চৈত্রের সীমানায় বৈশাখের শুরুতে কিছুটা সময়

“মা আমার সেকেলে তাই মানুষ হতে কয়

বলুন দেখি একালে কি মানুষ হওয়া যায়,

মানুষ নামে হায়নাগুলো মানুষ ধরে খায়,

এই হায়নার ভিড়ে কি আর মানুষ হওয়া যায়?”

হ্যাঁ যায়, কারণ যারা মানুষ তারা চিরকালই মানবিক গুণাবলীসম্পন্ন । নতুন করে তাদের মানুষ হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু কিছু মানুষ নামধারী জন্ম থেকেই পবিত্র আত্মাগুলোকে গুলিয়ে ফেলছে পাপের সীমাহীন পরিক্রমায়। পার্থিবতায় পবিত্র আত্মাগুলি কলুষিত হচ্ছে অপবিত্র ছত্রছায়ায়, চিল-শকুন যেমন করে ছোঁ মেরে তার ইচ্ছাগুলো পূরণ করে, তেমনি সমাজে চিল শকুন হায়নার মতো কিছু মানুষরূপী প্রাণি আজ মানুষের মনুষ্যত্বকে মেরে নিজেদের ইচ্ছে পূরণে সদা মত্ত। কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্য কথা এই যে, এ সমস্ত প্রাণিরূপি মানুষের সংখ্যা খুব কম কিন্তু তার প্রকাশ এত বেশি যে, মানুষ খারাপ শুনতে শুনতে ভালো ভুলেই গেছে।

এই টানাপোড়নের সময়ে আমার দেখা একটি দল বা গোত্র, এক বলয়ে অবস্থিত কিছু ভালো মানুষের কথা বলব।   যাদের না দেখলে আমার দেখা এই মস্ত বড় পৃথিবী দেখার সরিষা কণাও দেখা পূর্ণ হতো না। আমি অবাক হয়ে যাই কত পবিত্র সেই আত্মাগুলো!

