গ্রেটওয়ালের দেশে -১৮তম পর্ব

গ্রেটওয়ালের দেশে

যাহোক, আজ দুপুরে ফু চেং লু সড়কে অবস্থিত একটি রেস্তোঁরায় মধ্যাহ্নভোজ হলো। রেস্তোঁরাটি একটি মুসলিম রেস্তোঁরা, নাম Xi Bei Zha ma-san-Ting. রেস্তোঁরার মালকিন একজন মুসলিম লেডি। নাম –ঝু মা। তার সাথে তার বোনও দোকান চালায়। দুজনেই মাথায় স্কার্ফ পরা। তবে এ স্কার্ফ শুধু মাথার চুলই ঢেকে রাখে, ঘাড়, গলদেশ বা শরীরের কোনো অংশ নয়। মালকিন মহিলা বেশ সুন্দরী। সাধারণ চৈনিক চেহারা নয়, অনেকটা ককেশীয় মুখাবয়ব। খাবার ভাল ছিল। ফোন নং-কে চীনা ভাষায় বলে দিয়াম হুয়া। রেস্তোঁরার বিজনেস কার্ড চাইলে সে চীনা ভাষায় দিয়াম হুয়া লিখে দিল ০১০ ৬৫৪৩২০০৯। প্রসঙ্গত একটা…

Read More

মিতুদি সিরিজ- ১১

মিতুদি সিরিজ-৪

চাল ঝাড়া শেষ হলে হালিমা বললো, আমরা তো আর খুদ খাবো না। কাজেই খুদগুলি তাকে দিয়ে দিতে। সে অনেকদিন নাকি বউখুদি রান্না করে খায় নি। মিতুদি শুনে বললো, বউ খুদি? তা তুই একাই খাবি নাকি ? আমাদের সবার জন্যে এখানেই রান্না করো। আমরাও খাবো।ঢাকা শহরে আমরাই বা খুদ কোথায় পাই যে বউখুদি রান্না করবো? হালিমার মুখটা একটু অপ্রসন্ন হয়ে উঠলো। সে আমার দিকে তাকিয়ে রইলো। আমি বললাম ,হ্যাঁ রান্না করো , খেয়ে দেখি তোমার হাতের বউ খুদি?   হালিমা কি আর করে! রান্নাঘরে গিয়ে বাসন পত্রের ঝনঝনানি সংগীতের সাথে সাথে…

Read More

আমাদের সুবোধ কি সত্যি পালিয়ে যাচ্ছে?

সুবোধ তুই পালিয়ে যা

“সুবোধ তুই পালিয়ে যা” শিরোনামে নিচের প্রতীকী  দেয়াল চিত্রগুলো কিছুদিন বেশ আলোচনায় ছিলো। এখনো মাঝেমধ্যে অন লাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় এগুলো নিয়ে লেখালেখি হয়। রাজধানীর আগারগাঁ ও মহাখালিসহ কয়েকটি জায়গায় রাস্তার পাশের দেয়ালে এই গ্রাফিতিগুলো আঁকা ছিলো। আগারগাঁর সামরিক যাদুঘরের দেয়ালে আঁকা চিত্রগুলো মিরপুর থেকে বাসে আসা-যাওয়ার সময় আমার মতো অনেকেরই চোখে পড়তো। চিত্রগুলো রহস্যপূর্ণ। দেখে বোঝা যায় আনাড়ি হাতের নয়, বরং দক্ষ ও মেধাবী শিল্পীর কাজ। স্বদেশে দুর্বৃত্তের কাছে সহজ-সরল ও সুবুদ্ধিসম্পন্ন ভালো মানুষের পরাজয় এ চিত্রগুলোতে প্রতীকিভাবে বোঝানো হয়েছে, বুঝিয়ে ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। তবে প্রতিবাদের ভঙ্গিটা চমৎকার।…

Read More

নিউ ইয়র্কে একজন অনুপ কুমার দাস

নিউ ইয়র্কে একজন অনুপ কুমার দাস

ভাবতে খুব ভালো লাগে যে, এই শহরে অনুপ কুমার দাসের মতো একজন নৃত্যশিল্পী আছেন। শুধু নিউইয়র্কে কেন, পুরো বাংলাদেশে তাঁর মানের শিল্পী বিরল। যার নির্দেশনায় কুইন্স থিয়েটারের মতো প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নৃত্যনাট্য ‘মায়ার খেলা’। তাঁর এখানে আসার পথ কুসুমাত্তীর্ণ ছিল না। অনুপ কুমার দাস হলেন জীবনমঞ্চের সেই এ্যাথলেট, যিনি দক্ষ হার্ডলারের মতো শুধু জীবনের একের পর এক হার্ডলস পার হননি, রিলেরেসে খেলোয়াড়ের মতো গুরুর কাছ থেকে ধারণ করা বিদ্যা ছড়িয়ে দিয়ে চলেছেন প্রজন্মান্তরে। জীবনের ট্র্যাক এ্যান্ড ফিল্ডে এক অসামান্য এ্যাথলেট অনুপ কুমার দাস ।এই শহরে প্রায় সব বাঙালি…

