রাষ্ট্র, পরিবার, শিশু ও চাকরিজীবী নারী

একটি রাষ্ট্রে হাজার-লক্ষ-কোটি মানুষের বাস। এই রাষ্ট্রযন্ত্রকে কেন্দ্র করে সমাজ আবর্তিত হয় আর সমাজকে ঘিরে আবর্তিত হয় পরিবার। মানুষ পরিবার কেন্দ্রিক; পরিবারের সদস্যদের ঘিরেই আবর্তিত হয় মানুষের চাওয়া-পাওয়া, সুখ-দুঃখের হিসাব-নিকাশ! স্বামী স্ত্রী এবং সন্তান নিয়ে একটি পরিবার বা সংসার তৈরি হয়। কখনও কখনও কোন কোন পরিবারে  বাবা-মা-দাদা-দাদি বা অন্যান্য সদস্য থাকে। বর্তমানে যৌথ পরিবারের সংখ্যা খুব কম; নেই বললেই চলে। তাছাড়াও সন্তান নেওয়ার বিষয়ে আছে পরিকল্পনা; সেখানে একটি দুটি সন্তানই যথেষ্ট বলে মনে করে যে পরিবার সে পরিবারগুলো স্বাভাবিকভাবেই ছোট থেকে যায়! মনের বিবর্তন অর্থাৎ মানসিক অবস্থার পরিবর্তনের ফলে মানুষের সামাজিক চিন্তাধারা দ্রুত পাল্টে যাওয়ায় পাশ্চাত্য ভাবধারার অনুপ্রবেশ ঘটেছে আমাদের সামাজিক ব্যবস্থাপনার মধ্যে,  ফলে বেড়ে যাচ্ছে অণু- পরিবারের সংখ্যা। অণু-পরিবারের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় আজকাল শিশুরা বেশিরভাগ অণু-পরিবারেই বেড়ে উঠছে; এবং শিশুরা শুধু নিজেকে নিয়ে বেড়ে উঠছে এবং একা থাকার কারণে নিজের মধ্যে নিজের মতো থাকতে পছন্দ করছে। কয়েক যুগ আগে আমাদের বেড়ে ওঠা সময়কে বিশ্লেষণ করে বর্তমান সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলেই দুইয়ের মধ্যে বিস্তর ফারাক দেখতে পাওয়া যাবে! সেই রকম আমাদের বেড়ে ওঠার সময়কাল আর আমাদের মায়েদের বেড়ে ওঠা সময়কালও পৃথক। প্রজন্ম প্রজন্ম ভেদে সমাজ ব্যবস্থা পৃথক থাকলেও শিশুদের বেড়ে ওঠা বিশেষ করে শিশুদের মানসিক বিকাশ সব সময়কালেই একই রকম; শুধু শিশুদের বিকাশ-মাধ্যমের পার্থক্য ছাড়া অন্য কোন পার্থক্য থাকে না। শিশুরা যখন বেড়ে ওঠে তখন তাদের শারীরিক বিকাশ যেমন হয় তেমনি হয় মানসিক বিকাশ; আর বিকাশ-মাধ্যমের পার্থক্যের ফলে শিশুদের আচরণ ও চিন্তাধারার পরিবর্তনও হয়। যুগের প্রয়োজন, পরিবারের নিজস্ব প্রয়োজন, সমাজ-রাষ্ট্রের প্রয়োজন মেনে নিয়েই চলছে এযুগের মানুষ। যুগের প্রয়োজনে হোক বা রাষ্ট্র কিংবা জীবনের প্রয়োজনে হোক এই বদলে যাওয়া সমাজ ব্যবস্থাপনায় দৌড়ে চলেছে মানুষ! জীবনের এই দৌড় প্রতিযোগিতায় একটি পরিবারের বেড়ে উঠেছে যে মানুষটি অর্থাৎ স্বামী ও স্ত্রী দৌড়ে চলেছে কিন্তু তাদের সন্তান যে সদ্য বেড়ে উঠছে সে কী বাবা-মায়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারছে? সে কি পিছিয়ে পড়ছে না? সে কী করছে? সেটি ভাববার বিষয়; এই ভাবনা বাবা-মায়ের মনে উঁকিঝুঁকি দিলেও তাদের করার কিছু নেই!

 

  কারণ মাগ্যিগন্ডার এই বাজারে নারীপুরুষ উভয়কেই কম-বেশি চাকরি করতে হয় বা হচ্ছে! বর্তমান সমাজব্যবস্থায় বেশিরভাগ মানুষ অণুপরিবারে বাস করে এবং “হিজহিজ হুজহুজ”-এ বিশ্বাসী হয়ে উঠছে ক্রমশ। এই বিশ্বাসের ফলেই একটি পরিবারে বাবা-মা আর সন্তান ছাড়া কেউ থাকছে না। বর্তমান সময়ে যৌথ পরিবার ভেঙে যাওয়া এবং নারীর ক্ষমতায়নের ফলে শিশুরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আত্মীয় পরিজন ছাড়া বেড়ে ওঠে এবং যতোটা সময় পরিবার থেকে শিশুর পাওয়া প্রয়োজন কিংবা শিশুকে সময় দেওয়া প্রয়োজন ঠিক ততোটা সময় শিশুকে দেওয়া হয় না বা পরিবারের সদস্যগণ দিতে পারেন না। কারণ অণু পরিবারে বাবা মা দুজনেই চাকরিজীবি; আর অন্য কোন সদস্য না থাকায় সন্তানকে আয়ার কাছে রেখে যাওয়া ছাড়া বাবা-মায়ের কোন গত্যন্তর থাকে না। এই দেশে যারা আয়ার কাজ করে তারা বেশিরভাগ নিরক্ষর বা স্বল্পশিক্ষিত; তাদের কাছে সন্তান থাকে সারাদিন ফলে তাদের মতোই বেড়ে ওঠে। একটি শিশু তার পারিপার্শ্বিক অবস্থা, তার আশেপাশের মানুষের আচরণ দেখে বড় হয় এবং তার শরীর বেড়ে ওঠা অর্থাৎ বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিকাশ ঘটে মনের অর্থাৎ মানসিকতার। মনোবিজ্ঞানীদের তত্ত্ব ও তথ্য থেকে জানতে পারা যায় যে,  শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের মাধ্যমেই আচরণ নিয়ন্ত্রিত হয়। মানসিক স্বাস্থ্য-চিকিৎসকদের মতে “শিশুর জ্ঞানীয় বিকাশ (কগনিটিভ ডেভলপমেন্ট) আর নৈতিকতার বিকাশ (মর‌্যাল ডেভলপমেন্ট) একটি শিশুর আচরণগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে।” এই কথা থেকে বুঝা যায় যে একটি শিশুকে যদি সঠিক জ্ঞান আর নৈতিকতার শিক্ষা না দেওয়া হয় তাহলে তার আচরণ ভালো হবে না। এ ছাড়াও শিশু দেখে শেখে; পরিবারের মধ্যে যদি হিংসাত্মক আচরণ, ঝগড়া বিবাদ চলতে দেখে তাহলে তাদের আচরণ ভালো হয় না। একটি অণু পরিবারে অন্য কোন সদস্য না থাকায় খিটিমিটির প্রথম সময়েই সমঝোতা হয় না বলেই সংসারের খিটিমিটি, দুজনের রাগ-ঝাল বাড়তেই থাকে কারণ মানুষের মনের ধর্মই হলো নিজের মত প্রতিষ্ঠা করা; ইগোর কারণে নতি স্বীকার করে না অনেকে। এতে পরিবারে যে শিশু সদস্য থাকে তাদের মনের ওপর প্রভাব পড়ে! অনেক বাবা-মা মনে করেন যে, তাদের ঝগড়া বিবাদের কথা তাদের সন্তানেরা বুঝতে পারে না, এটি ভুল ধারণা। শিশুরা সব কিছু বোঝে, অনুভব করে। পরিবারে বড়দের হিংসাত্মক কর্মকান্ডে শিশু অন্তর্মুখী এবং ভীত হয় কিংবা হিংস্র হয়ে ওঠে। এছাড়াও শিশুদের মনে হতাশার সৃষ্টি হতে পারে, আর হতাশা থেকেও তারাও মারমুখী হয়ে ওঠে।  