আমি মায়ের কাছে যাবো/ আফরোজা পারভীন

আজ  ১৮ অক্টোবর। রাসেলের জন্মদিন। পায়েস রান্না হয়েছে। তবে কারো মনে আনন্দ  নেই। মনে কষ্ট নিয়ে সবাই হাসছে। রাসেল ছোটমানুষ, মাত্র চার বছরের। ও মন খারাপের কি বোঝে! আব্বা জেলে। বাড়িতে অনেক মানুষ আসছে, যাচ্ছে । মার সাথে কথা বলছে। মা হাসিমুখে সবার সাথে কথা বলছেন। মার এই হাসিমুখটা রাসেলের খুবই পছন্দ। মার শুধু হাসিমুখ কেন, সবকিছুই ওর পছন্দ। আব্বাকেও ওর খুব পছন্দ। কাকে  যে বেশি পছন্দ বুঝে উঠতে পারে না রাসেল। দ্বিধায় পড়ে। মা ডাকছেন, : হাসু  রেহানা জামাল কামাল রাসেলরা পাঁচ ভাইবোন। বড়বোন হাসিনা, তারপর কামালভাই আর জামালভাই।…

Read More

প্রণমি তোমায় পিতা/ অনুপা দেওয়ানজী

১৫ই আগস্টের সকাল। সবে সিলেট থেকে ঢাকাতে এসেছি। ঘর দুয়ার এখনো ভালো করে গোছানো হয়নি। মালপত্র কিছু কিছু ঘরে এসেছে, বাকিটা অফিসের গোডাউনে। বিছানা ছেড়ে উঠবো উঠবো করছি এমন সময় প্রতিবেশীর রেডিও থেকে হঠাৎ খুব উচ্চগ্রামে অদ্ভুত আর অবিশ্বাস্য এক কন্ঠস্বর ভেসে আসতে লাগলো, ‘শেখ মুজিবকে  হত্যা করা হয়েছে। জননেতা খন্দকার মোশতাক আহমদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করেছে। দেশে সামরিক আইন জারি করা হয়েছে এবং সারাদেশে কারফিউ জারি করা হয়েছে।’ ইত্যাদি, ইত্যাদি। আমার মাথায় যেন বজ্রাঘাত হলো। লাফ দিয়ে বিছানা ছেড়ে উঠে পড়লাম। এ কী শুনলাম আমি? আমার মাথা…

Read More

আলো ভালবাসা/হাসনাইন সাজ্জাদী

সোডিয়াম বাতিঘর নিভু নিভু রাজপথে নিভে যায় এনার্জি লাইট সূর্যের সাক্ষাতে। আলোর প্রখর তাপে অন্ধকার আৎকে কেঁদে ওঠে সংযোজন বিয়োজন তার অমাবস্যা পূর্ণিমাতে। কবে কোন শুভক্ষণে সূর্য জড়িয়ে ছিল আলোতে আলোক বর্ষ পথ পেরিয়ে আমাকে ভালবাসতে। ২ শব্দ ঋণ নির্মম নিষ্ঠুরতায় ছেঁড়া সাইবার আলনায় অগ্নি মিছিল কক্ষপথে প্রতিবাদ ভাবনায়। খুঁজে ফেরি মাহাত্ম্য মানব জমিন দৌর্দণ্ড প্রতাপে অটোভর্তি ঋণ। সকরুণ পরিণতি অন্ধকারের হাতছানিতে নিদারুণ যাতনায় বসে থাকি আঁড়ি পেতে। হাসনাইন সাজ্জাদী Share this…FacebookGoogle+TwitterLinkedinPinterestemail

