লাস্ট ডিজিট ৫৬/ রনি রেজা

মোবাইল ফোনটা বেজেই চলছে। বিরক্তিকর ব্যাপার। যখন একটু তাড়াহুড়া লাগে তখন ফোনও বেয়াড়া হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠান শুরু হবার কথা সকাল ১০টায়। ইতিমধ্যে ৮টা বেজে গেছে। এখনই বের না হলে সময়মতো পৌঁছানো যাবে না। এখনও আবার শাড়ী পড়া হয়নি। একা একা শাড়ী পড়ার অভ্যেস খুব একটা নেই। সব মিলিয়ে মেজাজ খিটমিট অবস্থা। বিরক্তি সহকারে মোবাইল ফোনটা হাতে নেয় অনামিকা। ওমনি বুক ধুকপুক অবস্থা। স্ক্রিনে ভাসছে সেই পরিচিত লাস্ট ডিজিট ৫৬। হ্যাঁ সাগরই। শান্ত সাগর। চার বছর আগে এ নম্বর থেকে ফোনের জন্য নিয়মিত অপেক্ষা করতো অনামিকা বারী। এখনো কি করে না?…

Read More

স্বার্থপর/ দীলতাজ রহমান

আমি আমার মা-বাবার একমাত্র সন্তান। আমার বাবা সরকারের একজন ডাকসাইটে আমলা। অর্থবিত্ত, ব্যক্তিস্বাধীনতার কখনো কোনো অভাব ছিলো না আমার জীবনে। আমার বাবার একটিমাত্র ভাই ছিলেন। তিনি বহু বছর আগে মারা গেছেন নিঃসন্তান অবস্থায়। সেই সূত্রে আমার বাবা তার পৈতৃক সম্পত্তিরও একচ্ছত্র অধিপতি। আর সেসব সম্পত্তি তিনি আগলেও রেখেছেন  প্রবলপ্রতাপে। গ্রামের বিশাল বাড়িটিতে এতদিন পাহারায় নিয়োজিত থেকেছেন আমার চাচার বিধবা স্ত্রী। সেখানে আরো আছে একদঙ্গল চাকর-দাসী, গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগী, কুকুর-বেড়াল। এদের সবার মধ্যে চাচিআম্মাই ছিলেন সর্বেসর্বা। কিন্তু কস্মিনকালে দামি গাড়িটি হাঁকিয়ে আমরা যখন গ্রামে যাই, আমার বাবা-মায়ের দাপটে বাড়ির মানুষগুলোও কুকুর-বেড়ালে পরিণত…

Read More

মানুষ থাকে না তার নামের ভেতর/ সালেম সুলেরী

বলোতো মানুষ, নামের ভেতরে সেই অভিধান চাপা পড়া নামের মানুষ কই? রঙিন প্রচ্ছদ হয়ে নামের পোশাক আছে অথচ নামের শিকড়, আদ্যপান্ত ক’জন খুঁজি?   আকীকা নামের হয়, শুভ দেখে– নামজারি দেহের জমিন, হয়তোবা নাম হলো– সবিনয়, অথচ জীবন তার মার মার উন্মত্ততার, পাড়া জ্বালাবার, ডাক দেয় কারাগার…   এরকম বন্দিদশা শ’য়ের ভেতর নিরানব্বই নামের, কত যে রাজকুমার আস্তাবল–পিজরাপোলের কোচোয়ান দারোয়ান সেজে তামুক সাজায়, চোখকাড়া ব্রততী তার রূপের রগড় ছেড়ে ব্রত নেয়– আমৃত্যু পাগল কণ্ঠ–কবিতায়।   সব নাম শুভ নাম– তবু কেনো শুভহীন পরিণাম! মানুষ কী তার নাম ভুলে যায়– নামের…

