মুজিবের অগ্নিবীণায় আগুনের পরশমনি

২৩ মার্চ ১৯৭১। ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কে নিজ বাসভবনে বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে  কাঙ্ক্ষিত স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। গেটের বাইরে স্লোগানমুখর জনতা।শত শত হর্ষোৎফুল্ল মানুষ !  তরুণ -তরুণী, যুব- বৃদ্ধ সবার সেদিনের প্রিয় স্লোগান- তোমার দেশ , আমার দেশ,  বাংলাদেশ! বাংলাদেশ! দুঃসাহসী নির্ভয়, দুর্বিনীত, দুর্দম। যেমন নেতা তেমনি জনতা!  চির সবুজ পটে পূর্ব বাংলার মানচিত্র খচিত  হাজার বছরের স্বপ্নে লালিত  স্থাপত্য দিয়ে গড়া  স্বাাধীন বাংলার পতাকা তাদের হাতে। অগ্নিবীণায় সুর বাঁধা। আগুনের  পরশমনি! ছন্দপতনের  শঙ্কা নেই। পশ্চিমে  স্মৃতিময়   মুর্শিদাবাদ, উত্তর পশ্চিমে ‍উত্তাল নকশালবাড়ি।উত্তর দক্ষিণে চীন সীমান্ত ঘেঁসে  অরুণাচলের আঁচল জড়ানো সপ্তকন্যা।ছুয়ো না, ছুয়ো না। ওখানে নাইট্রোগ্লিসারিণের জনক বাদাম গাছে ঝুলে রয়েছে বাবুইপাখির নীড়ের মতো  ডিনামাইটের অঙ্কুর্। ভয়ঙ্কর স্পর্শকাতর  ভূরাজনীতি! সেই বিপদসঙ্কুল পথে খাড়া পর্বতের শিখরে চড়ারমতো   সতর্ক যাত্রার  অঙ্গীকার  রয়েছে জাতির জনকের পরিকল্পনায় তৈরী পতাকার   ছকে। পূর্ববাংলার ৫৪ হাজার বর্গমাইল সীমানা আমরাই ঘিরে দেবো দুর্লঙ্ঘ প্রাচীর দিয়ে ! পৃথিবীর আর কোন জাতীয় পতাকায় সে  দেশের মানচিত্র আঁকা  আছে কী?  জনতা খুশি নতুন পতাকায় প্রিয় মাতৃভুমির ঠিকানা  দেখে। ডাকহরকরা  আঁধার রাতেও  অনায়াসে খুঁজে পাবে স্বাধীনতা পিপাসু বাঙালির স্বপ্নপুরির  ঠিকানা।  মাশুল দেবে বাংলার সাড়ে সাতকোটি জনতা  রক্তের দামে ! নিঃশঙ্ক  জাতির পিতা!