Read More

মটকু ভাই/ রক্তবীজ ডেস্ক

মটকু ভাই

উঁচুগলায় কথা   মটকু ভাইয়ের স্ত্রী  মটকু ভাইকে বলছে, কাল মা আসবে বেড়াতে। নীরবতা। মাত্র দুই সপ্তার জন্য। নীরবতা। তুমি শুনছ, কী বললাম? নীরবতা। আমি ঠিকই জানতাম, তুমি রেগে যাবে। দীর্ঘশ্বাস! খবরদার, উঁচুগলায় কথা বলবে না আমার সঙ্গে!   নিষেধ করছো না কেন   মটকু ভাইয়ের স্ত্রী মটকু ভাইকে বলছে, : শোনো, তোমার বন্ধু যে মেয়েটিকে বিয়ে করতে যাচ্ছে ওই মেয়ে কিন্তু অতোটাা ভালো নয়। : এতে আমার সমস্যাটা কী? : আরে, জেনেশুনে তোমার বন্ধু খারাপ মেয়েকে বিয়ে করবে! তুমি তাকে নিষেধ করছো না কেন? : আমি কেন তাকে নিষেধ…

Read More

ঢুলিগঞ্জের দেবতাগণ/ মঈনুল হাসান

জায়গাটার নাম ঢুলিগঞ্জ ঠিক কবে কোত্থেকে হলো তা কেউ জানে না। অতসব খুঁজতে গেলে পাঁজি-পুঁথি বা ইতিহাস ঘেঁটে বের করতে হবে হয়তো। কিন্তু, তারপরও পাঁচ গ্রাম ছাড়িয়ে এর সুখ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছিল বহুদিন আগে। দোলাইয়ের তীর ঘেঁষে কাঁচা-পাকা ইমারতের ফাঁকে ফাঁকে তখন গড়ে উঠছিল চালের বিশাল বড় মোকাম। মহাজনদের চালকলের গদিঘর ছেড়ে অল্পদূর গেলেই এখন যে খেয়াঘাট দেখা যায় আজও সেখানে ভিড় করে রাজ্যের বড় বড় যত ইঞ্জিনের নৌকা। সবাই আসে ব্যবসাপাতির নানারকম বায়না নিয়ে, যারা সবসময় সরগরম করে রাখে বাজারের চৌহদ্দি। দূর থেকে বাণিজ্য করতে আসা এসব ব্যাপারী আর বারোয়ারি…

Read More

আজ বৃষ্টির দিন/ ফিরোজ শ্রাবন

আজ বৃষ্টির দিন আমি তুমিহীন, শূন্য শূন্য লাগে। সত্যি কথা বলতে বৃষ্টির দিন আমার খুবই ভাল লাগে। বৃষ্টির দিনে বাদাম ভাজা, চাল ভাজা, কাঁঠাল বিঁচি ভেজে মা আমাদের পাঁচ ভাইবোনকে দিতেন আর আমরা মিলেমিশে খেতাম কম বা বেশি যে যা খেতে পারে। কারো কোন অভিযোগ থাকতো না। খেতে খেতে টিনের চালে বৃষ্টির শব্দের সাথে যে গানটাই গাইতাম মনে হত বৃষ্টিও আমার সাথে গাইছে। বৃষ্টির দিনে মা ঘরের বাইরে যেতে দিতেন না। কারণ বৃষ্টির সাথে যখন ঝড় থাকে তখন আনন্দের সাথে শংকাও থাকে । তাই জানালা দিয়ে বৃষ্টিকে ছৃঁয়ে দেখতাম আমার…

Read More

বাউল মানস ও বাঙালির অসাম্প্রদায়িক মনোরাজ্য/ জহির আহমেদ

নদীমাতৃক বাংলা চিরকালই গানের দেশ- প্রাণের দেশ। বাংলার মানুষ সংগীতপ্রিয়। আর এদেশের মানুষের সবচেয়ে প্রিয় লোক ও বাউল গান। যুগ যুগ ধরে বাউল সাধকদের অসংখ্য অমূল্য সঙ্গীত বাঙালির মনোজগতের অমূল্য সম্পদ হয়ে আছে। হাজার হাজার গান কিংবদন্তির মতো বাঙালির  মুখে মুখে ঘুরে বেড়ায়। পদ্মা-মেঘনা-যমুনা-তিতাসের তীরে-তীরে একতারা হাতে দরদি বাউলেরা গানে-গানে তাদের মনের মানুষ-প্রাণের মানুষ খুঁজে বেড়ায়। যেমন: ফকির লালন সাঁই বলেন… “কী সন্ধানে যাই সেখানে, মনের মানুষ যেখানে। আঁধার ঘরে জ্বলছে বাতি, দিবা রাতি নাই সেখানে। যেতে পথে কাম নদীতে পাড়ি দিতে ত্রিবিনে … আমি মণি হারা ফণির মত হারা…

