রাজ্জাক: প্রথম যে নায়কের প্রেমে পড়েছিলাম

  রাজ্জাক: প্রথম যে নায়কের প্রেমে পড়েছিলাম/ আফরোজা পারভীনআজ খুব মনে পড়ছে ছোট্ট শহর নড়াইলে যেদিন সিনেমা হল হলো সেদিনটির কথা। সাল তারিখ মনে নেই। হলের নাম ‘চিত্রাবাণী’। নড়াইলের টাউন হল কিছুটা বদলে সিনেমা হলের আদল দেয়া হল। সিনেমা হল হলো, কিন্তু আমরা হারালাম সারা বছর অনু্ষ্ঠান, নাটক লেগে থাকা টাউন হলটাকে। একইসাথে তাই আনন্দ বিষাদ দুটোই ছিল। তবে আনন্দের ভাগ বেশি ছিল। সিনেমা হল বলে কথা। সারা শহরে মাইকিং হলো, আসিতেছে নড়াইল চিত্রাবাণী সিনেমা হলের রূপালী পর্দায়.. আসিতেছে। আর  ওই হলে যেদিন প্রথম সিনেমার প্রথম প্রদর্শনী হল সেদিন ছোট্ট…

Read More

মেজর জিয়াউদ্দিন আর নেই

মেজর জিয়াউদ্দিন​

মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সুন্দরবন সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াউদ্দিন আহমেদ আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল হাসপাতালে মেজর জিয়াউদ্দিন মারা যান। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। মেজর জিয়াউদ্দিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলারও সাক্ষী ছিলেন। জিয়াউদ্দিন বেশ কিছুদিন ধরে কিডনিসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন। তাঁর শারীরিক অবস্থার কিছুটা অবনতি ঘটলে গত ১ জুলাই তাঁকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। মেজর জিয়াউদ্দিন ১৯৫০ সালের ডিসেম্বর মাসে পিরোজপুরে জন্মগ্রহণ করেন।…

Read More

মহাবীর আলেকজান্ডার এর তিন অন্তিম অভিপ্রায়

Alexander_the_Great_mosaic

মৃত্যু শয্যায় আলেকজান্ডার তাঁর সেনাপতিদের ডেকে বলেছিলেন – ” আমার মৃত্যুর পর আমার তিনটা ইচ্ছা তোমরা পূরণ করবে। এতে যেন কোনো ব্যঘাত না ঘটে.. ” আমার প্রথম অভিপ্রায় হচ্ছে – ** ” শুধু আমার চিকিৎসকেরা আমার কফিন বহন করবেন “। আমার দ্বিতীয় অভিপ্রায় – ** ” আমার কফিন যে পথ দিয়ে গোরস্থানে নিয়ে যাওয়া হবে, সেই পথে আমার কোষাগারে সংরক্ষিত সোনা, রুপা ও অন্যান্য মূল্যবান পাথর ছড়িয়ে দিতে হবে “। আমার শেষ অভিপ্রায় – ** ” আমার কফিন বহনের সময় আমার দুই হাত কফিনের বাইরে ঝুলিয়ে রাখতে হবে “। তাঁর…

Read More

তাসমিমা হোসেন, একজন​ অনন্যা

তাসমিমা হোসেন। নিজ পরিচয়ে উদ্ভাসিত এক নারী। পাক্ষিক অনন্যা পত্রিকার সম্পাদক। অনন্যা  সাহিত্য পুরস্কার আর অনন্যা শীর্ষদশ নামে দুটি পুরস্কার দিয়ে গুণী আর শীর্ষ নারীদের সম্মানিত করছেন দীর্ঘদিন ধরে।  বর্তমানে দৈনিক ইত্তেফাকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক। একাধারে নিপুণ হাতে চালিয়ে যাচ্ছেন দুটি পত্রিকা। সংসদ সদস্য ছিলেন। নারীদের নিয়ে ভাবেন, কাজ কতে চান। হাসিখুশি, আমুদে, মিশুক, দিলখোলা এই নারীর সাথে ইত্তেফাক অফিসে আলাপ করেছেন কথাশিল্পী আফরোজা পারভীন। বিশালাকার সুস্বাদু চমচম আর মোয়ায় আপ্যায়ন করেছেন।সাথে খোলামেলা কথা বলেছেন । সেই কথামালার  বিস্তারিত: আ.পা:  কেমন আছেন আপা? তা. হো: ভাল । এ বয়সে যতটুকু ভালো…

Read More

একজন সমাজ সেবক মোঃ মতিয়ার রহমান মোল্যা

মোঃ মতিয়ার রহমান মোল্যা প্রচার বিমুখ একজন মানুষ।গ্রামের বাড়ি বর্তমান শাহাবাদ ইউনিয়নের চরবিলা। চার বছর বয়সে পিতাকে হারিয়েছিলেন। উচ্চ পর্যায়ের কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না।কিন্তু জ্ঞানের ভান্ডার ছিলেন।বই পড়া তার নেশা ছিল।রুপগঞ্জ বাজারে ‘ইসলামিয়া লাইব্রেরী’ নামে একটি লাইব্রেরী ছিল। পরে যার নাম হয় ‘ন্যাশনাল লাইব্রেরী।’ওখান থেকে বই সংগ্রহ করে পড়তেন। ১৭ বছর নয়নপুর-দূর্গাপুর ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট(চেয়ারম্যান) ছিলেন।নয়নপুর স্কুল,দূর্গাপুর রাস্তা,এরকম অনেক সামাজিক ও সংস্কারমূলক কর্মকান্ড তিনি করেছেন। তখন এখনকার মতো ফলক উন্মোচন হতো না।নড়াইলে এক সময় বড় ভাই নামে পরিচিত মোঃ মতিয়ার রহমান সাদাসিধা মানুষ । কিন্তু সৌখিন ছিলেন।বঙ্গবন্ধু যখন আওয়ামীলীগ গঠন…

Read More

আরজ আলী ও লামচরি সন্দর্শনে 

দেশের ক্ষণজন্মা, স্বশিক্ষিত দার্শনিক আরজ আলী মাতুব্বর। বরিশালের লামচরি গ্রামে তাঁর নিবাস। প্রথমে কৌতূহল তারপর খোঁজখবর অবশেষে গবেষণা। আমাদের পশ্চাদপদ সমাজে তাঁকে পরিচয় করানো দরকার। তাঁর দার্শনিক তত্ত্বে সমৃদ্ধ রচনা সামগ্রি মেলে ধরাও দরকার। এই তাড়নায় ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এই টানা প্রায় ৬ বছর ধরে ঢাকা–বরিশাল যাতায়াত। উঁই–কাটা জীর্ণশীর্ণ ইতস্তত বিক্ষিপ্ত আরজ আলীর যাবতীয় পাণ্ডুলিপি এখানে সেখানে ছড়ানো ছিটানো অবস্থায় ছিল। সেগুলো কয়েক বছর ধরে অনুসন্ধানে উদ্ধার করা গেল। অতপর জীবনী রচনা করা হলে বাংলা একাডেমি’র তৎকালীন মহাপরিচালক ড মাহমুদ শাহ কোরেশী সাহেব অতি আগ্রহে তা গ্রহণ করে স্বল্পতম সময়ে…

Read More

কেন এভাবে চলে গেলেন আগরতলা ষ​ড়​য়ন্ত্র মামালার আসামী মতিউর রহমান?

