গ্রেটওয়ালের দেশে – ২৫তম পর্ব

গ্রেটওয়ালের দেশে

ছিং হুয়াং দাও স্টেশনের বাইরে আমাদের জন্য একটি ট্যুরিস্ট বাস অপেক্ষমাণ ছিল। শহরটি একটি সমুদ্রের পাড়ে। পূর্ব চীন সাগরের সৈকত । আমাদের সকলের সমুদ্র দেখার আকুতি ছিল। বাস আমাদের সমুদ্রসৈকত লাগোয়া একটি সী-ফুড রেস্তোঁরায় নিয়ে এলো। রেস্তোঁরায় বিভিন্ন ধরণের সামুদ্রিক মাছ, কাঁকড়া, শামুক, ঝিনুক ইত্যাদি মজুদ ছিল। কিছু কিছু আইটেম রান্না করে সাজানো ছিল আবার কিছু আইটেম গরম গরম রান্না বা ফ্রাই করে দেয়া হচ্ছে। ভাত, চিকেন ফ্রাই, বিভিন্ন ফলমুল, চকোলেট, কেক, পেস্ট্রি, আইসক্রিম, ইয়োগার্ট, সফট ড্রিংক, চৈনিক বীয়ার, চৈনিক মদিরা সবই ছিল।যার যার পছন্দ মত খাবার নিয়ে বিশাল হোটেল…

Read More

রম্য কাহিনি/অনুপা দেওয়ানজী

পিঠে-রক্তবীজ-অনুপা দেওয়ানজী

শীতকাল আসলেই মা নানা রকম পিঠে বানাতেন।  ভাপা, চিতুই, চসি,পুলি , পাটিসাপটা, গোকুলপিঠা,চন্দ্রপুলি আরো কত রকমের! দিদিমার কাছ থেকে শেখা মায়ের চিতুই পিঠে বানাবার কায়দা ছিলো একেবারেই অন্যরকম। খই ভিজিয়ে সেটা পিষে নিয়ে চালের গুঁড়োর কাইয়ের সংগে মিশিয়ে সেই চিতুই তৈরি হত। পিঠেগুলি যেমন ফুলতো  তেমনি আবার মোলায়েমও হত। সে পিঠের ওপরে তারপরে ছড়ানো হত নলেন গুড় দিয়ে তৈরি করা পাতলা ক্ষীর।     ভারি চমৎকার লাগতো খেতে।   এছাড়া নারকেল কুচো আর কিশমিশ দিয়ে রসের পায়েসও করতেন। রসের কথায় মনে পড়ছে কাঁচা রস খাবার কথা।   কোয়ার্টারের অদুরেই ছিলো পাশাপাশি…

Read More

খনার বচনে টিকটিকি তত্ত্ব

Khonar Bochon খনার বচন

আজ থেকে ১৫০০ বছর পূর্বে জন্ম নেওয়া ইতিহাসের এককিংবদন্তি ‘খনা’ বা ‘ক্ষণা।‘ কোন এক শুভক্ষণে তার জন্মবলে নাম দেওয়া হয় ‘ক্ষণা।‘ আর ‘ক্ষণা‘ থেকেই ‘খনা‘ নামের উৎপত্তি বলে মনে করা হয়। খনা ছিলেন সিংহলরাজার কন্যা। কথিত আছে, খনার আসল নাম লীলাবতী।তিনি ছিলেন জ্যোতির্বিদ্যায় পারদর্শী। তাঁর রচিতভবিষ্যতবাণীগুলোই মূলত ‘খনার বচন’ নামে আমরাজানি।   দিকের নির্ণয় করি বুঝহ সুবুদ্ধি ঊর্ধভাগে হলে ধন ভোগ কার্যসিদ্ধি। পূর্বদিকে অগ্নিকোণে হলে ভয় হয় দক্ষিণেতে অগ্নিভয় জানিহ নিশাচয়। নৈঋুতে কলহ লাভ পশ্চিমেতে ভাব। বায়ূকোণে নববস্ত্র, গন্ধ, জয় লাভ। টিকটিকি আর হাঁচি যদি এক যোগ হয় স্ত্রী লাভ কারণে তাহা জানিবে নিশ্চয়। উত্তরে টিকটিকির ডাকে সুখলাভ কারণ ঈশানে হৈলে মৃত্যু কে করে বারণ।   খনার বচনে গর্ভবতীর পেটের সন্তানের জেন্ডার নিরুপণ বা খনার বচনে গর্ভস্থ সন্তানের স্বরূপ নির্ণয় পদ্ধতি: বানের পেটে দিয়ে বান পেটের ছেলে গুণে আন। নামে মাসে করি এক আটে হবে সন্তান দেখ। এক তিন থাকে…

Read More

আজ পহেলা বৈশাখ

আজ পহেলা বৈশাখ ফিরোজ শ্রাবন

গাছে গাছে আমের মুকুল দেখে ভাবি পহেলা বৈশাখ এলো বলে। গ্রামে একটা সুন্দর ব্যাপার হল প্রকৃতি আপনাকে বলে দেবে এখন কোন কাল চলছে গ্রীষ্ম, বর্ষা, নাকি শরৎকাল। তবে অনেকে হয়ত ১৪২৫ বঙ্গাদে এসে বলবেন, এখন প্রকৃতির রূপ নির্ণয় করা কঠিন । সত্যি কথা যাই হোক, গ্রামে আমরা সাধারণত গাছের মুকুল দেখেই ভাবতাম বৈশাখ এলো বলে। কিন্তু কবে আসবে তা জানার জন্য বড়দেরকে প্রতিনিয়ত বিরক্ত করতে হত । কারণ পহেলা বৈশাখ মানে কিন্তু বৈশাখীমেলা । আমি সব কিছু ভুলতে পারি বৈশাখীমেলার কথা ভুলতে পারবো না । শৈশবের এই আনন্দের দিন কি…

Read More

বৈশাখ আমাদের খরতাপে ঝড়

বৈশাখ আমাদের খরতাপে ঝড় ড. শাহনাজ পারভীন

‘বৈশাখ’ হলো বঙ্গাব্দ বা বাংলা সনের প্রথম মাস । এটি নেপালি পি কা ক্রিম সম্বৎ ও পাঞ্জাবি নানকশাহি পঞ্জিকার প্রথম মাস। গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জির এপ্রিল মাসের শেষার্ধ ও মে মাসের প্রথমার্ধ নিয়ে বৈশাখ মাস। বৈদিক পঞ্জিকায় এই মাসকে মাধব মাস এবং বৈষ্ণব পঞ্জিকায় একে মধুসূদন মাস বলে। অধিকাংশ বাংলা মাসের নামকরণ হয়েছে নক্ষত্রের নামে। বৈশাখ শব্দটি এসেছে বিশাখা নামক নক্ষত্রের নামে। এই মাসে বিশাখা নক্ষত্রটিকে সূর্যের কাছে দেখা যায়। বৈশাখ মাসের প্রথম দিনটি বাংলা নববর্ষ। এই দিনটি বাংলাদেশে ‘পহেলা বৈশাখ’ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্যে ‘পয়লা বৈশাখ’ নামে পরিচিত।…

Read More

এসো হে বৈশাখ

এসো হে বৈশাখ আফরোজা পারভীন

চৈত্রদিনের শেষে তোমার আগমনী বার্তা শোনা গেল। তুমি এলে দুর্ধর্ষ এক আশ্বারোহীর মত সকল জারাজীর্ণতাকে পায়ে সরিয়ে রিক্ত ও শূন্য পত্রপল্লবে নতুনের পতাকা উড়িয়ে । তুমি আসছ আমাদের ঘরে ঘরে আশা ও আকাঙক্ষার শুভবার্তা নিয়ে রবীন্দ্রনাথের কন্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে আমরা উচ্চারণ করি, এসো হে বৈশাখ, এসো এসো। তুমি এসো হে বৈশাখ কেবল শহুরে মানুষের বিনোদনের পার্বণ হয়ে নয়, তাদের সুশোাভিত পাঞ্জাবি আর উজ্জ্বল হাসিতে নয়, মেয়েদের রংবেরঙের শাড়ির পাড় বা অলংকার হয়ে নয়, ব্যবসায়ীর নতুন হালখাতায় ভর করে নয়, সারা বছরের একটি দিনকে সমুজ্জ্বল করে কী লাভ তোমার নবীন বৈশাখ…

