স্ত্রীর কাছে লেখা তলস্তয়ের শেষ চিঠি

২৩ সেপ্টেম্বর ১৮৬২ সালে নিজের পছন্দে ৩৪ বছর বয়সী কাউন্ট লেভ নিকলায়েভিচ তলস্তয় ১৮ বছর বয়সী মোক্ষিয়া বের্সকে বিয়ে করেন। ভালই ছিলেন তাঁরা। কিন্তু এক সময়ে সম্পর্ক এমন তিক্ততার পর্যায়ে পৌঁছে যে, স্ত্রীর কাছে শেষ চিঠি লিখে ৮২ বছর বয়সে তলস্তয় রাতের অন্ধকারে চিরদিনের মতো বাড়ি ছেড়ে চলে যান। সাথে ছিলেন তাঁর কন্যা। এ ঘটনার ঠিক ১০ দিন পর বাড়ি থেকে বহুদূরের একটি অখ্যাত রেলস্টেশনে তাঁর মৃত্যু হয়। তলস্তয়ের এই অনভিপ্রেত মৃত্যু আর শেষ পরিণতি আজও সারা পৃথিবীর পাঠককুল বেদনার সাথে স্মরণ করে। এটাই সেই শেষ চিঠি। এ চিঠিতে তিনি একবারের জন্যও স্ত্রীকে দায়ি করেননি।

২৮ অক্টোবর ১৯১০
আমার চলে যাওয়া তোমার জন্য যন্ত্রণার কারণ হবে সেজন্য আমি দু:খিত। তুমি আমাকে বুঝতে চেষ্টা করবে এবং বিশ্বাস করবে যে এ ছাড়া আমার আর কোনো উপায় ছিলো না। এই বাড়িতে আমার অবস্থান অসহনীয় হয়ে উঠেছে – বরং আমি বলব অসহনীয় হয়েই গেছে । আর সব বাদ দিলেও সার্বক্ষণিক যে বিলাসিতা চারদিক থেকে আমাকে ঘিরে রেখেছে এর মধ্যে আমার পক্ষে বসবাস করা সম্ভব না। আমার বয়সী মানুষ প্রায়ই যা করে থাকে, আমিও তা-ই করতে যাচ্ছি- আমার জীবনের শেষ কটা দিন একা কাটাতে ঘর-সংসার ত্যাগ করছি । তুমি দয়া করে আমাকে বুুঝতে চষ্টা করবে এবং আমাকে তাড়া করে ধরার জন্য পেছনে ছুটে আসবে না । এমনকি আমি কোথায় গিয়েছি তা জানতে পারলেও না। তোমার আসা তোমার ও আমার উভয়ের জন্য আরো খারাপ পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে, আর তাতে আমার সিদ্ধান্ত কখনও পালটাবে না।
তুমি যে আমার সাথে আটচল্লিশ বছরের একটি সম্মানজনক জীবন কাটিয়েছ সে জন্য তোমাকে ধন্যবাদ জানাই, আর তোমার প্রতি যে সব ভুল আমি করেছি তার জন্য ক্ষমা চাই । তুমিও আমার প্রতি যা যা ভুল করেছ তার জন্যও আমার অন্তর থেকে ক্ষমা করে দিয়েছি। আমি চলে যাওয়াতে যে নতুন পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটবে, আমার পরামর্শ, তুমি তার সাথে নিজেকে মানিয়ে নাও, আর সেজন্য আমার উপর কোনো বিদ্বেষ জমিয়ে রেখো না। তুমি যদি আমাকে কিছু বলতে চাও শাশাকে বলতে পারো, শাশা আমার অবস্থান জানবে এবং তোমার বার্তা পৌঁছে দেবে। কাউকে না বলার জন্য তাকে আমি শপথ করিয়েছি, সে কারণে আমার অবস্থান তোমাকে জানাবে না।
লেভ তলস্তয়

Author: সংগৃহীত

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts

মতামত দিন Leave a comment