শুরুটা ছিলো এমন।  স্বনামধন্য কবি খান মুহাম্মদ মঈনুদ্দীনের লেখা“ঐ দেখা যায় তাল গাছ ঐ আমাদের গাঁ, ঐ খানেতে বাস করে কানা বগির ছা।” এই ছড়া কবিতা পড়েনি বা শুনেনি এমন কোন বাঙালি আছে কি না আমার জানা নেই।   তাঁর মেয়ে শামসুয জাহান নূরও কোন অংশে কম নন। তাঁর লেখা অসংখ্য কবিতা গল্প ছড়া আমরা পড়েছি। অনেক ভালো লেখেন তিনি এবং একজন সাহিত্যরসিক মানুষও বটে। তার অনুপ্রেরণা এবং বকা দুটোই আমার জন্য খুবই প্রেমময় ফলপ্রসূ ও প্রেরণাদায়ক। তিনি আমার খুব প্রিয় মানুষ। আমি ও তার খুব প্রিয়। এক কথায় অসম বন্ধুত্ব যা প্রায় সব সময় তিনি বলেন। কিন্তু আমার মনে হয়, বয়স কোন ব্যাপার নয়।  ব্যাপার হলো মন মানসিকতা আর মননশীলতা।  মনের সাথে যদি মনের মিল হয়ে যায় তবে বেজে উঠে আনন্দঘণ্টা, সৃষ্টির শক্তি অদম্য সাহস আর দুর্বার গতি।  যা রোধ করার ক্ষমতা সাধারণত মানুষের থাকে না। তেমনি আমারও নেই, তাই তাঁর সাথে গড়ে ওঠে আমার অসম বন্ধুত্ব, হৃদয়ের সম্পর্ক। প্রিয় সখি যাকে একদিন না দেখলে মনে হয় কত জনম তাকে দেখিনি। এক বার নয়, এভাবেই বার বার যেন তাঁর সাথে দেখা হয় হৃদয়ের বন্ধনে আত্মিক মিলনে। এভাবেই তার সাথে আমার আত্মার লেনা দেনা । অসম বন্ধুত্ব চলমান।  এরই মধ্যে একদিন তিনি আমাকে বলে বসলেন, ‘আগামী তের তারিখ চৈত্রের শেষ দিন, তুমি আমার সাথে যাবে। আমরা প্রতিবছর পুরাতন বছরকে বিদায় দিয়ে নতুন বছর বরণ করি ডিইউ ৬৭ ক্লাব এর আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে।’ তিনি বলেছেন বলে কথা, আমার সব কাজ বন্ধ। আমাদের একটি সংগঠন আছে, যার নাম বাংলাদেশ নারী ও শিশু কল্যাণ ফাউন্ডেশন। আমরা প্রতিবছর পহেলা বৈশাখ পালন করি সকালে পান্তা ইলিশের সাথে নাচ-গান, হই-হুল্লোড়, আনন্দ-ফুর্তি, কবিতা, গল্প ও আলোচনার মাধ্যমে । কিন্তু আজ সব কিছুকে উপেক্ষা করে আমি ছুটলাম তার সাথে, যার জন্য হৃদয় নাচে, মনে প্রাণে দোলা লাগে, আরো দোলা, নেচে ওঠে নন্দিত নন্দিনী নিপুণ নিপুণতায়।  তিনি আর আমি একত্রিত হয়ে তাঁর বাসা থেকে একসাথে রওনা দেব আমাদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। উনি আমাকে আগের দিন বলেছিলেন যে, আমি যেন ৪টার মধ্যে তাঁর বাসায় পৌঁছে যাই।  আমি ৪ টার মধ্যে নয় আরো আগেই তার বাসায় চলে এলাম। আমি আসার কিছুক্ষণের মধ্যে মানিকগঞ্জের “শতমানিক” এর লেখক আজহারুল ইসলাম সেখানে আসলেন।  তাকে দেখে শামসুয জাহান নূর আপা তাঁর “লেখা প্রকাশনী”র ম্যানেজারকে ডেকে বললেন, আজহার সাহেবকে তরমুজ কেটে দাও। ম্যানেজার ফরিদ সাহেব আজহার সাহেবকে তরমুজ কেটে দিলেন। অবশ্য আপা আমাকে আরো আগে থেকেই তরমুজ খেতে বলছিলেন, কিন্তু আমার তখন তরমুজ খেতে ইচ্ছে হচ্ছিলো না।  ভেতরে ভেতরে ভীষণ উত্তেজনা কাজ করছিল কখন আমরা রওনা দিব সেই স্বপ্নের রাজ্যে, যেখানে সবকিছু রঙীন, সবকিছু সুন্দর, সবকিছু স্বপ্ননীল, আত্মার সাথে আত্মা মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। স্বপ্নীল মানুষগুলো একত্রিত হবে আত্মার বন্ধনে। সেখানেই আমার মন পড়ে আছে। মনের মধ্যে তখন টানটান উত্তেজনা কাজ করছিল।  ইতোমধ্যে কয়েকবার জিজ্ঞাসাও করে ফেললাম আমরা কখন যাচ্ছি।  উত্তরে উনি বলেছিলেন, উনার এক বন্ধু আসবেন গাড়ি নিয়ে । উনি যদি ৫ টার মধ্যে না আসেন তবে আমরা রওনা দেব। আমরা অপেক্ষা করছি কখন ৫টা বাজবে। অপেক্ষার সময় যেন পার হতে চাচ্ছে না। অনেক কষ্টে পার করলাম সেই প্রতীক্ষার সময়।  ৫টা বেজে গেছে অথচ যার জন্য অপেক্ষা করছিলাম তিনি এখনও আসলেন না।  বা জ্যামের কারণে তার আসতে আরো অনেক সময় লেগে যেতে পারে তাই আমরা আর দেরি না করে বেরিয়ে পড়লাম। ইতোমধ্যে আজহার সাহেব একবার বলেই বসলেন, ‘আপনারা পৌঁছাতে পৌঁছাতে তো বর্ষবরণ অনুষ্ঠান শেষ হয়ে যাবে।’

যাইহোক মানিকগঞ্জের স্বনামধন্য মানিককে বিদায় দিয়ে আমরা রিকশার অপেক্ষায় লেখা প্রকাশনীর সামনে দাঁড়ালাম।  কিন্তু দুঃখের বিষয় একটি রিকশাও পাচ্ছিলাম না। এদিকে সময় এখন টাট্টু ঘোড়ার মতো ছুটে চলেছে। আমরা দুজন আস্তে আস্তে হাঁটা শুরু করলাম। একটু সামনে যেয়ে যদি একটি রিকশা পাওয়া যায় সেই উদ্দেশ্যে।

নূর বা বেবি আপা মানে আমার প্রাণের মানুষটির ডাকনাম বেবি। ওনি এখন ঠিকমতো দেখতে পান না । সেই জন্য হাঁটতেও তাঁর খুব কষ্ট হচ্ছিল। একটু সামনে যেতেই আল্লাহর অসীম কৃপায় একটি রিকশা পেয়ে গেলাম। রিকশা করে আমরা বাংলাবাজার পার হয়ে নর্থব্রুক হল রোড দিয়ে ভিক্টোরিয়া পার্কের সামনে যেয়ে উঠলাম। রিকশাওয়ালাকে বললাম, বাসস্ট্যান্ডে নামিয়ে দিতে। আমরা বাসে করে বারিধারা যাব। আগে বারিধারায় কোন বাস সরাসরি যেত না । এখন “সুপ্রভাত স্পেশাল” নামে একটা বাস ছেড়েছে।  ঐ ভরসায় আমরা বাসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। যদিও আমি কএকবার বলেছিলাম সিএনজি কিংবা রিকশায় যাওয়ার জন্য।  কিন্তু উনি বাসে যেতে চাইলেন।  তাই আমি আর কিছু বললাম না। ওনাকে রিকশা থেকে নামিয়ে এক জায়গায় দাঁড় করিয়ে বললাম, ‘আপনি এখানে দাঁড়ান আমি বাসে উঠে আগে সিট নিয়ে নেই। তা না হলে আমরা সিট পাবো না।’ যেমন কথা তেমন কাজ, আমি বাসে সিট নেওয়ার জন্য, রাস্তা পার হয়ে দ্রুত বাসে উঠে পড়লাম এবং সামনের দুইটা সিট আমাদের জন্য নিয়ে নিলাম। বাসটা ভিক্টোরিয়া পার্কের রাস্তা ঘুরে যখন তাঁর পাশাপাশি এসে পৌঁছালো তখন আমি তাঁকে বাসে উঠিয়ে নিলাম। এবার আমাদের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু হলো। ১৩ই এপ্রিল চৈত্রের শেষ দিন বুধবার আমরা যাচ্ছি। রাস্তায় প্রচুর জ্যাম, বাস ড্রাইভার একটু বুদ্ধি করে খিলগাঁও ওভারব্রিজ এর উপর দিয়ে আসলো সময় বাঁচানোর জন্য। কিন্তু সবে তো যাত্রা শুরু, আগেই বলেছি আমরা ৫টায় রওনা দিয়েছি, এখন বাজে ৭টা। আমরা খিলগাঁও ওভারব্রিজ দিয়ে মাত্র মালিবাগ রেলগেটে এসে পৌঁছলাম।  রাস্তায় প্রচুর জ্যাম। জ্যাম শেষ হয় না, গাড়িও আর চলতে চায় না। এভাবে  আমরা এগোচ্ছি । সময় চলে যাচ্ছে রাস্তা শেষ হচ্ছে না। তখন অবশ্য তিনি বার বার বলছিলেন তোমার কথা কেন যে শুনলাম না, যদি শুনতাম তাহলে হয়তো এই বিপদে পড়তে হতো না। জ্যামের মধ্যে একটু একটু করে গাড়ি চলছে আর তিনি বারবার সময়ের কথা জিজ্ঞাসা করছিলেন। বলছিলেন, আর কতদূর আর কতক্ষণ লাগবে। আমি তাকে সময়ের কথা বলছিলাম আর আশ্বস্ত করছিলাম যে, তিনি যেন চিন্তা না করেন রাস্তায় যেহেতু জ্যাম তাই শুধু আমাদের নয় সবার দেরি হবে।  একথা বলে বার বার তাকে সান্ত্বনা দিচ্ছিলাম। এভাবে কখন যে সাতটা পেরিয়ে সাড়ে সাতটা, সাড়ে সাতটা পেরিয়ে আটটা, আটটা পেরিয়ে সাড়ে আটটা বেজে গেলো তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে বাসের স্টার্ট বন্ধ হয়ে গেল।গিয়েছে। তখন ধাক্ক দিয়ে বাস চালু করতে হলো। বাস জ্যাম পেরিয়ে ধিক ধিক করে এগিয়ে যাচ্ছে আর উনি বার বার হেলপার এবং কন্টাক্টরের কাছে জিজ্ঞাসা করছেন, আর কতদূর আর কতক্ষণ লাগবে। ওরা বিরক্ত বোধ করছিল, কিন্তু মুরুব্বি বলে কিছু বলতে পারছিলো না।  কিন্তু এক পর্যায়ে বারবার জিজ্ঞাসা করায় বিরক্ত হয়ে বলেই বসলো, আপনি চুপ করে বসে থাকেন, সময় হলে আমরাই নামিয়ে দেব। অবশেষে সেই সময় হলো । সাড়ে নয়টার দিকে আমরা নতুন রাস্তায় এসে পৌঁছালাম। নতুন রাস্তায় নেমে রিকশা নিয়ে যেতে হবে কসমোপলিটান ক্লাব। নিয়তি সেখানেও খেললো আর এক নিষ্ঠুর খেলা । বাস থেকে অনেক উৎসাহ নিয়ে তাকে নামালাম।  ভাবলাম এবার তাড়াতাড়ি পৌঁছাতে পারলেও সার্থক।  কিন্তু কি আর করার রিকশা তো মেলে না। উঁচু ফুটপাতের উপর তাকে দাঁড় করিয়ে আমি রিকশার জন্য চেষ্টা করছি। তিনি বাস থেকে নেমে একটু অস্বস্তি বোধ করছিলেন। একে তো সময় নেই, তার উপর রিকশা পাচ্ছিলাম না, তাই আমি উদভ্রান্তের মতো রিকশা খুঁজছিলাম হঠাৎ করে আমার ডান পায়ে হোঁচট লেগে একটা নখ উল্টে যায় আমি পড়ে যাই রাস্তায়। আমার এ অবস্থা দেখে এক হৃদয়বান ব্যক্তি উপকারের জন্য এগিয়ে আসেন। তিনি একটা রিকশাওয়ালাকে বলতে গেলে প্রায় জোর করে আমাদের জন্য ঠিক করলেন।  রিকশাওয়ালাটাও ভাল ছিল বিধায় রিকশাটা ঘুরিয়ে উঁচু জায়গায় এনে দাঁড় করালো। আমি এবং সেই সহৃদয়বান ব্যক্তি মিলে  তাঁকে ধরে রিকশায় উঠালাম। আমি ওই ব্যক্তিকে ধন্যবাদ জানালাম আর বেবি আপা তার মাথায় হাত রেখে দোয়া করে দিলেন। অবশেষে আমরা আমাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে সক্ষম হলাম।  কিন্তু ঘড়িতে তখন ফেরার সময় হয়ে গেছে।