Read More

ঘুরে আসি ঋগ্বেদের যুগ

ঘুরে আসি ঋগ্বেদের যুগ অনুপা দেওয়ানজী

ঋগ্বেদের যুগ কেমন ছিলো? এ প্রসঙ্গে আমাদের অদ্ভূত একটা ধারণা আছে।   সে ছিলো বটে এক সত্যযুগ। তখন মানুষ মিথ্যে বা পাপ কাকে বলে জানতো না।দুঃখ বা দারিদ্র্য ছিলোনা।  দেবতারা নেমে আসতেন মর্ত্যে। মানুষের সাথে তাঁদের মুখোমুখি বসে কখা হতো। আসলেই কি তাই? চলুন একবার দেখে আসি ঋগ্বেদের সময়ে মানুষের জীব যাত্রা কেমন ছিলো? বইয়ের পাতা ওলটালে দেখতে পাই এটি রচিত হয়েছিলো ১২০০- ৯০০ খৃস্টপূর্বে। পন্ডিত হরপ্রসাদ শাস্ত্রী বলছে,ন ঋগ্বেদ একটি কবিতা সংকলনগ্রন্থ।      গ্রীক স্তবের মতো এই গ্রন্থের তিন অংশ। যেখানে রয়েছে    দেবতার রূপ, আপ্যায়ন আর প্রার্থনা। দেবতার রূপে…

Read More

পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীমুক্তির স্বপ্ন

পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীমুক্তির স্বপ্ন

নারী নির্যাতন পরিবার ও সমাজে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে একথা অস্বীকার করার উপায় নেই। যৌতুকের জন্য, ফতোয়ার শিকার হয়ে, স্বামীর পরকীয়ার কারণে, ধর্ষণ কিংবা গণধর্ষণের শিকার হয়ে,শ্বশুর-শাশুড়ি-দেবর-ননদের অত্যাচার-নির্যাতনে এ দেশের অনেক অসহায় নারীর প্রাণ চলে গেছে, এখনো যাচ্ছে। কেউ কেউ চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে সন্তানসহ গায়ে কেরোসিন ঢেলে আত্মাহুতি দিয়েছে। নারী নির্যাতন রোধে নারী সংগঠন, নারীবাদীরা এমনকি সরকারও সোচ্চার। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। উপরন্তু দিল্লিতে চলন্ত বাসে গণধর্ষণের ঘটনার পর পরই আমাদের দেশে একাধিক ঘটনা ঘটে। মানিকগঞ্জ, সাভার ও বরিশালে চলন্ত বাসে এবং সিএনজিতে এ ধরনের ঘটনা ঘটে।…

Read More

গ্রেটওয়ালের দেশে – ২৪তম পর্ব

গ্রেটওয়ালের দেশে- ৪র্থ পর্ব

চার জানুয়ারি দুহাজার সতের।মঙ্গলবার। আজ আমাদের যেতে হবে চীনের একটি ভিন্ন প্রদেশ হেবেই এর ‘ছিং হুয়াং দাও (Qinghuangdao)’-এ। এটি একটি প্রিফেকচার। প্রিফেকচার হলো একটি প্রদেশের বাইরে একটি স্বতন্ত্র প্রশাসনিক ইউনিট। ফ্রান্স, জাপান, রোমান সাম্রাজ্যে পূর্বে এ ধরণের প্রিফেকচার ছিল। আমাদের হাইস্পিড রেলগাড়ির টিকেট সংগ্রহ করা ছিল সকলের জন্যই। আমাদের ট্রেন ছেড়ে দেবে সকাল সাড়ে নটায়। আমাদের দেশের মত এখানে ট্রেনের নাম নেই, আছে নাম্বার। আমাদের ট্রেনটির নাম্বার ডি ১৮ । আমার সিট পড়েছে ৪ নং বগিতে। বগির প্রথম সারির ডানদিক থেকে দ্বিতীয় সিট। প্রথম সিটটি জানালার পাশে । পেয়েছেন একজন…

Read More

আমার আমি ৪

আমার আমি ফিরোজ শ্রাবন

প্রাইমারিতে যখন পড়তাম তখন খুব ইচ্ছা করতো এ্যাসেমব্লিং এ আমি জাতীয় সংগীত গাইব আর সবাই আমার সাথে কোরাস গাইবে। স্কুলের স্যারেরা জানতেন না আমি জাতীয় সংগীত গাইতে পারি। তো হঠাৎ একদিন সেই সুযোগটা আসলো আর আমি ও চেষ্টা করলাম। কিন্তু মনের মত গাইতে পারলাম না । তবুও আমি তখন থেকে প্রায় প্রায়ই গাওয়ার সুযোগ পেতাম সামনে দাঁড়িয়ে গাইবার জন্য। ক্লাসের ফাঁকে কোন স্যার যদি বলতো, ‘যা তো পানির জগটা ভরে নিয়ে আয়’ তখন কি যে ভাল লাগত।  ঐদিন মনে হত স্যার নিশ্চয়ই আমাকে পছন্দ করে তা না হলে কেন আমাকে…

Read More