একজন সমাজ সেবক মোঃ মতিয়ার রহমান মোল্যা

মোঃ মতিয়ার রহমান মোল্যা প্রচার বিমুখ একজন মানুষ।গ্রামের বাড়ি বর্তমান শাহাবাদ ইউনিয়নের চরবিলা।

চার বছর বয়সে পিতাকে হারিয়েছিলেন। উচ্চ পর্যায়ের কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না।কিন্তু জ্ঞানের ভান্ডার ছিলেন।বই পড়া তার নেশা ছিল।রুপগঞ্জ বাজারে ‘ইসলামিয়া লাইব্রেরী’ নামে একটি লাইব্রেরী ছিল। পরে যার নাম হয় ‘ন্যাশনাল লাইব্রেরী।’ওখান থেকে বই সংগ্রহ করে পড়তেন। ১৭ বছর নয়নপুর-দূর্গাপুর ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট(চেয়ারম্যান) ছিলেন।নয়নপুর স্কুল,দূর্গাপুর রাস্তা,এরকম অনেক সামাজিক ও সংস্কারমূলক কর্মকান্ড তিনি করেছেন।

তখন এখনকার মতো ফলক উন্মোচন হতো না।নড়াইলে এক সময় বড় ভাই নামে পরিচিত মোঃ মতিয়ার রহমান সাদাসিধা মানুষ । কিন্তু সৌখিন ছিলেন।বঙ্গবন্ধু যখন আওয়ামীলীগ গঠন করার উদ্দেশ্যে  নড়াইল আসেন তখন মতিয়ার রহমান মোল্যারঐ বাড়িতে ৩/৪ দিন থেকে দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে ছিলেন। বাসাটা ছিল হাকিম মিয়ার বাসার( বাগান মিয়া) পিছনে, রুপগঞ্জ খেয়াঘাটের উপর। শোনা যায় ওই বাসার  দক্ষিণ পাশে  জনৈক কর্মকারের দোকানে  বঙ্গবন্ধুর  বক্তৃতা দেবার কথা হয়।তখন চোং ব্যবহার করা হতো। মতিয়ার রহমান সাহেব মানুষকে একত্র করেছিলেন বঙ্গবন্ধুর বক্তব্য শোনার জন্য।তারপর বঙ্গবন্ধুকে  সাইকেলে করে নয়নপুর স্কুল মাঠে নিয়ে যান ।

এরপর শুরু হল মতিয়ার রহমান সাহেবের জেল জীবন। দুই বার  জেল বন্দী হয়েছেন তিনি ।৭১ সালে নিজের ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান ‘দোকান ফ্যাশন’ গার্মেন্টস লুটপাট হয়েছিল।নিতান্ত দূর্ভোগে কেটেছিল পরিবারসহ তার দিনগুলো।নিজের বাড়ি ছাড়তে হয়েছিল।

ফিরে এসে কি ছিল? বাড়ি ভর্তি গুলির খোসা।মুক্তিযুদ্ধ শেষ,মতিয়ার রহমান মোল্যা ব্ঙ্গবন্ধুর কাছে গিয়েছিলেন। নিরাশ করেননি তিনি। বুকে টেনে নিয়েছিলেন।বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে নড়াইলের জন্য কাজ করেছিলেন।

তিনি রড়াইলের রাজনীতিবিদ এডভোকেট আফসার উদ্দীন আহমেদ,  খন্দকার আব্দুল হাফিজ, লেঃ মতিয়ার রহমান, এখলাসউদ্দিন আহমেদের  খুব কাছের মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।  যারা আজ কেউ বে্ঁচে নেই।

১৯৮৩ সালের ৪ঠা নভেম্বর পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চির বিদায় নিলেন এই কীর্তিমান মানুষটি।

প্রিয় পাঠক, পরিবারের সদস্যগণ আর বাবার জীবদ্দশায় তার কাছ থেকে জানা তথ্য সংগ্রহ ছিলো আমার কাছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই লেখা। ভূলত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।পরোপকারী এই মানুষটির বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি ও গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করছি।

kamrujjaman

কামরুজ্জামান খান তুহিন

Author: কামরুজ্জামান খান (তুহিন)

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts

মতামত দিন Leave a comment