Read More

হাসনাইন সাজ্জাদীর দুটি কবিতা

হাসনাইন সাজ্জাদীর দুটি কবিতা

কবিতা তুমি সূদীর্ঘ দেহ কবিতার দ্রুত নড়ে ওঠা চোখে আলো রশ্মি আলোক বর্ষের ঠোটে মায়াবী চুমু ওম। হৃদয় অনুরণ আলো কিরণ মুখটা সুখ ঝিলিক সুগভীর নাভিমূলে মায়াজালের টেলিস্কোপ না প্রেমের লোভাতুর অনল? কুসুমাস্তীর্ণ রাজপথ ভাবিনা তুমি ট্রাফিক আইল্যান্ডের বাতিঘর সবুজ বাতি লাল বাতি ভালবাসা বিজয় পতাকা তুমি। তুমি বাণী তুমি ভাষা কবিতা দীর্ঘ সাধনার বলপেনের আঁকিবুঁকিতে কবিতা তুমি ভাবনায়। প্রেম কাব্য কতদিন পর এলে আমার চোখের আলো হয়ে কতদিন পর আমাকেই দেখা দিলে যমদূত প্রেম। আমি তো খুঁজেছি স্বপ্নালু তোমাকে পথ প্রান্তর নদী, খাল-বিল, পাহাড়-পর্বত শ্রাবন্তীর কারুকাজে তুলির আঁচড়ে তুমি…

Read More

ড. দীনেশচন্দ্র সেন ও তাঁর অপূর্ব কৃতিগাঁথা

ড. দীনেশচন্দ্র সেন ও তাঁর অপূর্ব কৃতিগাঁথা

(শেষাংশ) মৈমনসিংহ গীতিকা : মৈমনসিংহ গীতিকা পূর্ববঙ্গ গীতিকা প্রথম খণ্ড শ্রী দীনেশচন্দ্র সেন, রায়বাহাদুর, বি. এ, ডি-লিট্ কর্তৃক সংকলিত। এই গীতিকায় তিনি সহজেই বিশ্ব সাহিত্যের সুর বাজাতে সক্ষম হয়েছেন। ময়মনসিংহ থেকে বিভিন্ন প্রকার গাথা সংগ্রহের মাধ্যমে মানুষের জীবনের সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনা, উৎসাহ-আগ্রহ, প্রেরণা থেকেই গাঁথা এই গীতিকা যা বাস্তব জীবনমুখী।  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ময়মনসিংহ গীতকা সম্পর্কে বলেছেন, “মৈমনসিংহ থেকে যে-সব গাথা সংগ্রহ করা হয়েছে তাতে সহজেই বেজে উঠছে বিশ্বসাহিত্যের সুর। কোনো শহুরে পাবলিকের দ্রুত ফরমাশের ছাঁচে ঢালা সাহিত্য তো সে নয়। মানুষের চিরকালের সুখ-দুঃখের প্রেরণায় লেখা সেই গাথা। যদি-বা ভিড়ের মধ্যে…

Read More

ড. দীনেশচন্দ্র সেন ও তাঁর অপূর্ব কৃতিগাঁথা

ড. দীনেশচন্দ্র সেন ও তাঁর অপূর্ব কৃতিগাঁথা

ড. দীনেশচন্দ্র সেন ১৮৬৬ সালের ৩ নভেম্বর  মানিকগঞ্জ জেলার বকজুরী গ্রামে নানার বাড়ি জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম ঈশ্বরচন্দ্র সেন। মাতার নাম রূপলতা দেবী। তাঁর বাবা ঈশ্বরচন্দ্র সেন মানিকগঞ্জ বারের ইংরেজি জানা প্রথম আইনজীবী ছিলেন। পরবর্তীকালে দীনেশচন্দ্র সেন তাঁর বাবা এবং মায়ের নামানুসারে কোলকাতার বেহালস্থ বাসভবনটির নামকরণ করেন রূপেশ্বর । ছোটবেলা থেকেই ড. দীনেশচন্দ্র সেন ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী এবং চিন্তা-চেতনায় ছিলেন ভিন্নধারার। পাঁচ বছর বয়সে তিনি সুয়াপুর গ্রামে বিশ্বম্ভর সাহার পাঠশালায় ভর্তি হন। ১৮৭৩ সালে তিনি মানিকগঞ্জ মাইনর স্কুলে পাঠ শুরু করেন। মাইনর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কুমিল্লা গভর্নমেন্ট স্কুলে সপ্তম…

Read More