১৯৪০ সালের ৪ এপ্রিল  অধমের   তুচ্ছ জন্মের ১১দিন আগে  ২৩ মার্চ  লাহোরে  নিখিল ভারত  মুসলিম লীগের   ঐতিহাসিক  সর্বভারতীয়   সম্মেলনের    প্রকাশ্য   অধিবেশনে  ২০ বছর ১২ দিন বয়সে যোগ দিয়েছিলেন তখনকার সোহরাওয়ার্দী অনুসারী মুসলিম ছাত্রলীগ নেতা  শেখ মুজিবুর রহমান। সেই সম্মেলনে অবিভক্ত বাংলার সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেরে বাংলা  একে ফজলুল হক  অখন্ড বাংলা  ও পাঞ্জাবসহ ভারতের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ  অঞ্চলসমূহ নিয়ে স্বাধীন কনফেডারেশন গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন।‘কায়দে আজম’  মোহাম্মদ আলী জিন্নার  সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেই মহতি সম্মেলনে  সর্বসম্মতিক্রমে  সে প্রস্তাব গৃহীত হয়। ১৯৬১ সালের ২৬ অক্টোবর অপরাহ্নে   সেই  মহান বাঙালির  ৮৮ তম জন্মদিনে দৈনিক  সংবাদের পক্ষ্যে   একান্ত   সাক্ষাতকার নেয়ার  মানসে    হাজির  হয়েছিলাম   তাঁর  কে এম দাশ লেনের    মামুলি   বাসভবনে । রুগ্ন  বঙ্গশার্দুল গর্জে উঠেছিলেন  স্মৃতি রোমন্থন করে ।“আমি মোসাবেদা করেছিলাম। আমি প্রস্তাব পাঠ করেছিলাম।  আমার খসড়া  সংশোধন    করার  যোগ্যতা   ছিল না কারও।  আমি জানি সেখানে বহুবচনে ইংরেজি ‘স্টেটস (STATES)’ লেখা ছিল্।” শেরে বাংলা বললেন,“ লাহোর প্রস্তাবে  ‘পাকিস্তান’ শব্দটা কোথাও  ছিল না।…আমরা আসলে চেয়েছিলাম, বিদ্যমান এগারটি প্রদেশের মধ্যে  যে ৫টি মুসলিম প্রধান প্রদেশ  আছে তাদের মধ্যে তিনটি যদি দাবি করে তাহলে প্রধান  ৫টি   মুসলিম প্রধান   প্রদেশকে  নিখিল ভারতীয় ফেডারেশন থেকে আলাদা হয়ে  স্বতন্ত্র ফেডারেশন গঠন করার অধিকার দিতে হবে”। পশ্চিমাদের বিশ্বাসঘাতকতা  শঠতা  কারচুপি  ও  প্রতারণার  প্রতিবাদেই  আমি দল ত্যাগ করেছিলাম।।”

লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে “ ১.অর্থ, ২.পররাষ্ট্র ও ৩. দেশরক্ষা ব্যতীত সকল বিষয়ে  পূর্ব পাকিস্তানের পূর্ণ  স্বায়ত্বশাসনের দাবি রেখেছিল ১৯৫৪ সালে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা  পাওয়া  ‘ফজলুল হক -ভাসানী-সোহরাওয়ার্দীর  যুক্তফ্রন্ট’।২১-দফা কর্মসূচির প্রধান ফোকাস  ছিল রাষ্ট্র ভাষা বাংলা ও স্বায়ত্বশাসনের দাবি।কিন্তু “সকলি গরল ভেল ! সুখের লাগিয়া যে ঘর বাঁধিনু  অনলে পুড়িয়া গেল”!পাকিস্তানের  কেন্দ্রীয় শাসকগোষ্ঠী লাহোর প্রস্তাবকে ‘অচল দু আনির মত ‘ আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করে সাড়ে সাত কোটি বাঙালির স্বপ্নসাধ আশা আকাঙক্ষাকে পদদলিত করলো।  অন্যায় জুলুম  অত্যাচারের স্টিম রোলার  কায়েম রাখলো ‘৪৭  থেকে ‘৭০ পর্যন্ত দীর্ঘ ২৩ বছর। ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর ইসলামী প্রজাতন্ত্র পাকিস্তানের প্রথম সার্বজনীন নির্বাচনে পূর্ব বাংলার সাড়ে সাতকোটি হিন্দু মুসলিম  বৌদ্ধ খৃষ্টান, আপামর জনগণ নিরঙ্কুশ রায় দিল ‘লাহোর প্রস্তাব ও  যুক্তফ্রন্টের  ২১ দফার  নির্যাস দিয়ে রচিত ৬-দফার  পক্ষ্যে।বাঙলির অবিসম্বাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে  বাঙালি  ঘুরে  দাঁড়ালো ।   বাঙলির ২৩ বছরের অহিংস গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ঋদ্ধ  শান্তির ললিতবাণী  পাকিস্তানী প্রতারণা শঠতা  বিশ্বাস ঘাতকতায় রচিত   পর্বতপ্রমাণ  অঞ্চলিক  বৈষম্যের  পাষাণের  ওপর  আছড়ে পড়লো। প্রধান মন্ত্রী  হোসেন  শহীদ সোহরাওয়ার্দী    কর্তৃক  প্রণীত রাষ্ট্রের  প্রথম শাসনতন্ত্র  গণপরিষদে  পাশ হয়েছিল ১৯৫৬ সালের   ২৩ মার্চ । কায়েম হয়েছিল বিশ্বের  প্রথম  ইসলামী প্রজাতান্ত্র। সামন্তবাদের পাহারাদার মৌলবাদী  শক্তি তবু  হতাশ! শাসনতন্ত্রে শরীয়া শাসনের বিধান নেই।  ইসলামী প্রজাতন্ত্র দিবস  ঘোষিত  হয়েছিল  ২৩ মার্চ।তখন থেকেই ২৩ মার্চ দিনটি   সরকারি  ছুটি পালন  ও সব ভবনশীর্ষে   পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা তোলার মধ্য দিয়ে প্রজাতন্ত্র দিবস হিসাবে পালিত হয়ে আসছিল্ ।         

