ওগো, বেশি লেগেছে তোমার?

এক অফিসের বস কেবল বিবাহিত লোকদেরই নিয়োগ দেন। একদিন তাঁর বউ তাঁকে জিজ্ঞেস করল, ‘তুমি কেবল বিবাহিতদেরই নিয়োগ দাও কেন?’ স্বামী বললেন, ‘কারণ তারা সহজে বাসায় যেতে চায় না, ধমক সহ্য করে আর মুখ বন্ধ রাখতে জানে।’ শপিক আর কেয়া দুজনের ছোট্ট সংসার। এর মাঝে একদিন উটকো এক অতিথির আগমন। দিন গড়িয়ে সপ্তাহ পেরোয়, অতিথির আর যাওয়ার নামগন্ধ নেই। বিরক্ত হয়ে একদিন লোকটাকে তাড়ানোর ফন্দি আঁটল দুজন। পরদিন সকাল না হতেই তুমুল ঝগড়া শুরু করল শফিক-কেয়া। ঝগড়া একসময় হাতাহাতির পর্যায়ে চলে গেল। অবস্থা বেগতিক দেখে চুপচাপ বাক্স-পেটরা নিয়ে বেরিয়ে পড়ল…

Read More

১৯৭১ ফিরে দেখা ২০১৭

১৯৭১/ মার্চ ০১ আজ  এই দিনের দুপুর ১টা । কুষ্টিয়া জেলা স্কুল । টিফিনের ঘণ্টা বেজে গেছে । ক্লাশরুম থেকে দৌড়ে ছুটে এলাম স্কুল গেটে । একমাত্র চটপটি বিক্রেতা আলী তার ছোট্ট রেডিওটা ততোক্ষণে অন করে দিয়েছে, কানের কাছে নিয়ে শুনছে পাকিস্থান জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ইয়াহিয়া খানের ভাষণ । আমি ও আরো কয়েকজন ছাত্র এই রেডিওতে হুমড়ি খেয়ে ভাষণটি শোনার চেষ্টা করছি । উর্দু বুঝি না, তবুও যেন বুঝতে পারছিলাম । প্রতিদিনের রসনা বিলাস ‘আলীর চটপটি‘ কেনা ও বেচায় কারো কোন আগ্রহ নেই ! গত ডিসেম্বরে অর্জিত বাঙালি জাতির নিরঙ্কুশ…

Read More

ভ্যানিলা ত্রিম রাইস পুডিং

উপকরণ সাদা ভাত–৩ কাপ, দুধ–২ কাপ, চিনি– ১ কাপ (স্বাদমতো) লবণ– আধা চা চামচ (স্বাদমতো), ডিম–১টা, কিসমিস–২/৩ কাপ মাখন–১ টেবিল চামচ, ভ্যানিলা এসেন্স–১/২ চা চামচ প্রস্তুত প্রণালী : একটি সসপ্যানে দেড় কাপ পানি গরম করে ভাত আরও একবার ফুটিয়ে নিন। ফুটে গেলে আঁচ কমিয়ে ঢাকা দিয়ে ২০ মিনিট দমে রেখে দিন। এবারে অন্য একটা সসপ্যানে ভাতগুলো নিয়ে দেড় কাপ দুধ, লবণ ও চিনি একসঙ্গে দিয়ে ক্রিমি হয়ে আসা পর্যন্ত ১৫ থেকে ২০ মিনিট ফোটান। ক্রিমি হয়ে এলে এর মধ্যে বাকি আধা কাপ দুধ, কুসুমসহ ফেটিয়ে নেয়া ডিম ও কিসমিস দিয়ে…

Read More

বিদেশীদের চোখে বাংলাদেশের গণহত্যা

(পূর্ব প্রকাশিতর পর) রেভারেন্ড জন হেসটিংসে ও রেভারেন্ড জন ক্ল্যাপহাম এর বিবরণ: কলকাতার সদর স্ট্রিটের মেথডিস্ট চার্চের রেভারেন্ড জন হেসটিংসে ও রেভারেন্ড জন ক্ল্যাপহাম এপ্রিল মাস থেকেই সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে আশ্রয়প্রার্থীদের শিবিরে ত্রাণ কাজে আত্মনিয়োগ করেন। এ সময় তাঁরা যা দেখেন, শোনেন, তার বর্ণনা দিয়ে লন্ডনের দ্য গার্ডিয়ানে চিঠি পাঠান। দ্য গার্ডিয়ানে ওই চিঠি “ইস্টবেঙ্গল ট্রাজেডি” শিরোনামে ১৯৭১ সালের ২৭ মে ছাপা হয়। সেই মর্মন্তুদ বিববরণ: আমরা খবরের কাগজের সংবাদদাতা নই। সেরা সংবাদের সন্ধানে ঘুরে বেড়ানোর সময়ও আমাদের নেই। আমরা দুজনে পশ্চিম বাংলায় আছি ২০ বছর। ত্রাণ কাজ পরিচালনার সময়…

