বিদেশীদের চোখে বাংলাদেশের গণহত্যা -৮

(পূর্ব প্রকাশিতের পর​) অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের রিপোর্ট তিন গুলিতে একটি প্রাণ ঢ্যাঙা পাঞ্জাবি অফিসার ইফতেখার তার কাজের ফিরিস্তি দিতে চাইল। আরেক দিনের কথা। তার সঙ্গে গাড়িতে করে কুমিল্লা সার্কিট হাউসে যাচ্ছিলাম। ওই দিনই সে তার সর্বশেষ বীরত্বব্যঞ্জক কর্মের বর্ণনা দেয়। “আমরা এক বুড়োকে পাই,” সে বললো, “জারজটি দাড়ি রেখেছিল। ভাব দেখাচ্ছিল সে খাঁটি মুসলমান। নাম বললো আবদুল মান্নান। তৎক্ষণাৎ আমরা ডাক্তারি পরীক্ষায় নেমে পড়লাম এবং খেল খতম।” ইফতিখার বলে চললো, “আমি ওই মুহূর্তেই ওটাকে শেষ করে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার লোকেরা বললো এই ধরনের একটি জারজের জন্যে তিনটি গুলির দরকার। প্রথম…

Read More

জাতির জনকরে গ্রেফতার, রর্বাট ফ্রস্ট ও র্পূবাপর

২৫ র্মাচ রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রফেতার করা হয়। এর আগে ২৪ মার্চ সকাল থেকে অগণিত মানুষের ঢল নামে শেখ মুজিবের বাসভবনের সামনে। একের পর এক জঙ্গি মিছিল এসে জড়ো হতে থাকে। লুঙ্গি-পাঞ্জাবি পরে তিনি মুক্তিপাগল জনতার সামনে এসে দাঁড়ান। তিনি তাদের বলেন: আমি জানি না সংগ্রামকে সুতীব্র করতে আমি আপনাদের আদেশ দেবার জন্যে বেঁচে থাকবো কীনা, অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন। (বাংলাদেশ ডকুমেন্টস: প্রথম খুন্ড, পৃষ্ঠা-২৬৭) হামলা পরিকল্পনা, যার নামকরণ করা হয় ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ অনুমোদন দিয়ে সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট হাউস থেকে হোটেলে ফিরে সাংবাদিকদের সামনে ইয়াহিয়া বললেন: আমরা…

Read More

বিদেশীদের চোখে বাংলাদেশের গণহত্যা-৬

(পূর্ব প্রকাশিতের পর​) অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের রিপোর্ট হিন্দুর বিলয়ন অস্থি মজ্জায় কাঁপন ধরানো সামরিক কার্যক্রমের দুটি স্পষ্ট বৈশিষ্ট্য দৃশ্যমান। হত্যার মতো অপ্রিয় শব্দের বদলে একটি কোমল শব্দ ব্যবহার করতে কর্তৃপক্ষ অধিকতর পছন্দ করে। পূর্ব বাংলাকে পশ্চিম পাকিস্তানের একটি বশ্য উপনিবেশ বানানোর যে প্রক্রিয়া চলছিল,  সাধারণভাবে উচ্চারিত এবং সরকারীভাবে বার বার প্রজ্ঞাপিত “দুষ্কৃতকারী” “অনুপ্রবেশকারী” শব্দ দুটি হচ্ছে সেই ধাঁধার অংশই-যা দিয়ে বিশ্বকে বোঝানো হচ্ছে। প্রচারণাটা ছুঁড়ে ফেলে দিলে বাস্তবতাটা দাঁড়াবে ‘উপনিবেশকরণ’ এবং ‘হত্যাযজ্ঞ’। হিন্দু বিলয়নের যৌক্তিকতা পূর্ব পাকিস্তানের সামরিক গভর্নর লেফটেন্যান্ট জেনারেল টিক্কা খান তার এক রেডিও ভাষণে শব্দের মারপ্যাচে তুলে ধরেছিলেন।…

Read More

বিদেশীদের চোখে বাংলাদেশের গণহত্যা – ৫

(পূর্ব প্রকাশিতের পর​) অ্যান্থনি মাসকারেনহাসের রিপোর্ট পরমুহূর্তে রাথোর আবার বললো, অবশ্যই আমরা শুধু হিন্দুই মারছি। আমরা সৈনিক। বিদ্রোহীদের মতো কাপুরুষ নই। ওরা আমাদের নারী এবং শিশুদের হত্যা করেছে। পূর্ব বাংলার বিস্তীর্ণ সবুজ ভূমির উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শোণিত ধারা দেখতে পেলাম। প্রথম দেখি অবাঙালিদের উপর পরিচালিত হত্যাকান্ড। সেটা ছিল তাদের উপর বাঙালিদের একই ধরনের বন্য ঘৃণার প্রকাশ। আর এখন দেখছি আরেকটি হত্যাযজ্ঞের শিকার হিন্দুরাই শুধু নয়-যারা এখানকার পূর্ব বাংলার সাড়ে সাত কোটি জনসংখ্যার ১০ শতাংশ, হাজার হাজার মুসলমানও। এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক, আওয়ামী লীগ ও বামপন্থী রাজনৈতিক দলের কর্মী এবং…

Read More

সম্পাদকীয়

শুভেচ্ছা জানবেন। আজ ফাল্গুন মাসের প্রথম দিন। মন রাঙানো দিন। সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে অবিরাম শুনছিলাম কোকিলের ডাক। পলাশ আরকৃষ্ণচূড়ায় আগুন লেগেছিল বনে বনে। বাসন্তি সাজে তরুণি-যুবতী জানিয়ে দিয়েছিল বসন্ত এসেছে, তার আসন পেতেছে।মেলে দিয়েছে সুবাসিত পল্লবিত ডানা। আর আসছে কাল ভালবাসা দিবস। বসন্তকে সখি করে এলো ভালবাসার দিনটি। এই যুগলবন্ধনে আপ্লুত আমরা। এ এক অদ্ভুত মাস। ভাষা আন্দোলনের গৌরবগাথার মাস, একুশের রক্ত ঝরানোর মাস। আমাদের ভালবাসা  আর শ্রদ্ধার মাস। আমাদের অহঙ্কার আর কাঁদনের মাস। এইত কদিন আগেও আমরা কাঁপছিলাম শীতে। সারাদেশে জাঁকিয়ে পড়েছিল শীত । রাজধানীতে…

Read More

সম্পাদকীয়

  ছেলেবেলা থেকেই সাহিত্য আর সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটেছিল আমার জীবনে। একটা অভিজাত রাজনৈতিক পরিবারের উদার আবহে আমার জন্ম । আমরা ছিলাম বর্ধিত পরিবারের বাসিন্দা। পরিবারে সবসময়ই বাবা মা ভাইবোনের বাইরে সমাগম ছিল ভিন্ন চিন্তার, ভিন্ন ধর্মের অসংখ্য মানুষের । আমি শৈশবেই ভাগ করে নিতে আর ভাগ দিতে শিখেছিলাম। আপন পরের ভেদ কখনই বুঝিনি, বুঝিনি ধর্ম আর বর্ণের ভেদও। বুঝতে দেননি আমার বাবা-মা। তারা ছিলেন অসাধারণ মানুষ! আমার বাবা বিনা পয়সায় হাসিমুখে গরিব মানুষের মামলা লড়তেন। আর মাকে দিনভোর প্রচুর রাঁধতে হতো। সেই রান্নার মাঝেই মার ঘর্মাক্ত হাতে ধরা থাকত বই।…

Read More