কখনও বা তাদের মধ্যে জীবনধারণে অনীহাও দেখা দিতে পারে। একজন নারী বা মা হিসেবে বলতে পারি যে, শিশুদের এই মানসিক আগ্রাসন বাড়তে দিতে না চাইলে প্রথমে পরিবারকেই সচেষ্ট হতে হবে। বাবা-মাসহ পরিবারের অন্যদের নৈতিকতার চর্চা করতে হবে। সেই সঙ্গে শিশুদের ওপর ‘পাওয়ার এক্সারসাইজ’ বন্ধ করতে হবে। তাদের আচরণের ত্রুটি ধরিয়ে দিতে মারধোর করলে চলবে না, তাদের বুঝিয়ে বলতে হবে। এছাড়াও বাবা এবং মা উভয়কেই সচেষ্ট থাকতে হবে যেন তারা সন্তানের সামনে একে ওপরকে দোষারোপ করা থেকে বিরত থাকে। পরিবারের বড়দের অর্থাৎ মা-বাবা-শ্বশুর-শাশুড়িসহ সমাজের বড়দের সম্মান করতে হবে;তবেই শিশু দেখে শিখবে। আরও একটি বিষয় হলো, ছোট পরিবারে ভাই-বোন কম হওয়ায় শিশুরা তাদের মনের কথা শেয়ার করার মতো মানুষ পায় না। তাদের মানসিক বিকাশের জন্য, কথা শোনার জন্য মা-বাবাকে তৈরি থাকতে হবে বা সচেষ্ট থাকতে হবে। অফিসের কাজে তিতিবিরক্ত অনেক বাবা-মা সাংসারিক বিষয়ে তর্ক-বিতর্কে সময় পার করে তাদের সন্তানকে সময় দিতে পারেন না, অনেকে আবার অফিসের কাজ বাসায় করেন । ফলে শিশুকে সময় দিতে পারেন না; এতে সারাদিন পরে অফিস ফেরত বাবা-মায়ের কাছে যেতে না পেরে শিশুটি নিঃসঙ্গবোধ করে এবং অন্তর্মুখী হয়ে পড়ে। এ ছাড়াও অনেক বাবা-মা আছেন যারা শিশুকে মোবাইল দিয়ে বসিয়ে রেখে সাংসারিক কাজকর্ম করেন; মোবাইল দিয়ে বসিয়ে রাখা খারাপ নয়,  তবুও বেশি ব্যবহারের ফলে শিশুরা অসামাজিক হয়ে যেতে পারে, যা পরিবারের কাম্য হতে পারে না কখনও। এখন ডিজিটাল যুগ! এই ডিজিটাল যুগ শিশুদের সামনে যেমন জ্ঞানের দরোজা খুলে দিতে পারে তেমনি খুলে দিতে পারে অপরাধ-জগতের দরোজা। নৈতিকতা বিরোধী নানা ধরণের খেলা বিনোদন-সাইটসহ অন্যান্য অপরাধমূলক সাইটগুলো এই যুগে হাতের মুঠোয় খুব সহজেই পাওয়া যায়। প্রয়োজনে হোক আর অপ্রয়োজনে হোক, একজন চাকরিজীবি বাবা-মাকে তাদের সন্তানদের হাতে শিশু বয়স থেকেই মোবাইল তুলে দিতে হচ্ছে। শুধু মোবাইল নয় একটু বড় হলে তাকে কম্পিউটারও দিতে হচ্ছে । কারণ ক্লাসের অনেক কিছুই কম্পিউটারের সঙ্গে যুক্ত। তাই মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার খারাপ নয় এবং কম্পিউটার ও মোবাইলের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করা না গেলেও এটির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা যায়। শিশুর ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয় দেখার উপযোগী কোন বিষয়টি নয়; কতোটুকু সময় শিশুর জন্য মোবাইলটি প্রয়োজন তা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে পরিবারের অভিভাবককেই। কারণ কোন মা-বাবাই চান না তাদের সন্তান বিপথগামী হোক।