লোহাগড়া উপজেলার মধুমতি তীরবর্তী মাকড়াইল গ্রামে ১৯৩৬ সালের ১লা ডিসেম্বর লেঃ মতিউর রহমান জন্মগ্রহন করেন।পিতা সুলাইমান মোল্লা গ্রামের প্রভাবশালী মাতুব্বর।গ্রামের মক্তবে লেখাপড়ার হাতেখড়ি।এলাকায় ভালো স্কুল না থাকায় ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত মাগুরার একটি স্কুলে অধ্যয়ন করেন।অংক বিষয়ে ছিলেন অত্যন্ত দুর্বল। জোকার ওস্তাদজী ইউসুফ মিয়ার তত্ত্বাবধানে গণিত শাস্ত্রের উপর দুর্বলতা কেটে যায়​। অংকে লেটার নম্বরসহ কৃতিত্বের সাথে লাহুড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয় হতে ম্যাট্রিক পাস করেন। সর্বশেষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতশাস্ত্রে এমএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজ হতে বিএড ডিগ্রি লাভের পর ১৯৬১ সালে পাকিস্তান নৌবাহিনীর এডুকেশন কোরে এসিসট্যান্ট লেফটেন্যান্ট পদে চাকুরীতে প্রবেশ করেন।…

Read More

বঙ্গবন্ধুর ছেলেবেলা

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক জীবন ছিল সংগ্রাম আন্দোলনে দীপ্ত। রাজবন্দী, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা এবং ফাঁসির আসামী, বাংদেশের স্বাধীনতার স্থপতি, প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিভিন্ন অভিজ্ঞতায় আকর্ষণীয়। জনগণের নেতা হয়ে ক্রমশ তিনি বাংলাদেশের স্থপতি,বাঙালি জাতির জনক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলেন।  ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ, টুঙ্গীপাড়া নামক এক অঁজপাড়াগায় তার জন্ম। গ্রামের ধূলিকণা- কাদামাটি, সবুজ- শ্যামল প্রকৃতির ছায়ায়, মধুমতি নদীর বাতাস বুকে নিয়ে তিনি বড় হয়ে ওঠেন। তার এ বড় হয়ে ওঠার সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থা মোটেও ভাল ছিল না। পাকিস্তানী সামরিক শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের দু:সাহসী মরণজয়ী আন্দোলনের…

Read More

এক নজরে বঙ্গবন্ধু

শেখ মুজিবুর রহমান (১৭ মার্চ ১৯২০-১৫ আগস্ট ১৯৭৫) বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ও ভারত উপমহাদেশের একজন অন্যতম প্রভাবশালি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। যিনি বাঙালির অধিকার রক্ষায় ব্রিটিশ ভারত থেকে ভারত বিভাজন আন্দোলন এবং পরবর্তীতে পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নেতৃত্ব দান করেন। প্রাচীন বাঙালি সভ্যতার আধুনিক স্থপতি হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানকে বাংলাদেশের জাতির জনক বলা হয়ে থাকে। তিনি মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সভাপতি, বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি এবং পরবর্তীতে এদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। জনসাধারণের কাছে তিনি শেখ মুজিব এবং শেখ সাহেব হিসেবে বেশি পরিচিত এবং তার উপাধি বঙ্গবন্ধু।…