Read More

মহীরুহ তোমার দৃঢ় ঘোষণায়/ ড. নিগার চৌধুরী

দু’চোখের তারায় বঙ্গোপসাগরের দ্রোহের বিস্তার হৃদয় জুড়ে আকাশের  অসীমতা যার দিগন্ত রেখা চোখে পড়ে না। বিসুভিয়াসের উত্তপ্ত অগ্নিলাভার মতো নির্গত বাক্যে বাক্যে প্রতিপক্ষের বাংকার ব্যারিকেট ভেঙ্গে চুরমার তর্জনি উঁচিয়ে উচ্চারিত নির্দেশ যখন বজ্র হয়ে যায় মানবো না বলে এমন সাধ্যি, স্পর্ধা আছে কার। হিমালয় সম, অনঢ় নিশ্চল দাঁড়িয়ে থাকা সেই মহামানবের দৃঢ় ঘোষণা ‘আমি দুখি মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চাই।’ মুহূর্তে সুখ উবে যায় সুখি মানুষগুলোর অতি তৎপর ওরা বসে থাকে না। বুলেটে বুলেটে ক্ষতবিক্ষত হয়ে দুখি মানুষের স্বপ্ন। পদ্মা মেঘনা যমুনার রক্তাক্ত জলে সেই থেকে সুখি মানুষগুলো সাঁতার কাটার…

Read More

একজন জরিনা/ আফরোজা অদিতি

ঈদ উপলক্ষে ছোট-বড়-মাঝারি দোকান, ফুটপাত সেজে উঠেছে নানা রকমের নতুন পোশাকে; এমন কি ভ্যানগাড়িতে করেও জামা-কাপড় বিক্রি হচ্ছে; বস্তির সামনেও ভ্যানগাড়িতে বসেছে বাজার। অনেকেই কিনছে তবুও বাচ্চা দুটো তাকিয়ে তাকিয়ে দেখছে কিন্তু কোন আবদার করছে না! জরিনা একটা ছোটখাটো গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে চাকরি করে। বেতন যা পায় তা দিয়ে বাসা ভাড়া, খাওয়াই ঠিকমতো হতে চায় না, নতুন কাপড় কোথা থেকে হবে; তবুও মায়ের মন, ইচ্ছা করে ঈদ-পরবে ছেলেমেয়েকে নতুন পোশাকে সাজাতে। চিন্তিত বিষণ্ন জরিনা কাজ করছিল; ওভারটাইম করছে ছেলেমেয়ের নতুন জামা কেনার জন্য; ভেবেছিল ঈদের আগে বোনাস পাবে কিন্তু সে ভরসা…

Read More

আমার দেখা ঈদ/ অনুপা দেওয়ানজী

আমাদের যুগে আমরা কী ঈদ, কী দুর্গাপূজা, কী নববর্ষ সব ধরণের উৎসব খুব  খোলামেলাভাবেই উদযাপন করতে করতে বড় হয়ে উঠেছি। ধর্ম সেখানে কখনোই প্রত্যক্ষ প্রভাব বিস্তার করতো না। সবাই সবার ধর্ম বিশ্বাসের ওপরে  গভীর আস্থা বা শ্রদ্ধাবোধের মধ্যে বেড়ে উঠেছি। মূলত পরিবার, পরিবেশ আর শিক্ষাঙঙ্গন থেকে আমরা এই শিক্ষার মূলমন্ত্র পেতাম । ভিন্ন সম্প্রদায়ের  ধর্মীয় উৎসবের প্রতি পরস্পরের এই  নির্মল অংশগ্রহণ আমাদের দিয়েছে অফুরন্ত এক সজীবতা আর অসাম্প্রদায়িক এক  মনোভাব। কালের প্রবাহে আমি  যেন কোথায় হারিয়ে ফেলেছি  সেই সব দিনগুলি। মনে মনে ভাবি, কিভাবে হারালো আমার দেখা সেইসব আন্তরিক দিনগুলি?…

Read More

রাষ্ট্র, পরিবার, শিশু ও চাকরিজীবী নারী

একটি রাষ্ট্রে হাজার-লক্ষ-কোটি মানুষের বাস। এই রাষ্ট্রযন্ত্রকে কেন্দ্র করে সমাজ আবর্তিত হয় আর সমাজকে ঘিরে আবর্তিত হয় পরিবার। মানুষ পরিবার কেন্দ্রিক; পরিবারের সদস্যদের ঘিরেই আবর্তিত হয় মানুষের চাওয়া-পাওয়া, সুখ-দুঃখের হিসাব-নিকাশ! স্বামী স্ত্রী এবং সন্তান নিয়ে একটি পরিবার বা সংসার তৈরি হয়। কখনও কখনও কোন কোন পরিবারে  বাবা-মা-দাদা-দাদি বা অন্যান্য সদস্য থাকে। বর্তমানে যৌথ পরিবারের সংখ্যা খুব কম; নেই বললেই চলে। তাছাড়াও সন্তান নেওয়ার বিষয়ে আছে পরিকল্পনা; সেখানে একটি দুটি সন্তানই যথেষ্ট বলে মনে করে যে পরিবার সে পরিবারগুলো স্বাভাবিকভাবেই ছোট থেকে যায়! মনের বিবর্তন অর্থাৎ মানসিক অবস্থার পরিবর্তনের ফলে মানুষের…

