অবসর/ আমিনুল ইসলাম 

Screenshot

অবসর/ আমিনুল ইসলাম 

 

দ্যাখো, কি সকালে কি বিকালে অবসর এসে চুস্ চুস্ চুমু খায়

সময়ের হাতে! তুমিই বলো, বয়সকে আর আটকিয়ে রাখবো

কীভাবে! এখন আমার পদ নাই; চেয়ার নাই; পরাবাস্তব

জাদুতে পদোন্নতি বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিটাও নাই; শুনতে হবে না

আর অপদেবতাদের অনৈতিক হুকুম, দেখতে হবে না আর

পদাধিকার বলে শীলপর্দাহীন চোখের চোখ রাঙানি; গাড়িটাও

চলে গেছে পুরাতন পথ ধরে ড্রাইভারসহ– ভালোবাসা ফুরোলে

একদিন যেভাবে সুবর্ণা চলে গিয়েছিলেন হুমায়ূন ফরীদির

কাছ থেকে; অবশ্য এখন তুমিই আমার কর্মস্থল– তুমিই আমার

আবাসন আর তোমার কাছে যেতে অতসব গাড়িজুড়ির তো 

কোনো দরকার নাই; আর কত কিছুই তো পাওয়া যায় আজকাল! 

হোক না রাস্তাটি লোভীদের অতিরিক্ত প্রাক্কলনে নির্মিত,

কী ক্ষতি! তোমার কাছে যাওয়ার ক্ষেত্রে সে তো সহায়ক হচ্ছে-

সেকালের রাজকুমারীদের বিশ্বস্ত সখির মতন; এবং ম্যানেজ

করা সনদমূলে নয়, সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধা আকবর আলি খান

সাক্ষী, এটা অন্তত ‘শুয়রের বাচ্চাদের অর্থনীতি’র চেয়ে ভালো!

 

সে কতদিন, তোমার কাছে যাওয়া পেন্ডিং ছিল, মনের টাংকিতে

জমতেছিল মেসির বিশ্বকাপ বাসনার মতন লক্ষ্যগামী গতি;

সে কতদিন, দুটি উপমা নিবিড় প্রাণ আমরা হয়ে উঠিনি

শিহরনমাখা উৎপ্রেক্ষা! বুকের ডায়ালে শব্দ বেজে গেছে টিকটিক,

শুনেছে সময়, কিন্তু সে কতদিন আমরা হতে পারিনিকো

দিন বারোটার ঘড়ির কাঁটা। এখন অবসরের রোদ, অবসরের

জোছনা; অবসরের আঁধারও। ঘড়িতে সংকেত দিয়ে রাখার

সেই বাধ্যবাধকতা নেই; নেই চেকলিস্ট শাসিত কলিংবেল দুপুর;

ফেলে দিয়েছি ডেইলি নোটবুক; অবসর আমাদের হাতে এনে

দিয়েছে সোনালি অবসর; এই অবসরে আমরা স্থগিত থাকা

চুমুগুলো বিনিময় করে নিচ্ছি; এই অবসরে বুকে বুক দিয়ে

নবায়ন করে নিচ্ছি চেনা ধুকপুক; এই অবসরে আমরা ঘষে মেজে

নিচ্ছি আমাদের স্পর্শকাতরতা ভোরে গাড়ি স্টার্ট দেওয়ার আগে

চালক সাইদুল যেভাবে ঠিক করে নেয় তেল মবিল টায়ারের অবস্থা;

 

এপিএ নিয়ে পড়ে আছে, পড়ে থাক্– পুরস্কারলোভী মনগুলো,

এই অবসর আমাদের হাতে এনে দিয়েছে নিজ হৃদয়কে সেবাদানের

সুযোগ; ইচ্ছে হলেই আমরা যে কোনো রোদেলা দুপুরকে বানাতে

পারি হাসনুহানা শাসিত রাত। আর তোমার ঠোঁটে ঠোঁট পেতে শুনে

নিতে পারি মৃন্ময় সিলেবাসের অবশিষ্ট আবৃত্তিগুলি; তুমিও তো

জানো, অফিসের লালকালো সিলেবাস ছিল; আচরণবিধির

কাঁটাতারে আটকে ছিল তোমার ওড়নার উড়াল ছুঁতে যাওয়ার দিন;

তাই তখন পারিনি; এখন এই অবসরে–ফেলে আসা স্কুলের রাস্তায়,

ঘুড়ি ওড়ানো আকাশে, কৈশোরের হাওয়ায়–রাস্তার পাশে লম্বা

বেঞ্চওয়ালা নৌশাদের চায়ের দোকানে– এতদিন যেতে-না-পারা

সবখানে–আমরা ছড়িয়ে দিতে চাই আমাদের ভালোবাসার সৌরভ।

 

আদেশ ও নিষেধ, কর্তৃত্ব ও আনুগত্য, বাঘের তদবির, শেয়ালের

ভাউচার এবং আরো কত কি থেকে আমি অবসর গ্রহণ করেছি;

কিন্তু ভালোবাসা থেকে নয়; আহা অবসর! আহা ভালোবাসা!

আমিনুল ইসলাম
আমিনুল ইসলাম