Read More

সেই মহামানবের মহাউত্থান

টুঙ্গীপাড়া, গোপালগঞ্জ , ফরিদপুর । ১৭ মার্চ ১৯২০! মহামানবের শুভ আগমন! এই বাংলার ধানসিড়ির তীরে এক পর্ণ কুটিরে! উজ্জ্বল মহাকাশে জ্বল জ্বল লক্ষকোটি নক্ষত্রের সাথে সে রাতে ষোড়শী পূর্ণিমার চাঁদও কী বিনিদ্র রজনী জেগেছিল ? “….. আজি এ প্রভাতে রবির কর , কেমনে পশিল প্রাণের পর, কেমনে পশিল গুহার আঁধারে প্রভাত পাখির গান, না জানি কেনরে এতদিন পরে জাগিয়া উঠিল প্রাণ, জাগিয়া উঠিছে প্রাণ… ওরে উথলি উঠিছে বারি , প্রাণের অাবেগ প্রাণের বাসনা রুধিয়া রাখিতে নারি..!”রবির কীরণে তপ্ত হয়ে এমনি করেই কী জেগে উঠেছিলেন গোপালগঞ্জ জজকোর্টের শেরেস্তাদার শেখ লুৎফর রহমান ? ….“আমি ঢালিব করুনাধারা , আমি ভাঙিব পাষাণ কারা , আমি জগৎ প্লাবিয়া বেড়াবো গাহিয়া আকুল পাগল পারা…,এমন করেই কী উদ্বেলিত হয়েছিল পিতৃহৃদয় ? হেসে খলখল গেয়ে কলকল তালে তালে দিব তালি…কেমন হয়েছিল তাঁর আনন্দ উল্লাস ? কেউ এখন আর বেঁচে নেই যার কাছে শুনতে পারি, মাঝিরা কী গান গেয়েছিল, রাখাল বালক বাঁশির সুরে সুরে কেমনে নেচেছিল দুপুরেোদে ঢেলা ভরা মাঠে সেদিন ! পাখিরা কেমন করে কূজনে মেতেছিল !‘কেতকী কী কথা কয়েছিল কাননে কামিনীর কানে কানে’ !কুলকুল গানে তর তর করে বাংলার নদী কেমনে মিলেছিল সাগর সঙ্গমে ! কেউ কী জানতো শেখের ঘরে বাতায়নপরে সেদিন যে অরুণরবি নেমে এসেছিল সেই জাগিয়ে তুলবে বাঙালিকে হাজার বছরের ‘পান্তা ঘুম’ থেকে ? শেথের বেটার সেই ‘বড় খোকা’ নভো থেকে রবিটাকে উপড়ে এনে বসিয়ে দেবে বাঙলার চির সবুজ পটে ধান সিঁড়ির তীরে ! কেউ কী ভেবেছিল ? ঝিঙ্গে বেগুন পুঁই ডাটা ইলিশ পুটি খাওয়া সেই বাঙালি, সেই বাঙ্গাল, ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে ফুটো চালে আকাশ দেখা সেই কাঙাল সভ্যতার আকাশ ছুঁয়ে তরতাজা হয়ে কোটি কন্ঠে শত কোটি বছর গাইবে অমর কবির গান , “আমারসোনার বাংলা আমি তোমায় ভালেবাসি” ! কেউ কী ভেবেছিল ? বাঙালি  লড়বে , মরবে মারবে, লক্ষপ্রাণ লুটিয়ে পড়ে মায়ের মাথায় মুকুট দিতে বিজয় কেড়ে আনবে ! কেউ কী ভেবেছিল? দোয়েল নাচবে ফিঙে নাচবে, শাপলা ফুটবে, কাঠাল পাকবে !বাঘের গর্জনে পৃথিবী কাঁপবে! বাঙালি হাসবে চাঁদের হাসি ! আলোয় আলোয় ভরিয়ে দেবে বাংলার ভুবন পূর্ণশশী ! বাঙালি কাঁদবে না অার পেটের জ্বালায় ! শিশুরা নেচে গেয়ে লাফিয়ে ঝাপিয়ে সদা হেসে হবে কুটি কুটি! নগ্নশিশু ক্ষুধায় ক্লান্ত, চোখ ছল ছল, বলবে না কভু কেঁদে কেটে, ওরে তোরা ‘দ্যাখ্ এসে, “পূর্ণিমার চাঁদটা যেন ঝলসানো রুটি“!‘শুক্লপক্ষ হতে আনি রজনীগন্ধার বৃন্তখানি’ ‘কৃষ্ণপক্ষের অর্ঘথালা রাতে ‘ কে সাজিয়েছিল প্রভাত রবির চরণে ঢালা নৈবেদ্য থালা খানি ? কে পরিয়েছিল লাঞ্ছিত মায়ের গলায় বিজয় মালা ? কে মুছিয়েছিল ধর্ষিত বোনের অশ্রুধারা! না খাওয়া শিশুর পেটের জ্বালা? কে সে ? কোন সে মহামানব ? সবাই জানে । শিশুও জানে । মাঝিও জানে ।