শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহিল বাকী বীর প্রতীক

শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহিল বাকী

একাত্তরের এপ্রিল। গ্রীষ্মকাল। কিন্তু ঢাকায় তখন অদ্ভুত শীতলতা। মাঝে মাঝে ভেসে আসে বন্দুকের গুলির আওয়াজ। কখনো পাকিস্তানি সৈন্যদের বুটের শব্দে ছড়িয়ে যায় ভয়, কখনো খবর আসে ‘মুক্তি’ সন্দেহে তরুণ যুবাদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ সবে শুরু হয়েছে। খিলগাঁওবাসী মো. আবদুল বারীও পরিবারের সবাইকে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন গ্রামে, বিক্রমপুরে। স্ত্রী, চার কন্যা, তিন পুত্রের সংসার তাঁর। ব্রিটিশ কোম্পানি রেলি ব্রাদার্সে কর্মরত আবদুল বারীর দিনগুলো কাটছিল ভালোই। এর মধ্যে শুরু হয়ে গেল যুদ্ধ। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মেজ ছেলে আবদুল্লাহিল বাকী চলে গেলেন যুদ্ধে। মা আমেনা বারীকে একটি চিঠি লিখে গেলেন, ‘দেশের…

Read More

বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ লুৎফুন নাহার হেলেনা

বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ লুৎফুন নাহার হেলেনা

স্বাধীনতার জন্য কত মানুষকে যে জীবন দিতে হয়েছে, কত পরিবারকে যে কত ভাবে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে, যার রেশ এখনো সে সব পরিবারে চলছে, তার কতুটুকুই বা আমরা জানি!  একাত্তরের পবিত্র শবে বরাতের রাতে পাকিস্তানি সেনাদের নির্যাতনের বীভৎসতায় নিহত মাগুরার বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ লুৎফুন নাহার হেলেনা তেমনি একজন।। একাত্তরের ৫ অক্টোবর রাজাকাররা হেলেনাকে মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার এক গ্রাম থেকে শিশুপুত্রসহ আটক করে মাগুরা শহরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করে।পাকিস্তানি সেনারা তাঁকে হত্যার পর তাঁর মৃতদেহ জিপের পেছনে বেঁধে টেনে নিয়ে শহরের অদূরে নবগঙ্গা নদীর ডাইভারশন ক্যানেলে তাঁর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ…

Read More

এডভোকেট মশিউর রহমান

এডভোকেট মশিউর রহমান

বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সহচর এডভোকেট মশিউর রহমান ছিলেন স্বাধীনতা পূর্বকালীন সময়ে বৃহত্তর যশোর-খুলনা অঞ্চলে বাঙালি জাতীয়তাবাদী আন্দোলন তথা স্বাধিকার ও স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রাণপুরুষ।। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অন্যতম কৌসুলি এডভোকেট মশিউর রহমান বৃহত্তর যশোর-খুলনা অঞ্চলে ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে বঙ্গবন্ধু ঘোষিত অসহযোগ আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। তিনি ১৯৪৮ সালে যশোর জেলা বোর্ডের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং মুসলিম লীগের রাষ্ট্রভাষা সম্পর্কিত নীতির প্রতিবাদে ১৯৪৮ সালেই জেলা বোর্ডের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তিনি ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত বৃহত্তর যশোর-খুলনা অঞ্চলে ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন এবং গ্রেপ্তার হন।…