Read More

বঙ্গবন্ধুর ছেলেবেলা

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবন ছিল সংগ্রাম আন্দোলনে দীপ্ত। রাজবন্দী, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা এবং ফাঁসির আসামী, বাংদেশের স্বাধীনতার স্থপতি, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিভিন্ন অভিজ্ঞতায় আকর্ষণীয়। জনগণের নেতা হয়ে ক্রমশ তিনি বাংলাদেশের স্থপতি,বাঙালি জাতির জনক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন।  ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ, টুঙ্গীপাড়া নামক এক অঁজপাড়াগায় তার জন্ম। গ্রামের ধূলিকণা- কাদামাটি, সবুজ- শ্যামল প্রকৃতির ছায়ায়, মধুমতি নদীর বাতাস বুকে নিয়ে তিনি বড় হয়ে ওঠেন। তার এ বড় হয়ে ওঠার সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা মোটেও ভাল ছিল না। পাকিস্তানী সামরিক শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের দু:সাহসী মরণজয়ী আন্দোলনের…

Read More

মেয়েদের হ্যা না

অধিকাংশ পুরুষের অভিযোগ, তারা  মেয়েদের মন বোঝে না। মেয়েদের নাকি বোঝাই যায় না।  এমন অপবাদও জোটে মেয়েদের। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কথা কিছুটা হলেও সত্য। মেয়েরা আসলে একটু বেশিই আবেগপ্রবণ। তাই তাদের কথায়বার্তায় একটা চাপা অনুভূতি লুকিয়ে থাকে। ‘হ্যাঁ’কে না বলে, ‘না’কে বলে ‘হ্যাঁ’। ফলে কোন কথাটার কী মানে, সেটা বোঝা সত্যিই কঠিন। সেই সব কথার আসল অর্থ জানতে উঁকি দিন নারীমনে। জেনে নিন মেয়েদের কোন কথার কী মানে। ১. ‘ওয়াও’ : মেয়েদের সব ‘ওয়াও কিন্তু ‘ওয়াও’ হয় না। অনেক সময় তিরস্কার জানাতেও তারা ‘ওয়াও’ বলেন। এ ক্ষেত্রে ‘ওয়াও’ বলার ধরনটা…

Read More

এক নজরে বঙ্গবন্ধু

শেখ মুজিবুর রহমান (১৭ মার্চ ১৯২০-১৫ আগস্ট ১৯৭৫) বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও ভারত উপমহাদেশের একজন অন্যতম প্রভাবশালি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। যিনি বাঙালির অধিকার রক্ষায় ব্রিটিশ ভারত থেকে ভারত বিভাজন আন্দোলন এবং পরবর্তীতে পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নেতৃত্ব দান করেন। প্রাচীন বাঙালি সভ্যতার আধুনিক স্থপতি হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানকে বাংলাদেশের জাতির জনক বলা হয়ে থাকে। তিনি মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সভাপতি, বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি এবং পরবর্তীতে এদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। জনসাধারণের কাছে তিনি শেখ মুজিব এবং শেখ সাহেব হিসেবে বেশি পরিচিত এবং তার উপাধি বঙ্গবন্ধু।…