কৃষক জানে , শ্রমিক জানে ।গুরু জানে শিষ্য জানে বিজ্ঞানী জানে।কবি জানে, লেখক জানে সাংবাদিক জানে ।ডাক্তার জানে জজ ব্যারিস্টার উকিল জানে। আমলা জানে কামলা জানে। ফকির জানে বেশ্যা জানে , মাতাল জানে । চোর বাটপার, ধর্ষক খুনি ভুমি দস্যূ, ঘুষখোর সুদখোর কালো বাজারি ? তারাও জানে! নারী পুরুষ বৃদ্ধ যুবক সবাই জানে। কী জানে ? একথা জানে তারা ! টুঙ্গি পাড়ার শেখের ঘরে সেই খোকাটা জন্ম না নিলে এই বাংলাদেশ একাত্তরে স্বাধীন হ’ত না। কিন্তু একথা কতজনে জানে যে শেখের পুত শেখ মুজিব যদি না ফিরতো স্বদেশে ১০ জানুয়ারি ‘৭২, তা হলে বাংলাদেশ মুক্ত হলেও স্বাধীন হ’ত না। স্বাধীন হয়েও স্বাধীন হ’ত না! স্বাধীনতা মানে কী ? স্বাধীনতা কী কেবল মাতাল কবির মতলবি গান ? ঘুষের টাকায় সুদের খাতায় হীরা মুক্তা মানিরক্যর মচ্ছব? কত রক্তদিলো পোলান্ড হাঙ্গেরী, শ্লোভাকিয়া, জার্মানি, জাপান, অষ্ট্রিয়া !২য় মহা সমরে লক্ষ-কোটি প্রাণ দিলো জার্মানি জাপান শ্লোভাকিয়া ! তারা কী পেলো অাজও শৃঙ্খলমুক্ত প্রকৃত স্বাধীনতা ! সার্বভৌমত্ব ? আপোসের প্রস্তাব দিয়েছিল সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান, নিক্সন -হেনরি কিসিঞ্জারের প্রত্যক্ষ মদদে । “৬দফা নিয়ে এত লড়লে মুজিব! স্বাধীনতার বায়না ছেড়ে দাও ! নগদ যা পাও তাই নিয়ে ঘরে ফিরে যাও । নইলে অবধারিত মৃত্যু! মাটিটাও জুটবেনা নিজ দেশে। কারাগারের ছোট্ট কুঠরির বাইরেই তোমার কবর খুড়ে রেখেছি”। বললেন ইয়াহিয়া – ভুট্টো।পিছন থেকে তাদের মুনিব বললেন , স্বাধীনতাটাও যাতে পাও সেটাও দেখবোখনি ! আমি আছি না ? মুজিব বললেন, কাপুরুষ মরে শতবার ! বীর মরে একবার !জান কবুল !কিন্তু স্বাধীনতার একচুল কমেও কোন নিষ্পত্তি হবে না। স্বাধীনতা বিনে কে বাঁচিতে চায়? স্বাধীনতা ! স্বাধীনতা! স্বাধীনতা ! NOTHING SHORT OF INDEPENDENCE , FREEDOM AND SOVEREIGNTY! শেখ মুজিব গাইলেন নজরুলের গান, বলবীর চির উন্নত মম শির ! শির নেহারি আমারি নত শির শিখর হিমাদ্রির।বল বীর ….. পৃথিবী দেখেছিল চোথ মেলে , ভারতবর্ষে হিমালয়ের পাশেই আকাশ ছুঁয়ে জেগেছে ততোটাই উঁচু আর এক হিমালয়!তেমনি স্পর্ধিত শিখরে শিখরে, চূড়ায় চূড়ায়। একই নাটক চলছিল তখন কলকাতায়।ঘসেটি বেগমের ফেলে যাওয়া সেই কাশিমবাজার কুঠিতে । মীর জাফর,  রায় চাঁদ রায়বল্লভের প্রেতাত্মাদের মুখেও সেই একই সংলাপ : চলো বাড়ি ফিরে যাই । তা কী হয় বিশ্বাসঘাতক ? আমাদের যে স্বাধীনতা চাই,! মুজিবও চাই ! বাংলাদেশও চাই ! এক চুলও তাতে ছাড় নাই ! “রক্ত যখন দিতে শিখেছি আরও রক্ত দেবো, দেশকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাল্লাহ” ! মরণজয়ী মুক্তিযোদ্ধাদের লাথো কন্ঠ গর্জে উঠেছিল বজ্রনিনাদে মুজিবের সেই বাণী! সাতই মার্চ !রেসকোর্স মাঠের উত্তাল জনসাগর !বজ্রকন্ঠে রাজনীতির কবির মুক্তিযুদ্ধের মহাকাব্য পাঠ ! সে কী ভুলা যায় ? পূর্ব পশ্চিম উত্তর রণাঙ্গন গর্জে উঠেছিল ! আর কত রক্ত চাই ? আর কত প্রাণ চাই ? বলো,বলো ! দেবে আরও রক্ত আরও দেবে প্রাণ! দক্ষিণে, বঙ্গোপসাগর ফুঁসে উঠেছিল সুনামি জাগরণে! সপ্তডিঙ্গা মরণতরীর উঁচু শির নুয়ে পড়েছিল । কাগুজে বাঘ পালিয়েছিল লেজ গুটিয়ে ! বাঙালি জাতির পিতা , হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৮ তারিখ পাকিস্তানের মৃত্যু কূপ থেকে বেরিয়ে ৩০ লাখ শহীদের রক্তে ভেজা, লাখো নারীর অশ্রুসিক্ত স্বদেশের মাটিতে ফিরে আসলেন ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ ! আসার পথে দুঃসময়ের পরম বন্ধু ভারতের মাটি ছুঁলো তাঁর বিমান ! পালাম বিমান বন্দরে ভারতের মহামা্ন্য রাষ্ট্রপতি শ্রী ভিভি গিরি মহান অতিথিকে বহনকারী বিমানের সিঁড়ির কাছে এসে অভ্যর্থনা জানালেন স্বাধীন সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রেসিডেন্ট মুজিবকে। প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী অল্পদূরত্বে রচিত সংবর্ধনা মঞ্চে হাজার হাজার উল্লসিত মানুষের তুমুল হর্ষধ্বনির মধ্যে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার নতুন সূর্যকে অভিবাদন জানিয়ে বললেন, আমি তিনটে কথা দিয়েছিলাম বন্ধু ।১. দুর্গত মানুষকে অন্নপানি দেবো, ওষুধ পথ্য দেবো, আশ্রয় দেবো ২. মুক্তিযোদ্ধাদের ট্রেনিং দেবো , অস্ত্র দেবো,সাজ সরঞ্জাম সহায় সম্বল দেবো অার ৩. মুজিবকে এনে দেবো রাবনের স্বর্ণ লঙ্কা পুড়িয়ে! অামি কথা রেখেছি। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভারতের মহামান্য রাষ্ট্রপতি শ্রী ভিভি গিরি, প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী এবং ভারতের সরকার ও জনগণকে জাতির পক্ষ্ থেকে গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বললেন, অামার একদফা ছিল স্বাধীনতা । আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। এখন একটি সুখী সমৃদ্ধশালী দেশ গড়তে চাই ১. গণতন্ত্র, ২. সমাজতন্ত্র. ৩.ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ৪. বাঙালি জাতীয়তাবাদকে ভিত্তি করে। সাড়ে সাতকোটি মানুষের আনন্দাশ্রু ভেজা ভালোবাসায় অভিসিক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু স্বাধীন স্বদেশে গণপ্রজাতন্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিলেন । ৩ মার্চ ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী পৃথিবীর বুকে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো বিজিত দেশ ছেড়ে স্বদেশে ফিরে।১৩ মা্র্চ ৫০০ সেনার শেষ দলটিও দেশে ফিরে গেলো।বাঙালির ভালোবাসা রইলো তাদের সাথে।১৫ হাজার শহীদ ভারতীয় সৈন্যের স্মৃতি রইলো বাংলার মাটিতে মিশে।১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে শুভেচ্ছার অর্ঘথালা পাঠালেন শ্রমিতি ইন্দিরা গান্ধী।  

Read More