গৈরিক যুবরাজ এসেছিলেন, ছিলেন ও থাকবেন।

 

চিরবঞ্চিত, নিপীড়িত, ভাগ্যহত মানুষের কন্ঠস্বর, কায়মনবাক্যে চির সবুজ প্রেমের, বিরহীপ্রেমের যে আকুতি সেই প্রেমের কবি, বিরহের কবি কাজী নজরুলকে আমরা যেভাবে তাঁকে পেয়েছিলাম তা এভাবে………..

‘গৈরিক যুবরাজ এসেছিলেন, ছিলেন ও থাকবেন।’

নজরুল সম্পর্কে লেখা অনেক কঠিন। তিনি কোথায় নেই একথা ভাববার অবকাশ নেই এ কারণে যে তিনি সবখানেই ছিলেন,আছেন, থাকবেন।

এক.

সময় প্রেক্ষিতের ভিন্নতায় নজরুল মানস ও প্রতিভার বিশ্লেষণ বহুমাত্রিকতায় উন্নীত। বাংলা সাহিত্যে নজরুল এর আর্বিভাবে যে উপাদনগুলি সাহিত্যমোদী ও বিদগ্ধজনের মনোলোক ও বহিরাঙ্গনে আলোড়ন তুলেছে ও পরবর্তীকালে সমাজ বিবর্তনের আন্দোলনে প্রগাঢ় প্রভাব ফেলেছে তা বিভিন্নভাবে বিশেষায়িত হয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্তে রূপায়িত ও চর্চায়িত হয়েছে।

 

রাবিন্দ্রীক পরিমন্ডল বিস্তৃত হওয়ার প্রাগ মুহূর্তে নজরুল, সাহিত্যভাবনায় তুমুল বিতর্ক তুলে আলোড়নের সৃষ্টি করেন। রবীন্দ্রমানস প্রভাবিত ছিল “শিল্পের জন্য শিল্প” তত্ত্বে। কল্লোলীয় গর্জনে যে ধ্বনি উঠেছিল বাংলা সাহিত্য সাগরে তা নিতান্তই ছিল “শিল্পের জন্য শিল্প” তত্ত্বের পরিমার্জিত, পরিশিলীত ও উন্নততর রূপ। এ রূপ কাঠামোতে আরো একটি উপাদান যুক্ত হয় জীবনান্দ দাশের কল্পিত ভাব-বিষাদের বিলাসিতা। অচিন্ত্য সেন, বিষ্ণুদের উঁচু মাপের বিচরিত জগতের ক্ল্যাসিক কাব্যভাবনা যা কুলীন পাঠককূলের মনোরঞ্জন ও পাশ্চাত্য সাহিত্যে স্বীকৃতি ব্যতীত সাধারণ্যে প্রবেশধিকার বঞ্চিত। বুদ্ধদেবের ধর্মীয় চিন্তার সাথে অভিজাত বাঙালি বাবুয়ানার জারক মিশ্রিত নন্দনতাত্ত্বিকতায় (ধ্রুপদ সাহিত্য) তা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। এদিকে প্রেমেন্দ্র মিত্র ও তারাশংকর ব্যতিক্রম, এরা নিচু তলার অনেকটা কাছাকাছি।

 

ঠিক এরকম পটভূমিতে নজরুলর আবির্ভাব। এসেই তিনি দৃপ্তকন্ঠে ঘোষণা করলেন,  “শিল্পের জন্য শিল্প” নয়, মানুষের জন্যই শিল্প।” লিখলেন সাম্যের কবিতা, লিখলেন ’মানুষ’। তাঁর পল্টনের স্মৃতি, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের অভিজ্ঞতা, যুদ্ধোত্তর লাঞ্ছিত মানবতার অপমান। দৈশিক পরাধীনতার জগদ্দল পাথর সমান ঘৃণা। সৈনিক হিসাবে বৈশ্বিক বিভায় আলোকিত সৌন্দর্য অন্তর্লোকের উদারতা। এ সব কিছু মিলিয়ে আমরা নজরুলকে দেখি-

বিদ্রোহী কবি হিসাবে, প্রেমের কবি হিসাবে, গানের কবি হিসাবে এবং সর্বোপরি মানবতার কবি হিসাবে।

নজরুলের দ্রোহ, প্রেম ও সংগীত- তাঁর সাহিত্য সাধনার এ তিনটি ধারা বাঙালি পাঠককূলের চিত্ত উজ্জীবিত, চিত্ত মোহিতকরণে যে অবিনাশী ভূমিকা রেখেছে তার তুল্য শুধু নজরুলই। নজরুলের মানবতার দিকটা তাঁর উল্লেখিত দিকগুলির তুলনায় কম আলোচিত। নজরুল ছিলেন সাধারণ নিম্নমধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে। মেধাবী অথচ ছন্নছাড়া ঐশী প্রতিভায় এতখানিই সমৃদ্ধ যে বালক নজরুলের বাঁধাধরা নিয়মের নিগড়ে কখনোই শৃঙ্খলিত করা যায়নি তাঁর দূরন্ত যৌবন। বাউন্ডুলে নজরুলের  জীবনের বাস্তবতায় নানা বৈচিত্রময় কাজ আর এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ব্যাপক ভ্রমণ তাঁকে সাধারণ মানুষের অতি কাছে নিয়ে গেছে। তার প্রসারিত হৃদয়ের উপলব্ধির জগত ঋদ্ধ হয়েছিল সৈনিক জীবনের স্মৃতি। সব মিলিয়ে নজরুলের মানস গঠিত হয়েছিল মানবতার কল্যাণে। তাইতো তিনি খোদার ঘরে তালা দেওয়ার প্রতিবাদে গাঁইতি শাবল চালাবার আহ্বান জানাতে পেরেছিলেন। দেবী কালিকে তিনি দেখেছিলেন শক্তিরূপে। তাই অত্যাচারের বিরুদ্ধে খঢ়গ এনে শ্যামা সংগীত গেয়েছেন। তেমনি মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে শুধু কলমযুদ্ধ করেই ক্ষান্ত হননি। নিজের পারিবারিক ও সামাজিক জীবনাচারে হিন্দু মুসলিমের মিলন সংগীত গেয়েছেন শেষ জীবনের শক্তিটুকু দিয়ে। আবার হামদ নাত ও ইসলামী গজল লিখেও গেয়ে উসর মরুর তূর্যে চিরন্তন ইসলামী মূল্যবোধ সঞ্চারিত করেছেন। শুধু বৃটিশ কুশাসনই নয়, সারা বিশ্বের নির্যাতিত মানুষের মুক্তির জন্য করেছেন বিদ্রোহ। উচ্চারণ করেছেন “বল বীর চির উন্নত মম শির”। আবার প্রেমে আপ্লুত কবি নার্গিস ও ফজিলাতুন্নেছা রূপক মাধ্যমে লিখে গেছেন চির সবুজ প্রেমের গান ও কবিতা। প্রাণের বন্ধু কাজী মোতাহার হোসেনের কাছে লেখা চিঠিতে প্রেমাতুর নজরুলের নিষ্কাম প্রেমে অপার্থিব প্রেমের আকুতি ফুটে উঠেছে যা তিনি নিবেদন করেছেন ফজিলাতুন্নেছাকে। মেঝ বউয়ের চরিত্রের মাধ্যমে প্রেমের জন্য আত্মাহুতির প্রেরণা যুগিয়েছেন। আবার “পদ্ম গোখরায়” আদিভৌতিক আবহ সৃষ্টিতে নিয়তির দ্বারস্থ হয়েছেন। ওমর খৈয়াম ও হাফিজের ঝুবাইয়াত অনুবাদ করে কবি সুফি আধ্যাত্মবাদ এনে বাংলার মারুফুতীয় চিন্তাকে সমৃদ্ধ করেছেন। গণসংগীত লিখে সাম্যবাদকে যেমন কাছে টেনেছেন যার প্রভাবে ঋদ্ধ হয়েছেন মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় সুভাস মুখোপাধ্যায়, সমর সেন প্রমুখ লেখক ও কবি”। “পৃথিবীর যাহা কিছু চিরকল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর”। এ চিরন্তনী বাণী উচ্চারণ করে নজরুল ভূলুন্ঠিত নারীত্বকে স্বমহিমায় শ্রদ্ধার অঙ্গনে অধিষ্ঠিত করেছেন। তেমনি সবকিছুর ঊর্ধ্বে স্থান দিয়েছেন মানবতাকে মানুষ কবিতা লিখে। তাঁর অসাধারণ প্রতিভা অবিনাশী কর্মযজ্ঞ যা বাংলা ভাষাভাষী মানবকুলে সাংস্কৃতিক জীবনকে করেছে আধুনিক সেই শাশ্বত নজরুলকে স্মরণ করছি চিত্তের সবটুকু অর্ঘ্য নিবেদন করে তাঁর পুণ্য স্মৃতির উদ্দেশ্যে। নজরুল আমাদের আত্মপরিচয়ের বাতিঘর। আমাদের ধর্ম কর্ম এবং আমাদের যাপিত জীবনের সবটুকু যেন উৎসর্গ হয় মানব কল্যাণে। আমরা যেন হতে পারি নজরুলের যোগ্য উত্তরসূরি। প্রার্থনা শুধু এটুকুই।