যাই হোক যখন ৬৭ ক্লাবের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য কসমোপলিটন ক্লাবে এসে হাজির হলাম।  অনুসন্ধান ডেক্সে যিনি বসেছিলেন তিনি আমাদের বললেন, লিফটে তিনতলায় নামবেন।  ওখান থেকে এক সিঁড়ি উপরে উঠবেন ওখানেই অনুষ্ঠান হচ্ছে। আমরা ওনার কথামতো  লিফটে ৩য় তলায় নেমে আরও এক তলা সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে যখন ৬৭ ক্লাবের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে পৌঁছলাম তখন কি যে ভাল লাগলো আমার কেমন করে বলি! আমি প্রথমে বিস্মিত হলাম, একটু হকচকিয়ে গেলাম কারণ ৬৭ ক্লাব সম্পর্কে আমার কোন ধারণাই ছিল না।  কেমন যেন গুলিয়ে ফেলছিলাম। কি যে আন্তরিকতা সবার ভেতরে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। মধ্যবয়সী নয় শেষ বয়সে এসে হাজির হয়েছেন সবাই। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো এই যে, সবাইকে দেখে মনে হচ্ছেসদ্য ফোটা গোলাপের ন্যায় বালকগুলো । যেন এইমাত্র সতের পেরিয়ে আঠারোয় পা রেখেছে, লকলকে যৌবন, যত্রতত্র ছোটাছুটি অশান্ত বালকের মতো, তারুণ্যের উন্মাদনায় সৃষ্টির উল্লাসে। বালিকাগুলো সদ্য ষোড়শী প্রতিমাকেশী পদ্মলোচন হরিণীর মতন। নীয়ন আলোয় কি ভাল লাগছে তাদের বলতে উপমা পাচ্ছি না। কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে তাদেরকে অবলোকন করছি আর ভাবছি। যার সাথে এসেছি তাকে ৭০ বছরের মহিয়সী নারী বলে জানতাম । আজ দেখছি সত্তর নয় সতেরও নয় সদ্য ষোড়শী। যত দেখছি ততই অবাক হচ্ছি। বিস্ময়ে আমার দু’চোখ স্থির হয়ে যাচ্ছে।  যে দিকে তাকাই সে দিকেই আটকে যাচ্ছে চোখ। চোখ যেন চোখ নয়, এক নতুন পৃথিবী দেখার যন্ত্র।  সেই যন্ত্র আমি পেয়ে গেছি, যন্ত্রের মাধ্যমে একটি নতুন পৃথিবী দেখছি। সত্যি আমি চিন্তা করতে পারছি না এই বয়সের বালক বালিকারা যেমন করে আনন্দ উল্লাস করে নাচানাচির মাধ্যমে, একটি বছরকে বিদায় দিয়ে আর একটি নতুন বছরকে বরণ করে তাদের চেয়ে কোন অংশে এরা কম নয়।  বরং একটু বেশিই বটে। যারা হৃদয় নিংড়ানো ভালবাসা দিয়ে বর্ষবরণ উদযাপন করছেন, তাদের সবার নাম আমার জানা নেই।থাকলেও লিখবো না কারণ তাদের নাম লেখার সাহস আমার নেই । আমি শুধু শ্রদ্ধা আর ভালবাসার দাবিতে সাহস স য় করে এতটুকু লিখলাম মাত্র।