Read More

সেই মহামানবের মহাউত্থান

টুঙ্গীপাড়া, গোপালগঞ্জ , ফরিদপুর । ১৭ মার্চ ১৯২০! মহামানবের শুভ আগমন! এই বাংলার ধানসিড়ির তীরে এক পর্ণ কুটিরে! উজ্জ্বল মহাকাশে জ্বল জ্বল লক্ষকোটি নক্ষত্রের সাথে সে রাতে ষোড়শী পূর্ণিমার চাঁদও কী বিনিদ্র রজনী জেগেছিল ? “….. আজি এ প্রভাতে রবির কর , কেমনে পশিল প্রাণের পর, কেমনে পশিল গুহার আঁধারে প্রভাত পাখির গান, না জানি কেনরে এতদিন পরে জাগিয়া উঠিল প্রাণ, জাগিয়া উঠিছে প্রাণ… ওরে উথলি উঠিছে বারি , প্রাণের অাবেগ প্রাণের বাসনা রুধিয়া রাখিতে নারি..!”রবির কীরণে তপ্ত হয়ে এমনি করেই কী জেগে উঠেছিলেন গোপালগঞ্জ জজকোর্টের শেরেস্তাদার শেখ লুৎফর রহমান ? ….“আমি ঢালিব করুনাধারা , আমি ভাঙিব পাষাণ কারা , আমি জগৎ প্লাবিয়া বেড়াবো গাহিয়া আকুল পাগল পারা…,এমন করেই কী উদ্বেলিত হয়েছিল পিতৃহৃদয় ? হেসে খলখল গেয়ে কলকল তালে তালে দিব তালি…কেমন হয়েছিল তাঁর আনন্দ উল্লাস ? কেউ এখন আর বেঁচে নেই যার কাছে শুনতে পারি, মাঝিরা কী গান গেয়েছিল, রাখাল বালক বাঁশির সুরে সুরে কেমনে নেচেছিল দুপুরেোদে ঢেলা ভরা মাঠে সেদিন ! পাখিরা কেমন করে কূজনে মেতেছিল !‘কেতকী কী কথা কয়েছিল কাননে কামিনীর কানে কানে’ !কুলকুল গানে তর তর করে বাংলার নদী কেমনে মিলেছিল সাগর সঙ্গমে ! কেউ কী জানতো শেখের ঘরে বাতায়নপরে সেদিন যে অরুণরবি নেমে এসেছিল সেই জাগিয়ে তুলবে বাঙালিকে হাজার বছরের ‘পান্তা ঘুম’ থেকে ? শেথের বেটার সেই ‘বড় খোকা’ নভো থেকে রবিটাকে উপড়ে এনে বসিয়ে দেবে বাঙলার চির সবুজ পটে ধান সিঁড়ির তীরে ! কেউ কী ভেবেছিল ? ঝিঙ্গে বেগুন পুঁই ডাটা ইলিশ পুটি খাওয়া সেই বাঙালি, সেই বাঙ্গাল, ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে ফুটো চালে আকাশ দেখা সেই কাঙাল সভ্যতার আকাশ ছুঁয়ে তরতাজা হয়ে কোটি কন্ঠে শত কোটি বছর গাইবে অমর কবির গান , “আমারসোনার বাংলা আমি তোমায় ভালেবাসি” ! কেউ কী ভেবেছিল ? বাঙালি  লড়বে , মরবে মারবে, লক্ষপ্রাণ লুটিয়ে পড়ে মায়ের মাথায় মুকুট দিতে বিজয় কেড়ে আনবে ! কেউ কী ভেবেছিল? দোয়েল নাচবে ফিঙে নাচবে, শাপলা ফুটবে, কাঠাল পাকবে !বাঘের গর্জনে পৃথিবী কাঁপবে! বাঙালি হাসবে চাঁদের হাসি ! আলোয় আলোয় ভরিয়ে দেবে বাংলার ভুবন পূর্ণশশী ! বাঙালি কাঁদবে না অার পেটের জ্বালায় ! শিশুরা নেচে গেয়ে লাফিয়ে ঝাপিয়ে সদা হেসে হবে কুটি কুটি! নগ্নশিশু ক্ষুধায় ক্লান্ত, চোখ ছল ছল, বলবে না কভু কেঁদে কেটে, ওরে তোরা ‘দ্যাখ্ এসে, “পূর্ণিমার চাঁদটা যেন ঝলসানো রুটি“!‘শুক্লপক্ষ হতে আনি রজনীগন্ধার বৃন্তখানি’ ‘কৃষ্ণপক্ষের অর্ঘথালা রাতে ‘ কে সাজিয়েছিল প্রভাত রবির চরণে ঢালা নৈবেদ্য থালা খানি ? কে পরিয়েছিল লাঞ্ছিত মায়ের গলায় বিজয় মালা ? কে মুছিয়েছিল ধর্ষিত বোনের অশ্রুধারা! না খাওয়া শিশুর পেটের জ্বালা? কে সে ? কোন সে মহামানব ? সবাই জানে । শিশুও জানে । মাঝিও জানে ।কৃষক জানে , শ্রমিক জানে ।গুরু জানে শিষ্য জানে বিজ্ঞানী জানে।কবি জানে, লেখক জানে সাংবাদিক জানে ।