বাংলা নীলকান্ত রক্তবীজ ডেস্ক

Sharing is caring!

বাংলা নীলকান্ত (Coracias benghalensis) (ইংরেজি Indian Roller) কোরাসিডি পরিবারের অন্তর্গত কোরাসিয়াস গণের এক প্রজাতির বিরল পাখি । এরা বাংলাদেশের স্থানীয় পাখি । দেশের সর্বত্র দেখতে পাওয়া যায় । পাখিটি নীলকণ্ঠ নামে পরিচিত । কিন্তু কণ্ঠ নীল নয় বলে বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব এর নামকরণ করেছে বাংলা নীলকান্ত । আই. ইউ. সি. এন. এই প্রজাতিটিকে Least Concern বা আশংকাহীন বলে ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশে এরা Least Concern বা আশংকাহীন বলে বিবেচিত। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত।
বাংলা নীলকান্ত আকারে ২৬ থেকে ২৭ সে মি হয়ে থাকে । এদের বুক বাদামী বর্ণের । মাথার উপরের অংশ নীল । এদের দেহের রঙ গাঢ় বেগুনি নীল এবং দেহের কিছু অংশ দেখতে মলিন নীল রঙের । লেজের রঙ আসমানি নীল এবং লেজের প্রান্তভাগ প্রুশিয়ান নীল । লেজের পাখনার রঙ অনুজ্জ্বল সবুজ । গলা ও ঘাড় বেগুনি রঙের সাথে সাদা দাগ দেখতে পাওয়া যায় । চোখের পাশের অনাবৃত অংশ দেখতে ফ্যাকাসে হলদে খয়েরি। এদের দেহের সামনে পায়ের তিনটি আঙ্গুল থাকে যা দেহের সমস্ত ভর বহন করে । এদের ঠোঁট লম্বা ও সংকুচিত যার সামনের অংশ বাঁকানো ও ধারালো ।
এই প্রজাতির পাখিদের সচারচর গাছে ও ইলেক্ট্রিকের তারে দেখা যায় । বিশেষ করে রাস্তার পাশের গাছ ও তারের এদের বসে থাকতে দেখা যায় । তবে এদের খোলা মাঠ ও বনে বাদাড়েও দেখা যায় । এরা গাছ থেকে এদের শিকারকে লক্ষ্য করে । সুযোগমতো গাছ থেকে নেমে এসে পোকা মাকড় শিকার করে । এরা সাধারনত পোকা, মাকড়সা, ছোট সরীসৃপ, ছোট সাপ এবং উভচর প্রাণী ইত্যাদি শিকার করে থাকে । এদের খাদ্যের প্রায় ৫০% গুবরেপোকা এবং ২৫% ঘাস ফড়িং ও ঝিঁ ঝিঁ পোকা ।
এদের প্রজনন মৌসুম মার্চ থেকে জুন । এরা বাসস্থান হিসেবে কাঠঠোকরা যে সব গাছে গর্ত করে তা ব্যবহার করে । এছাড়াও পচা গাছের কাণ্ড খুলে এরা বাসা বানায় । কাঠের ধ্বংসাবশেষ দিয়ে বাসার ভিতরের অংশ তৈরি করে । মা পাখি ৩ থেকে ৫ টি ডিম পাড়ে । ডিমগুলো দেখতে সাদা ও গোলাকার । মা ও বাবা পাখি উভয়ই ডিমগুলিতে তা দেয় । ১৭ থেকে ১৯ দিন তা দেয়ার পর ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয় । বাচ্চারা একটু বড় হলে বাসা ছেড়ে দেয় ।
(সংগৃহীত)

বাংলা নীলকান্ত রক্তবীজ ডেস্ক

Sharing is caring!

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।