মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক প্রফেসর নুর মোহাম্মদ মিয়া

Professor Nur Mohammad Mia

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, নড়াইল জেলার মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক,সমাজ সেবক এবং নুর মোহাম্মদ শিক্ষা ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা নুর মোহাম্মদ মিয়া ১৯২৬ লোহাগড়া উপজেলার মহিশাহ্পাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।তাঁর পিতা মরহুম শেখ আব্দুল হাকিম মিয়া,  মাতা মরহুমা সাহেরা বেগম।তিনি ১৯৪০ সালে ইতনা মাধ্যমিক বিদ্যালয় হতে কৃতিত্বের সাথে ম্যাট্রিক পাশ করেন।কলকাতার কৃষ্ণনগর কলেজ থেকে আই পাশ করেন।তিনি কিছুদিন কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে পড়াশুনা করেছিলেনএসময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে এলাহাবাদ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে বি অনার্স পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এম করেন।১৯৫০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন।

তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের নড়াইল জেলার অন্যতম সংগঠক।নুর মোহাম্মদ মিয়া অসহযোগ আন্দোলনের সময়ই গ্রামের বাড়ি এসেছিলেন। ১৯৭১ এর ২৫ মার্চ বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা এবং তাঁর গ্রেফতারের পরদিন ২৬ মার্চ সকাল ১০/১১ টার সময় নুর মোহাম্মদ মিয়া কতিপয় সঙ্গীসহ নড়াইলে আসেন।তিনি প্রতিরোধ সংগ্রামের জন্য অস্ত্র শস্ত্রের প্রয়োজনের কথা বলেন। জাতীয় পরিষদের সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সাথে আলাপ করে নড়াইল সরকারি অস্ত্রাগার থেকে রাইফেল গোলাবারুদ সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত নেন।মূলত তাঁর পরামর্শ নেতৃত্বে নড়াইল ট্রেজারি ভেঙ্গে অস্ত্র লুঠ করে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।তিনি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন।তিনি একজন সমাজসেবী শিক্ষা দরদী।১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত লোহাগড়া আদর্শ মহাবিদ্যালয়ের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তিনি।অর্থ অনুদান ছাড়াও নিজ বাড়ির দোতলা টিনের ঘরটি তিনি কলেজকে দান করেছিলেন।আজীবন শিক্ষানুরাগী এই মানুষটি গরীব মেধাবী ছাত্র ছাত্রীদের শিক্ষা সহযোগিতা প্রদানের লক্ষ্যে নিজ নামে প্রতিষ্ঠা করেছেন নুর মোহাম্মদ শিক্ষা ট্রাস্ট।’ কোটি টাকার উপরে এর বর্তমান মূলধন।তাছাড়া বিভিন্ন সময় তিনি কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ লোহাগড়ার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিপুল অংকের অর্থ অনুদান দিয়েছেন।তাঁর কিছু চাওয়ার ছিলো নাতিনি শুধু চেয়েছিলেন মৃত্যুর পর যেনো প্রিয় লোহাগড়া আদর্শ কলেজের মাটিতে তাঁর শেষ শয্যাটুকু হয়।

স্বাধীনতা লাভের পর ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগ খোলা হয়।তিনি এ বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান।তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডি এবং স্যার সলিমুল্লাহ ছাত্রাবাসের প্রভোষ্ট ছিলেন।দীর্ঘ ৪০ বছর শিক্ষকতা করার পর ১৯৯০ সালে অবসর গ্রহণ করেন।ব্যক্তি জীবনে তিনি তিন পুত্র দুই কন্যার জনক।কন্যারা ঢাকায় বসবাস করেন।বড় পুত্র ডাঃজি,জি নেওয়াজ যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত।মেজো পুত্র ডঃ শাহ গোলাম নেওয়াজ চি সায়েন্টিফিক অফিসার (ফুয়েল) হিসেবে মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র,নাসা, আমেরিকায় কর্মরত।ছোট পুত্র ডাঃ শাহ্ মাহবুবুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রে কার্ডিওলজিস্ট হিসেবে চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত।ছাত্রজীবনে কলকাতায় থাকাকালীন মরহুম হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দি, শেরে বাংলা কে ফজলুল হক নেতাজি সুবাস চন্দ্র বসুর সংস্পর্শে আসেন।রাজনীতি সচেতন, বিদ্যানুরাগী মহান মানুষটি স্ত্রীর মৃত্যুর পর কিছুটা নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন।বার্ধক্য জনিত রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে ২০১১ সালের ১৮ ডিসেম্বর প্রফেসর নুর মোহাম্মদ মিয়া ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর শেষ ইচ্ছানুযায়ী লোহাগড়া আদর্শ কলেজের মাটিতেই চির নিদ্রায় শায়িত রয়েছেন লোহাগড়া তথা নড়াইল জেলার কীর্তিমান এই মানুষটি

kamrujjaman
কামরুজ্জামান খান(তুহিন)

Author: কামরুজ্জামান খান (তুহিন)

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts

মতামত দিন Leave a comment