  একটি পরিবারের অংশ নারী; কিন্তু পরিবারে নারীর অবস্থান? পরিবারে নারীর অবস্থান কী এবং কোথায় তা কমবেশি সকল পরিবারের সদস্যই জানেন! প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থা অনুযায়ী নারীর একটি পরিবার নয়, নারীর পরিবার তিনটি; ধাপে ধাপে একজন নারী তিনটি পরিবারে সদস্যপদ লাভ করে বা সদস্য হয়ে যায়; নারী কন্যা হয়ে থাকে পিতার সংসারে, স্ত্রী হয়ে স্বামীর সংসারে, জননী হয়ে সন্তানের সংসারে। সেই পুরাকালের কাহিনীর মতো এখনও সকলেই মনে করে, “সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে” কিন্তু কেউ বলে না, “গুণবান পতি যদি থাকে তার সনে”। বাবার সংসারে মেয়েরা সহায়তা পেলেও স্বামীর সংসার এবং ছেলের সংসারে একজন নারী খুব কমই সহযোগিতা পেয়ে থাকে। একটি পরিবার নারী পুরুষ উভয়ের। কিন্তু  একজন নারীর পথ চলতে পরিবারের সহায়তা প্রয়োজন এ কথা বেশিরভাগ পরিবার মনে করে না। আজকাল নারী তার মেয়েবেলাতেও নিরাপদ নয় বাবার সংসারে, তরুণ বয়সে স্বামীর সংসারে একটৃ -আধটু হলেও নিরাপত্তা ভোগ করে, ভোগ করে স্বাধীনতা কিন্তু মা-বেলাতে সেই স্বাধীনতা আবার হারিয়ে যায়; পথ চলতে হয় একা একা কারণ নারীর একান্ত কাছের ভালোবাসার প্রেমের স্বামীটি (দুই একজন ছাড়া) কখনও তার প্রিয় স্ত্রী বা ছায়াসঙ্গীর নামে কিছুই রেখে যান না বা রেখে যেতে চান না কিংবা পারেন না। তাকে একা ফেলে রেখে পাড়ি জমান অজানার দেশে। তার ওপর নির্ভরশীল সেই একান্ত কাছের মানুষটি তার নির্ভরতার জায়গাটি হারিয়ে একা হয়ে যান। আবার অন্য দিকও আছে; স্বামী তার স্ত্রীকে দিয়ে গেলেও স্ত্রী তার সন্তানের কাছ থেকে সে সম্পত্তি বা অর্থ রক্ষা করতে পারেন না কিংবা রক্ষা করতে চান না। আবেগতাড়িত মা আবেগের বশবর্তী হয়ে অনেক সময় তার সবকিছু সন্তানদের নামে দিয়ে নিঃস্ব ভিখিরি হয়ে যান! যে নারী চাকরি করেন অবসরে যাওয়ার পর তিনি যে অর্থ পান সেটিও কাছে রাখতে পারেন না এই আবেগের কারণে। তার সন্তান ‘তাকে দেখবেই’ এই ধারণার বশবর্তী হয়ে বাবা-মা তাদের তরুণ বয়সে সন্তানের লালন-পালনে সর্বস্ব বিলিয়ে দেন। সন্তান বড় হয়ে বাবা-মায়ের দেখভাল করতে হলে বাবা-মার সন্তানকে কাছে রাখার বা সন্তানের কাছে থাকা প্রয়োজন্। কিন্তু আজকের দিনে তা অনেকক্ষেত্রে সম্ভব হয় না।  কারণ বাবা-মায়ের একটিই মাত্র আশা থাকে তাদের সন্তান সবদিক থেকে সবার সেরা হবে। ছেলে সকল প্রতিযোগীতায় প্রথম হবে এই চিন্তা-চেতনা থেকেই অন্য শিক্ষা দেওয়া থেকে পিছিয়ে থাকে অনেকে; এই ধারণা থেকেই শিশুর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়। তাকে তার মতো করে ভাবার কোন স্পেস দেওয়া হয় না। শিশুদের কথা পরিবারে শোনাই হয় না। শুধু তাদের জানিয়ে দেওয়া হয় লেখাপড়ায় ভালো হতে হবে, রেজাল্ট ভালো করে বিদেশ যেতে হবে কিংবা বিদেশে লেখাপড়া করে উন্নততর জীবন যাপন করতে হবে। ‘শুধু লেখাপড়ায় নয় জীবনের সকল বিষয়ে চৌকস হবে সন্তান’ এই থাকে বাবা-মায়ের চাওয়া; এই চাওয়া থেকেই মূলত নিঃসঙ্গতা এবং দুঃখের উৎপত্তি। কারণ শিশুকে কখনও বলা হয় না ‘তুমি একমাত্র ভরসা’ আর এখন শিশুরা কখনও দাদা-দাদিকে দেখভাল করতে দেখে না তাদেও বাবা-মাকে। একটি পরিবারে তরুণ বাবা-মায়ের কাছে তাদের শিশুসন্তানের ‘উন্নততর জীবন’ ছাড়া আর কিছু চাওয়া থাকে না; আর বেশিরভাগ পরিবারে একটি শিশুকে বড় করা হয় সেভাবেই! একটি অণুপরিবারে শিশুকে সময় দিতে না পারা এবং সংসারে তাদের মনের কথা শেয়ার করার প্রিয়জন না থাকার কারণে শিশুরা ভার্চুয়াল জগতে একাত্ম হয়ে সময় কাটায়। সেখানে অদৃশ্য অদেখাজনের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছে, সেই সঙ্গে তাদের কথা শেয়ার করে বিপদে জড়িয়ে পড়ছে বা বিপথগামী হচ্ছে। ব্যতিক্রম যে নাই তা বলবো না আছে। এই কাজের জন্যও সহায়তা প্রয়োজন বাবা-মা কিংবা পরিবারের অভিভাবকের।

