সেই সব নানারঙের দিনগুলি-২: সুন্দর তুমি চক্ষু ভরিয়া এনেছ অশ্রুজল/ শামসুল আরেফিন খান

পৃথিবীর যত অন্ধকার  আছে সবই আলোর কাছে হার মানে।তাইতো গুণীজনেরা বলে  থাকেন, রাতের আঁধার যত ঘনঘোর হবে , ভোর হবে ততো উজ্জ্বল। ঊষার আলোর উদ্ভাস হবে ততোই তীক্ষ্ণ তীব্র।- “উষার দুয়ারে হানিয়া আঘাত /  আমরা আনিব রাঙা প্রভা/ ,আমরা টুটাব তিমির রাত / বাধার বিন্ধ্যাচল/ নবজীবনের গাহিয়া গান/ সজীব করি মহাশ্মশান/ আমরা দানিব নতুন প্রাণ”। কিন্তু পৃথিবীর সব আলো যদি অন্ধকারের কাছে হেরে যায়  তাহলে ? তাহলে কী হবে? মহাপ্রলয়ে পৃথিবী কী ধ্বংস হয়ে যাবে? অন্ধবিশ্বাসের  ন‘মণ বোঝা নিয়ে জ্ঞানপাপী ও মূর্খের দল খুব সরব, উচ্চকন্ঠ , সোচ্চার।কলহ বিবাদে দ্বন্দ্ব…

Read More

রাজনৈতিক উত্তরণ ও নারী অধিকার

বর্তমানে আমরা একটা বিশ্বগ্রাম বা গ্লোবাল ভিলেজে বসবাস করছি। আমাদের সাংস্কৃতিক যোগাযোগ অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি। মানবজাতির অর্জন ও সাফল্য বর্ণনা করে শেষ করা যাবে না। এতো সত্ত্বেও সবসময় একটা কৌতীহলোদ্দীপক প্রশ্ন সামনে এসে দাঁড়ায়। কোন ধরনের সমাজ নারী বান্ধব? তার মানে কোন ধরনের  শাসন ব্যবস্থায় নারী সবচেয়ে নিরাপদ? কেননা, আমাদের জানা ইতিহাসে নারীর নিরাপদ জীবন কোথাও কোনদিন ছিল না। এমন কি সমাজ ও রাষ্ট্রে নারীর অংশগ্রহণকে কটাক্ষের চোখে দেখা হতো। নারী জীবনের সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো পারিবারিক সহিংসতা।   ইতোমধ্যে সমাজ অগ্রগতির পথ পরিক্রমায় অনেক ধরনের শাসন…

Read More

সেই সব দিনগুলি-১: চিহ্ন তব পড়ে আছে তুমি হেথা নাই/ শামসুল আরেফিন খান

পরম প্রিয় সুহৃদ শুভ হঠাৎ করেই চলে গেলো। আমার ছোটবেলার আর কোন অকৃত্রিম বন্ধুই সপ্রাণ স্পন্দিত  রইলোনা এই রূঢ় পৃথিবীতে। ।কুসংস্কৃার ও মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে সরব, চিন্তাশীল লেখক কবি সাংবাদিক নিবন্ধকার ও অন্ধ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অনমনীয়  আপোসহীন যোদ্ধা আমার পরমপ্রিয় সাথীর অনুপস্থিতিতে আজ এ বয়সে যেন বড় একা হয়ে গেলাম।পাঠকের মনের সব   অন্ধকার সরাতে ইতিহাসের  উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত টেনে অসির চাইতে ক্ষিপ্র মসি চালিয়েছে যে অক্লান্ত   কলমযোদ্ধা , সে চলে গেলো অনেক অন্যায়-বঞ্চনার অভিমান নিয়ে। কলমযুদ্ধে অপরাজিত  সৈনিক জীবনযুদ্ধেও কখনও হার মানেনি।আপোস করে বিবেকের একইঞ্চি জমিনও ছাড়েনি আমার পরমপ্রিয়  বন্ধু শুভ রহমান।স্বচ্ছ…