 

দুই.

……শাওন ও রাতে যদি … স্মরণে … আসে মোরে … বাহিরে … নয়নে বারিধারা …।

শুধু কি শাওনে? গানের কবি নজরুল আমাদের মনলোকে চির নবীন চির সবুজের ঝংকার তুলবেন চিরদিন। দিন প্রতিদিনের ঘাত প্রতিঘাতে বিক্ষোভে সংগ্রামে নজরুল তার গান ও কবিতা নিয়ে বাজান বাঁশের বাঁশি। নিদাঘ দুপুরে বৃষ্টিঝরা অলস দিনে আমাদের স্মরণের মন্দিরে নিয়ত ঘন্টা বাজান নজরুল। তাঁর গান তার কবিতা, তাঁর ছোট গল্প ও উপন্যাস নিয়ে এতো বেশি আলোচনা হয়েছে যে, নতুন করে বলার মতো খুব বেশী কিছুই নেই। নজরুল সংখ্যাগুলোতে তথ্যবহুল বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে। গবেষণালদ্ধ এই সব আলোচনাগুলি বাংলা সাহিত্যে নজরুল ভাবনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে নিঃসন্দেহে। তবুও তো কথা থেকে যায়। প্রেমের কবি নজরুল, সাম্যের কবি নজরুল, নির্যাতনের কবি নজরুল, বিদ্রোহী কবি নজরুল সর্বোপরি মানুষের কবি নজরুলের চিরব্যথিত হৃদয়ের এককোণের একটি বেদনাশ্রু নিয়ে আলোচনাও মূল্যবান হীরকের মতোই দ্যুতি ছড়াবে চিরকাল। কালের সীমা ছাড়িয়ে কালোত্তীর্ণ গানে নজরুল মহাকালের মহতের দলে সামিল। “শুকনো পাতার নূপুর পায়ে” কবি ঘুরেছেন অরণ্যানী, পার হয়েছেন মরু সাহারা। পিপাসার্ত হৃদয়ে প্রেমের জয়গান গেয়েছেন। পান করেছেন আকণ্ঠ প্রেমাসুধা। তবু তাঁর পিপাসা নিবৃত্ত হয়নি।

 

নজরুল গীতিতে মৃত্য চিন্তা নেই। যেমনটা আছে রবীন্দ্রনাথে। নজরুল চির যৌবনের কবি, জীবনের কবি। জীবনের গানই গেয়েছেন কবি সারাটা জীবন। তবু বলবো সত্যিই কি নজরুলের মৃত্যু চিন্তা ছিল না? তাঁর অবচেতন মনে কখনোই কি মৃত্যু ভাবনা আসেনি? হয়তো এসেছে। তা না হলে কেন বলবেন  “স্মরণে পড়ে মোরে” “কেনই বা নয়নে বারিধারা” ঝরবে? রবীন্দ্রনাথ জীবনের শেষের দিকে মৃত্যুশয্যায় আচার্য ক্ষিতি মোহন সেনকে, সৈয়দ মুজতবা আলিকে ডেকে এনে মৃত্যু সম্বন্ধে আলোচনা শুনতেন। নজরুলের জীবনে মৃত্যুর ঐ পটভুমি আসেনি। তাঁর জীবন সায়াহ্ন কেটেছে এক অস্বাভাবিক সময়ের মধ্যে অতিইন্দ্রীয়ভাবে। যা গ্রাহ্য সাধ্য নয় এবং আলোচ্যও নয় তবু বলবো স্মৃতিভ্রষ্ট হয়ে দীর্ঘটা সময় মূক জীবন যাপন করলেও ক্ষণিকের জন্যও কি তার অতিজাগতিক জীবনের আদিভৌতিক অবস্থানে “শাওনের বারিধারায়” অশ্রুসজল হয়নি দুটি ডাগর হরিণ চোখ? ১৯১৯ থেকে ১৯৪৩ সন। এ নাতিদীর্ঘ সময়টা পেয়েছেন নজরুল সাহিত্য সৃষ্টিতে। স্বাভাবিকভাবেই এই অল্প সময় কবিকে মৃত্যু চিন্তায় ম্রিয়মান করেনি কখনো। তবু ঘাত প্রতিঘাতময় জীবনের বাঁকে বাঁকে বেদনার কঠিন পাথরে নজরুল হোঁচট খেয়েছেন। নজরুলের হৃদয়ে প্রবাহিত অন্তসলিরা ফল্গুধারা বেদনার পাথরেও ফুল ফুটিয়েছে। তার জ্যেষ্ঠ পুত্র বুলবুলের মৃত্যুতে তিনি লিখেছেন কালোত্তীর্ণ গান  “ঘুমিয়ে গেছে শ্রান্ত হয়ে, আমার গানের বুলবুলি”। আকুল হয়ে তিনি ডেকেছেন ….. “আকাশ ঘিরিয়া শত শত কর খোঁজে তোরে ওরে সুন্দর”। ……. “শূন্য এ বুকে পাখি মোর আয় ফিরে আয়”। এই যে অন্তহীন বেদনা, এর মাঝেও অবচেতনে ঘুরে ফিরে মৃত্যু এসেছে। তবে থিতু হয়ে গভীরভাবে কবিকে মৃত্যু চিন্তা কখনো আক্রান্ত করেনি। করেনি বলে কবিগুরুর শেষকৃত্য শেষে কোলকাতার বিশাল স্মরণ সমাবেশে নজরুল জীবনের গান গেয়েছেন, পাঠ করেছেন জীবনের কবিতা । তবু বলবো পান্ডুর চাঁদ, সন্ধ্যাকাশের বলাকার ডাক প্রভৃতি কবির শূন্য বুকে পাখিরা প্রিয়জনের ফিরে আসার ব্যাকুলতায় হাহাকার করে উঠেছে। কবি আকুল হয়ে গেয়েছেন  “শূন্য এ বুকে পাখি মোর ফিরে আয় ফিরে আয়”।  নজরুলের দীর্ঘ অপ্রাপ্তিতে ভরা অতৃপ্ত আত্মা কখনই শান্তি পাবে না। যদি না তাঁর উত্তরসূরিরা তাঁর অর্থাৎ সমগ্র নজরুলের যথাযথ মূল্যায়নে আন্তরিক না হন। নজরুলকে নিয়ে যখন লিখি তখন মনের মুকুরে ভেসে উঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিস্তৃত সবুজের মাঝখানে নারিকেলবীথি ঘেরা তাঁর শান্ত সমাহিত কবরটি। পাশের ফুটপাথ দিয়ে জীবনযুদ্ধের লড়াকু ছাত্র ছাত্রীরা হেঁটে যায়, রাস্তায় নাগরিক জীবনের ছন্দপতনের সুর বাজিয়ে রিকশার টুং টাং, বাসের ভেঁপু। যাদের কথা সারাজীবন বলেছেন নজরুল সেই ছিন্নমূল মানুষের সারি। ”গাহি সাম্যের গান ” মানুষের মাঝে ভেদাভেদ ভুলিয়ে দিতে নজরুল আমরণ গেয়েছেন সাম্যের গান। মসজিদের  মোল্লা মন্দিরের পুরোহিতকে ধিক্কার দিয়েছেন। গণদেবতাকে স্থান দিয়েছেন সবার ঊর্দ্ধে এবং ত্যক্তবিরক্ত হয়ে বজ্রগর্জনে হুংকার ছেড়েছেন “যারা কেড়ে খায় তেত্রিশ কোটি মুখের গ্রাস/ যেন লেখা হয় আমার রক্ত লেখায় তাঁদের সর্বনাশ”। রণক্লান্ত কবি ঘুমিয়ে রয়েছেন। লোহার রেলিং ধরে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলাম সেদিন। আর হদয়ের গভীরতম স্থান থেকে এক আবেগময় অনুভূতিতে চোখের অশ্রু যখন ফোঁটায় ফোঁটায় ছলছল করছিল, তখন মনের অশান্ত ঢেউকে ছাড়িয়ে শুধু একটি উচ্চারণই বার বার মনকে সান্ত্বনা দিচ্ছিল “মরিতে চাহিনা আমি এই সুন্দর ভুবনে”।