Read More

সর্বকনিষ্ঠ শহীদ বুদ্ধিজীবী শেখ আব্দুস সালাম

সর্বকনিষ্ঠ শহীদ বুদ্ধিজীবী শেখ আব্দুস সালাম

স্বাধীনতার আগে কালিয়া মহাবিদ্যালয় ( পরে শহীদ শেখ আব্দুস সালাম ডিগ্রী কলেজ) এর অধ্যক্ষ শেখ আব্দুস সালাম ১৯৪০ সালে যশোর জেলার কালিয়া থানার (বর্তমান নড়াইল জেলার অধীন) বিলব্যাওচ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। অতুলনীয় মানবদরদী শহীদ শেখ আব্দুস সালাম স্কুল জীবন থেকেই রাজনীতি তে জড়িয়ে পড়েন। সে সময় স্কুলের টেবিলের উপর তাঁকে উঠিয়ে দেওয়া হত বক্তৃতা দেবার জন্য। অসাধারণ বক্তৃতা দিতে পারতেন তিনি। প্রতিবাদী ছিলেন এই বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ; অন্যায়ের প্রতিবাদ করতেন বলে কয়েকবার জেলও খাটতে হয়েছে তাঁকে। ১৯৬০ সালে বি. এ. পাশ করার পর তাঁকে কিছু দিন পড়াশোনা স্থগিত রাখতে হয়।…

Read More

অধ্যাপক মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী

অধ্যাপক মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী

ষাটের দশকে পাকিস্তান সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ধর্মীয় গোঁড়ামি ও সাম্প্রদায়িকতা যখন মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে তখন অধ্যাপক মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী বলেছিলেন, ‘আজকালকার সংঘাত ধনী আর নির্ধনে, দ্বীনদার আর বেদ্বীনে নয়’।। ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর সকালে ভারতীয় বিমান বাহিনীর মিগগুলো খুব নিচ দিয়ে উড়ে গিয়ে বিনা বাধায় বোমা ফেলছিল ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট ও গভর্নর হাউসে। ছোট ভাই লুত্ফুল হায়দার চৌধুরীর শান্তিবাগের বাসার বারান্দায় দাঁড়িয়ে অধ্যাপক মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী তাঁর শিশু সন্তানকে দেখাচ্ছেন সেই দৃশ্য আর বলছেন, ‘দেখো দেখো, স্বাধীনতার আর বেশি দেরি নেই। দেখছ না, প্লেনগুলো কেমন নিচ দিয়ে উড়ে গিয়ে বোমা ফেলছে।…

Read More

শহীদ বুদ্ধিজীবী কবি-লেখক-সাংবাদিক শহীদ সাবের

শহীদ বুদ্ধিজীবী কবি-লেখক-সাংবাদিক শহীদ সাবের

দৈনিক সংবাদের সাংবাদিক ছিলেন শহীদ সাবের। পাকিস্তানিরা ১৯৭১ সালের ৩১ মার্চ ঢাকার ২৬৩, বংশাল রোডে দৈনিক সংবাদের কার্যালয়ে আগুন লাগিয়ে দেয়। এই আগুন পুড়িয়ে দিল দৈনিক সংবাদের সহকারি সম্পাদক শহীদ সাবেরকে। শহীদ সাবেরের পৈত্রিক নিবাস চট্টগ্রাম। পুরো নাম এ. কে. এম. শহীদুল্লাহ। শ্রদ্ধার সাথে তাঁকে স্মরণ করি। ( সংহৃহীত)

Read More

শহীদ শহীদুল্লা কায়সার

শহীদ শহীদুল্লা কায়সার

শহীদুল্লা কায়সার ১৯২৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফেনী জেলার মাজুপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পুরো নাম আবু নঈম মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ। তাঁর বাবার নাম মাওলানা মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ্ এবং মায়ের নাম সৈয়দা সুফিয়া খাতুন ৷ ‘সরকারি মডেল স্কুলে’ এবং পরে ‘মাদরাসা-ই-আলিয়া’র অ্যাংলো পার্সিয়ান বিভাগে ভর্তি হন তিনি। ১৯৪২ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তারপর উচ্চতর শিক্ষার জন্য তিনি ভর্তি হন ‘প্রেসিডেন্সি কলেজে’৷ ১৯৪৬ সালে তিনি এখান থেকে অর্থনীতিতে অনার্সসহ বিএ পাস করেন এবং অর্থনীতিতে এমএ পড়ার জন্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন ৷ একই সাথে তিনি ‘রিপন কলেজে’ (বর্তমানে সুরেন্দ্রনাথ আইন কলেজ) আইন…

Read More