Read More

আমার দেখা ঈদ/ অনুপা দেওয়ানজী

আমাদের যুগে আমরা কী ঈদ, কী দুর্গাপূজা, কী নববর্ষ সব ধরণের উৎসব খুব  খোলামেলাভাবেই উদযাপন করতে করতে বড় হয়ে উঠেছি। ধর্ম সেখানে কখনোই প্রত্যক্ষ প্রভাব বিস্তার করতো না। সবাই সবার ধর্ম বিশ্বাসের ওপরে  গভীর আস্থা বা শ্রদ্ধাবোধের মধ্যে বেড়ে উঠেছি। মূলত পরিবার, পরিবেশ আর শিক্ষাঙঙ্গন থেকে আমরা এই শিক্ষার মূলমন্ত্র পেতাম । ভিন্ন সম্প্রদায়ের  ধর্মীয় উৎসবের প্রতি পরস্পরের এই  নির্মল অংশগ্রহণ আমাদের দিয়েছে অফুরন্ত এক সজীবতা আর অসাম্প্রদায়িক এক  মনোভাব। কালের প্রবাহে আমি  যেন কোথায় হারিয়ে ফেলেছি  সেই সব দিনগুলি। মনে মনে ভাবি, কিভাবে হারালো আমার দেখা সেইসব আন্তরিক দিনগুলি?…

Read More

রাষ্ট্র, পরিবার, শিশু ও চাকরিজীবী নারী

একটি রাষ্ট্রে হাজার-লক্ষ-কোটি মানুষের বাস। এই রাষ্ট্রযন্ত্রকে কেন্দ্র করে সমাজ আবর্তিত হয় আর সমাজকে ঘিরে আবর্তিত হয় পরিবার। মানুষ পরিবার কেন্দ্রিক; পরিবারের সদস্যদের ঘিরেই আবর্তিত হয় মানুষের চাওয়া-পাওয়া, সুখ-দুঃখের হিসাব-নিকাশ! স্বামী স্ত্রী এবং সন্তান নিয়ে একটি পরিবার বা সংসার তৈরি হয়। কখনও কখনও কোন কোন পরিবারে  বাবা-মা-দাদা-দাদি বা অন্যান্য সদস্য থাকে। বর্তমানে যৌথ পরিবারের সংখ্যা খুব কম; নেই বললেই চলে। তাছাড়াও সন্তান নেওয়ার বিষয়ে আছে পরিকল্পনা; সেখানে একটি দুটি সন্তানই যথেষ্ট বলে মনে করে যে পরিবার সে পরিবারগুলো স্বাভাবিকভাবেই ছোট থেকে যায়! মনের বিবর্তন অর্থাৎ মানসিক অবস্থার পরিবর্তনের ফলে মানুষের…

Read More

আমার আমি ৫/ফিরোজ শ্রাবন

আমার আমি ফিরোজ শ্রাবন

প্রতিদিন রুটিন মতো সব ভাইবোন একসাথে পড়তে বসা আর বিকেল হলে হাত মুখ ধুয়ে হারিকেনের চিমনী ধুয়ে পড়ার টেবিলে বসা অনেক বিরক্তিকর ছিল। আবার জোৎন্সারাতে যখন নিজেকে দেখতাম পড়ার টেবিলে আর বাড়ির অন্যরা উঠানে গল্প আর খেলায় মত্ত তখন নিজেকে বন্দী পাখি মনে হত। তাই শুধু  অপেক্ষা করতাম কখন রাতের খাবারের জন্য ডাক আসবে। রাতের খাবার খেয়ে আবার পড়তে বসলে পড়ার টেবিলেই ঘুম চলে আসত। আর বই বন্ধ করে বসে থাকতাম কখন যেন ঘুমের মধ্যেই বিছানায় চলে যেতাম নিজেও জানতাম না। সকালে ঘুম ভেঙ্গে দেখতাম নিজের বিছানায় আর অবাক হতাম…

Read More

গ্রন্থাগার, পাঠ সংকট /মানসুর মুজাম্মিল

গ্রন্থাগার, পাঠ সংকট

শেখার জায়গা হলো বই । জানার জায়গা বই । পাঠাগার জ্ঞানের অন্যতম উৎস । বই কিনে পড়ার মতো অবস্থা সবার থাকে না । আর কটা বই বা কেনা যায় ? কিনে রাখার মতো পরিবেশ কই । মানুষের দু’রকম খাদ্য প্রয়োজন । খাবার যাবে পেটে । বুদ্ধি যাবে মাথায় । আমরা খাবারের পিছে যা খরচ করি তার ১% ও যদি বই কেনার পিছে দিতাম !   কখনো কখনো দেখা যায় পাঠাগার আছে পাঠক নেই । তবে কী ওখানে পাঠারা থাকবে ? পাঠারা কথা বলতে পারে না । উদ্ভাবন করতে জানে না…

