গ্রেটওয়ালের দেশে – ২৮তম ও শেষপর্ব / শরীফ রুহুল আমীন

    নানজিং এর হ্রদে পানি দেখে বেশ উল্লসিত লাগলো কেননা বেইজিং এ এরকম হ্রদ বরফের আস্তরে ঢাকা পড়ে আছে। বেইজিং এর চেয়ে এখানে চার-পাঁচ ডিগ্রী বেশি তাপমাত্রা। আমরা মহামতি কনফুর্সিয়াসের টেম্পলের একেবারে ভেতরে প্রবেশ করলাম এবার। এখানে কনফুর্সিয়াসের মূর্তি তো আছেই, অধিকন্তু কনফুর্সিয়াস যেভাবে তার শিষ্যদের  জ্ঞানগর্ভ কথা বলতেন আর ভক্তরা তা শুনতেন সেরকম একটি প্রাঙ্গন স্থাপন করা হয়েছে। মূল ভবনের ভেতরের দেয়ালে কনফুর্সিয়াসের ওপর বিভিন্ন মিথিক্যাল কথাবার্তার বর্ণনা আছে। উদাহরণ স্বরূপ-‘দুই ড্রাগন ও পাঁচ বৃদ্ধ’ শিরোনামের একটি কাহিনীর খোদাইকৃত সচিত্র বর্ণনা এরকমঃ ‘কনফুসিয়াস জন্মগ্রহণের রাতে দুটি ড্রাগন সে…

Read More

গ্রেটওয়ালের দেশে- ২৭তম পর্ব / শরীফ রুহুল আমীন

আট জানুয়ারি দুহাজার সতেরো। রোববার। আজ আমরা পিকিং ইউনিভার্সিটি দেখবো বলে বেরিয়েছিলাম। কিন্তু পিকিং ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক বন্ধ ছিল বলে সেটি সম্ভব হলো না। ইউনিভার্সিটিতে পরীক্ষা চলছিল বিধায় এসময় ক্যাম্পাসে সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ বলে গেটকিপার জানালেন। সুতরাং সেখান থেকে আমরা বেইজিং এর বিখ্যাত ল্যাণ্ডমার্ক সিসিটিভি দেখতে চললাম। সিসিটিভি চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশন টাওয়ার যা বেইজিং এর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। ৪০৫ মিটার উঁচু এই টাওয়ার শীর্ষে রয়েছে একটি ঘূর্ণায়মান রেস্তোঁরা বা রোটেটিং রেস্টুরেন্ট। পর্যটকরা এ রেস্তোঁরায় আরোহন করে ঘুরতে ঘুরতে চা নাশতা বা ভোজন করতে পারেন। তবে তা বেশ ব্যয়বহুল। এখানে কিছু…

Read More

গ্রেটওয়ালের দেশে – ২৬তম পর্ব

আরেকটু এগিয়ে গেলেই একটি স্কি রিসোর্ট। নান্দনিক এ স্কি রিসোর্টটি ব্যক্তি উদ্যোগে তৈরি। চীনের হারবিন প্রদেশ হলো তুষারের স্বর্গরাজ্য। পুরো শীত ঋতু জুড়ে এখানে ব্যাপক তুষারপাত হয় আর বছর জুড়েই এখানে বরফের আস্তর থাকে। কিন্তু বেইজিং ঠিক সেরকম নয়। শীতকালে তাপমাত্রা শূন্যের নিচে চলে গেলেও গত দুমাসে এখানে তুষারপাত প্রত্যক্ষ করলাম মাত্র দুবার দুদিন। তাই স্কি রিসোর্টটি হারবিন বা অন্য কোনো প্রদেশ থেকে বরফ ও তুষার এনে তৈরি করা হয়েছে উৎসাহী বেইজিংবাসীর স্কি বা স্কেটিং- এর শখ মেটাবার জন্য। পাশেই রয়েছে সুবিশাল হ্রদ। হ্রদের পানির ওপর পুরু বরফের আস্তর ।…

Read More

বাঙ্লায় বারোমাসি ভ্রমণ

বাঙ্লায় বারোমাসি ভ্রমণ

(শেষাংশ) পৌষ এলো গো……. ‘পৌষ’ এলে শুরু হয় শীতকাল। ‘পৌষ’কে অতি আদর সহকারে কাজী নজরুল ইসলাম ‘পউষ’ কবিতায় লিখেছেন -“পউষ এলো গো/পউষ এলো অশ্রু-পাথার হিম-পারাবার পারায়ে/ঐ যে এলো গো ……….. পউষ এলো গো/এক বছরের শ্রান্তি পথের, কালের আয়ু ক্ষয়/পাকা ধানের বিদায়-ঋতু, নতুন আসার ভয়…….”। পৌষ নিয়ে তিনি আরো লিখেছেন-“পউষের বেলা শেষ/পরি জাফ্রানি বেশ/মরা মাচানের দেশ/ক’রে তোল মশগুল/ঝিঙে ফুল’। প্রকৃতির কবি জীবনানন্দ দাশ-এর ‘অন্ধকার’ কবিতায় রয়েছে-‘ধানসিড়ি নদীর কিনারে আমি শুয়েছিলাম-পউষের রাতে’ ; ‘মৃত্যুর আগে’ কবিতায় আছে- ‘বুঝেছি শীতের রাত অপরূপ, মাঠে-মাঠে ডানা ভাসাবার/গভীর আহ্লাদে ভরা, অশ্বত্থের ডালে-ডালে ডাকিয়াছে বক….’। পৌষ শীতের…

Read More