ড. দীনেশচন্দ্র সেন ও তাঁর অপূর্ব কৃতিগাঁথা

ড. দীনেশচন্দ্র সেন ও তাঁর অপূর্ব কৃতিগাঁথা

(শেষাংশ) মৈমনসিংহ গীতিকা : মৈমনসিংহ গীতিকা পূর্ববঙ্গ গীতিকা প্রথম খণ্ড শ্রী দীনেশচন্দ্র সেন, রায়বাহাদুর, বি. এ, ডি-লিট্ কর্তৃক সংকলিত। এই গীতিকায় তিনি সহজেই বিশ্ব সাহিত্যের সুর বাজাতে সক্ষম হয়েছেন। ময়মনসিংহ থেকে বিভিন্ন প্রকার গাথা সংগ্রহের মাধ্যমে মানুষের জীবনের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা, উৎসাহ-আগ্রহ, প্রেরণা থেকেই গাঁথা এই গীতিকা যা বাস্তব জীবনমুখী।  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ময়মনসিংহ গীতকা সম্পর্কে বলেছেন, “মৈমনসিংহ থেকে যে-সব গাথা সংগ্রহ করা হয়েছে তাতে সহজেই বেজে উঠছে বিশ্বসাহিত্যের সুর। কোনো শহুরে পাবলিকের দ্রুত ফরমাশের ছাঁচে ঢালা সাহিত্য তো সে নয়। মানুষের চিরকালের সুখ-দুঃখের প্রেরণায় লেখা সেই গাথা। যদি-বা ভিড়ের মধ্যে…

Read More

ড. দীনেশচন্দ্র সেন ও তাঁর অপূর্ব কৃতিগাঁথা

ড. দীনেশচন্দ্র সেন ও তাঁর অপূর্ব কৃতিগাঁথা

ড. দীনেশচন্দ্র সেন ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর  মানিকগঞ্জ জেলার বকজুরী গ্রামে নানার বাড়ি জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম ঈশ্বরচন্দ্র সেন। মাতার নাম রূপলতা দেবী। তাঁর বাবা ঈশ্বরচন্দ্র সেন মানিকগঞ্জ বারের ইংরেজি জানা প্রথম আইনজীবী ছিলেন। পরবর্তীকালে দীনেশচন্দ্র সেন তাঁর বাবা এবং মায়ের নামানুসারে কোলকাতার বেহালস্থ বাসভবনটির নামকরণ করেন রূপেশ্বর । ছোটবেলা থেকেই ড. দীনেশচন্দ্র সেন ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী এবং চিন্তা-চেতনায় ছিলেন ভিন্নধারার। পাঁচ বছর বয়সে তিনি সুয়াপুর গ্রামে বিশ্বম্ভর সাহার পাঠশালায় ভর্তি হন। ১৮৭৩ সালে তিনি মানিকগঞ্জ মাইনর স্কুলে পাঠ শুরু করেন। মাইনর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কুমিল্লা গভর্নমেন্ট স্কুলে সপ্তম…

Read More

আমাদের চেতনায় মে দিবস

চিন্তা করা যায় আজ থেকে প্রায় একশত একত্রিশ বছর আগের কথা। ভাবতেই কেমন শিহরণ সৃষ্টি হয় রোমকূপে। সজারুর কাটার মতো খাড়া হয়ে যায় শরীরের সমস্ত পশম । কেমন ছিল সেই সময়ের সেই দিনটি?  একটু ঘুরেই আসি সেই স্মৃতিময় রক্তাক্ত  হে মার্কেট থেকে। ১৮৮৬ সালের কথা। আমেরিকার শিকাগো শহর। শহরের ‘হে’ নামক মার্কেটের শ্রমিকরা ৮ ঘণ্টা কাজের দাবি জানায়। সেই সুবাদে সিদ্ধান্ত নেয়, মে মাসের  ১ তারিখ থেকে দৈনিক আটঘণ্টা কাজ করবে। আটঘণ্টার বেশি কোন শ্রমিক কাজ করবে না এই দাবি নিয়ে শ্রমিকরা হে মার্কেটে একত্রিত হয়।   শ্রমিকরা আট ঘণ্টার…

