মিতুদির শপিং

মেয়েদের গলা সাধার জন্যে তানপুরা কিনে এনেছি, মিতুদি ঘরে ঢুকেই বলে উঠলেন `গিটারটা কবে কিনলে?’

আমি বললাম,‘ মিতুদি এটা গিটার নয়, তানপুরা।

মিতুদি বললেন,‘ কিন্তু দেখতে তো একেবারে গিটারের মতোই।’

বুঝলাম বৃথা তর্ক।

মিতুদি আমার প্রতিবেশী।

আমার ছেলে মিতুদিকে একেবারেই পছন্দ করেনা! কবে একদিন ওকে নাকি করলা দিয়ে নুডলস্ খাইয়েছিলো!

মিতুদি আমাকে বললেন,‘ আমার সাথে একটু নিউমার্কেটে যাবে? একটা পারফিউম আর একটা মুক্তো বসানো আংটি কিনবো।’

আমাদের সময়ে অগতির গতি নিউমার্কেট আর গাওসিয়া মার্কেট ছাড়া ধারে কাছে আর তেমন ভালো কোন মার্কেট  গড়ে ওঠেনি।

মিতুদির সঙ্গে শপিং এ যাওয়া ভারি ঝকমারি ব্যাপার। কারণ মিতুদি সহজে কোন কিছু পছন্দ করতে পারেন না। কিন্তু মিতুদি নাছোড়বান্দা।

কি আর করা! যেতেই হবে।

রাস্তায় নেমেই মিতুদি রিক্সওয়ালার সঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে দর কষাকষি করতেই থাকেন।এটা মিতুদির একটা অভ্যেস।

রিক্সওয়ালা পাঁচ টাকার কমে যাবে না আর মিতুদি তিন টাকার বেশি কিছুতেই দেবেন না।আবার আমাকেও কোন কথা বলতে দেবেন না।

এই করতে করতে বেশ খানিকটা হাঁটার পরে রিক্সওয়ালা বলল, ‘আপা কষ্ট করে আর একটু পথ হেঁটেই চলে যান। আপনার আর টাকা খরচ হবে না।’

নিউমার্কেটে পৌঁছাবার পরে মিতুদি একটা কসমেটিক্সের দোকানে ঢুকে সেলসম্যানকে পয়জনপারফিউম দেখাতে বললেন।

সেলসম্যান মিতুদিকে পারফিউমটা দেবার সাথে সাথে মিতুদি ওটা নিজের শরীরে বেশ খানিকটা স্প্রে করে বললেন , ‘উঁহু এটা মনে হচ্ছে অরিজিনাল নয়।’

একথা বলে দোকান থেকে চলে আসার উপক্রম করতেই সেলসম্যান বলল, ‘আপা আপনার পারফিউমের দরকার কি ? যখনই আপনার পারফিউমের দরকার হবে এভাবেই কোনও না কোনও দোকান থেকে একটু স্প্রে করে নেবেন।’

শুনে আমার কান দুটো লাল হয়ে উঠলো।

এর পরে একটা গয়নার দোকানে ঢুকে একটা মুক্তো বসানো আংটি অনেক দর কষাকষি করে কিনে খুঁতখুঁত করতে করতে বাড়ি ফিরে আসলেন। পরের দিন সকাল হতেই মিতুদি আমার বাসায় আবার হাজির হয়ে বললেন,‘ আংটির মুক্তোটা কেমন যেন উজ্জ্বল দেখাচ্ছে না, চলো একটু পালটে আসি।’

আমি তখন ভাবছিলাম কিভাবে যে উনাকে বলি মুক্তো নয়, উনার নিজেকেই আসলে পাল্টানো দরকার।

Author: অনুপা দেওয়ানজী

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts