শিখণ্ডি সম্প্রদায়ের লাগামহীন আচরনে বিড়ম্বনা

আমি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের একজন সাধারণ নাগরিক। পেশায় একজন সঙ্গীত শিল্পী।  সেজন্য আমাকে প্রায়শঃই বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে যাতায়াত করতে হয়। এছাড়াও আমি একজন সঙ্গীত শিক্ষক হিসেবে উত্তরাস্থ “গীতাঞ্জলি ললিতকলা একাডেমীতে” নিয়োজিত আছি। ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ গীতাঞ্জলির ক্লাশ শেষে আমার মিরপুরস্থ বাসায় ফেরার উদ্দেশ্যে উত্তরা-মীরপুর রুটে চলাচলকারী ‘জাবালে নূর’ বাসের যাত্রী হিসেবে বাসে উঠেছিলাম। একসময় যানজটের কারণে বাসের ভেতর অন্যান্য যাত্রীদের মতো আমিও অপেক্ষমান ছিলাম। একই জায়গায় বাসটি ২০-২৫ মিনিট যানজটে স্থবির থাকার সময় আমাদের বাসটিতে দুইজন হিজড়া ওঠে এবং বাসের পেছন দিক থেকে সামনের দিকে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা দাবি করতে করতে সামনে আসছিল।

আমার কাছে এসে টাকা চাইলে আমি আমার অপারগতার কথা বললে ওরা অত্যন্ত রুঢ় ভাষায় তর্কবিতর্ক শুরু করে। আমি তাদের কথা-বার্তায় হতবাক হয়ে যাই।মুহূর্তেই ওরা অত্যন্ত উত্তেজিত হয়ে বলে, কেন টাকা দিবি না? আমি তাদেরকে ভালোভাবে কথা বলার জন্য বললে ওদের একজন আমার মুখের কাছে হাতের বুড়ো আঙুল এনে বলে “আমরা শেখ হাসিনাকেই ভয় পাইনা, তুই তো সাধারণ পাবলিক”। এই কথা বলে ওরা আবারো আমাকে গালাগাল দিয়ে বলে “খানকি, বেশ্যা, চুদানী” ইত্যাদি অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকে। ওদের এমন ঔদ্ধত্যর্পূণ কথা বার্তায় একজন নারী হিসেবে আমি নিজেকে অত্যন্ত নাজুক ও অসহায় অবস্থার মধ্যে দেখি। বাসে  বসে থাকলেও কোন যাত্রীই ওদের এমন আচরনের বিরোধিতা বা প্রতিবাদ করেনি। বিশেষ করে কোন মেয়েকে ওরা একাকী পেলে নিদারুন ভাবে নাজেহাল করে থাকে।

আমার জিজ্ঞাস্য হচ্ছে, এদের ঔদ্ধত্যের মাত্রা দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে না? আমি সাধারণ জনগণের পক্ষে  আমাদের সরকার প্রধানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, “এদেরকে কি নিয়ন্ত্রণে আনার কোন উপায় নেই?” প্রত্যেকটি এলাকায় ওরা সপ্তাহে একদিন করে প্রতিটি দোকান থেকে ১০ টাকা করে চাঁদা তোলে।  বড় সড়কের দুই পাশে কিংবা মার্কেটে যতোগুলো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে, সবার কাছ থেকেই ওরা সপ্তাহের ১০ টাকা করেই চাঁদা আদায় করে থাকে। ঈদ-পূজা পার্বণে ওরা ১০ টাকার পরিবতে প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ৫০, ১০০, ১৫০, ২০০ টাকা এক রকম জোর করেই আদায় করে নিচ্ছে। ইদানীং ওরা প্রতিটি রুটের বাসে উঠে  টাকা আদায় করে।  ট্রাফিক জ্যামের সময় ছোট ছোট গাড়ির যাত্রীরাও ওদের খপ্পর থেকে নিস্তার পাচ্ছে না। সাধারণ যাত্রী, তাদের পুত্র-কন্যা-স্ত্রী- মা-বোনেরাও এমন নাজেহাল অবস্থার শিকার হচ্ছেন।এমনি ভাবে চাঁদা আদায়ের সাথে সাথে অসভ্যতা করেই চলেছে। দিন দিন ওদের অসভ্যতার মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া এসব হিজড়াদেরকে কি পুনর্বাসনের কোন ব্যবস্থা নেওয়া যায় না? আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কি এদের চাঁদা তোলার নামে জনসাধারণের সঙ্গে চরম অসভ্য আচরণ রোধ করার কোন উদ্যোগ নিতে পারেন না?

 

আমি তাই একজন নারী হিসেবে দেশের সরকার প্রধানের নিকট আবেদন রাখছি, ওদেরকে একটি নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থার মধ্যে এনে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেয়া হোক।এবং চাকুরিজীবি নারী সমাজকে তাদের চলাচলের পথে এদের দ্বারা বেহায়াপনা আর অসভ্যতার শিকার  যাতে না হতে হয়, সেদিকটায় অনুগ্রহ করে দৃষ্টি দিন।

Author: প্রিয়াছন্দা

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts

0 thoughts on “শিখণ্ডি সম্প্রদায়ের লাগামহীন আচরনে বিড়ম্বনা

  1. Seema khan

    Bisoyeta niye jothajotho kortipokkher vaba uchit, jeno amra kormojibi mohila ra jara achi emon ki sommanito baktiborgo jara bus e jatayat koren sobai nijj nijj sommen er sathe jstayat korte pari

  2. Md Nazrul Islam

    বিষয়টি কষ্টদায়ক। আপনারর সহযাত্রীদের নীররবতার কারণ হলো বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়ানো।

মতামত দিন Leave a comment