রস কষ শিঙ্গা বুলবুলি মস্তক

রস কষ শিঙ্গা বুলবুলি মস্তক

রস কষ শিঙ্গা বুলবুলি মস্তক

খেলা হারিয়ে যায় হারায় মানুষ

বহুদিন এসব খেলা খেলা হয়না

এখন সে খেলা নেই আছে রঙের ফানুস ।

পেছন ফিরে তাকালে দেখা যায় নেই

অনেকেই নেই

বাবা নেই,কাকা নেই বড় নেই ছোটোও নেই

আমরা তবু ভাবি বসে এই নেই সেই নেই ।

রস কষ শিঙ্গা বুলবুলি মস্তক

বহুদিন এসব খেলা হয় না

এসব খেলার চলে গেছে দিন

আসবে না ফিরে যা কালের গর্ভে বিলীন।

সেই যে ছোট্ট বেলায় মঞ্চ নাটকের জন্যে

সাজিয়ে দিয়েছিল মালেকা ফুপু হয়ে অনেক হন্যে।

বানানো কাজল দিয়ে এঁকে দিয়েছিল রাজকীয় গোঁফ

সেও আসবেনা ফিরে কারো জন্যে।

লাউয়ের পাতার উলটো পিঠে করে বরই ভর্তা খেতে হয়

খেয়েছিলাম, জেনেছিলাম এদেরই জন্যে।

যে মেয়েটি ছেলেদের মত তরতর করে গাছে উঠে যেত

বয়সে ছোট সে ফুলমালাও আসবে না হায় ।

দাদা গেছে দাদী গেছে নানা নেই নানিও নেই

পশ্চিম পাড়ার পাঁচকড়ি শেখও নেই।

কেউ ভয় বা তরাশ খেলে শুধু পাঁচকড়ি দাদাকে

বলে আসলেই হত, অমুকে তমুকের ভয় পেয়েছে।

ব্যস, কী যে করত ঐ বুড়ো!

আমাদের বাপ চাচাদের খুড়ো

ভয় যে পেয়েছে তার আর চিন্তা থাকত না।

জ্বর হয়ে  মরতে হত না।

বয়ড়াবাড়ির পর্বত ব্যাপারির বাবা পঁচা ব্যাপারি

কী যে মন্ত্র পড়ে দিত, রাত্রিরে চোর

কলার কাঁদি ধরে দাঁড়িয়ে থাকত

উর্ধ্বহাতে কাস্তেসহ যতক্ষণ হত না ভোর।

এখন সে সব মানুষ নেই।

আমাদের গ্রামের মাতবর ওসমান মুনশি, জুলফিকারের দাদা

গ্রামের পূব পাশে মস্ত ভিটা বাগান ছিল যার

তিনিও নেই। অথচ সারাটি বছর ফজরের আজান

দিয়েও গ্রামের পূব থেকে পশ্চিম

নাম ধরে ডেকে যেতেন সবাইকে নামাজের জন্য।

মানুষ হারায়, আসে না ফিরে, সবকিছু চলে যায়।

রস কষ শিঙ্গা বুলবুলি মস্তক ।

যদি তুমি থাকতে আজ

শরীফ রুহুল আমীন
শরীফ রুহুল আমীন

Author: শরীফ রুহুল আমীন

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts

মতামত দিন Leave a comment