Read More

জোসেফিনকে লেখা নেপোলিয়ন চিঠি   

জোসেফিনকে লেখা নেপোলিয়ন চিঠি

বিখ্যাত লোকের প্রেমপত্র/ রক্তবীজ ডেস্ক জোসেফিনকে লেখা নেপোলিয়ন চিঠি      জোসেফিন, আমার জোসেফিন, গতকাল সারাটি বিকেল কাটিয়েছি তোমার পোট্রেটের দিকে চেয়ে থেকেই। কী করে পারো তুমি বলতো এই কঠোর মনের যোদ্ধার চোখেও জল আনতে? আমার হৃদয় যদি একটি পাত্র হয়, তবে সেই পাত্রে ধারণ করা পানীয়ের নাম দুঃখ। তুমি কি তা বোঝো জোসেফিন? আবার কবে তোমার আমার দেখা হবে? সে অপেক্ষার প্রহর যেন শেষ হতেই চায় না! সে অপেক্ষায়…   তোমারই নেপোলিয়ন বোনাপার্ট স্ত্রী ক্লেমিকে লেখা উইনস্টন চার্চিলের প্রেমপত্র আমার প্রিয় ক্লেমি, আমার মন পড়ে রয়েছে মাদ্রাজের ছোট্ট এক টেবিলে,…

Read More

মনে পড়ে মনে আছে/-মাশহুদা  মাধবী

মনে পড়ে মনে আছে/-মাশহুদা  মাধবী.......

বহুদিন থেকে নেই সেই চাঁদ,/ফুল,পাখী, নদী,/ঘাস,বন,ভোরের শিশির বিন্দু/সব গেছে ঝরে।…. কতযুগ নেই দেখা,/অতি দূর কোন দ্বীপে/পথিক সেই প্রিয়জন। ভুলে গেছে সবকিছু……..। সেই  রূপকথা অতীত সময় /মাধবী কুঞ্জবীথির অচিন দুপুর আর/সেই অপরূপ  ফাল্গুনী দিন/……………………… তবু মাঝেমাঝেই কিযে হয়!/কোন সে স্মৃতি দিনের উতল বাতাস…/চুপিচুপি বলে যায়./……………… .. ভুলিনি কিছুই আজো /মনে আছে সবই সুনিপুণ /মনে পড়ে,মনে আছে/সে কি ভোলা যায়?

Read More

রবীন্দ্রনাথ/মানসুর মুজাম্মিল

রবীন্দ্রনাথ/মানসুর মুজাম্মিল

তুমি তার পাশে থাকো যে জন্মেছে তোমাকে জাগাতে যার বাড়ি জোড়াসাঁকো জোড়াসাঁকো । তুমি বারবার যার দিকে বাড়াবে হাত সে হলো তোমার প্রিয় রবীন্দ্রনাথ রবীন্দ্রনাথ । তোমার চোখকে ধাঁধিয়ে দেবে তোমার স্বপ্ন শানিয়ে দেবে তোমাকে ভাবাবে দিনরাত ‘সোনারতরী’তে আসবে সে জন রবীন্দ্রনাথ রবীন্দ্রনাথ । ‘যোগাযোগ’ করে চিঠি দেবে তুমি তার ‘ডাকঘর’এ ‘শারদোৎসব’ এ ঠিক যাবে তুমি ধর্ম তোমাকে দেবেনা ভাগ করে । লিখে লিখে তুমি পাড়া করো মাত তোমার কাঁধে হাত দিয়ে তোমাকে সাহস জোগাবে রবীন্দ্রনাথ রবীন্দ্রনাথ । তুমি যে ভাবছো তুমি যে লিখছো সে যে তোমার জাত তোমাকে টেনে…

Read More