সহঅবস্থানের নীতিকে শেষ  সুযোগ দিতে ৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৬ লাহোরের সর্বদলীয় গণতান্ত্রিক  সম্মেলনে বাঙালির  নেতা শেখ মুজিবুর রহমান ম্যাগনাকার্টাতূল্য ৬-দফা দলিল  উপস্থাপন করলেন।আরও ৬ বছর পর ২৩ মার্চ ১৯৭১ বঙ্গবন্ধুর হাতে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা  শোভা পেলো। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের  মূল ভবন ও বিভিন্ন হলের ভবন শীর্ষে উড়লো  স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা।সামরিক সরকারের কামান  ৭ মার্চ থেকে বিভিন্ন ভবনের ছাদে উঠে   তাক করে আছে। স্নাইপাররা   হুকুমের অপেক্ষায়  রয়েছে।গানশীপ প্রস্তুত রয়েছে। তারই মাঝে অকুতোভয় শেখ মুজিব সাদা পাঞ্জাবি চেক লুঙ্গি পরে স্বপ্নের বাংলাদেশের পতাকা হাতে নিয়ে হাজারো নির্ভীক মানুষের সালাম গ্রহণ করছেন সেই কাকভোর থেকে।কিছুক্ষণ পরে বঙ্গবন্ধু উঠে অাসলেন গাড়ি বারান্দার  ছাদে সেখানে মাইক বাঁধা শেষ হতেই ধানমন্ডি  আবাসিক এলাকার ৩২  নম্বর সড়ক  দিয়ে প্রবেশ করে পতাকাবাহী স্লোগানমুখর উদভ্রান্ত  জনতার বিরামহীন স্রোত।  বঙ্গবন্ধুকে সালাম জানিয়ে ২৮ নম্বর  দিয়ে নিষ্ক্রান্ত হচ্ছে তারা।

৭ মার্চ থেকেই সারা বিশ্ব বাংলাদেশের গতিপ্রকৃতির দিকে তাকিয়েছিল। শত শত সংবাদকর্মী ছুটে আসলো।বিশ্ববরেণ্য নেতৃবৃন্দ বঙ্গবন্ধুর ভাষণের চুলচেঁরা বিশ্লেষণ করে  তার ভাষণকে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষণ হিসাবে মূল্যায়ন করলেন। রেসকোর্স ময়দানের সেই ঐতিহাসিক ভাষণের পরপরই ঢাকাস্থ মার্কিন কনসাল জেনারেল আর্চার ব্লাড লিখলেন, “রোববার ৭ই মার্চ প্রদত্ত মুজিবের ভাষণে তিনি যা বলেছেন, তার চেয়ে লক্ষণীয় হলো তিনি কি বলেননি। কেউ কেউ আশঙ্কা করছিলেন, আবার কেউ কেউ আশা করেছিলেন যে, তিনি বাংলাদেশকে সরাসরি স্বাধীন ঘোষণা করবেন। এর বদলে বাঙালির মুক্তি ও স্বাধীনতার লক্ষ্যে শান্তিপূর্ণ অসহযোগ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান তিনি জানালেন।” আর্চার ব্লাড ঢাকায় অবস্থান করে পরিস্থিতির গুরুত্ব ও বঙ্গবন্ধুর ভাষণের মর্মার্থ ও তাৎপর্য গভীরভাবে অনুধাবন করতে পেরেছিলেন।পূর্ব পাকিস্তানের গভর্ণর এডমিরাল  আহসান আগের রাতে অনুনয় করে বলেছিলেন, “মুজিব, তুমি আমাকে নির্মম হতে বাধ্য কোরো না”।