ডাক্তার জানে জজ ব্যারিস্টার উকিল জানে। আমলা জানে কামলা জানে। ফকির জানে বেশ্যা জানে , মাতাল জানে । চোর বাটপার, ধর্ষক খুনি ভুমি দস্যূ, ঘুষখোর সুদখোর কালো বাজারি ? তারাও জানে! নারী পুরুষ বৃদ্ধ যুবক সবাই জানে। কী জানে ? একথা জানে তারা ! টুঙ্গি পাড়ার শেখের ঘরে সেই খোকাটা জন্ম না নিলে এই বাংলাদেশ একাত্তরে স্বাধীন হ’ত না। কিন্তু একথা কতজনে জানে যে শেখের পুত শেখ মুজিব যদি না ফিরতো স্বদেশে ১০ জানুয়ারি ‘৭২, তা হলে বাংলাদেশ মুক্ত হলেও স্বাধীন হ’ত না। স্বাধীন হয়েও স্বাধীন হ’ত না! স্বাধীনতা মানে কী ? স্বাধীনতা কী কেবল মাতাল কবির মতলবি গান ? ঘুষের টাকায় সুদের খাতায় হীরা মুক্তা মানিরক্যর মচ্ছব? কত রক্তদিলো পোলান্ড হাঙ্গেরী, শ্লোভাকিয়া, জার্মানি, জাপান, অষ্ট্রিয়া !২য় মহা সমরে লক্ষ-কোটি প্রাণ দিলো জার্মানি জাপান শ্লোভাকিয়া ! তারা কী পেলো অাজও শৃঙ্খলমুক্ত প্রকৃত স্বাধীনতা ! সার্বভৌমত্ব ? আপোসের প্রস্তাব দিয়েছিল সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান, নিক্সন -হেনরি কিসিঞ্জারের প্রত্যক্ষ মদদে । “৬দফা নিয়ে এত লড়লে মুজিব! স্বাধীনতার বায়না ছেড়ে দাও ! নগদ যা পাও তাই নিয়ে ঘরে ফিরে যাও । নইলে অবধারিত মৃত্যু! মাটিটাও জুটবেনা নিজ দেশে। কারাগারের ছোট্ট কুঠরির বাইরেই তোমার কবর খুড়ে রেখেছি”। বললেন ইয়াহিয়া – ভুট্টো।পিছন থেকে তাদের মুনিব বললেন , স্বাধীনতাটাও যাতে পাও সেটাও দেখবোখনি ! আমি আছি না ? মুজিব বললেন, কাপুরুষ মরে শতবার ! বীর মরে একবার !জান কবুল !কিন্তু স্বাধীনতার একচুল কমেও কোন নিষ্পত্তি হবে না। স্বাধীনতা বিনে কে বাঁচিতে চায়? স্বাধীনতা ! স্বাধীনতা! স্বাধীনতা ! NOTHING SHORT OF INDEPENDENCE , FREEDOM AND SOVEREIGNTY! শেখ মুজিব গাইলেন নজরুলের গান, বলবীর চির উন্নত মম শির ! শির নেহারি আমারি নত শির শিখর হিমাদ্রির।বল বীর ….. পৃথিবী দেখেছিল চোথ মেলে , ভারতবর্ষে হিমালয়ের পাশেই আকাশ ছুঁয়ে জেগেছে ততোটাই উঁচু আর এক হিমালয়!তেমনি স্পর্ধিত শিখরে শিখরে, চূড়ায় চূড়ায়। একই নাটক চলছিল তখন কলকাতায়।ঘসেটি বেগমের ফেলে যাওয়া সেই কাশিমবাজার কুঠিতে । মীর জাফর,  রায় চাঁদ রায়বল্লভের প্রেতাত্মাদের মুখেও সেই একই সংলাপ : চলো বাড়ি ফিরে যাই । তা কী হয় বিশ্বাসঘাতক ? আমাদের যে স্বাধীনতা চাই,! মুজিবও চাই ! বাংলাদেশও চাই ! এক চুলও তাতে ছাড় নাই ! “রক্ত যখন দিতে শিখেছি আরও রক্ত দেবো, দেশকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ” ! মরণজয়ী মুক্তিযোদ্ধাদের লাথো কন্ঠ গর্জে উঠেছিল বজ্রনিনাদে মুজিবের সেই বাণী! সাতই মার্চ !রেসকোর্স মাঠের উত্তাল জনসাগর !বজ্রকন্ঠে রাজনীতির কবির মুক্তিযুদ্ধের মহাকাব্য পাঠ ! সে কী ভুলা যায় ? পূর্ব পশ্চিম উত্তর রণাঙ্গন গর্জে উঠেছিল ! আর কত রক্ত চাই ? আর কত প্রাণ চাই ? বলো,বলো ! দেবে আরও রক্ত আরও দেবে প্রাণ! দক্ষিণে, বঙ্গোপসাগর ফুঁসে উঠেছিল সুনামি জাগরণে! সপ্তডিঙ্গা মরণতরীর উঁচু শির নুয়ে পড়েছিল । কাগুজে বাঘ পালিয়েছিল লেজ গুটিয়ে ! বাঙালি জাতির পিতা , হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৮ তারিখ পাকিস্তানের মৃত্যু কূপ থেকে বেরিয়ে ৩০ লাখ শহীদের রক্তে ভেজা, লাখো নারীর অশ্রুসিক্ত স্বদেশের মাটিতে ফিরে আসলেন ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ ! আসার পথে দুঃসময়ের পরম বন্ধু ভারতের মাটি ছুঁলো তাঁর বিমান ! পালাম বিমান বন্দরে ভারতের মহামা্ন্য রাষ্ট্রপতি শ্রী ভিভি গিরি মহান অতিথিকে বহনকারী বিমানের সিঁড়ির কাছে এসে অভ্যর্থনা জানালেন স্বাধীন সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রেসিডেন্ট মুজিবকে। প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী অল্পদূরত্বে রচিত সংবর্ধনা মঞ্চে হাজার হাজার উল্লসিত মানুষের তুমুল হর্ষধ্বনির মধ্যে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার নতুন সূর্যকে অভিবাদন জানিয়ে বললেন, আমি তিনটে কথা দিয়েছিলাম বন্ধু ।১. দুর্গত মানুষকে অন্নপানি দেবো, ওষুধ পথ্য দেবো, আশ্রয় দেবো ২. মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং দেবো , অস্ত্র দেবো,সাজ সরঞ্জাম সহায় সম্বল দেবো অার ৩. মুজিবকে এনে দেবো রাবনের স্বর্ণ লঙ্কা পুড়িয়ে! অামি কথা রেখেছি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভারতের মহামান্য রাষ্ট্রপতি শ্রী ভিভি গিরি, প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী এবং ভারতের সরকার ও জনগণকে জাতির পক্ষ্ থেকে গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বললেন, অামার একদফা ছিল স্বাধীনতা । আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। এখন একটি সুখী সমৃদ্ধশালী দেশ গড়তে চাই ১. গণতন্ত্র, ২. সমাজতন্ত্র. ৩.ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ৪. বাঙালি জাতীয়তাবাদকে ভিত্তি করে। সাড়ে সাতকোটি মানুষের আনন্দাশ্রু ভেজা ভালোবাসায় অভিসিক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু স্বাধীন স্বদেশে গণপ্রজাতন্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিলেন । ৩ মার্চ ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী পৃথিবীর বুকে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো বিজিত দেশ ছেড়ে স্বদেশে ফিরে।১৩ মা্র্চ ৫০০ সেনার শেষ দলটিও দেশে ফিরে গেলো।বাঙালির ভালোবাসা রইলো তাদের সাথে।১৫ হাজার শহীদ ভারতীয় সৈন্যের স্মৃতি রইলো বাংলার মাটিতে মিশে।১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে শুভেচ্ছার অর্ঘথালা পাঠালেন শ্রমিতি ইন্দিরা গান্ধী।  

Read More

১৭ মার্চ

৬৩৬ – রোমানদের পরাজয়ের পর মুসলমানরা বায়তুল মোকাদ্দাস জয় করে। ১০৭৮ -ইসলামের অন্যতম প্রচারক বড়পীর হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রহঃ) জন্মগ্রহণ করেন​। ১৯২০ -স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি ও প্রথম রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্মগ্রহণ করেন​। ১৯৪৮ – বৃটেন, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, হল্যান্ড এবং লুক্সেমবার্গের প্রতিনিধিরা বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রুাসেলসে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর করে। ১৯৯৬ – জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিনটিকে শিশু দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

Read More