কষ্টার্জিত স্বাধীনতা

পৃথিবীতে দুই শতাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র রয়েছে। আছে স্বাধীনতার জন্য অনেক ত্যাগ তিতিক্ষা, রক্তগাঁথা, ইতিহাস। যুগে যুগে অমর ইতিহাস হয়ে বেঁচে আছে অনেক শৌর্য বীর্য উদরতা নৃশংসতা এই স্বাধীনতার জন্য।

তবে এই ছোট্র শব্দটির জন্য সবথেকে বড় আত্মত্যাগ বড় দুঃখের উপাখ্যান রচিত হয়েছে বাঙালির রক্তে। সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটিশের নীল নকশায় বিভাজিত উপমহাদেশে যে সংঘাতের বীজ বপণ করা হয়েছিল তার সব থেকে বড় মূল্যটা এ জাতির দিতে হয়েছিল।

মোঘল-সুলতান আমল থেকে বাঙালি স্বাধীনচেতা। এই ভুমির নরপতিরা কখনও কারো অধীনতা মেনে নেয়নি । তাই বার বার রক্তে রঞ্জিত হয়েছে এ পূণ্যভুমির পবিত্র মাটি।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোন একটা প্রেক্ষাপটে অর্জিত হয়নি। সেই বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ৫২, ৬২,৬৯, অতঃপর ৭১, সকল আন্দোলনে মুক্তিকামী মানুষের ত্যাগ মিশে আছে যার মূলে ছিলে স্বাধীনতার সুখ স্বপ্ন।

লক্ষ শহীদের মহান আত্মত্যাগ আর অগনিত মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিমযয় অর্জিত এ স্বাধীনতার আজ কতটুকু সুফল আমরা ভোগ করছি? আজও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে আমাদের বির্তক করতে হয়, আজও মুক্তিযুদ্ধকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়, আজও মানুষের মৌলিক অধিকার নিত্য কেড়ে নেওয়া হয়, স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখানো মানুষটিকে নিয়ে টানা হেঁচড়া করা হয়।  যাকে আমরা এখনও রাজনীতির উর্দ্ধে উঠাতে পারিনি!

স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি যখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার অস্তিত্বে অস্বীকারকারী যখন রাষ্ট্রের ভাগ্য নিয়ন্তা হয় তখন শহীদের পবিত্র রক্তকে অসম্মান করা হয়। তাই এ ধরনের হীন প্রচেষ্টা থেকে রাষ্ট্রকে রক্ষা করতে হবে। স্বাধীনতার চেতনা হৃদয়ে ধারন করতে হবে।  শ্রদ্ধাশীল থাকতে হবে দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি, জাতীয় পতাকা, জাতীয় সঙ্গীতের প্রতি।

সত্যিকারের স্বাধীনতার সুফল পেতে হলে আমাদের ব্যক্তি সংকীর্ণতার পাশ কাটিয়ে বৃহৎ স্বার্থে কাজ করতে হবে। মানুষের অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে, অর্থনৈতিক মুক্তি লাভ করতে হবে, অশিক্ষা দুর্নীতি ধর্মান্ধতা থেকে বের হয়ে একটা সমৃদ্ধ জাতি হিসাবে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হবে।

 

Author: শিপন সোহাগ​

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts