রবীন্দ্রনাথের রস-রসিকত/ রক্তবীজ ডেস্ক

রবীন্দ্রনাথের রস-রসিকতা/ রক্তবীজ ডেস্ক

 

 ষোল

 

এক সাহিত্য সভায় রবীন্দ্রনাথ উপস্থিত ছিলেন। সভায় সাহিত্যিক বনফুল উপস্থিত ছিলেন। বনফুলের প্রকৃত নাম বলাই চাঁদ মুখোপাধ্যায়। আসরে বলাই চাঁদ মুখোপাধ্যায় একটি অসম্ভব ভাল বক্তৃতা দিলেন। সভায় উপস্থিত সবাই তার বক্তৃতার খুব প্রশংসা করতে লাগল। রবীন্দ্রনাথ তখন বললেন, :বলাই তো ভাল বক্তৃতা দেবেই কারণ বলাই তো ওর কাজ।

 

 চৌদ্দ

 একবার এক  বৈজ্ঞানিকের পুত্র কবির সাথে দেখা করতে আসেন। ছেলেটির মস্তিষ্কবিকৃত। সে কবির কাছে বায়না ধরলো তাকে হাপু গান শোনাবে। কবি  ধৈর্য ধরে ছেলেটির গান শুনলেন। গান গেয়ে ছেলেটি বিদায় নিলে কবি বললেন, “গানই বটে! একেবারে মেশিনগান।”

 

পনের

রবীন্দ্রনাথ তখন শেষশয্যায়। সময় প্রায় শেষ। একদিন কবির ভক্ত সৌমেন্দ্রনাথ ঠাকুর অসুস্থ রবীন্দ্রনাথকে বললেন, ‘আমরা আপনার শতবার্ষিকী করব।’ রবীন্দ্রনাাথ উত্তরে বললেন, ‘শত বার্ষিকী মানে তা মাত্র পঁচিশ টাকা। ওতে আমার কোনও মোহ নেই।’ ‘কিন্তু শতবার্ষিকী মানে পঁচিশ টাকা কেন?’ হাসির রাজা শিবরাম চক্রবর্তীর স্টাইলে রবীন্দ্রনাথ ব্যাখ্যা দিলেন, শত বার্ষিকী মানে শত বার সিকি মানে পঁচিশ টাকা, তাইতো?’

 

ষোল

 রবীন্দ্রনাথ মংপুতে  মৈত্রেয়ী দেবীর আতিথ্য গ্রহণ করেছেন। কবি নিরামিষ খেতে পছন্দ করতেন। রোজই বিভিন্ন রকমের নিরামিষ রান্না হতো। একদিন  খাবার পদে মগজ দেখে কবি বিস্মিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, এ পদার্থটি কী?  মৈত্রেয়ী দেবী উত্তর দিলেন, মগজ। কবি চোখে-মুখে কপট গাম্ভীর্য ফুটিয়ে তুলে বললেন, বিশ্বকবির ‘ ব্রেনে’ ঘাটতি পড়েছে এ কথাটি সোজাসুজি জানালেই হতো। এত কৌশল করা কেন? থাকগে, এ তর্কের চাইতে জরুরী ব্যাপার যখন সামনে তখন আর হাত গুটিয়ে বসে থাকা কেন।

 

পনের

চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় তখন বিখ্যাত ‘প্রবাসী’ পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত। তিনি শিলাইদহ গেছেন রবীন্দ্রনাথের লেখা আনতে। রবীন্দ্রনাথ তখন রয়েছেন পদ্মার ওপরে বজরায়। নদীর ঘাট অবধি একটি তক্তার সাঁকো বজরা অবধি পেতে দেয়া আছে। পা টিপে টিপে সেই তক্তা ধরে চারুচন্দ্র নৌকায় উঠে আসছেন। বজরার ছাদ থেকে রবীন্দ্রনাথ সাবধান করলেন চারু, সাবধানে পা ফেলো। এ জোড়াসাঁকো নয়।

 

ষোল

সাহিত্যিক বনফুলের ছোট ভাই একবার কবির সঙ্গে দেখা করার জন্য শান্তিনিকেতন আসেন। কবি তখন কানে ভাল শুনতে পান না। কবির সেক্রেটারি অনিল কুমার তাকে বলে দিলেন কবির সাথে একটু জোরে কথা বলতে। কবিকে বলা হলো, ইনি সাহিত্যিক বলাই চাঁদ মুখোপাধ্যায়ের ছোট ভাই। কবি তৎক্ষণাৎ ঠাট্টা করে বললেন তুমি বলাইয়ের ভাই কানাই নাকি? ভদ্রলোক কবির সেক্রেটারির পূর্ব নির্দেশ মোতাবেক চেঁচিয়ে বললেন, না আমি অরবিন্দ। কবি একগাল হেসে বললেন, ‘কানাই নয়, এ দেখছি একেবারে সানাই।’

 

%d bloggers like this: