আমিনুল ইসলামের কবিতায় অর্থনীতির অনুষঙ্গ/ মোঃ রফিকুল ইসলাম

মানবজীবনের অর্থনৈতিক কার্যাবলী নিয়ে যে শাস্ত্র আলোচনা করে– এক কথায় তাই হলো অর্থনীতি। আর আজকের আধুনিক সমাজে মানুষের প্রত্যেকটি কাজই কোন না কোন ভাবে অর্থনীতির সাথে জড়িত। অসীম অভাব ও সীমাবদ্ধ সম্পদের এই পৃথিবীতে মানুষ তার অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানের জন্য প্রতিনিয়ত যে কাজগুলো করে যাচ্ছে তাহলো– উৎপাদন, বন্টন, বিনিময় ও ভোগ। পৃথিবীর সব দেশের অর্থনীতিতে অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানের এই চারটি স্তর বা প্রক্রিয়া বিদ্যমান থাকলেও, ঐ সমস্ত দেশের রাজনৈতিক ও আর্থ–সামাজিক কাঠামোর উপর ভিত্তি করে এগুলোর পদ্ধতিগত পার্থক্য নির্ণীত হয়। তাই, একটি পুঁজিবাদী দেশ, সমাজতান্ত্রিক দেশ ও মিশ্র অর্থনীতির দেশের…

Read More

অভিবাসীর গান

অভিবাসীর গান

হে জননী, বিষুবরেখায় হেলান দিয়ে চোখ মেলে দেখো- নদীর মতো বয়ে চলেছি আমি কাঁধে নিয়ে নিরন্তর কর্মপ্রবাহের জল আমার সাথে আছো তুমিও যতদূর গঙ্গা, ততোদূর গঙ্গাঋদ্ধি যতদূর উড়ি আমি, ততোদূর বিস্তৃত হও তুমিও। আলেকজান্ডার যা পারেনি যা পারেনি সুলতান সুলেমান কিংবা রানী ভিক্টোরিয়া, আমি তাই করে চলেছি এখন কোনো মহাদেশেই আর অনুপস্থিত নও তুমি। আর দ্যাখো, তোমার মুখের জবানকে হাওয়ার মতো ছড়িয়ে দিয়েছি আমি পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত! কান পাতো মেরু হাওয়ায়– উত্তরে, দক্ষিণে কান পাতো আটলান্টিকে- ঢেউয়ের গর্জনে, ঈগলের শিসে, শুনতে পাবে আপন কন্ঠস্বর; আমি যেন সোলেমানী…

Read More

আবিদ আজাদের কবিতা : শিল্পের বাগানবাড়ি

আবিদ আজাদ

পরিপূর্ণ অর্থেই বৃহত্তর বাংলা এক উর্বর ভূমি। ষড়ঋতুর পরিচর্যায় আর হাজারো নদ–নদীর দানে সমৃদ্ধ বাংলার মাটিতে জন্মে অসংখ্য রকমের গাছপালা–শস্যাদি। বাংলার সাংস্কৃতিক উঠোনে ধারাবাহিকভাবে জন্মলাভ ঘটে শত কবি–শিল্পী–কথাশিল্পী–নাট্যকারের। আবিদ আজাদ বাংলার উর্বর উঠোনে জন্ম নেয়া তেমনি এক শক্তিমান কবির নাম। তাঁর হাতে অন্যান্য ধরনের সৃষ্টিসহ রচিত হয়েছে বহু কবিতা। তাঁর কবিতা বৈচিত্র্যে ভরপুর, পাশাপাশি শিল্পগুণে সমৃদ্ধ। এক সহজাত কাব্যপ্রতিভা নিয়ে তিনি কবিতা লিখে গেছেন একের পর এক। ফলে তাঁকে কষ্টকল্পনার কষ্ট করতে হয়নি। একই কারণে তাঁর কবিতা গীতল, মোলায়েম, সুন্দর ও উপভোগ্য। তাঁর সৃষ্টির মাঝে অক্ষমের জোরাজুরি নেই, পাঠক–ঠকানো উপরচালাকি…

Read More

নজরুল রচিত মহামিলনের গান

নজরুল রচিত মহামিলনের গান

গাহি সাম্যের গান যেখানে মিশেছে হিন্দু–বৌদ্ধ–মুসলিম–ক্রীশ্চান। গাহি সাম্যের গান কে তুমি? পার্সী? জৈন? ইহুদী? সাঁওতাল, ভীল, গারো ? কনফুসিয়াস? চার্বাক–চেলা? বলে যাও, বল আরো! বন্ধু যা খুশি হও পেটে–পিঠে,কাঁধে–মগজে যা–খুশি পুঁথি ও কেতাব বও, কোরান–পুরাণ–বেদ–বেদান্ত–বাইবেল–ত্রিপিটিক– জেন্দাবেস্তা–গ্রন্থসাহেব পড়ে যাও যত সখ,– কিন্তু কেন এ পন্ডশ্রম, মগজে হানিছে শূল? দোকানে কেন এ দরকষাকষি?— পথে ফোটে তাজা ফুল! তোমাতে রয়েছে সকল কেতাব সকল কালের জ্ঞান, সকল শাস্ত্র খুঁজে পাবে সখা খুলে দেখ নিজ প্রাণ! তোমাতে রয়েছে সকল ধর্ম, সকল যুগাবতার, তোমার হৃদয় বিশ্ব–দেউল সকলের দেবতার। (সাম্যবাদী / কাজী নজরুল ইসলাম)   কাজী নজরুল…

Read More

নজরুলের প্রেমের গান

কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যে–সংগীতে এক যুগস্রষ্টা কবি ও  স্রষ্টা। তাঁর রোমান্টিক হাতেই আধুনিকতার শুরু সাহিত্যে এবং সঙ্গীতে। তাঁর আগে যারা সাহিত্য সঙ্গীত নিয়ে কাজ করেছেন। তারা মূলতঃ আদর্শবাদী রোমান্টিকতার বৃত্তে থেকে  রচেছেন তাদের সৃষ্টিকর্ম । নজরুল ছিলেন একাধারে আবেগী, মানবতাবাদী এবং বাস্তববাদী মানুষ। মানুষের শারীরিক মানসিক আবশ্যকীয় চাহিদাগুলোর প্রতি তার সমান শ্রদ্ধা ও সমর্থন ছিল। ভালোবাসা শুধু হৃদয়ের ব্যাপার নয়, মনের ও বিষয় এবং নিষ্কাম প্রেমই প্রকৃত প্রেম এই ধারণাকৃত ভেঙ্গে তিনি বাস্তবতার ভুবনে প্রবেশ ও প্রবল পদক্ষেপে বিচরণ করেছেন। আধুনিক মানুষ মানুষের দৈহিক চাহিদা বিশেষত যৌনচাহিদা বা সেক্স–কে…

Read More