১৯ মার্চ জয়দেবপুর সেনা নিবাসে বাঙালি সেনা সদস্যদের বিদ্রোহ, স্বতঃস্ফূর্ত  গণঅভূত্থান  ও সরকারের অনুগত সৈন্যদের গুলিবর্ষণ পরিস্থিতির দ্রুত  অবনতি ঘটালো।এই প্রেক্ষাপটে ২৩ মার্চ  পাকিস্তানের পতাকা  অপসৃত হওয়ায় ইসলামিক প্রজাতন্ত্র  পাকিস্তানের  পতন অবশ্যম্ভাবী হ’ল।সামরিক সরকারের নাভিশ্বাস  শুরু হ’ল।

আগের রাতে বঙ্গবন্ধু শুধু বলেছিলেন, “ভোর ভোর  আমার বাসায় চলে আসিস”। ইস্টার্ণ  নিউজ এজেন্সি (এনা) বঙ্গবন্ধুর প্রযত্নে সোভিয়েত বার্তা সংস্থা ‘তাস’ এর আনুকূল্যে  প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের একমাত্র বার্তা সংস্থা।সরকারি বার্তা সংস্থা এপিপি এবং পশ্চিমাদের মালিকানাধীন  পিপিআই, মর্ণিং নিউজ, মুসলিম লীগের  পাকিস্তান অবজার্ভার, আজাদ  আসবেনা সেটা জানা কথা । কিন্তু ইত্তেফাক ও সংবাদ কেনো এলো না  তা  জানি না। আমি কাকভোর থেকেই তাঁকে ছায়ার মত অনুসরণ করছিলাম। বেলা বাড়তে ধীরে ধীরে জনস্রোত উত্তাল হ’ল। জনতার উদ্দেশে জাতির জনক লাগাতার বক্তব্য দিয়ে গেলেন।কবিগুরুর ভাষায় বললেন,“বাধা দিলে বাধবে লড়াই  মরতে হবে/ পথজুড়ে কী করবি লড়াই সরতে হবে/ লুটকরা ধণ করে জড়ো  কে হতে চাস সবার বড়ো/ এক নিমেষে পথের ধূলায় পড়তে হবে!”

বেশ বড়সড়  বহনযোগ্য  একটা  গ্রুন্ডিগ টেপ রেকর্ডার নিয়ে গাড়ি বারান্দার  ছাদে   পায়ের কাছে মা্ইকস্ট্যান্ডের গোড়ায় বসে তাঁর  ক্লান্তিহীন  অবিরাম  বাণী  টেপে ধারণ করছিলাম । শিশু রাসেল  আমার পাশে বসে মাঝে মাঝে যন্ত্রটা নাড়াচাড়া করে কৌতুহল মিটাচ্ছিল। দোতালার বারান্দায় রেলিং ধরে বেগম মুজিব  সেই অভুতপূর্ব উদ্বেলিত জনস্রোতের গতিধারা  অবলোকন করছিলেন  অন্য সম্তানদের সাথে নিয়ে। একটু অবসর পেলেই  প্রিয় পাইপে এরিণমোর  তামাক ভরে তাতে আগুনের আঁচ দিচ্ছিলেন  জনতার মুজিব। আগে কথনও বঙ্গবন্ধুর কন্ঠে গান শুনিনি । কিন্তু সেদিন বক্তৃতার ফাঁকে ফাঁকে গুনগুন করছিলেন   প্রিয়  গানের  কলি : “আগুনের  পরশমনি  ছোঁযাও প্রাণেে /এ জীবন পূন্য করো দহনদানে ।“