Read More

শান্তি

খাঁ খাঁ রোদ্দুর পোড়ে আমাদের চামড়া দিনমজুর আমরা হতভাগা আমরা কজন রোদে পুড়ে টুকরি ভরে বাজার নিয়ে দিচ্ছি বয়ে বড়লোকের ইচ্ছে হয়ে স্বস্তি মেলে টুকরি ফেলে হালকা করি মাথা কখনো কখনো অধিক বোঝায় পাই যে বড় ব্যথা ব্যথা যদি লাগে বেশি ওষুধ নিতে ছুটে আসি ওষুধ খেয়ে ব্যথা কমাই এমন করেই করি কামাই কাজ করব পাব টাকা সেই ভরসায় আসি ঢাকা ইট পাথরে গড়া শহর একটু মায়া হয় না কারোর আজব শহর ঢাকাতে গরিবের দিকে তাকাতে চায় না যে কেউ ভাই কাজ করি টুকরি বই রোদে পুড়ে ঝাঁঝরা হই বৃষ্টি…

Read More

চৈত্রের সীমানায় বৈশাখের শুরুতে কিছুটা সময়

“মা আমার সেকেলে তাই মানুষ হতে কয় বলুন দেখি একালে কি মানুষ হওয়া যায়, মানুষ নামে হায়নাগুলো মানুষ ধরে খায়, এই হায়নার ভিড়ে কি আর মানুষ হওয়া যায়?” হ্যাঁ যায়, কারণ যারা মানুষ তারা চিরকালই মানবিক গুণাবলীসম্পন্ন । নতুন করে তাদের মানুষ হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু কিছু মানুষ নামধারী জন্ম থেকেই পবিত্র আত্মাগুলোকে গুলিয়ে ফেলছে পাপের সীমাহীন পরিক্রমায়। পার্থিবতায় পবিত্র আত্মাগুলি কলুষিত হচ্ছে অপবিত্র ছত্রছায়ায়, চিল-শকুন যেমন করে ছোঁ মেরে তার ইচ্ছাগুলো পূরণ করে, তেমনি সমাজে চিল শকুন হায়নার মতো কিছু মানুষরূপী প্রাণি আজ মানুষের মনুষ্যত্বকে মেরে নিজেদের ইচ্ছে পূরণে…

Read More

বীরাঙ্গনা : বিড়ম্বনা ও স্বাধীন বাংলাদেশ

বীরাঙ্গনা শব্দের আভিধানিক অর্থ  ‘বীর নারী’। যুদ্ধকালীন সময়ে যে সকল নারীরা লাঞ্ছিত,  নির্যাতিত, নিপীড়িত হয়েছেন তাঁরাই বীরাঙ্গনা।  নির্মম জঘন্য যৌন অত্যাচার নীরবে সহ্য করে জীবনকে রক্ষা করেছেন যারা তাঁরাই বীরাঙ্গনা। যুদ্ধের পর স্বাধীন দেশে বীর নারীদেরকে ধর্ষিতা রমণী, দুঃস্থ রমণী’ ক্ষতিগ্রস্ত মহিলা, ধর্ষণের শিকার, যৌন নির্যাতনের শিকার, ভাগ্যবিম্বিতা ইত্যাদি নামে  অভিহিত করা হত। কিন্তু  জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই সমস্ত ভাগ্যহীনা, ভাগ্যবিড়ম্বিতা নারীদেরকে বীরাঙ্গনা খেতাবে ভূষিত করেন। তিনি তাদের মর্যাদা সমুন্নত করেন। ১৯৭২ সালের ১৮ই ফেব্রুয়ারি সরকার ‘বাংলাদেশ মহিলা পুনর্বাসন বোর্ড’ গঠনের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধকালীন নির্যাতিত ধর্ষিতা মহিলাদের জাতীয়…

Read More