ঋতু বদল / তাজনাহার মিলি

ঋতু বদল

ঋতু বদল

ঋতু বদল / তাজনাহার মিলি

 

আবহাওয়া পরিবর্তন হয়। পালাক্রমে  ঘূর্ণায়মান। তারপরও এখন দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। যা আমাদের সমস্যার সামনে দাড় করায়। আর এ সমস্যা উর্ত্তীণ হয়ে পরিবারের বড়/ছোট সবাইকে যেন সুরক্ষিত রাখা যায় সেজন্য  আগে থেকেই প্রস্ততি নেয়া দরকার।

শীত খাবার রসিকদের জন্য বড্ড আনন্দের। লোভনীয় পিঠাপুলির ডিশ। শীতকালীন সবজি, ফুল- ফলের ধামাকা। তারপর ও শীতের সময় উজ্জল ত্বক/সুস্থ শরীর এর জন্য করণীয় সর্তকতা জরুরি।

শীতে অ্যাজমা, সাইনেটিস, কাশি বুকে ব্যথা সমস্যা বাড়ে। যেগুলি খুবই কষ্টদায়ক। যাদের সাইনেটিস, হাঁপানি ও সর্দি কাশি, এ্যালার্জি আছে তারা শীতে  কাবু হয়ে পড়েন। তাদের জন্য গুরুতর সমস্যা। ব্রঙ্কাইটিস হলে ফুসফুসে অক্সিজেন সরবরাহ করার টিস্যুটি ফুলে উঠে। এর পিছনে কারণ হিসাবে শীতের ঠান্ডা, ফ্রিজের পানি, ভাইরাস ও ব্যাকটোরিয়া দায়ী।

শীতকালে বনভোজন, বেড়ানো  উপভোগ্য। পারিবারিক মিলনমেলা পালন করলে খুব ভাল। সেজন্য শীত এলো এলো মুহূর্ত নিজেকে সময় দিন। নিজের জন্য অন্তত: ১ঘন্টা বাচ্চাদের জন্য ২ঘন্টা। আনন্দের রাণী শীত।  আনন্দের বাহারি সবজি, পুলি/পিঠের সাথে টিপিক্যাল শীত বেদনাও আছে।

ডিপ ব্রিদিং:-

নিয়মিত মেডিটেশন/প্রাণায়াম/ধ্যান করুন। অ্যাবডমিনাল ব্রিদিং এক্সাসাইজ করুন। শিরদাড়া সোজা করে দাড়ান। বসুন। নাক দিয়ে জোরে জোরে ২০ বার শ্বাস নিন। মুখ দিয়ে ছাড়ুন। পুনরায় আস্তে আস্তে ১০ বার শ্বাস নাক দিয়ে নিয়ে মুখ দিয়ে ছাড়ুন। চোখ বন্ধ রাখুন। এসময় সৃষ্টিকর্তার কাছে নিজের সুস্থজীবনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।

দুই : ফাকা জায়গা। নিরিবিলি জায়গায় হাঁটুন। জগিং করতে পারলে ভাল। সিঁড়ি দিয়ে নামুন। । তবে মনোযোগের সাথে পা ফেলবেন। নিজেকে সচেতন ভাবে উষ্ণ করুন। হৃদয় উষ্ণ করুন। মাথা ঠান্ডা রাখুন।

তিন : অ্যাসিডিটির সমস্যা খুব বাড়ে, সকালে ঘুম থেকে উঠে সহ্য করার মত গরম পানি ২  পানি  পান করুন। অ্যাসিডিটি কমবে, জয়েন্ট পেইন, লো/হাই ব্লাড প্রেসার কমবে। ঠান্ডা পানি বাদ দিন।

চার : বাধা কপি, বিনস, মটরশুটি ঘাস, পুদিনা পাতা, তুলসী পাতা সিদ্ধ করে খান। সকালে ১ চিমটি কালো জিরা, আধা চা চামচ মধু, এক পিস আদা ও তুলসী পাতা চিবিয়ে খান। কলা, আপেল, শশা, লবঙ্গ খান, মটরশুটি, ডিম খান।

পাঁচ : নিউমেনিয়া থাকলে, ইনহেলার থেরাপি। ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধ নিন। হোমিও/এ্যালাপ্যাথি যা আপনার শরীরের সাথে মিশে যায়। ধুমপান বাদ দিন। প্রচুর পানি জাতীয় খাবার খান। শীতকালে শরীর কড়া হয়। ঈষদুষ্ণ গরম পানিতে গোসল করুন। নিউমোনিয়া ও ইনফুলেঞ্জার প্রবণতা থাকলে আগেই ডাক্তার দেখিয়ে ভ্যাক্সিনেশন করা উত্তম। ভাইরাল ফিভার সাধারণ বিষয়। দেখে শুনে সতর্কতা অবলম্বন করে চলুন। লেবু পানি একটু চিনি দিয়ে খান।

ছয় : চামড়া ফাটে। ত্বক রুক্ষ হয়। ফলমূল/সবজি ভালো করে ধুয়ে খাবেন। সয়ামিল্ক, মূলো, রাঙাআলু, বিট শরীরের তাপমাত্রা সঠিক রাখতে সাহায্য করে। গ্রিন টি খান। ভাজাভুজি এড়িয়ে চলুন। স্টিমড/ বেকড খাবার। তুলসী/ সেলেরীপাতা (ক্যালশিয়াম, ফাইবার বিটা ক্যারেটিন, ইউজিনল ও অ্যান্টি অক্সিডেন্টের প্রভাবে খুস খুসসানি/ সর্দি কাশি বিদায়। সুপ/ চায়ে মিশিয়ে খান।

সাত : মধু/ এক চিমটে হলুদ গুড়ো/ ১ টেবিল চামচ গুড়ো ১/৪ কাপ দুধ ফুটিয়ে খান ৩ দিন খান। ঠান্ডার ধাত থাকলে ঠান্ডা দূরে থাকবে। অ্যাজমা যাদের বন্ধু তারা ইনহেলার হাতের কাছে রাখুন। আদা/রং চা খাওয়া অভ্যাস রাখুন। ৩ বেলা নখ সাইজ আদা লবণ দিয়ে খান।

আট : ফাঁটা ঠোঁট, ফাঁটা গোড়াঁলি নাজেহাল করে। চামড়া/চুল, নখ যত্ন করুন। ক্লিনজিং লোশন, অলিভওয়েল সর্ষের তেল ম্যাসাজ করুন। গোলাপ পাপড়ি/গোলাপজল গরম করে গ্লিসারিন দিয়ে মাখুন। মধু, লেবুর রস, গাজর বাটন মেখে মুখ পরিষ্কার করুন।

নয় : লেবুর রস, পাকাকলা বাটা, মধু, ডিম চুলে মেহেদী কাটা দিয়ে এক ঘন্টা রেখে শ্যাম্পু করুন। চুল নরম ও মজবুত থাকবে।

দশ : পাতলা কাপড় দিয়ে ঠোট মুছুন। মরা কোষ ঝরবে। নরম পাতলা সুতি কাপড় হলে মরা কোষ ধরবে। দুধের সর ঠোঁটে লাগান। শোয়ার আগে অলিভ ওয়েল  দিন। লিপ বাম লাগানো জরুরি। গ্লিসারিনও ব্যবহার করা যায়।

এগার: রাতে শোয়ার সময় ঈষদুষ্ণ পানিতে মোটা দানার লবণ দিন। অল্প শ্যাম্পু মিশিয়ে পানিতে সপ্তাহে ১ দিন  ২০ মিনিট পা ভিজিয়ে রাখুন। পিউমিগ স্টোন গোঁড়ালি/ পায়ের তলায় ষুণ। পা ধুয়ে ভাল ক্রিম / পেট্রোলিয়াম জেলী ভাল করে গোড়ালিতে লাগানো। ফাটার প্রবণতা থাকলে পা না জ্বললে সুতির মোজা পরুন ঘরে বাইরে। শোয়ার সময় অবশ্যই আলাদা পরিষ্কার মোজা। বেসনে দুধ/দই মিশ্রণ করে গোলাপ জল / গ্লিসারিন মিশিয়ে লাগাতে পারেন।

ব্রঙ্কিওলাইটিস হলে বাচ্চার সম্মুখে থাকা বাবা/মায়ের হাইজিন মেনে চলুন। বাচ্চাদের ধরার আগে হাত পা ধুয়ে নিন। সর্দি / কাশি ও জ্বর হলে বাচ্চাকে সাবধানে রাখুন। খেতে না পারা/ ঘ্যান ঘ্যান বাচ্চাদের সমস্যা হয়।

বয়স তো বাড়বেই। প্রাকৃতিক নিয়ম। সংসারে দায়দায়িত্ব পূর্ণ করুন। আস্তে আস্তে বাইরের কাজ সংসারের চাপ কমবে এটাই নিয়ম। তাই আগেই প্রস্তুতি নেয়া দরকার। ছন্দে ছন্দে ব্যস্ততায় কাটানো জীবনে ঢিলেঢালা ভাব আসে। তারপর শরীর মন মস্তিষ্ক আপনার। দ্রুতলয় ধীরলয় জীবনের অঙ্গ। শীতে জমাটে আনন্দে চলুন। নিজের নিয়মে সুস্থভাবে  সবারই বাঁচার অধিকার আছে। শারীরিক সুস্থতায় নজর দিতে হবে। ক্রীম ঘষা, আদা মেশানো চা খাওয়া সবকিছুই নিয়মতান্ত্রিক ভাবে চলবে। প্রতিদিন জীবন খুশিতে ভরপুর হবে, হবে ছন্দময়।

নিজের জন্য বাঁচুন। বয়স্ক তো কী হয়েছে। এতদিন পারিবারের পাঁচ জনের জন্য বেঁচেছেন। এখন ও তাই সবাইকে ভালবেসে, সবাইকে নিয়েই প্রাণবন্ত হয়ে নিজে বাঁচুন। ছেলে-মেয়ের/ নাতি-নাতনিদের সাথে নিয়ে কফি হাউসে/পার্কে যাওয়ার প্রাণবন্ততা বজায় রাখুন।

ভোরের শিউলি ঝরা ভোর। শিশির ভেজা নরম সূর্যের প্রসন্ন আলোর মতই জীবন হয়ে উঠুক। অসহ্য যন্ত্রণা বিষাক্ত তীরের ফলা এফোঁড়/ ওফোঁড় করে তাড়িয়ে দিয়ে। সকলের সুস্থ/ আনন্দ ভরা জীবন স্বনির্ভরতায় মহিয়ান/বলিয়ান হোক।