 

  এছাড়াও আছে বর্তমানে অনলাইন ও অফলাইন সবগুলো পত্রপত্রিকার হিংসাত্মক অপরাধমূলক ধারাবাহিক প্রচারণা; প্রতিদিন খুন ধর্ষণ রাহাজানি মারামরি আছে। এতে একটা শিশু তার শৈশব-কৈশোরেই তারুণ্যের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়!  বর্তমান সমাজ ব্যবস্থা শিশুদের শৈশব কেড়ে নিচ্ছে খুব দ্রুত। আগে বই পড়া ছিল, এখনও আছে কিন্তু তা সীমাবদ্ধ হয়েছে বাঁধ দেওয়া নদীর মতো। এখন ছেলেপুলেরা বই পড়া থেকে ডিজিটালে আগ্রহী হয়ে পড়েছে অনেক বেশি। অনেকের মতে ডিজিটালে অনেক বই পড়া যায় কিন্তু সব বই কী পাওয়া যায় বা পড়া যায়! যে সব বই একটি মানুষকে তার মূল্যবোধ শিক্ষা দেয়, চরিত্র গঠনে সহায়তা করে এমন বই কী ডিজিটালে পাওয়া যাবে বা পেলেও একটি উঠতি বয়সের কিশোর-কিশোরী সেই বইটি পড়বে। তাছাড়া নিরক্ষর, অল্পশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত মানুষও তো আছে এই সমাজে যাদের কাছে বই কখনও বিনোদন নয়, (কিছু ব্যতিক্রম যে নেই তা নয়) হতে পারে না। মানুষের মন সবসময় আবৃত বা নিষিদ্ধ বস্তুর প্রতি আগ্রহী। আর কিশোর মন সবসময় কৌতূহলপরায়ল, আবৃতকে অনাবৃত করার প্রবল ইচ্ছাকে দমিয়ে রাখতে অপারগ হয় অনেক সময়। এই জন্য বাবা-মা-গুরুজনকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। আজকের এই ঝমরঝমর ট্রেনের মতো জীবনযাত্রায় সন্তানকে সময় দেওয়ার সময় খুব কম থাকলেও বাবা- মাকে তার সন্তানের জন্য সময় বের করে নিতে হবে। এই সন্তানই তাদের ভবিষ্যৎ এবং রাষ্ট্রেরও। সন্তান আপনার, সন্তান আমার কিন্তু এই ছোট্ট মানুষটি রাষ্ট্রের সম্পদ; রাষ্ট্রের মানবসম্পদ এই শিশু অর্থাৎ আপনার-আমার সন্তান। এ যুগ প্রগতির যুগ, স্বাধীনতার যুগ তাই আমাদের নারী-পুরুষ উভয়কেই স্বাধীনতার অপব্যবহার নয়,  স্বাধীনতার সঠিক ব্যবহার করতে হবে। আগামী প্রজন্মের কথা মনে রাখতে হবে, সেই সঙ্গে মনে রাখতে হবে তাদের সুরক্ষার এবং সুন্দর ভবিষ্যতের। আমাদের বিশ্বাস রাষ্ট্র পরিবার এবং সমাজকে একটি সুন্দর স্বচ্ছ আগামী গঠনের জন্য সহায়তা করবে। এই বিশ্বাসের ভিত্তিতেই নারী ও পুরুষ উভয়ে মিলেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে লালন-পালনের মাধ্যমে একটি সুন্দর স্বচ্ছ আগামী উপহার দিতে পারবে রাষ্ট্রকে।

afroza aditi আফরোজা অদিতি

আফরোজা অদিতি

 

Author: আফরোজা অদিতি

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts

মতামত দিন Leave a comment