আর মনে মনে ভাবলাম, এবারের ১লা বৈশাখ যেন আসে সব মালিন্য ধুয়ে দিয়ে। আর আলোকিত মানুষের আলো ছড়িয়ে যাক দেশ থেকে দেশান্তরে। যারা বন্দি হয়ে আছে অন্ধকারে তারা এবার মুক্ত হোক। তাদের আলোর বন্যায় ভেসে যাক সমস্ত অন্ধকার। তাদের আলোয় আলোকিত হোক বিশ্বভুবন। আলোকিত হোক অন্ধকারে বন্দি থাকা সমস্ত মানুষ। দূর হয়ে যাক সমস্ত অশুভ অন্ধকার। সৃষ্টি হোক মুক্তির পথ। পথহারা মানুষেরা পাক পথের দিশা।

অনুষ্ঠান শেষ করে নূর আপাকে তার প্যারীদাস রোডের বাসায় নামিয়ে দিয়ে যখন আমি আমার বাসায় পৌঁছলাম তখন রাত পৌঁণে ১টা। আমার হ্যাজব্যান্ড অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন।  ইতিমধ্যে কয়েকবার ফোন করেছেন কখন আমি ফিরবো। তিনি অপেক্ষা করছিলেন। আমি যখন কলিংবেল টিপলাম তখন আমার প্রাণের মানুষটি বর্ষবরণের সাথে সাথে আমাকে বরণ করে নিলেন তার দেওয়া উপহারের মাধ্যমে। এই স্মৃতি আমি যেন আমরণ লালন করতে পারি সেই আশা ব্যক্ত করে সকলের শুভ কামনায় নববর্ষকে হৃদয়ে গ্রহণ করলাম।

 

ডা. জান্নাতুল ফেরদৌসী
ডা. জান্নাতুল ফেরদৌসী

Author: ডা. জান্নাতুল ফেরদৌসী

Comments

comments

Powered by Facebook Comments

Related posts