‘রক্তবীজ ওয়েব পোর্টাল ও লিটল ম্যাগ’ ঘিরে আনন্দ আড্ডা/ রক্তবীজ ডেস্ক

‘রক্তবীজ ওয়েব পোর্টাল’  তিন বছরে পা রেখেছে । ১০ জানুয়ারি পূর্ণ করেছে তার জীবনের দু বছর। রক্তবীজ লিটল ম্যাগ তিন দশক পার করেছে। এই উপলক্ষে ‘রক্তবীজ লেখক পাঠক ফোরামে’র উদ্যোগে ১১ জানুয়ারি সম্পাদক, কথাসাহিত্যিক আফরোজা পারভীনের পান্থপথের বাসায় অনুষ্ঠিত হলো আনন্দ আড্ডা। উপস্থিত ছিলেন রক্তবীজের লেখক পাঠক শুভানুধ্যায়ীরা। অফুরান আড্ডার সাথে ছিল গান, কবিতা পাঠ, আলোচনা আর গত দু বছরে রক্তবীজ পোর্টালের কার্যক্রম পর্যালোচনা, ভবিষ্যত পরিকল্পনা। অনুষ্ঠানের শুরুতে  সদ্য প্রয়াত রাজনীতিক  সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, চলচ্চিত্রকার মৃণাল সেন, শিল্পী দ্বিজেন মুখোপাধ্যায়, কবি নীরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী, চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেন, লেখক দিব্যেন্দু পালিত,…

Read More

মহাশ্বেতা দেবী: সমুখে নেই তিনি, ফিরে এলেন বিপুল হয়ে

( মহাশ্বেতা দেবী (১৪ জানুয়ারি, ১৯২৬ – ২৮ জুলাই ২০১৬)  একজন ভারতীয় বাঙালি কথাসাহিত্যিক ও মানবাধিকার আন্দোলনকর্মী। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনা হাজার চুরাশির মা, রুদালি, অরণ্যের অধিকার ইত্যাদি। মহাশ্বেতা দেবী ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, মধ্যপ্রদেশ ও ছত্রিসগড় রাজ্যের আদিবাসী উপজাতিগুলির (বিশেষত লোধা ও শবর উপজাতি) অধিকার ও ক্ষমতায়নের জন্য কাজ করেছিলেন। তিনি সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার, জ্ঞানপীঠ পুরস্কার ও র‌্যামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কারসহ একাধিক সাহিত্য পুরস্কার এবং ভারতের চতুর্থ ও দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান যথাক্রমে পদ্মশ্রী ও পদ্মবিভূষণ লাভ করেন। পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁকে পশ্চিমবঙ্গের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান বঙ্গবিভূষণে ভূষিত করেছিল)। দুই বাংলার খ্যাতিমান লেখক…

Read More

বঙ্গোপসাগরে ভেসে গেল বীর মুক্তিযোদ্ধা লস্কর মিজানের লাশ/ লে: কর্ণেল সৈয়দ হাসান ইকবাল (অব)    

বীর মুক্তিযোদ্ধা লস্কর মিজান

১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদানের সময় রেসকোর্স ময়দানে আমার উপস্থিত থাকার বিরল সৌভাগ্য হয়েছিল। সে ভাষণ ছিল বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ভাষণ, যা UNESCO কর্তৃক স্বীকৃতি লাভ করেছে। ১০ মার্চ ১৯৭১ সালে অসহযোগ আন্দোলনের শুরুতে আমি নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার নিজ এলাকা পাঁচুড়িয়া গ্রামে চলে যাই। তখন আমি ঢাকার ওয়েষ্ট এন্ড হাইস্কুলের ৯ম শ্রেণির ছাত্র ছিলাম। ঢাকায় তদানীন্তন পাকিস্তান সামরিক জান্তাদের সাথে বঙ্গবন্ধুর আলোচনা চলছিলো। কিন্তু বোঝা যাচ্ছিলো যে, পাকিস্তানি জান্তারা দূরভিসন্ধিতে লিপ্ত । ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসাবে বঙ্গবন্ধুর পাকিস্তানের শাসনভার গ্রহণ করার কথা।…

Read More

স্বাধীনতা ও দিগম্বর কিশোরী/ জান্নাতুল ফেরদৌসী

স্বাধীনতা

তোমার স্বপ্নের সোনালী ভুবনে, লাল সবুজ পতাকা নিয়ে হেসে খেলে  উল্লাস করে উড়ে বেরাবে বলেই স্বাধীনতা। তোমার দিঘীর জল জ্বলবে, মাছরাঙা,পানকৌড়ী,বালিহাঁস খেলবে, ভাদ্র মাসে ভরা পূর্ণিমায় তাথৈ তাথৈ নাচবে বলেই স্বাধীনতা। কঁচি কলাপাতার মতো সবুজ কুসুমের মতো কোমল পেলব মন নদীর মতো প্রবাহমান তুমি বাধাহীন  চলবে বলেই স্বাধীনতা। অথচ কি এক অদ্ভুত ঝড় ভেংগে দিলো স্বপ্নিল সম্ভাবনা। তোমার নাভির নিচে ছিল অপার সুখের নির্মল স্রোত। তুমি ছিলে ভীষণ সাহসী মাত্র বার কি তের তুমি তোমার চোখে চিন্তার রেখা, মুখে মুক্তির স্লোগান। উন্মুক্ত  আকাশের দিকে আঙুল যেনো মানুষের সমান। মুক্তির  উল্লাসে…

Read More

বিশু চোর- ৬ষ্ঠ পর্ব

বিশু চোর

১৯৭১সালের বসন্ত কাল। এটি যেন বিন্নাপুর গ্রামের বিভীষিকাময় বসন্ত। সাতই মার্চের ভাষণে  বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দিয়েছেন। পঁচিশে মার্চ পাকিস্তান বাহিনী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরীহ বাঙালির ওপর হামলা চালায়। দেশের মানুষ একতাবদ্ধ, স্বাধীনতার নেশায় উদগ্রীব।বিন্নাপুর গ্রামের বেশিরভাগ তরুণ ও যুবক মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য শপথ নিয়েছে। এ গ্রামের ইরফান পণ্ডিত সরকারি প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক। ইরফান পণ্ডিত একদিন  হন্তদন্ত হয়ে পাকিস্তানের হাট থেকে ফিরে এসে উঠানেই বসে পড়ে একটি টুলের ওপর। ডাকাডাকি করে কালামের মা শিউলি বেগমকে।‘শোনো কালামের মা, ভীষণ ভয়ের খবর আছে। হারুন কনে? কালাম কনে গেছে? অগোর ডাক দ্যাও।…

Read More

মৃণাল সেন: নিয়ম না মানই ছিল তাঁর নিয়ম/ আফরোজা পারভীন

মৃণাল সেন

চলে গেলেন মৃণাল সেন। বয়স হয়েছিল ৯৫ বছর ৷ বার্ধক্যজনিত রোগে অনেকদিন ধরেই ভুগছিলেন । বাড়িতেই  তাঁর জীবনাবসান হল ৷ স্ত্রী গীতা সেন প্রয়াত হযেছেন গত বছর। শেষ দিনগুলো একাই কাটালেন ‍তিনি। মৃণাল সেনের জন্ম বাংলাদেশে, ১৯২৩ সালের ১৪  ফরিদপুরে । এখানে হাইস্কুলের পড়াশুনো শেষ করে তিনি কলকাতায় চলে যান।  স্কটিশ চার্চ কলেজে পদার্তবিদ্যায় পড়াশুনা  করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।ন বির পোস্টারআমৃত্যু বামপন্থী আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন মৃণাল সেন। কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়ার সাংস্কৃতিক কাজকর্মের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। কিন্তু কখনও পার্টির সদস্য হননি।  রাষ্ট্রপতির মনোনীত সদস্য হিসেবে তিনি…

Read More

চিরকালের বীর নায়ক মুক্তিযোদ্ধা সিরাজউদ্দিন লস্কর / লে: কর্ণেল সৈয়দ হাসান ইকবাল (অব.)

মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সামান্য অস্ত্র নিয়ে রাজশাহীর বিড়ালদহ গ্রামে আসামান্য প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন তদানীন্তন ইপিআরের (বর্তমান বিজিবি) সদস্যরা। সেই যুদ্ধে অংশ নেওয়া ইপিআর সদস্য দুজন মুক্তিযোদ্ধাকে ৩৬ বছর ধরে খুঁজতে থাকে রাজশাহীর লোকজন। অবশেষে তাদের একজনকে খুঁজে পাওয়ার গল্প নিয়ে এই লেখা । এই কৃতি সন্তান আর কেউ নয়,  তিনি নড়াইলের লোহাগড়া থানার পাঁচুড়িয়া গ্রামের আলহাজ্ব সিরাজউদ্দিন লস্কর।৭১ এ তাঁর বীরত্ব নিয়ে লিখেছেন. আবুল কাশেম মুহাম্মদ আজাদ, ডা: নওশাদ, বিড়ালদহ, পুটিয়া, রাজশাহী এবং ওয়ালিউর রহমান বাবু। আমি সকলের কাছে অত্যন্ত কৃতজ্ঞ ।ও গর্বিত,  আমার বাড়িও এই পাঁচুড়িয়া গ্রামে। শুধু…

Read More

১৬ই ডিসেম্বরের কথা / অনুপা দেওয়ানজী

মুক্তিবাহিনীর চুড়ান্ত বিজয়ের খবর আসছে বিভিন্ন জায়গা থেকে তখন।একে একে শত্রুমুক্ত হচ্ছে বিভিন্ন অঞ্চল। আগরতলার মোহনপুর শরণার্থী শিবিরে অন্যান্য দিনের মতোই আমরা নিজেদের কাজে সেদিন ও যথারীতি ব্যস্ত ছিলাম। ক্যাম্পের বারান্দায় মাটির উনুনে কেউ  রান্নার জোগাড় করছে,কেউ বা বাচ্চাদের সামলাচ্ছে,কেউ বা যুদ্ধের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করছে। রেডিওতে মুর্হুর্মুহু ভারতীয় সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল মানেকশ’র ‘হাতিয়ার ডাল দ ‘ বিবৃতি প্রচার চলছে।কাজের মধ্যেও সবার মধ্যেই এক তীব্র উত্তেজনা  কি হয়, কি হয়! কারণ আমেরিকানর সপ্তম নৌ বহর তখন তীব্র বেগে ছুটে আসছে পাকিস্তানকে রক্ষা করার জন্যে। হঠাৎ ছোটো বোন ছন্দা চেঁচাতে চেঁচাতে…

Read More

সে যে আমার মা, আমার জন্মভূমি/ ফিরোজ শ্রাবন

‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি’। স্কুলজীবনে কেন জাতীয় সংগীত গাইতাম তার কারণ বুঝতে পারতাম না । ভাবতাম, এটা বোধহয় গানের রিহার্সেল। তবে যখন শপথ পাঠ করতাম তখন বুঝতে পারতাম দেশের জন্যই এই শপথ । লেখাপড়া শিখে বড় হয়ে আমরা যখন দেশ পরিচালনায় অংশ নেব তখন যে যার অবস্থান থেকে সততার সাথে দেশের কল্যাণের জন্য কাজ করবো। সব কিছু ঠিকঠাকই  ছিল। দুর্ভাগ্য যে আমরা পাকিস্তানের স্বৈরশাসন থেকে দেশকে যখন মুক্ত করে আনলাম তখন থেকেই আমরা যেন দেশপ্রেমকে ভুলে গেলাম। যে ভাইয়ের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই দেশকে স্বাধীন করেছি, যে ছিল…

Read More

একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর/ দীলতাজ রহমান

একাত্তরের পঁচিশে মার্চের ঠিক তিনদিন আগে আব্বা হাঁপাতে হাঁপাতে ঘরে ঢুকে বললেন, পাকিস্তানী মিলিটারি চলে আসছে! রক্ত ছাড়া কোনো দেশের স্বাধীনতা আসেনি। আমাদেরও আসবে না! আমরা তখন টঙ্গীর নোয়াগাঁও এম, এ মজিদ মিঞা স্কুলের ঠিক সামনের বাড়িটাতে থাকি। মাত্র তিনমাস হয় আব্বা খুলনা থেকে ঢাকায় এসেছেন নতুন করে আটঘাট বেঁধে তার ব্যবসাটা শুরু করবেন বলে। আমার মনে আছে, আব্বা যুদ্ধের কথা বলতে বলতে একটা চাদর ঘরের মাঝখানে বিছালেন। তার ভেতর যা কাপড়- চোপড় ধরে, চারকোনা এক করে কষে দুটো গেরো দিয়ে বিরাট গোল একটা গাট্টি বাঁধলেন। তারপর ভারী ভারী দুটো…

Read More