Read More

আজ পহেলা বৈশাখ

আজ পহেলা বৈশাখ ফিরোজ শ্রাবন

গাছে গাছে আমের মুকুল দেখে ভাবি পহেলা বৈশাখ এলো বলে। গ্রামে একটা সুন্দর ব্যাপার হল প্রকৃতি আপনাকে বলে দেবে এখন কোন কাল চলছে গ্রীষ্ম, বর্ষা, নাকি শরৎকাল। তবে অনেকে হয়ত ১৪২৫ বঙ্গাদে এসে বলবেন, এখন প্রকৃতির রূপ নির্ণয় করা কঠিন । সত্যি কথা যাই হোক, গ্রামে আমরা সাধারণত গাছের মুকুল দেখেই ভাবতাম বৈশাখ এলো বলে। কিন্তু কবে আসবে তা জানার জন্য বড়দেরকে প্রতিনিয়ত বিরক্ত করতে হত । কারণ পহেলা বৈশাখ মানে কিন্তু বৈশাখীমেলা । আমি সব কিছু ভুলতে পারি বৈশাখীমেলার কথা ভুলতে পারবো না । শৈশবের এই আনন্দের দিন কি…

Read More

বৈশাখ আমাদের খরতাপে ঝড়

বৈশাখ আমাদের খরতাপে ঝড় ড. শাহনাজ পারভীন

‘বৈশাখ’ হলো বঙ্গাব্দ বা বাংলা সনের প্রথম মাস । এটি নেপালি পি কা ক্রিম সম্বৎ ও পাঞ্জাবি নানকশাহি পঞ্জিকার প্রথম মাস। গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জির এপ্রিল মাসের শেষার্ধ ও মে মাসের প্রথমার্ধ নিয়ে বৈশাখ মাস। বৈদিক পঞ্জিকায় এই মাসকে মাধব মাস এবং বৈষ্ণব পঞ্জিকায় একে মধুসূদন মাস বলে। অধিকাংশ বাংলা মাসের নামকরণ হয়েছে নক্ষত্রের নামে। বৈশাখ শব্দটি এসেছে বিশাখা নামক নক্ষত্রের নামে। এই মাসে বিশাখা নক্ষত্রটিকে সূর্যের কাছে দেখা যায়। বৈশাখ মাসের প্রথম দিনটি বাংলা নববর্ষ। এই দিনটি বাংলাদেশে ‘পহেলা বৈশাখ’ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্যে ‘পয়লা বৈশাখ’ নামে পরিচিত।…

Read More

ঘুরে আসি ঋগ্বেদের যুগ

ঘুরে আসি ঋগ্বেদের যুগ অনুপা দেওয়ানজী

ঋগ্বেদের যুগ কেমন ছিলো? এ প্রসঙ্গে আমাদের অদ্ভূত একটা ধারণা আছে।   সে ছিলো বটে এক সত্যযুগ। তখন মানুষ মিথ্যে বা পাপ কাকে বলে জানতো না।দুঃখ বা দারিদ্র্য ছিলোনা।  দেবতারা নেমে আসতেন মর্ত্যে। মানুষের সাথে তাঁদের মুখোমুখি বসে কখা হতো। আসলেই কি তাই? চলুন একবার দেখে আসি ঋগ্বেদের সময়ে মানুষের জীব যাত্রা কেমন ছিলো? বইয়ের পাতা ওলটালে দেখতে পাই এটি রচিত হয়েছিলো ১২০০- ৯০০ খৃস্টপূর্বে। পন্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বলছে,ন ঋগ্বেদ একটি কবিতা সংকলনগ্রন্থ।      গ্রীক স্তবের মতো এই গ্রন্থের তিন অংশ। যেখানে রয়েছে    দেবতার রূপ, আপ্যায়ন আর প্রার্থনা। দেবতার রূপে…

Read More