দুপুর ২টা  নাগাদ হঠাৎ দূতাবাসের  পরিচিতি  আঁকা অনেকগুলো সাদা ‍ গাড়ি  গেটের সামনে এসে  থামলো।বঙ্গবন্ধু নিচের তালায় নেমে এসে নিজেই  এগিয়ে যেয়ে আগন্তুকদের সাদর অভ্যর্থনা জানালেন।প্রায় ২০ জন বিদেশী সাংবাদিক ! ইউরোপ  আমেরিকা  অষ্ট্রেলিয়া কানাডার সংবাদপত্র রেডিও টিভি ও বার্তা সংস্থার প্রতিনিধি।তারা বাইরের সবুজ চত্ত্বর  ও খোলা আকাশ পছন্দ করলো  ক্যামেরার কাজের সুবিধার জন্যে।একসাথে ব্রাস ফায়ারের মত প্রশ্নবান সাঁই সাঁই করে ছুটে আসলো। সহাস্য বঙ্গবন্ধু নির্বিকার! ভিন্ন ভিন্ন  আঙ্গিকে  সবার  কথার ভিতর মূল কথা একটাই, “৭ মার্চ  তুমিতো বলেছ স্বাধীনতার জন্য লড়াই করবে ! সেতারাটা  কোন সুরে বাজাবে তুমি? চে গুয়েভারা, লেনিন মাও  ক্যাস্ট্রো,হোচিমিন  ! কে হবে তোমার সারথী !বঙ্গবন্ধু পাইপটা হাতে  নিয়ে স্মিত হাস্যে বললেন, তোমরা  ওস্তাদ তানসেনের  নাম শুনেছ? তাঁর সুরের ঝঙ্কারে  আগুন বৃষ্টি হ’ত শুনেছ কী সে কথা ? আমি বাঙালির ছেলে । বাঙালি সুভাষ বোসের নাম কী শুনেছ? সূর্য সেন, ক্ষুদিরাম,  বীর নারী  প্রীতিলতা ? বাঙালির মনের  মধ্যে তাঁরা ঘুমিয়ে আছেন। আর ঘুমিয়ে আছে বিসুভিয়াস  ফুজিয়ামার মত আগ্নেয়গিরি। আমার কাজ হবে সবার ঘুম ভাঙিয়ে দেয়া।সবাই স্তম্ভিত! যুক্তরাষ্ট্রের সিবিএস  প্রতিনিধি  এবার সরাসরি প্রশ্ন করলেন, তুমি কী স্বাধীনতা চাচ্ছো? আর একজন বললো, তুমি তা হলে বিচ্ছিন্ন হতে চাও !বঙ্গবন্ধু বললেন, আমরা ইনসাফের জন্যে লড়েছি ২৩ বছর  শান্তিপূর্ণ  গণতান্ত্রিক ধরায়। আমাদের ধৈর্যেরও একটা সীমা আছে! আবার ঘুরে ফিরে সেই একই জিজ্ঞাসা ! বঙ্গবন্ধু বললেন,  অফকোর্স ইন্ডিপেন্ডেন্স, ফ্রিডম এন্ড লিবার্টি ! স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় ! জর্জ ওয়াশিংটন কী যুদ্ধ করেননি  আমেরিকার স্বাধীনতার জন্য ব্রিটিশের বিরুদ্ধে ?

ওরা সবাই একটা হেড লাইনে মুজিবকে বাাঁধতে চাচ্ছিল।সেটা সিবিএস টেলিভিশন পেয়েছিল  ২৫ মার্চ  মধ্য যামিনীতে!   ঢাকা থেকে সিআইএর গোপন প্রতিবেদন পৌঁছে গিয়েছিল সেই  রাতেই!   যুক্তরাষ্ট্র সময় ২৬ মার্চ   অপরাহ্ন  ৩টা ৪৫ মিনিটে সিবিএস টেলিভিশন ব্রেকিং নিউজ  সম্প্রচার করলো, “মুজিব বাংলাদেশের স্বাধীনতা  ঘোষণা করেছেন”!  সংবাদের পটভূমিতে ছিল  ২৩  মার্চ  বত্রিশ   নম্বরের  বাসভবনের সবুজ চত্ত্বরে সংবাদ  সম্মেলনের সময়  আমাকেসহ তোলা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভিডিও চিত্রের খন্ডাংশ। 

Author: শামসুল আরেফিন খান

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts

মতামত দিন Leave a comment