 

কবি নজরুলকে যে বিশেষণেই বিশেষায়িত করা হোক না কেন, যে অভিধায়ই অভিহিত করা হোক না কেন, মূলতঃ তিনি বিরহের কবিও। নান্দনিক উৎকর্ষতাই তাঁর বিরহের গান ফুল হয়ে ফুটে উঠেছে আকাশের তারার মাঝে মর্তের কাব্যের গুলবাগিচায়। কবির এ বিরহের মধ্যে প্রেম বিরহই প্রধান। জীবাত্মার সাথে পরমাত্মার মিলনের বিরহ তাঁর কাব্যে ও গানে রুপ পায়নি। যেমনটি পেয়েছে রবীন্দ্রনাথে। তবুও নজরুলের গানে ও কবিতায় ব্যবহৃত শব্দাবলি উপমা, উৎপেক্ষা, চিত্রকল্প ও ছন্দের গভীরতা বিশ্লেষণ করলে পরমাত্মার সন্ধান মেলে। বাটাভরা পান কন্ঠে সুর ও তান হিজ মাষ্টার্স ভয়েসের খাস কামরা ভক্ত পরিবেষ্টিত নজরুল লিখছেন গান। এই যে স্বাভাবিক চিত্রটি নজরুল জীবনে আমরা দেখি। তার বাইরেও আরও একটি অন্য রকম চিত্র ছিল। সে চিত্রটি বড়ই কর্কশ, বড়ই নিষ্ঠুর, বড়ই মর্মান্তিক সে চিত্র অভাব অনটনের। প্রমীলা নজরুলের বাড়ন্ত হাড়িতে নজরুল তনয়দের ক্ষুধাতুর দৃশ্যতো লুক্কায়িত নয়। অংকিত আছে সাহিত্যে ইতিহাসে সওগাত সম্পাদক প্রয়াত নাসির উদ্দিনের লেখায়। কিন্তু অভাবের কুহেলিকা নজরুলের চলার পথকে বিভ্রান্ত করেনি। আর করেনি বলেই আমরা পেলাম গানের কবি নজরুলকে জীবনের কবি নজরুলকে, মানবতার কবি নজরুলকে। মৃত্যুর গান আর গাইবো না আমরা। আমরা গাইব জীবনের গান। ক্ষুধাতুর মানুষের মুখে অন্ন যোগানোর গান। তাহলেই হয়তো নজরুলের আত্মা শান্তি পাবে। আরোগ্য লাভ করবো আমরা যারা নজরুল ভাবনায় আক্রান্ত।  যে গৈরিক যুবরাজ এসেছিলেন,  ছিলেন, তিনি থাকবেন চির ভাস্বর হয়ে- আমাদের প্রতিটি ভাবনায়, হৃদয় পটে। জয়তু নজরুল।

 

Author: সৈয়দ মাসুদুর রহমান

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts

মতামত দিন Leave a comment