Read More

প্রশ্ন ফাঁস এবং একটি ঋণ/ জাহিদা মেহেরুন্নেসা

সেদিন অন্তু আমার কাছ থেকে দুই হাজার টাকা ধার নিয়েছে । বলল,  চাকরির আবেদন করতে মোটামুটি দুই হাজার টাকা লাগবে । ঠিক আছে দিচ্ছি, বলে ব‍্যাগ থেকে আমি টাকাটা দিয়ে দিলাম । অন্তুকে আমি প্রায়ই এভাবে টাকা দিই । এভাবে টাকা দিচ্ছি কত বছর হবে? প্রায় পাঁচ বছর হতে চললো । কিন্তু ওর চাকরির খবর নেই । ও প্রায়ই আমার কাছ থেকে ধার দেনা করে চলে । আমি আর কতদিন এভাবে ওকে চালাবো? পাঁচ বছর ধরে যদি এ রকমভাবে ওর চাকরি না হয় তাহলে আর হবে বলে মনে হয় না।…

Read More

ভুতুড়ে ঘটনা / রক্তবীজ ডেস্ক

মার্টেলস্ প্লানটেশনের অভিশপ্ত আয়না আমেরিকার সবচেয়ে ভুতুড়ে বাড়ি এই মার্টেলস্ প্লানটেশন। জনশ্রুতি আছে, এ বাড়িতে ১২জন প্রেতাত্মার বাস এবং কমপক্ষে ১০টি হত্যাকান্ড সংগঠিত হয়েছে। এছাড়া, এ বাড়িকে ঘিরে রয়েছে বিচিত্র সব কাহিনী। মার্টেলস প্লানটেশনের সবচেয়ে ভুতুড়ে যে জিনিসটির কথা জানা যায় তা একটি আয়না। আয়নাটি ১৯৮০ সালে এ বাড়িতে আনা হয়। কিংবদন্তী অনুসারে, এ আয়নায় বাস করে এ বাড়ির একসময়ের গৃহকর্ত্রী সারা উড্রাফ এবং তার ছোট্ট দুই কন্যার প্রেতাত্মা। যারা তাদের বাড়ির গৃহকর্মী ক্লয়ীর দ্বারা খাবারে বিষপ্রয়োগে মারা গিয়েছিল। প্রথা অনুযায়ী, আমেরিকাতে যখন পরিবারের কোন সদস্য মারা যায় তখন বাড়ির…

Read More

বিখ্যাতদের খাদ্যাভ্যাস/ কঙ্কা রহমান

অ্যাঞ্জেলিনা জোলি সে সময় কম্বোডিয়ায় ছিলেন অ্যাঞ্জেলিনা। খুব উৎসাহ নিয়েই স্থানীয় খাবার খেয়েছিলেন। পরে জানিয়েছিলেন, তিনি এমন এক ‘স্ন্যাক ফুড’ খেয়েছেন, যেটা প্রোটিনে ভরপুর। কী বলুন তো জিনিসটা? আরশোলা! অ্যাঞ্জেলিনাও জেনেশুনেই খেয়েছিলেন। একটাই নাকি অসুবিধা হয়েছিল তাঁর। ‘‘আরশোলার পেটের উপরে একটা ছুঁচলো অংশ থাকে, যেটা কোনওমতেই খাওয়া যায় না,’’ বলেছিলেন অ্যাঞ্জেলিনা। অবশ্য শুধু আরশোলা কেন? ছেলে ম্যাডক্সের সঙ্গে ঝিঁঝিপোকা খেয়েছিলেন। চেখে দেখেছিলেন মৌমাছির ‘লার্ভা’ও। সেটা অবশ্য অ্যাঞ্জির পছন্দ হয়নি! ম্যাডোনা যত্ন করে খাবার বানালেন। টেবিলে সাজালেন। চেয়ার টেনে বসে খাবার তুলে নিলেন মুখের কাছে। কিন্তু খেলেন না! প্রাণভরে গন্ধ নিয়ে…

Read More