দরকার হয় না । অথচ, সমাজে একজন মানুষ আরেকজন মানুষের ক্ষতি করে বাহাদুরি দেখায় । আমাদের সমাজে এমন কোন নারী-পুরুষ নেই, যে কাউকে,‘তুই আমাকে চিনিসনে, আমি তোর বারোটা বাজাতে পারি’ জাতীয় হুমকি দেয়নি । এখানে ‘বারোটা বাজানো’ বলতে মানুষের ক্ষতি করার ক্ষমতার কথা বলা হয়েছে; মানুষের ক্ষতি করার ক্ষমতার একটা সামাজিক মর্যাদা আছে, তাও বোঝানো হয়েছে । একটা অন্যায় প্রথা সুদীর্ঘকাল চালু থাকলেই, তা ন্যায়সঙ্গত হয়ে যায় না । আসুন, আমরা এ মানসিকতার পরিবর্তন আনি । আপনার আমার সত্যই যদি ক্ষমতা থাকে, তাহলে মানুষের উপকার করে দেখাই । জোর গলায় বলি, ‘আমি মানুষের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করতে চাই, অথবা, তিনজনের চাকুরি দেয়ার দায়িত্ব আমি নিলাম, অথবা, কমল মমিনের মত জীবন্ত বিশ্বকোষতুল্য কান্সার আক্রান্ত সাহিত্যিকের চিকিৎসা ভার আমি নিলাম, অথবা,কারো কোন উপকার করতে না পারি, নিদেনপক্ষে, কারো কোন ক্ষতি না করার শপথ নিলাম।’
নতুন এ বছরটা আমরা কি এভাবে শুরু করতে পারিনে? আমরা কি নিজের পরিবার, সমাজ
এবং দেশকে কবির ভাষায় ‘স্বর্গ’ বানাতে পারিনে?
সকলকে ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা।

Author: Rashadul Islam

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts

মতামত দিন Leave a comment